কৃষি
শিবগঞ্জে তিন ফসলি জমিতে গুদাম নির্মাণের গুঞ্জনে কৃষকদের মানববন্ধন
খাদ্য গুদাম নির্মাণ করা জরুরি, তবে তার চেয়েও জরুরি খাদ্য উৎপাদনের জমি রক্ষা করা—এমন দাবি তুলে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়নে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে কিচক ইউনিয়নের আপসন কোন্ড স্টোরের পশ্চিম পাশে প্রস্তাবিত আঞ্চলিক খাদ্য গুদাম নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান নিয়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে স্থানীয় কৃষক, এলাকাবাসী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
স্থানীয়দের দাবি, আপসন কোন্ড স্টোরের পশ্চিম পাশে যে জমিতে আঞ্চলিক খাদ্য গুদাম নির্মাণের গুঞ্জন রয়েছে, সেটি দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ওই এলাকায় সারা বছরই বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদন হয় এবং অনেক জমিতে বছরে তিনটি ফসল পর্যন্ত চাষ করা সম্ভব হয়। আশপাশের বহু কৃষক পরিবারের জীবিকা ও আয়ের প্রধান উৎস এসব কৃষিজমি।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, খাদ্য মজুতের জন্য গুদাম প্রয়োজন—এ বিষয়ে কারও দ্বিমত নেই। কিন্তু খাদ্য গুদাম নির্মাণের জন্য এমন জমি নির্বাচন করা উচিত নয়, যেখানে নিয়মিত খাদ্য উৎপাদন হয় এবং যার ওপর বহু কৃষক পরিবারের জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল। বরং যেসব জমি বছরের অধিকাংশ সময় পতিত থাকে, অনাবাদি বা কৃষি উৎপাদনের জন্য কম উপযোগী, গুদাম নির্মাণের জন্য সেসব জমি বিবেচনা করা যেতে পারে।
তারা আরও বলেন, একটি তিন ফসলি জমি স্থায়ীভাবে স্থাপনা নির্মাণের আওতায় চলে গেলে শুধু ওই জমির উৎপাদনই কমবে না; এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কৃষক, কৃষিশ্রমিক ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। একদিকে খাদ্য সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে খাদ্য উৎপাদনের জমি যদি কমে যায়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে বিষয়টি খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কৃষকদের বক্তব্য, “খাদ্য গুদাম অবশ্যই দরকার, কিন্তু খাদ্য উৎপাদনের জমি নষ্ট করে নয়।” তারা কৃষিজমি রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিকল্প স্থান যাচাই করার দাবি জানান।
স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবিত স্থানটি সরেজমিনে পরিদর্শন, জমির শ্রেণি ও উৎপাদনক্ষমতা যাচাই এবং আশপাশে বিকল্প জায়গা রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।
তাদের প্রত্যাশা, খাদ্য সংরক্ষণ ও কৃষি উৎপাদন—দুই বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিয়ে পরিবেশ, কৃষি ও স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর প্রভাব বিবেচনা করেই আঞ্চলিক খাদ্য গুদামের স্থান নির্ধারণ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি—কৃষিজমি বাঁচিয়ে খাদ্য গুদাম নির্মাণ করা হোক, যাতে খাদ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি ভবিষ্যতের খাদ্য উৎপাদনও নিরাপদ থাকে।

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিবগঞ্জে তিন ফসলি জমিতে গুদাম নির্মাণের গুঞ্জনে কৃষকদের মানববন্ধন
খাদ্য গুদাম নির্মাণ করা জরুরি, তবে তার চেয়েও জরুরি খাদ্য উৎপাদনের জমি রক্ষা করা—এমন দাবি তুলে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়নে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে কিচক ইউনিয়নের আপসন কোন্ড স্টোরের পশ্চিম পাশে প্রস্তাবিত আঞ্চলিক খাদ্য গুদাম নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান নিয়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে স্থানীয় কৃষক, এলাকাবাসী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
স্থানীয়দের দাবি, আপসন কোন্ড স্টোরের পশ্চিম পাশে যে জমিতে আঞ্চলিক খাদ্য গুদাম নির্মাণের গুঞ্জন রয়েছে, সেটি দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ওই এলাকায় সারা বছরই বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদন হয় এবং অনেক জমিতে বছরে তিনটি ফসল পর্যন্ত চাষ করা সম্ভব হয়। আশপাশের বহু কৃষক পরিবারের জীবিকা ও আয়ের প্রধান উৎস এসব কৃষিজমি।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, খাদ্য মজুতের জন্য গুদাম প্রয়োজন—এ বিষয়ে কারও দ্বিমত নেই। কিন্তু খাদ্য গুদাম নির্মাণের জন্য এমন জমি নির্বাচন করা উচিত নয়, যেখানে নিয়মিত খাদ্য উৎপাদন হয় এবং যার ওপর বহু কৃষক পরিবারের জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল। বরং যেসব জমি বছরের অধিকাংশ সময় পতিত থাকে, অনাবাদি বা কৃষি উৎপাদনের জন্য কম উপযোগী, গুদাম নির্মাণের জন্য সেসব জমি বিবেচনা করা যেতে পারে।
তারা আরও বলেন, একটি তিন ফসলি জমি স্থায়ীভাবে স্থাপনা নির্মাণের আওতায় চলে গেলে শুধু ওই জমির উৎপাদনই কমবে না; এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কৃষক, কৃষিশ্রমিক ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। একদিকে খাদ্য সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে খাদ্য উৎপাদনের জমি যদি কমে যায়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে বিষয়টি খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া কৃষকদের বক্তব্য, “খাদ্য গুদাম অবশ্যই দরকার, কিন্তু খাদ্য উৎপাদনের জমি নষ্ট করে নয়।” তারা কৃষিজমি রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিকল্প স্থান যাচাই করার দাবি জানান।
স্থানীয়রা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবিত স্থানটি সরেজমিনে পরিদর্শন, জমির শ্রেণি ও উৎপাদনক্ষমতা যাচাই এবং আশপাশে বিকল্প জায়গা রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।
তাদের প্রত্যাশা, খাদ্য সংরক্ষণ ও কৃষি উৎপাদন—দুই বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিয়ে পরিবেশ, কৃষি ও স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর প্রভাব বিবেচনা করেই আঞ্চলিক খাদ্য গুদামের স্থান নির্ধারণ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি—কৃষিজমি বাঁচিয়ে খাদ্য গুদাম নির্মাণ করা হোক, যাতে খাদ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি ভবিষ্যতের খাদ্য উৎপাদনও নিরাপদ থাকে।
