আন্তর্জাতিকআন্তর্জাতিক

ফ্লোরিডায় বিমান বিধ্বস্তে সব আরোহীর মৃত্যু, শেষ বার্তায় যা বলেছিলেন পাইলট

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ৯ আরোহীসহ একটি ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে সবাই নিহত হয়েছেন। কন্ট্রোল টাওয়ারের সাথে শেষ কথোপকথনে পাইলট জানান, উড়োজাহাজটি মাটিতে আছড়ে পড়ছে।

Publicvoice24
Publicvoice24
|
শেয়ার করুন
অ+ অ-

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ফ্লোরিডার একটি আবাসিক এলাকায় নয়জন আরোহী নিয়ে একটি ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক বিমান ভয়াবহভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বিমানের সব আরোহী নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পাম বিচ কাউন্টি এলাকায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার সময় বিমানটি বাহামাসের দিকে যাচ্ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে বিমানটিকে আকাশ থেকে খাড়াভাবে নিচে নেমে সড়কের পাশে আছড়ে পড়তে এবং সাথে সাথে বিস্ফোরিত হতে দেখা যায়। দুর্ঘটনাস্থলটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং সেখানে আগুনের লেলিহান শিখা জ্বলতে দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ফ্লোরিডার একটি আবাসিক এলাকায় ৯ জন আরোহী নিয়ে একটি ব্যবসায়িক বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলে সৃষ্ট গর্তের চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পিচঢালা সড়কের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে আগুনের শিখা জ্বলতে দেখা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে পাম বিচ কাউন্টিতে লিয়ারজেট ৬০ মডেলের এই উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়।

ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) তথ্যানুযায়ী, বিমানটি টেক্সাসের অস্টিন-বার্গস্ট্রম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল।

অস্টিন-বার্গস্ট্রম বিমানবন্দরের মুখপাত্র জিম রেনল্ডস নিশ্চিত করেছেন যে, বিমানটি ব্যক্তিমালিকানাধীন ছিল। তবে উড়োজাহাজে থাকা আরোহীদের পরিচয় সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ও বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার আগে বিমানটি ৩৫ হাজার ফুট উচ্চতায় পূর্ব দিকে উড়ছিল। এ সময় পাইলটরা তীব্র ঝাঁকুনি, বরফ জমা এবং বৃষ্টিপাতের সমস্যার কথা জানান। পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা আরও দুই হাজার ফুট উপরে ওঠার অনুমতি চেয়েছিলেন। রোববার ওই অঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হচ্ছিল এবং অতিবৃষ্টির কারণে বন্যার আশঙ্কায় সোমবার বিকেল পর্যন্ত আবহাওয়া দপ্তর সতর্কবার্তা জারি রেখেছিল। বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে পাইলটদের কথোপকথনের রেকর্ড এবং ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি ৩৫ হাজার ফুট (প্রায় ১১ কিলোমিটার) উচ্চতায় পূর্বদিকে যাচ্ছিল। এ সময় পাইলটরা তীব্র ঝাঁকুনি, বরফ জমা ও বৃষ্টিপাতের কথা জানান এবং আরও ২ হাজার ফুট (প্রায় ৬১০ মিটার) ওপরে ওঠার অনুমতি চান।

পাইলট কন্ট্রোল টাওয়ারকে জানিয়েছিলেন যে, বিমানের গায়ে হালকা স্বচ্ছ বরফ জমছে এবং মাঝারি মাত্রার ঝাঁকুনি অনুভূত হচ্ছে। এক পর্যায়ে ঝাঁকুনির তীব্রতা এত বেড়ে যায় যে বিমানটি ৭০০ ফুট পর্যন্ত ওঠানামা করছিল। এর পরপরই উড়োজাহাজটির উচ্চতা দ্রুত কমতে শুরু করে। প্রথমে প্রতি মিনিটে ১০ হাজার ফুট, পরে ২০ হাজার ফুট এবং এক পর্যায়ে ৩০ হাজার ফুট হারে নিচে নামতে থাকে। এতে উড়োজাহাজটির গতি নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে ফেলে। পাইলট জানান, ঝাঁকুনির কারণে উড়োজাহাজটি ৭০০ ফুট (প্রায় ২১৩ মিটার) পর্যন্ত ওঠানামা করছিল।

কন্ট্রোল টাওয়ারের সাথে চূড়ান্ত যোগাযোগের সময় পাইলট মেডে সংকেত পাঠান। পাইলট অত্যন্ত উদ্বিগ্ন কণ্ঠে জানান, আমরা প্রতি মিনিটে ৮ হাজার ফুট গতিতে নিচে নামছি—মেডে, মেডে! মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটলে পাইলট পুনরায় জানান, আমরা প্রতি মিনিটে ১০ হাজার ফুট গতিতে নিচে নামছি। শেষ পর্যায়ে অতিরিক্ত গতির মুখে বিমানটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ার কথা জানিয়ে পাইলট বলেন, আমরা মাটিতে আছড়ে পড়তে যাচ্ছি।

দুর্ঘটনার পরপরই পাম বিচ কাউন্টি কর্তৃপক্ষ স্থানীয় একটি মোবাইল হোম আবাসন এলাকা থেকে প্রায় ৬০০ বাসিন্দাকে জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়। ফেডারেল কর্মকর্তারা ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনাকবলিত সড়কটি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

Public Voice

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


ফ্লোরিডায় বিমান বিধ্বস্তে সব আরোহীর মৃত্যু, শেষ বার্তায় যা বলেছিলেন পাইলট

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ফ্লোরিডার একটি আবাসিক এলাকায় নয়জন আরোহী নিয়ে একটি ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক বিমান ভয়াবহভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বিমানের সব আরোহী নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পাম বিচ কাউন্টি এলাকায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার সময় বিমানটি বাহামাসের দিকে যাচ্ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে বিমানটিকে আকাশ থেকে খাড়াভাবে নিচে নেমে সড়কের পাশে আছড়ে পড়তে এবং সাথে সাথে বিস্ফোরিত হতে দেখা যায়। দুর্ঘটনাস্থলটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং সেখানে আগুনের লেলিহান শিখা জ্বলতে দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ফ্লোরিডার একটি আবাসিক এলাকায় ৯ জন আরোহী নিয়ে একটি ব্যবসায়িক বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলে সৃষ্ট গর্তের চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা পিচঢালা সড়কের ধ্বংসাবশেষের মধ্যে আগুনের শিখা জ্বলতে দেখা যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে পাম বিচ কাউন্টিতে লিয়ারজেট ৬০ মডেলের এই উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়।

ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) তথ্যানুযায়ী, বিমানটি টেক্সাসের অস্টিন-বার্গস্ট্রম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল।

অস্টিন-বার্গস্ট্রম বিমানবন্দরের মুখপাত্র জিম রেনল্ডস নিশ্চিত করেছেন যে, বিমানটি ব্যক্তিমালিকানাধীন ছিল। তবে উড়োজাহাজে থাকা আরোহীদের পরিচয় সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ও বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার আগে বিমানটি ৩৫ হাজার ফুট উচ্চতায় পূর্ব দিকে উড়ছিল। এ সময় পাইলটরা তীব্র ঝাঁকুনি, বরফ জমা এবং বৃষ্টিপাতের সমস্যার কথা জানান। পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা আরও দুই হাজার ফুট উপরে ওঠার অনুমতি চেয়েছিলেন। রোববার ওই অঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হচ্ছিল এবং অতিবৃষ্টির কারণে বন্যার আশঙ্কায় সোমবার বিকেল পর্যন্ত আবহাওয়া দপ্তর সতর্কবার্তা জারি রেখেছিল। বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে পাইলটদের কথোপকথনের রেকর্ড এবং ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি ৩৫ হাজার ফুট (প্রায় ১১ কিলোমিটার) উচ্চতায় পূর্বদিকে যাচ্ছিল। এ সময় পাইলটরা তীব্র ঝাঁকুনি, বরফ জমা ও বৃষ্টিপাতের কথা জানান এবং আরও ২ হাজার ফুট (প্রায় ৬১০ মিটার) ওপরে ওঠার অনুমতি চান।

পাইলট কন্ট্রোল টাওয়ারকে জানিয়েছিলেন যে, বিমানের গায়ে হালকা স্বচ্ছ বরফ জমছে এবং মাঝারি মাত্রার ঝাঁকুনি অনুভূত হচ্ছে। এক পর্যায়ে ঝাঁকুনির তীব্রতা এত বেড়ে যায় যে বিমানটি ৭০০ ফুট পর্যন্ত ওঠানামা করছিল। এর পরপরই উড়োজাহাজটির উচ্চতা দ্রুত কমতে শুরু করে। প্রথমে প্রতি মিনিটে ১০ হাজার ফুট, পরে ২০ হাজার ফুট এবং এক পর্যায়ে ৩০ হাজার ফুট হারে নিচে নামতে থাকে। এতে উড়োজাহাজটির গতি নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে ফেলে। পাইলট জানান, ঝাঁকুনির কারণে উড়োজাহাজটি ৭০০ ফুট (প্রায় ২১৩ মিটার) পর্যন্ত ওঠানামা করছিল।

কন্ট্রোল টাওয়ারের সাথে চূড়ান্ত যোগাযোগের সময় পাইলট মেডে সংকেত পাঠান। পাইলট অত্যন্ত উদ্বিগ্ন কণ্ঠে জানান, আমরা প্রতি মিনিটে ৮ হাজার ফুট গতিতে নিচে নামছি—মেডে, মেডে! মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটলে পাইলট পুনরায় জানান, আমরা প্রতি মিনিটে ১০ হাজার ফুট গতিতে নিচে নামছি। শেষ পর্যায়ে অতিরিক্ত গতির মুখে বিমানটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ার কথা জানিয়ে পাইলট বলেন, আমরা মাটিতে আছড়ে পড়তে যাচ্ছি।

দুর্ঘটনার পরপরই পাম বিচ কাউন্টি কর্তৃপক্ষ স্থানীয় একটি মোবাইল হোম আবাসন এলাকা থেকে প্রায় ৬০০ বাসিন্দাকে জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়। ফেডারেল কর্মকর্তারা ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছেন। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনাকবলিত সড়কটি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত