আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে রিপাবলিকান ভোটারদের সক্রিয় করার লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য ও নানা ষড়যন্ত্রতত্ত্বের আশ্রয় নিয়েছেন। আগামীকাল ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনের ওপরই নির্ভর করছে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরের রাজনীতির গতিপ্রকৃতি। এই নির্বাচনের মাধ্যমে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে।
রোববার আইওয়া ও কানসাসে নির্বাচনি সমাবেশে ট্রাম্প ডেমোক্রেটিক পার্টির বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনামুখর ছিলেন। মিশিগান থেকে ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদকে উদ্দেশ্য করে তিনি আবারও ‘জিহাদি’ বলে মন্তব্য করেন। কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই সাইয়েদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের যোগসূত্র থাকার ভিত্তিহীন দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
সমাবেশে ট্রাম্প ব্যঙ্গ করে বলেন, সাইয়েদ নির্বাচিত হলে সিনেটে প্রবেশের আগে তার জন্য বিশেষ ধাতব শনাক্তকরণ যন্ত্র বসাতে হবে। সমর্থকদের হাসির মধ্যে তিনি দাবি করেন, আমাদের ১০০ সিনেটরের মধ্যে সাইয়েদ ব্যতিক্রম, তাই তাকে বাড়তি পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। প্রসঙ্গত, মুসলিম ব্রাদারহুডের কিছু শাখাকে যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। তাদের বেশির ভাগই সরাসরি সিনেটে প্রবেশ করবেন। দুই সমাবেশেই সমর্থকদের ভোট দিতে যাওয়ার আহ্বান জানান ট্রাম্প।
নিজেদের দলের সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে টানতে ট্রাম্প বলেন, সবাই মনে করবেন ব্যালটে আমার নামই রয়েছে। মূলত জনমত জরিপে রিপাবলিকানদের জন্য কঠিন পরিস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়ায় ভোটারের সক্রিয়তা বাড়াতে মরিয়া তিনি। গত সপ্তাহে বাতিল হওয়ার পর এই সমাবেশ দুটি নতুন তারিখ ঘোষণা করে আয়োজিত হয়, যা ছিল নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের শেষ সফরভিত্তিক প্রচারণা। এসব সমাবেশে বিক্ষোভকারীরাও একাধিকবার তার বক্তব্যে বাধা দেন। তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ভাবুন, ব্যালটে আমার নাম আছে।’। পরে হঠাৎ করেই সেগুলোর নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়।
আইওয়ার সমাবেশে ট্রাম্প দাবি করেন, হ্যালি স্টিভেনস দল পরিবর্তন করে রিপাবলিকানে যোগ দিলে তিনি খুশি হতেন।
যদিও স্টিভেনস দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনে সাইয়েদের কাছে হেরে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন দিয়েছেন। একইভাবে কানসাসের সমাবেশে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও গির্জার যাজক অ্যাডাম হ্যামিলটনকেও ছাড় দেননি ট্রাম্প। ট্রান্সজেন্ডারদের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় হ্যামিলটনকে ‘নির্বিকার’ উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, টেলিপ্রম্পটার দেখে ধর্মীয় বক্তব্য পাঠ করেন এই প্রার্থী।
মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ইলহান ওমরকেও ব্যক্তিগত আক্রমণে বিদ্ধ করেন ট্রাম্প। কোনো প্রমাণ ছাড়াই তিনি অভিযোগ করেন যে, ওমর অতীতে নিজের ভাইকে বিয়ে করেছিলেন এবং তাদের সন্তান রয়েছে। এ ধরনের অভিযোগের পাশাপাশি সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ, আকাশচুম্বী জীবনযাত্রার ব্যয়, অভিবাসন সমস্যা এবং জো বাইডেন প্রশাসনের ব্যর্থতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
আইওয়া ও কানসাসে বেশিরভাগ নির্বাচিত প্রতিনিধি রিপাবলিকান হলেও বর্তমান জরিপ অনুযায়ী অঙ্গরাজ্য দুটিতে ডেমোক্র্যাটদের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কানসাসের পাঁচটি ফেডারেল কংগ্রেসীয় আসনের মধ্যে একটি সিনেট আসন গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখ্য, ১৯৩২ সালের পর থেকে এই অঙ্গরাজ্যে কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী সিনেটর হিসেবে জয় পাননি। অন্যদিকে, আইওয়ার সিনেট আসনে লড়াই অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রতিনিধি পরিষদের দুটি আসনে ডেমোক্র্যাটরা সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন বলে জরিপ বলছে।

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে রিপাবলিকান ভোটারদের সক্রিয় করার লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য ও নানা ষড়যন্ত্রতত্ত্বের আশ্রয় নিয়েছেন। আগামীকাল ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনের ওপরই নির্ভর করছে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরের রাজনীতির গতিপ্রকৃতি। এই নির্বাচনের মাধ্যমে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে।
রোববার আইওয়া ও কানসাসে নির্বাচনি সমাবেশে ট্রাম্প ডেমোক্রেটিক পার্টির বিরুদ্ধে ব্যাপক সমালোচনামুখর ছিলেন। মিশিগান থেকে ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদকে উদ্দেশ্য করে তিনি আবারও ‘জিহাদি’ বলে মন্তব্য করেন। কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই সাইয়েদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের যোগসূত্র থাকার ভিত্তিহীন দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
সমাবেশে ট্রাম্প ব্যঙ্গ করে বলেন, সাইয়েদ নির্বাচিত হলে সিনেটে প্রবেশের আগে তার জন্য বিশেষ ধাতব শনাক্তকরণ যন্ত্র বসাতে হবে। সমর্থকদের হাসির মধ্যে তিনি দাবি করেন, আমাদের ১০০ সিনেটরের মধ্যে সাইয়েদ ব্যতিক্রম, তাই তাকে বাড়তি পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। প্রসঙ্গত, মুসলিম ব্রাদারহুডের কিছু শাখাকে যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। তাদের বেশির ভাগই সরাসরি সিনেটে প্রবেশ করবেন। দুই সমাবেশেই সমর্থকদের ভোট দিতে যাওয়ার আহ্বান জানান ট্রাম্প।
নিজেদের দলের সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে টানতে ট্রাম্প বলেন, সবাই মনে করবেন ব্যালটে আমার নামই রয়েছে। মূলত জনমত জরিপে রিপাবলিকানদের জন্য কঠিন পরিস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়ায় ভোটারের সক্রিয়তা বাড়াতে মরিয়া তিনি। গত সপ্তাহে বাতিল হওয়ার পর এই সমাবেশ দুটি নতুন তারিখ ঘোষণা করে আয়োজিত হয়, যা ছিল নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের শেষ সফরভিত্তিক প্রচারণা। এসব সমাবেশে বিক্ষোভকারীরাও একাধিকবার তার বক্তব্যে বাধা দেন। তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ভাবুন, ব্যালটে আমার নাম আছে।’। পরে হঠাৎ করেই সেগুলোর নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়।
আইওয়ার সমাবেশে ট্রাম্প দাবি করেন, হ্যালি স্টিভেনস দল পরিবর্তন করে রিপাবলিকানে যোগ দিলে তিনি খুশি হতেন।
যদিও স্টিভেনস দলীয় প্রাথমিক নির্বাচনে সাইয়েদের কাছে হেরে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন দিয়েছেন। একইভাবে কানসাসের সমাবেশে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও গির্জার যাজক অ্যাডাম হ্যামিলটনকেও ছাড় দেননি ট্রাম্প। ট্রান্সজেন্ডারদের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় হ্যামিলটনকে ‘নির্বিকার’ উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, টেলিপ্রম্পটার দেখে ধর্মীয় বক্তব্য পাঠ করেন এই প্রার্থী।
মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ইলহান ওমরকেও ব্যক্তিগত আক্রমণে বিদ্ধ করেন ট্রাম্প। কোনো প্রমাণ ছাড়াই তিনি অভিযোগ করেন যে, ওমর অতীতে নিজের ভাইকে বিয়ে করেছিলেন এবং তাদের সন্তান রয়েছে। এ ধরনের অভিযোগের পাশাপাশি সমাবেশে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ, আকাশচুম্বী জীবনযাত্রার ব্যয়, অভিবাসন সমস্যা এবং জো বাইডেন প্রশাসনের ব্যর্থতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।
আইওয়া ও কানসাসে বেশিরভাগ নির্বাচিত প্রতিনিধি রিপাবলিকান হলেও বর্তমান জরিপ অনুযায়ী অঙ্গরাজ্য দুটিতে ডেমোক্র্যাটদের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কানসাসের পাঁচটি ফেডারেল কংগ্রেসীয় আসনের মধ্যে একটি সিনেট আসন গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখ্য, ১৯৩২ সালের পর থেকে এই অঙ্গরাজ্যে কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থী সিনেটর হিসেবে জয় পাননি। অন্যদিকে, আইওয়ার সিনেট আসনে লড়াই অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রতিনিধি পরিষদের দুটি আসনে ডেমোক্র্যাটরা সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন বলে জরিপ বলছে।
