কৃষিকৃষি

শীত এলেই গ্রামবাংলায় খেজুরের রসের ধুম

শেয়ার করুন
অ+ অ-
শীত এলেই গ্রামবাংলায় খেজুরের রসের ধুম
শীত মৌসুমের শুরুতে বগুড়ায় খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য গাছ প্রস্তুত করছেন গাছি। ছবি: সংগৃহীত

শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে গ্রামবাংলার প্রকৃতি নতুন রূপে সেজে ওঠে। কুয়াশাভেজা ভোর, শীতল বাতাস আর তার সঙ্গে যুক্ত হয় একটি ঐতিহ্যবাহী স্বাদ, খেজুরের রস। বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা এই প্রাকৃতিক পানীয় শীতকাল এলেই যেন মানুষের মুখে মুখে ফিরে আসে।

প্রতি বছর কার্তিকের শেষ থেকে মাঘ মাস পর্যন্ত খেজুরের রস সংগ্রহের মৌসুম চলে। ভোরের অন্ধকারে গাছি বা রস সংগ্রাহকেরা খেজুর গাছে উঠে মাটির হাঁড়ি বেঁধে দেন। সারারাত ধরে গাছ থেকে ঝরে পড়া মিষ্টি রস ভোরে সংগ্রহ করা হয়। কুয়াশার পরশে ঠান্ডা হয়ে যাওয়া এই রসই সবচেয়ে সুস্বাদু বলে মনে করেন ভোক্তারা।

খেজুরের রস শুধু পানীয় হিসেবেই নয়, গ্রামবাংলার অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই রস দিয়ে তৈরি করা হয় পাটালি ও ঝোলা গুড়, যা শীতের পিঠা-পায়েসের প্রধান উপকরণ। অনেক দরিদ্র ও মাঝারি পরিবারের জন্য শীতকালীন আয়ের অন্যতম উৎস হয়ে ওঠে খেজুরের রস ও গুড় বিক্রি।

তবে খেজুরের রস সংগ্রহ ও ভোগের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি। খোলা হাঁড়িতে রস সংগ্রহ করলে বাদুড়ের মাধ্যমে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। এ কারণে বিশেষজ্ঞরা ঢাকনাযুক্ত হাঁড়ি ব্যবহার ও কাঁচা রস পান না করার পরামর্শ দিচ্ছেন। অনেক এলাকায় এখন নিরাপদ রস সংগ্রহের জন্য বাঁশের বা প্লাস্টিকের বিশেষ ঢাকনা ব্যবহৃত হচ্ছে, যা সচেতনতার ইতিবাচক দিক।

খেজুরের রস কেবল একটি খাদ্য নয়; এটি বাঙালির শীতকালীন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ। আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক কিছু হারিয়ে গেলেও শীতের সকালে গরম কাপড় গায়ে দিয়ে এক গ্লাস খেজুরের রস পান করার আনন্দ আজও অমলিন। তাই নিরাপদ উপায়ে এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখাই এখন সময়ের দাবি।

Public Voice

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬


শীত এলেই গ্রামবাংলায় খেজুরের রসের ধুম

প্রকাশের তারিখ : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে গ্রামবাংলার প্রকৃতি নতুন রূপে সেজে ওঠে। কুয়াশাভেজা ভোর, শীতল বাতাস আর তার সঙ্গে যুক্ত হয় একটি ঐতিহ্যবাহী স্বাদ, খেজুরের রস। বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা এই প্রাকৃতিক পানীয় শীতকাল এলেই যেন মানুষের মুখে মুখে ফিরে আসে।

প্রতি বছর কার্তিকের শেষ থেকে মাঘ মাস পর্যন্ত খেজুরের রস সংগ্রহের মৌসুম চলে। ভোরের অন্ধকারে গাছি বা রস সংগ্রাহকেরা খেজুর গাছে উঠে মাটির হাঁড়ি বেঁধে দেন। সারারাত ধরে গাছ থেকে ঝরে পড়া মিষ্টি রস ভোরে সংগ্রহ করা হয়। কুয়াশার পরশে ঠান্ডা হয়ে যাওয়া এই রসই সবচেয়ে সুস্বাদু বলে মনে করেন ভোক্তারা।

খেজুরের রস শুধু পানীয় হিসেবেই নয়, গ্রামবাংলার অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই রস দিয়ে তৈরি করা হয় পাটালি ও ঝোলা গুড়, যা শীতের পিঠা-পায়েসের প্রধান উপকরণ। অনেক দরিদ্র ও মাঝারি পরিবারের জন্য শীতকালীন আয়ের অন্যতম উৎস হয়ে ওঠে খেজুরের রস ও গুড় বিক্রি।

তবে খেজুরের রস সংগ্রহ ও ভোগের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি। খোলা হাঁড়িতে রস সংগ্রহ করলে বাদুড়ের মাধ্যমে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে। এ কারণে বিশেষজ্ঞরা ঢাকনাযুক্ত হাঁড়ি ব্যবহার ও কাঁচা রস পান না করার পরামর্শ দিচ্ছেন। অনেক এলাকায় এখন নিরাপদ রস সংগ্রহের জন্য বাঁশের বা প্লাস্টিকের বিশেষ ঢাকনা ব্যবহৃত হচ্ছে, যা সচেতনতার ইতিবাচক দিক।

খেজুরের রস কেবল একটি খাদ্য নয়; এটি বাঙালির শীতকালীন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ। আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক কিছু হারিয়ে গেলেও শীতের সকালে গরম কাপড় গায়ে দিয়ে এক গ্লাস খেজুরের রস পান করার আনন্দ আজও অমলিন। তাই নিরাপদ উপায়ে এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখাই এখন সময়ের দাবি।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত