জাতীয়জাতীয়

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে নতুন গ্যাসের সন্ধান, মিলবে দৈনিক ১০ মিলিয়ন ঘনফুট

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে সুন্দলপুর সাউথ-১ অনুসন্ধান কূপ থেকে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে বাপেক্স। এখান থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

Publicvoice24
Publicvoice24
|
শেয়ার করুন
অ+ অ-

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রামপুর ইউনিয়নে নতুন গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। সুন্দলপুর সাউথ-১ অনুসন্ধান কূপের খননকাজ সফলভাবে শেষ করে সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে অগ্নিপ্রজ্বালনের মাধ্যমে সেখানে গ্যাসের মজুত নিশ্চিত করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)।

বাপেক্সের নিজস্ব ‘বিজয়-১০’ খননযন্ত্র ব্যবহার করে চলতি বছরের ৮ জুলাই এই কূপের খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। প্রায় সাড়ে তিন মাসব্যাপী প্রচেষ্টায় ৩ হাজার ২৮৯ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন সম্পন্ন করা হয়। এরপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কূপটির দুটি আলাদা জোনে গ্যাসের বিশাল মজুতের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে চলা এ অভিযানে কূপটি ৩ হাজার ২৮৯ মিটার গভীর পর্যন্ত সফলভাবে খনন করা হয়।

বাপেক্সের তথ্যমতে, কূপের ওই দুটি জোনে মোট ৯৭.৬৯ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী এই গ্যাসের দাম প্রায় ৫ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা। সবকিছু ঠিক থাকলে এই কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এখান থেকে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। বাপেক্সের তথ্য অনুযায়ী, কূপটির এই দুটি জোনে মোট ৯ হাজার ৭৬৯ কোটি ঘনফুট বা ৯৭.৬৯ বিসিএফ গ্যাসের মজুত রয়েছে। ভোক্তা পর্যায়ের বর্তমান বাজারমূল্য হিসাব করলে এই গ্যাসের আনুমানিক মূল্য ৫ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা।

প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, কূপটিতে গ্যাস ছাড়াও তেল বা অন্য কোনো খনিজ পদার্থের উপস্থিতি আছে কি না, তা জানতে আগামী ১৫ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও ডিএসটি পরীক্ষা চালানো হবে। এই পরীক্ষা শেষেই সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া সম্ভব হবে। ড্রিলিং ইনচার্জ রকিবুল হাসানও কূপটিতে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, গ্যাসের এই সন্ধান নোয়াখালীবাসীর জন্য গর্বের। এটি ব্যবহার করে পুরো অঞ্চলে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। তিনি স্থানীয়রা যেন এই সম্পদের সুফল পায়, তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘এ গ্যাস সম্পদকে কাজে লাগিয়ে কোম্পানীগঞ্জসহ পুরো নোয়াখালীর শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমান জানান, নতুন এই গ্যাসক্ষেত্র দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সিসমিক সার্ভে প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের সফলতায় স্থানীয় বাসিন্দারা অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত। এর মধ্য দিয়ে দেশের জ্বালানি খাতে আরেকটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো। কোম্পানীগঞ্জের পাশাপাশি নোয়াখালীর মানুষও এ খবরে উচ্ছ্বসিত।’।

Public Voice

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে নতুন গ্যাসের সন্ধান, মিলবে দৈনিক ১০ মিলিয়ন ঘনফুট

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার রামপুর ইউনিয়নে নতুন গ্যাসক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। সুন্দলপুর সাউথ-১ অনুসন্ধান কূপের খননকাজ সফলভাবে শেষ করে সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে অগ্নিপ্রজ্বালনের মাধ্যমে সেখানে গ্যাসের মজুত নিশ্চিত করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)।

বাপেক্সের নিজস্ব ‘বিজয়-১০’ খননযন্ত্র ব্যবহার করে চলতি বছরের ৮ জুলাই এই কূপের খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। প্রায় সাড়ে তিন মাসব্যাপী প্রচেষ্টায় ৩ হাজার ২৮৯ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন সম্পন্ন করা হয়। এরপর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কূপটির দুটি আলাদা জোনে গ্যাসের বিশাল মজুতের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে চলা এ অভিযানে কূপটি ৩ হাজার ২৮৯ মিটার গভীর পর্যন্ত সফলভাবে খনন করা হয়।

বাপেক্সের তথ্যমতে, কূপের ওই দুটি জোনে মোট ৯৭.৬৯ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী এই গ্যাসের দাম প্রায় ৫ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা। সবকিছু ঠিক থাকলে এই কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এখান থেকে প্রতিদিন জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। বাপেক্সের তথ্য অনুযায়ী, কূপটির এই দুটি জোনে মোট ৯ হাজার ৭৬৯ কোটি ঘনফুট বা ৯৭.৬৯ বিসিএফ গ্যাসের মজুত রয়েছে। ভোক্তা পর্যায়ের বর্তমান বাজারমূল্য হিসাব করলে এই গ্যাসের আনুমানিক মূল্য ৫ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা।

প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, কূপটিতে গ্যাস ছাড়াও তেল বা অন্য কোনো খনিজ পদার্থের উপস্থিতি আছে কি না, তা জানতে আগামী ১৫ দিন নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও ডিএসটি পরীক্ষা চালানো হবে। এই পরীক্ষা শেষেই সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়া সম্ভব হবে। ড্রিলিং ইনচার্জ রকিবুল হাসানও কূপটিতে গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, গ্যাসের এই সন্ধান নোয়াখালীবাসীর জন্য গর্বের। এটি ব্যবহার করে পুরো অঞ্চলে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। তিনি স্থানীয়রা যেন এই সম্পদের সুফল পায়, তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘এ গ্যাস সম্পদকে কাজে লাগিয়ে কোম্পানীগঞ্জসহ পুরো নোয়াখালীর শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমান জানান, নতুন এই গ্যাসক্ষেত্র দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সিসমিক সার্ভে প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের সফলতায় স্থানীয় বাসিন্দারা অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত। এর মধ্য দিয়ে দেশের জ্বালানি খাতে আরেকটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো। কোম্পানীগঞ্জের পাশাপাশি নোয়াখালীর মানুষও এ খবরে উচ্ছ্বসিত।’।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত