ক্যাম্পাস
দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) নারী শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে ইনডোর স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের দাবি উঠেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রকল্পের প্রস্তাবনা জমা দিয়েছে। এবার প্রকল্পটি অনুমোদনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) উম্মে ইসরাত স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা তাঁদের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশ ও নৈপুণ্য প্রদর্শনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে একটি ইনডোর ক্রীড়া কমপ্লেক্স স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পরামর্শে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য ইনডোর স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রকল্পের ধারণাপত্র প্রস্তুত ও অনুমোদনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চেয়ে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ জানিয়েছেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘এমতাবস্থায়, জনাব মনিরুল হক চৌধুরী, মাননীয় সংসদ সদস্য, কুমিল্লা-০৬ হতে প্রস্তাবিত “কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য ইনডোর স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প” অনুমোদনের বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’
এর আগে, গত ১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খেলাধুলার জন্য ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ ও ক্রীড়া সামগ্রী প্রদানের বিষয়ে আবেদন করা হয়।
লোকপ্রশাসন বিভাগ ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন বলেন, "আমি মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের জন্য আলাদা একটি ইনডোর স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণ করা জরুরি। ছাত্রীরা তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, নিরাপত্তা, উপযুক্ত পরিবেশ কিংবা সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে বর্তমান স্পোর্টস সুবিধা ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না । তাই আমাদের জন্য আলাদা ইনডোর স্পোর্টস কমপ্লেক্স হলে ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, বাস্কেটবল, ভলিবল, জিম ও অন্যান্য খেলাধুলার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে আমার মতে, শুধু আলাদা একটি ভবন নির্মাণ করলেই হবে না; সেখানে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম, প্রশিক্ষক, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকতে হবে।"
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করিম বলেন, ‘২০ বছরেও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বলে আসছি, স্টুডেন্ট ফার্স্ট। আমার প্রথম বক্তব্যেই বলেছিলাম, ক্যাম্পাসের নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা একটি ইনডোর স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণ করব। পরবর্তী সময়ে কয়েকজন নারী শিক্ষার্থীও আমার কাছে এসেছিলেন তাঁদের খেলাধুলার জন্য আলাদা ব্যবস্থা করতে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে ইনডোর স্পোর্টস কমপ্লেক্সের জন্য আবেদন করি এবং বিষয়টি সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর সঙ্গেও আলোচনা করি। ক্যাম্পাসের উন্নয়ন ও নারী শিক্ষার্থীদের জন্য তিনিও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারই পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত যেন কাজটি হয়, সেজন্য তিনি নিজেই যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য চিঠি দিয়েছেন। আমি শুরু থেকেই বলে আসছি, স্টুডেন্ট ফার্স্ট—সেই নীতিতেই কাজ করে যাচ্ছি। শিক্ষার্থীদের জন্য সুন্দর, সৃজনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্যাম্পাসের পরিবেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বতন্ত্র পরিচয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সবার সহযোগিতায় এসব উদ্যোগ ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা হবে।’

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬
দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) নারী শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সুযোগ বাড়াতে ইনডোর স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের দাবি উঠেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রকল্পের প্রস্তাবনা জমা দিয়েছে। এবার প্রকল্পটি অনুমোদনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) উম্মে ইসরাত স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা তাঁদের ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশ ও নৈপুণ্য প্রদর্শনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে একটি ইনডোর ক্রীড়া কমপ্লেক্স স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পরামর্শে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য ইনডোর স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রকল্পের ধারণাপত্র প্রস্তুত ও অনুমোদনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা চেয়ে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ জানিয়েছেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘এমতাবস্থায়, জনাব মনিরুল হক চৌধুরী, মাননীয় সংসদ সদস্য, কুমিল্লা-০৬ হতে প্রস্তাবিত “কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য ইনডোর স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প” অনুমোদনের বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’
এর আগে, গত ১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খেলাধুলার জন্য ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ ও ক্রীড়া সামগ্রী প্রদানের বিষয়ে আবেদন করা হয়।
লোকপ্রশাসন বিভাগ ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া আফরিন বলেন, "আমি মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের জন্য আলাদা একটি ইনডোর স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণ করা জরুরি। ছাত্রীরা তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, নিরাপত্তা, উপযুক্ত পরিবেশ কিংবা সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে বর্তমান স্পোর্টস সুবিধা ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না । তাই আমাদের জন্য আলাদা ইনডোর স্পোর্টস কমপ্লেক্স হলে ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, বাস্কেটবল, ভলিবল, জিম ও অন্যান্য খেলাধুলার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে আমার মতে, শুধু আলাদা একটি ভবন নির্মাণ করলেই হবে না; সেখানে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম, প্রশিক্ষক, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকতে হবে।"
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করিম বলেন, ‘২০ বছরেও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়েদের জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বলে আসছি, স্টুডেন্ট ফার্স্ট। আমার প্রথম বক্তব্যেই বলেছিলাম, ক্যাম্পাসের নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা একটি ইনডোর স্পোর্টস কমপ্লেক্স নির্মাণ করব। পরবর্তী সময়ে কয়েকজন নারী শিক্ষার্থীও আমার কাছে এসেছিলেন তাঁদের খেলাধুলার জন্য আলাদা ব্যবস্থা করতে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে ইনডোর স্পোর্টস কমপ্লেক্সের জন্য আবেদন করি এবং বিষয়টি সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর সঙ্গেও আলোচনা করি। ক্যাম্পাসের উন্নয়ন ও নারী শিক্ষার্থীদের জন্য তিনিও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারই পরিপ্রেক্ষিতে দ্রুত যেন কাজটি হয়, সেজন্য তিনি নিজেই যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য চিঠি দিয়েছেন। আমি শুরু থেকেই বলে আসছি, স্টুডেন্ট ফার্স্ট—সেই নীতিতেই কাজ করে যাচ্ছি। শিক্ষার্থীদের জন্য সুন্দর, সৃজনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্যাম্পাসের পরিবেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বতন্ত্র পরিচয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সবার সহযোগিতায় এসব উদ্যোগ ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা হবে।’
