সারাদেশ
পাবনার চাটমোহরে সার সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ কৃষক। রোপা আমন মৌসুমের শুরু থেকেই একশ্রেণির অসাধু সার ব্যবসায়ী ও ডিলার কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের কাছ থেকে বাড়তি দাম আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিকারের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগকারীদের মধ্যে ছিলেন রবিউল করিম তারেক, শাহাদত হোসেন, মজনুর রহমান, আব্দুর রহিম কালু, আসাদুজ্জামান মিঞা এবং ফুলচাঁদ হোসেন শামীম।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, উপজেলার নিমাইচড়ার মির্জাপুর, রেলবাজার, বামনগ্রাম ও শরৎগঞ্জ বাজারের ডিলাররা সার মজুত করে বাজারে কৃত্রিম ঘাটতি তৈরি করেছেন।
এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও সার না পেয়ে অনেক কৃষক জমি চাষ করতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ জমি পতিত রাখছেন, আবার কেউ কালোবাজারি থেকে চড়া দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, ডিলাররা সরকারি মূল্য তালিকার তোয়াক্কা না করে বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম নিচ্ছেন। এ সময় কৃষকের প্রয়োজন নেই এমন সার গছিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে ডিলারদের বিরুদ্ধে। আবার অনেকেই কালোবাজারে সার বিক্রি করে দিচ্ছেন। শুধু তা-ই নয়, কৃষকের প্রয়োজন নেই এমন সার না নিলে প্রয়োজনীয় সার দেওয়া হচ্ছে না। একাধিক সূত্র জানায়, সরকারি বরাদ্দের সার ছাড়াও ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে কালোবাজারে সার কিনে গুদামজাত করছেন।
অভিযুক্ত সার বিক্রেতাদের মধ্যে রয়েছেন বিসিআইসি ডিলার আব্দুস সালাম সরকার, বামনগ্রাম বাজারের মাসুদ ও মোহাম্মদ আলী, এবং শরৎগঞ্জ বাজারের ইউনুস আলীসহ মির্জাপুরের ডিলাররা। বর্তমানে ইউরিয়া সারের সরকারি দাম বস্তাপ্রতি ১ হাজার ৩৫০ টাকা, ডিএপি ১ হাজার ৫০ টাকা, টিএসপি ১ হাজার ৩৫০ টাকা এবং পটাশ ১ হাজার টাকা নির্ধারিত রয়েছে। চাটমোহরে বর্তমানে ১২ জন বিসিআইসি ডিলার, ১৭ জন বিএডিসি ডিলার ও ৬৯ জন খুচরা বিক্রেতা রয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, এঁদের বড় একটি অংশ সরকারি নির্দেশ অমান্য করে অসাধু উপায়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, চলতি রোপা আমন মৌসুমে ৭ হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হয়েছে। অক্টোবর মাসে উপজেলায় ইউরিয়া ৪৬৫ মেট্রিক টন, ডিএপি ৫৪০ মেট্রিক টন, টিএসপি ১৫০ মেট্রিক টন এবং পটাশ ২৮৫ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কুন্তলা ঘোষ জানান, কৃষকদের কষ্টার্জিত অর্থ জিম্মি করে বেশি দামে সার বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। ডিলারদের কার্যক্রম নজরদারিতে রাখতে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং অভিযোগ পেলেই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার ৭৬০ হেক্টর, আবাদ হয়েছে ৭ হাজার ৭৭৫ হেক্টর।
আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার খালিদ হাসান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রত্যেক সার ব্যবসায়ীকে আবশ্যিকভাবে দোকানের সামনে সরকারি মূল্য তালিকা প্রদর্শন করতে হবে। সারের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, যে কোনো অনিয়ম ও কালোবাজারির অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার যে কোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন।

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬
পাবনার চাটমোহরে সার সিন্ডিকেটের কবলে পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ কৃষক। রোপা আমন মৌসুমের শুরু থেকেই একশ্রেণির অসাধু সার ব্যবসায়ী ও ডিলার কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কৃষকদের কাছ থেকে বাড়তি দাম আদায় করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এ বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিকারের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগকারীদের মধ্যে ছিলেন রবিউল করিম তারেক, শাহাদত হোসেন, মজনুর রহমান, আব্দুর রহিম কালু, আসাদুজ্জামান মিঞা এবং ফুলচাঁদ হোসেন শামীম।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্যমতে, উপজেলার নিমাইচড়ার মির্জাপুর, রেলবাজার, বামনগ্রাম ও শরৎগঞ্জ বাজারের ডিলাররা সার মজুত করে বাজারে কৃত্রিম ঘাটতি তৈরি করেছেন।
এতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও সার না পেয়ে অনেক কৃষক জমি চাষ করতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে কেউ কেউ জমি পতিত রাখছেন, আবার কেউ কালোবাজারি থেকে চড়া দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, ডিলাররা সরকারি মূল্য তালিকার তোয়াক্কা না করে বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম নিচ্ছেন। এ সময় কৃষকের প্রয়োজন নেই এমন সার গছিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে ডিলারদের বিরুদ্ধে। আবার অনেকেই কালোবাজারে সার বিক্রি করে দিচ্ছেন। শুধু তা-ই নয়, কৃষকের প্রয়োজন নেই এমন সার না নিলে প্রয়োজনীয় সার দেওয়া হচ্ছে না। একাধিক সূত্র জানায়, সরকারি বরাদ্দের সার ছাড়াও ডিলার ও খুচরা বিক্রেতারা পার্শ্ববর্তী উপজেলা থেকে কালোবাজারে সার কিনে গুদামজাত করছেন।
অভিযুক্ত সার বিক্রেতাদের মধ্যে রয়েছেন বিসিআইসি ডিলার আব্দুস সালাম সরকার, বামনগ্রাম বাজারের মাসুদ ও মোহাম্মদ আলী, এবং শরৎগঞ্জ বাজারের ইউনুস আলীসহ মির্জাপুরের ডিলাররা। বর্তমানে ইউরিয়া সারের সরকারি দাম বস্তাপ্রতি ১ হাজার ৩৫০ টাকা, ডিএপি ১ হাজার ৫০ টাকা, টিএসপি ১ হাজার ৩৫০ টাকা এবং পটাশ ১ হাজার টাকা নির্ধারিত রয়েছে। চাটমোহরে বর্তমানে ১২ জন বিসিআইসি ডিলার, ১৭ জন বিএডিসি ডিলার ও ৬৯ জন খুচরা বিক্রেতা রয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, এঁদের বড় একটি অংশ সরকারি নির্দেশ অমান্য করে অসাধু উপায়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী, চলতি রোপা আমন মৌসুমে ৭ হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমিতে ধান আবাদ হয়েছে। অক্টোবর মাসে উপজেলায় ইউরিয়া ৪৬৫ মেট্রিক টন, ডিএপি ৫৪০ মেট্রিক টন, টিএসপি ১৫০ মেট্রিক টন এবং পটাশ ২৮৫ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কুন্তলা ঘোষ জানান, কৃষকদের কষ্টার্জিত অর্থ জিম্মি করে বেশি দামে সার বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। ডিলারদের কার্যক্রম নজরদারিতে রাখতে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং অভিযোগ পেলেই যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ হাজার ৭৬০ হেক্টর, আবাদ হয়েছে ৭ হাজার ৭৭৫ হেক্টর।
আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার খালিদ হাসান কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রত্যেক সার ব্যবসায়ীকে আবশ্যিকভাবে দোকানের সামনে সরকারি মূল্য তালিকা প্রদর্শন করতে হবে। সারের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, যে কোনো অনিয়ম ও কালোবাজারির অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার যে কোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন।
