বাছাইকৃত
মোঃ কামরান হোসেন, নেত্রকোণা থেকে: নেত্রকোণার দূর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ, সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নেত্রকোণায় মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার (২নভেম্বর) সকাল ১১টায় নেত্রকোণা জেলা প্রেসক্লাবের সামনে সড়কে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ-এর ময়মনসিংহ বিভাগীয় ইউনিটের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় দুই শতাধিক সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচিতে নিহত সাংবাদিক আলিফ ফকিরের গর্ভধারিণী মা ও পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি এক
আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে তিনজন গণমাধ্যমকর্মী কাপনের কাপড় গায়ে জড়িয়ে মানববন্ধন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা, সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। তাঁরা বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং গণমাধ্যমের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে রাষ্ট্র ও প্রশাসনকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন - সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান এবং দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদক মোঃ খায়রুল আলম রফিক। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন - সংগঠনের পরিচালক (আইন ও মানবাধিকার) মোহাম্মদ আলী আবির, পরিচালক (বিচার ও সালিশ) জামাল উদ্দিন খান এবং ময়মনসিংহ বিভাগীয় আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেন মানিক।ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া পলাশ, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি মোঃ ইয়াহিয়া আরিফ, কার্যকরী সভাপতি সজীব রাজভর বিপিন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আমিনূর ইসলাম রাব্বি,শ্যামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আল ইমরান, শ্যামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জাতীয় দৈনিক বর্তমান বাংলা পএিকার প্রতিনিধি মোঃ কামরান হোসেন সহ বিভিন্ন পএিকা ও মাল্টিমিডিয়া চ্যানেল এর সাংবাদিকবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ খায়রুল আলম রফিক বলেন, সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কোনো সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলা, নির্যাতন কিংবা হত্যাকাণ্ডের শিকার না হন, সে জন্য নেত্রকোণা জেলা পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে আরও তৎপর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সাংবাদিক হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হবে। তাই আলিফ ফকির হত্যার বিচার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে একটি বৃহত্তর সাংবাদিক নিরাপত্তা আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।
মানববন্ধন শেষে সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। পরে নেত্রকোণা জেলার পুলিশ সুপার তরীকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আশ্বাস দেন বলে আয়োজকরা জানান।
কর্মসূচির আয়োজকরা বলেন, সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার বিচার শুধু তাঁর পরিবারের একার দাবি নয়, এটি সমগ্র সাংবাদিক সমাজের ন্যায়বিচার, পেশাগত নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার দাবি। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
মানববন্ধনে নেত্রকোণা জেলা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ, দুর্গাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন সাংবাদিক নেতা বক্তব্য দেন। বক্তারা সংগঠনের উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়ন, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেন।

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬
মোঃ কামরান হোসেন, নেত্রকোণা থেকে: নেত্রকোণার দূর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ, সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নেত্রকোণায় মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার (২নভেম্বর) সকাল ১১টায় নেত্রকোণা জেলা প্রেসক্লাবের সামনে সড়কে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ-এর ময়মনসিংহ বিভাগীয় ইউনিটের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রায় দুই শতাধিক সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী অংশগ্রহণ করেন। কর্মসূচিতে নিহত সাংবাদিক আলিফ ফকিরের গর্ভধারিণী মা ও পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি এক
আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে তিনজন গণমাধ্যমকর্মী কাপনের কাপড় গায়ে জড়িয়ে মানববন্ধন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা, সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। তাঁরা বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং গণমাধ্যমের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে রাষ্ট্র ও প্রশাসনকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন - সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান এবং দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদক মোঃ খায়রুল আলম রফিক। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন - সংগঠনের পরিচালক (আইন ও মানবাধিকার) মোহাম্মদ আলী আবির, পরিচালক (বিচার ও সালিশ) জামাল উদ্দিন খান এবং ময়মনসিংহ বিভাগীয় আহ্বায়ক বিল্লাল হোসেন মানিক।ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া পলাশ, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলা শাখার সভাপতি মোঃ ইয়াহিয়া আরিফ, কার্যকরী সভাপতি সজীব রাজভর বিপিন, সাধারণ সম্পাদক মোঃ আমিনূর ইসলাম রাব্বি,শ্যামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আল ইমরান, শ্যামগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জাতীয় দৈনিক বর্তমান বাংলা পএিকার প্রতিনিধি মোঃ কামরান হোসেন সহ বিভিন্ন পএিকা ও মাল্টিমিডিয়া চ্যানেল এর সাংবাদিকবৃন্দ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোঃ খায়রুল আলম রফিক বলেন, সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে সাংবাদিক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন কোনো সাংবাদিক পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলা, নির্যাতন কিংবা হত্যাকাণ্ডের শিকার না হন, সে জন্য নেত্রকোণা জেলা পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে আরও তৎপর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সাংবাদিক হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না গেলে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হবে। তাই আলিফ ফকির হত্যার বিচার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে একটি বৃহত্তর সাংবাদিক নিরাপত্তা আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।
মানববন্ধন শেষে সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। পরে নেত্রকোণা জেলার পুলিশ সুপার তরীকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের মূল আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আশ্বাস দেন বলে আয়োজকরা জানান।
কর্মসূচির আয়োজকরা বলেন, সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার বিচার শুধু তাঁর পরিবারের একার দাবি নয়, এটি সমগ্র সাংবাদিক সমাজের ন্যায়বিচার, পেশাগত নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার দাবি। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এ দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
মানববন্ধনে নেত্রকোণা জেলা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ, দুর্গাপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন সাংবাদিক নেতা বক্তব্য দেন। বক্তারা সংগঠনের উত্থাপিত পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়ন, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেন।
