বাছাইকৃতবাছাইকৃত

ফেসবুক লাইভে ক্ষোভ প্রকাশের জেরে গ্রেপ্তার, জামিন পেলেন সেই নারী উদ্যোক্তা

ফেসবুক লাইভে ক্ষোভ প্রকাশের জেরে গ্রেপ্তার, জামিন পেলেন সেই নারী উদ্যোক্তা
সংগৃহীত

ময়মনসিংহের ভালুকায় ফেসবুক লাইভে ‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করা নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার (৩০) জামিন পেয়েছেন।বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শুনানি শেষে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদুল ইসলামের আদালত তাঁকে জামিন দেন। আদালত মামলার পরবর্তী তারিখ ৩ নভেম্বর ধার্য করে পুলিশকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

জামিনে মুক্তির পর সাথী আক্তার তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে, তাঁর আইনজীবী বলেছেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে লাইভ করাকে কেন্দ্র করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, সরকারবিরোধী বক্তব্যের কারণে নয়, সম্ভাব্য অপরাধ প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

ময়মনসিংহ আদালত পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান জানান, বুধবার সাথী আক্তারকে আদালতে হাজির করা হলে তাঁর পক্ষে আইনজীবী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ৫০০ টাকার মুচলেকায় নিজ জিম্মায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। পরে তাঁকে আদালতের হাজতখানা থেকে মুক্তি দেওয়ার কথা জানান তিনি।

আদালত মামলার পরবর্তী তারিখ ৩ নভেম্বর নির্ধারণ করেছেন। এ সময়ের মধ্যে পুলিশকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আদালত পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জামিনে মুক্ত হওয়ার পর আদালত প্রাঙ্গণে সেদিনের ঘটনা বর্ণনা করে সাথী আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ওই দিন আমি ১২টার দিকে লাইভ করেছিলাম। পরিকল্পনা করে তারা বিকেল ৪টার আগেই আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করে এবং আমাকে মারধরও করেছে। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখলেই তা পাওয়া যাবে।’

তিনি অভিযোগ করেন, তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়। সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করায় তাঁর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং ভিডিও মুছে ফেলা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

সাথী আক্তার বলেন, ‘পুলিশ আমাকে হেফাজতে নিতে পারত, কিন্তু নেতাকর্মীরা আমার গায়ে হাত দিতে পারে না। আমি মনে করি, তারা অপরাধ করেছে।’

তাঁকে হেনস্তার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন স্থানীয় বিএনপির কর্মীরা উসকানিমূলক পরিস্থিতি তৈরি করে তাঁকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁদের কেউ কেউ তাঁর দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন বলেও দাবি করেন তিনি।

সাথীর ভাষ্য, দলীয় নেতাকর্মীদের এমন আচরণের কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে।

সাথী আক্তারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমি আদালতকে বলেছি, সাথী আক্তার একজন নারী উদ্যোক্তা। তাঁর প্রতিষ্ঠানে অনেক লোকজন কাজ করেন। তিনি ১২ থেকে ১৪ বছর ধরে বিউটি পার্লারের ব্যবসা করছেন। ২০২৬ সালে ব্যবসার পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি ফেসবুকে লাইভ করেছেন। এর অর্থ এই নয় যে, তিনি সরকারের কোনো সমালোচনা করেছেন। তিনি তাঁর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রয়োগ করেছেন।’

আইনজীবীর অভিযোগ, সাথী আক্তারের সঙ্গে দুর্ব্যবহার বা তাঁকে হেনস্তার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাঁকেই ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সাথী আক্তার বর্তমান সরকারকে ভোট দিয়েছিলেন এবং আশা করেছিলেন, সরকার নারী উদ্যোক্তাদের স্বার্থ দেখবে। কিন্তু কিছু বিএনপির নামধারী নেতাকর্মী তাঁর ক্ষতি করার চেষ্টা করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।

আইনজীবীর ভাষ্য, আদালতে জামিনের আবেদন জানিয়ে তিনি সাথী আক্তারের ব্যবসায়িক অবস্থার পাশাপাশি তাঁর গ্রেপ্তারের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। শুনানি শেষে আদালত ৫০০ টাকার মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন এবং পুলিশকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

অ্যাডভোকেট মাহতাব উদ্দিন আহমেদ জানান, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় পুলিশের দাখিল করা প্রসিকিউশনে বলা হয়েছে, সাথী আক্তারের ফেসবুক লাইভের পর এলাকার বিএনপির পরিচয়ধারী কয়েকজন ব্যক্তি জড়ো হয়ে তাঁকে আটক করেন।

আইনজীবীর দাবি, আদালতে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে সাথী আক্তার বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও অপরাধে জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি মুক্তি পেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বলে জানান আইনজীবী।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা থেকে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই তাঁকে প্রতিরোধমূলকভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে।

গত রোববার (২৫ অক্টোবর) ‘সাথী মেকওভার’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে দুটি লাইভ ভিডিও প্রকাশ করেন সাথী আক্তার। ভিডিও দুটির দৈর্ঘ্য ছিল যথাক্রমে ৫ মিনিট ২২ সেকেন্ড ও ৮ মিনিট ৮ সেকেন্ড। সেখানে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে একপর্যায়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী।’

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঘেরাও করে বিচার দাবি করেন। ভিডিওটি প্রচারের পর মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী তাঁর সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি তাঁদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন বলেও অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পরে রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাথী আক্তারকে হেফাজতে নেয়। পরদিন সোমবার (২৬ অক্টোবর) ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে পাঠায় ভালুকা থানা-পুলিশ।

ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম এর আগে জানিয়েছিলেন, সাথী আক্তারের ফেসবুক লাইভের পুরো ভিডিও পর্যালোচনা করে সরকারবিরোধী কোনো বক্তব্য বা সমালোচনামূলক কিছু পাওয়া যায়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো ভিডিও না দেখেই ছড়ানো গুজব থেকে ঘটনার সূত্রপাত হয়।

ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, সাথী আক্তারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে আনুমানিক ১৫০ থেকে ২০০ জন লোক জড়ো হয়েছিলেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় সম্ভাব্য অপরাধ প্রতিরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় তাঁকে প্রতিরোধমূলকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়।

সরকারবিরোধী বক্তব্য বা মতপ্রকাশের কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলেও জানান পুলিশ সুপার।

সাথী আক্তার ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকার খাদিজা প্যালেস মার্কেটে ‘সাথী বিউটি পার্লার’ নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ আলীর মেয়ে। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি পুনরায় বিয়ে করেন; পরে সেই স্বামীর সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ হয়।

সূত্র: দৈনিক নিউ টাইমসের মূল প্রতিবেদন।

Public Voice

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


ফেসবুক লাইভে ক্ষোভ প্রকাশের জেরে গ্রেপ্তার, জামিন পেলেন সেই নারী উদ্যোক্তা

প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ময়মনসিংহের ভালুকায় ফেসবুক লাইভে ‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করা নারী উদ্যোক্তা সাথী আক্তার (৩০) জামিন পেয়েছেন।বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শুনানি শেষে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদুল ইসলামের আদালত তাঁকে জামিন দেন। আদালত মামলার পরবর্তী তারিখ ৩ নভেম্বর ধার্য করে পুলিশকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

জামিনে মুক্তির পর সাথী আক্তার তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা, মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে, তাঁর আইনজীবী বলেছেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে লাইভ করাকে কেন্দ্র করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, সরকারবিরোধী বক্তব্যের কারণে নয়, সম্ভাব্য অপরাধ প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

ময়মনসিংহ আদালত পরিদর্শক মোস্তাছিনুর রহমান জানান, বুধবার সাথী আক্তারকে আদালতে হাজির করা হলে তাঁর পক্ষে আইনজীবী মাহতাব উদ্দিন আহমেদ জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ৫০০ টাকার মুচলেকায় নিজ জিম্মায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। পরে তাঁকে আদালতের হাজতখানা থেকে মুক্তি দেওয়ার কথা জানান তিনি।

আদালত মামলার পরবর্তী তারিখ ৩ নভেম্বর নির্ধারণ করেছেন। এ সময়ের মধ্যে পুলিশকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর আদালত পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জামিনে মুক্ত হওয়ার পর আদালত প্রাঙ্গণে সেদিনের ঘটনা বর্ণনা করে সাথী আক্তার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ওই দিন আমি ১২টার দিকে লাইভ করেছিলাম। পরিকল্পনা করে তারা বিকেল ৪টার আগেই আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করে এবং আমাকে মারধরও করেছে। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখলেই তা পাওয়া যাবে।’

তিনি অভিযোগ করেন, তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়। সেই ঘটনার ভিডিও ধারণ করায় তাঁর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং ভিডিও মুছে ফেলা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

সাথী আক্তার বলেন, ‘পুলিশ আমাকে হেফাজতে নিতে পারত, কিন্তু নেতাকর্মীরা আমার গায়ে হাত দিতে পারে না। আমি মনে করি, তারা অপরাধ করেছে।’

তাঁকে হেনস্তার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন স্থানীয় বিএনপির কর্মীরা উসকানিমূলক পরিস্থিতি তৈরি করে তাঁকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁদের কেউ কেউ তাঁর দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন বলেও দাবি করেন তিনি।

সাথীর ভাষ্য, দলীয় নেতাকর্মীদের এমন আচরণের কারণে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে।

সাথী আক্তারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমি আদালতকে বলেছি, সাথী আক্তার একজন নারী উদ্যোক্তা। তাঁর প্রতিষ্ঠানে অনেক লোকজন কাজ করেন। তিনি ১২ থেকে ১৪ বছর ধরে বিউটি পার্লারের ব্যবসা করছেন। ২০২৬ সালে ব্যবসার পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে। তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বৈদ্যুতিক তার চুরি হয়েছে। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি ফেসবুকে লাইভ করেছেন। এর অর্থ এই নয় যে, তিনি সরকারের কোনো সমালোচনা করেছেন। তিনি তাঁর মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রয়োগ করেছেন।’

আইনজীবীর অভিযোগ, সাথী আক্তারের সঙ্গে দুর্ব্যবহার বা তাঁকে হেনস্তার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাঁকেই ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সাথী আক্তার বর্তমান সরকারকে ভোট দিয়েছিলেন এবং আশা করেছিলেন, সরকার নারী উদ্যোক্তাদের স্বার্থ দেখবে। কিন্তু কিছু বিএনপির নামধারী নেতাকর্মী তাঁর ক্ষতি করার চেষ্টা করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।

আইনজীবীর ভাষ্য, আদালতে জামিনের আবেদন জানিয়ে তিনি সাথী আক্তারের ব্যবসায়িক অবস্থার পাশাপাশি তাঁর গ্রেপ্তারের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। শুনানি শেষে আদালত ৫০০ টাকার মুচলেকায় তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন এবং পুলিশকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

অ্যাডভোকেট মাহতাব উদ্দিন আহমেদ জানান, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় পুলিশের দাখিল করা প্রসিকিউশনে বলা হয়েছে, সাথী আক্তারের ফেসবুক লাইভের পর এলাকার বিএনপির পরিচয়ধারী কয়েকজন ব্যক্তি জড়ো হয়ে তাঁকে আটক করেন।

আইনজীবীর দাবি, আদালতে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে সাথী আক্তার বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড ও অপরাধে জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি মুক্তি পেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বলে জানান আইনজীবী।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা থেকে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছাড়াই তাঁকে প্রতিরোধমূলকভাবে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে।

গত রোববার (২৫ অক্টোবর) ‘সাথী মেকওভার’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে দুটি লাইভ ভিডিও প্রকাশ করেন সাথী আক্তার। ভিডিও দুটির দৈর্ঘ্য ছিল যথাক্রমে ৫ মিনিট ২২ সেকেন্ড ও ৮ মিনিট ৮ সেকেন্ড। সেখানে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে একপর্যায়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী।’

ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঘেরাও করে বিচার দাবি করেন। ভিডিওটি প্রচারের পর মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী তাঁর সঙ্গে কথা বলতে গেলে তিনি তাঁদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন বলেও অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পরে রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাথী আক্তারকে হেফাজতে নেয়। পরদিন সোমবার (২৬ অক্টোবর) ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে আদালতে পাঠায় ভালুকা থানা-পুলিশ।

ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম এর আগে জানিয়েছিলেন, সাথী আক্তারের ফেসবুক লাইভের পুরো ভিডিও পর্যালোচনা করে সরকারবিরোধী কোনো বক্তব্য বা সমালোচনামূলক কিছু পাওয়া যায়নি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো ভিডিও না দেখেই ছড়ানো গুজব থেকে ঘটনার সূত্রপাত হয়।

ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান জানান, সাথী আক্তারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে আনুমানিক ১৫০ থেকে ২০০ জন লোক জড়ো হয়েছিলেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় সম্ভাব্য অপরাধ প্রতিরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় তাঁকে প্রতিরোধমূলকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়।

সরকারবিরোধী বক্তব্য বা মতপ্রকাশের কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলেও জানান পুলিশ সুপার।

সাথী আক্তার ভালুকা উপজেলার স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকার খাদিজা প্যালেস মার্কেটে ‘সাথী বিউটি পার্লার’ নামে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ আলীর মেয়ে। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। প্রথম স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি পুনরায় বিয়ে করেন; পরে সেই স্বামীর সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ হয়।

সূত্র: দৈনিক নিউ টাইমসের মূল প্রতিবেদন।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত