ক্যাম্পাসক্যাম্পাস

চবিতে শিবির নেতাকে নিয়ে সমালোচনা করায় মাকে অশ্লীল গালি, সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ও শিবির নেতা মোনায়েম শরীফের চাকসু কার্যক্রমের সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার পর মাকে নিয়ে অশ্লীল মন্তব্যের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সাকিব মাহমুদ রুমী।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনারে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব তথ্য জানান রুমী। 

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সামিউল ইসলাম সামির বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ২৫ অক্টোবর রাতে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে মোনায়েম শরীফের দায়িত্ব পালনের সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়ার পর ‘আল-হাইতাম ইবনে সামি’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে আমার মমতাময়ী মাকে নিয়ে অশ্লীল ও অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে রুমী দাবি করেন, পরে তিনি ওই আইডিটি সামিউল ইসলাম সামি নিয়ন্ত্রণ করেন বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় ২৬ অক্টোবর রাতে হাটহাজারী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি। পরে আইনজীবীদের পরামর্শে সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২৫, ২৭ ও ২৯ ধারায় আক্রমণাত্মক বাক্য প্রেরণ ও মানহানির অভিযোগে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।

রুমী বলেন, এ ঘটনায় আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ি। এমনকি ২৬ অক্টোবর সকালে অনুষ্ঠিত আমার মাস্টার্সের পরীক্ষায়ও এর প্রভাব পড়ে। তা সত্ত্বেও আমি আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছি।

রুমীর অভিযোগ, গত ২৫ অক্টোবরের পোস্টে তিনি মোনায়েম শরীফের দায়িত্ব পালনের ভূমিকা, জাতীয় দিবসগুলোতে আলোচনা সভা আয়োজন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বিজয় ৭১’ স্মৃতিস্তম্ভের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে সমালোচনা করেন। সাত বীরশ্রেষ্ঠের পরিচয় ও নামের বানান নিয়ে ভুল, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ না নেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।

এদিকে সামিউল ইসলাম সামি মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে রুমীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন বলেও জানান তিনি।

সামি বলেন, আমি এই মন্তব্যের জন্য ফেসবুকে পোস্ট করে দুঃখ প্রকাশ করেছি। এমনটা আর হবে না বলে রুমীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছি।

ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার কথা অস্বীকার করে সামি বলেন, আমি ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নই, তবে ছাত্রশিবিরকে সমর্থন করি, পছন্দ করি।

লিখিত বক্তব্যে রুমী বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে গত কয়েক বছরে ক্যাম্পাসে অনেক শিক্ষার্থী, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থী, সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনার যথাযথ বিচার না হওয়ায় আমি নিজের অভিযোগের সর্বোচ্চ বিচার নিশ্চিত করতে আইনি প্রক্রিয়ায় লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ ক্ষেত্রে বিচার বিভাগ, শাসন বিভাগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের সহযোগিতাও কামনা করি।

Public Voice

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬


চবিতে শিবির নেতাকে নিয়ে সমালোচনা করায় মাকে অশ্লীল গালি, সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা

প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক ও শিবির নেতা মোনায়েম শরীফের চাকসু কার্যক্রমের সমালোচনা করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার পর মাকে নিয়ে অশ্লীল মন্তব্যের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সাকিব মাহমুদ রুমী।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনারে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব তথ্য জানান রুমী। 

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সামিউল ইসলাম সামির বিরুদ্ধে সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ২৫ অক্টোবর রাতে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে মোনায়েম শরীফের দায়িত্ব পালনের সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়ার পর ‘আল-হাইতাম ইবনে সামি’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে আমার মমতাময়ী মাকে নিয়ে অশ্লীল ও অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়।

লিখিত বক্তব্যে রুমী দাবি করেন, পরে তিনি ওই আইডিটি সামিউল ইসলাম সামি নিয়ন্ত্রণ করেন বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় ২৬ অক্টোবর রাতে হাটহাজারী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি। পরে আইনজীবীদের পরামর্শে সাইবার নিরাপত্তা আইনের ২৫, ২৭ ও ২৯ ধারায় আক্রমণাত্মক বাক্য প্রেরণ ও মানহানির অভিযোগে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।

রুমী বলেন, এ ঘটনায় আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ি। এমনকি ২৬ অক্টোবর সকালে অনুষ্ঠিত আমার মাস্টার্সের পরীক্ষায়ও এর প্রভাব পড়ে। তা সত্ত্বেও আমি আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছি।

রুমীর অভিযোগ, গত ২৫ অক্টোবরের পোস্টে তিনি মোনায়েম শরীফের দায়িত্ব পালনের ভূমিকা, জাতীয় দিবসগুলোতে আলোচনা সভা আয়োজন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বিজয় ৭১’ স্মৃতিস্তম্ভের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে সমালোচনা করেন। সাত বীরশ্রেষ্ঠের পরিচয় ও নামের বানান নিয়ে ভুল, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণে উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ না নেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।

এদিকে সামিউল ইসলাম সামি মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে রুমীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন বলেও জানান তিনি।

সামি বলেন, আমি এই মন্তব্যের জন্য ফেসবুকে পোস্ট করে দুঃখ প্রকাশ করেছি। এমনটা আর হবে না বলে রুমীর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছি।

ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার কথা অস্বীকার করে সামি বলেন, আমি ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নই, তবে ছাত্রশিবিরকে সমর্থন করি, পছন্দ করি।

লিখিত বক্তব্যে রুমী বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে গত কয়েক বছরে ক্যাম্পাসে অনেক শিক্ষার্থী, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থী, সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন। এসব ঘটনার যথাযথ বিচার না হওয়ায় আমি নিজের অভিযোগের সর্বোচ্চ বিচার নিশ্চিত করতে আইনি প্রক্রিয়ায় লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ ক্ষেত্রে বিচার বিভাগ, শাসন বিভাগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের সহযোগিতাও কামনা করি।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত