আর্কাইভআর্কাইভ

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ: হোয়াইটওয়াশ করার লক্ষ্য বাংলাদেশের

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় সিরিজ ও আফগানদের বিপক্ষে টেস্ট হারের হতাশাজনক স্মৃতি পেছনে ফেলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে লাল বলের লড়াইয়ে নামছে বাংলাদেশ। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকতে এই সিরিজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

AutoHix
AutoHix
|
শেয়ার করুন
অ+ অ-

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় সিরিজ ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে জয় হাতছাড়া হওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ। তবে সেই হতাশা ঝেড়ে ফেলে দ্রুতই লাল বলের ক্রিকেটে মনোযোগী হতে হচ্ছে নাজমুল হোসেন শান্তর দলকে। আগামী ২৮ অক্টোবর মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্ট দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের নতুন মিশন। এরপর ৫ নভেম্বর থেকে সিলেটে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় টেস্ট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার সমীকরণ বিবেচনায় এই সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সফরে আফগানদের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচেও কাছে গিয়ে জয় হাতছাড়া হয়েছে। হতাশা হজমের খুব একটা সময় অবশ্য পাচ্ছে না বাংলাদেশ। এখন আমাদের সামনে একটি বড় সুযোগ আছে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলার, তাই আমরা সেই ধারাবাহিকতাটা চাইব।

ইতিমধ্যেই ১৮ অক্টোবর বাংলাদেশে পৌঁছেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। বৃহস্পতি ও শুক্রবার দুদিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছে সফরকারীরা। অনুশীলনের শুরুতে পূর্ণাঙ্গ দল পাওয়া না গেলেও আমিরাত সফর থেকে ফিরেই নাজমুল শান্ত, তাওহিদ হৃদয়রা নিজেদের প্রস্তুত করতে মাঠে নেমে পড়েছেন। বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান সিরাজউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর জানান, গত দেড় বছর ধরে বাংলাদেশ লঙ্গার ভার্সনে দারুণ ক্রিকেট খেলছে এবং সেই ধারাবাহিকতা ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজেও ধরে রাখতে চায় দল। খেলোয়াড়রা জয়ের বিকল্প ভাবছেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পরিসংখ্যান বলছে, সবশেষ ১০ টেস্টের মধ্যে বাংলাদেশ পাঁচটি জিতেছে, দুটি হেরেছে এবং তিনটি ড্র হয়েছে। এর মধ্যে ঘরের মাঠে হওয়া চারটি টেস্টের সবকটিতেই জয় তুলে নিয়েছে স্বাগতিকরা। বর্তমান পয়েন্ট টেবিলে বাংলাদেশ চার নম্বর অবস্থানে থাকলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ রয়েছে অষ্টম স্থানে। শক্তির এই পার্থক্যের কারণে অতিথিদের হোয়াইটওয়াশ করার পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নামছে বাংলাদেশ। বিসিবি পরিচালক সিরাজউদ্দীন আলমগীর আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্টে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ নয়, তাই ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে সিরিজ জেতাই লক্ষ্য। টেস্ট ফরম্যাটে সবশেষ ১০ ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতে জিতেছে বাংলাদেশ; বাকি পাঁচ ম্যাচের দুটিতে হার এবং তিনটিতে ড্র। ঘরের মাঠে সিরিজ হওয়ায় প্রেরণায় অবশ্য ঘাটতি থাকার কথা নয়।

দলীয় পেস আক্রমণের মূল ভরসা নাহিদ রানা ইনজুরির কারণে সিরিজে নেই, যা দলের জন্য বড় ধাক্কা। তবে বিসিবি কর্তৃপক্ষ এটিকে গেমের অংশ হিসেবে দেখছে। সিরাজউদ্দীন বলেন, নাহিদ রানা না থাকলেও হাসান ও ইবাদতদের নিয়ে গঠিত পুরো পেস ইউনিট বেশ শক্তিশালী। দলের অন্য পেসারদের ওপর বোর্ডের পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সিরিজের উইকেট নিয়ে বিসিবির পরিকল্পনা প্রসঙ্গে আলমগীর জানান, গত দেড় বছর ধরে যে স্পোর্টিং উইকেটে খেলা হচ্ছে, সেখান থেকেই বোর্ড সরবে না। উইকেটের সুবিধা নেওয়ার বদলে আদর্শ উইকেটে ভালো ক্রিকেট খেলাকেই গুরুত্ব দিচ্ছে বোর্ড। তার মতে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়সহ সাম্প্রতিক ভালো পারফরম্যান্সের পেছনে স্পোর্টিং উইকেটের ভূমিকা রয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড় না থাকা বা অন্য কোনো কারণে উইকেটের চিরাচরিত প্রকৃতি পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই বলে তিনি মনে করেন।

Public Voice

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬


ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ: হোয়াইটওয়াশ করার লক্ষ্য বাংলাদেশের

প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় সিরিজ ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে জয় হাতছাড়া হওয়ার তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ। তবে সেই হতাশা ঝেড়ে ফেলে দ্রুতই লাল বলের ক্রিকেটে মনোযোগী হতে হচ্ছে নাজমুল হোসেন শান্তর দলকে। আগামী ২৮ অক্টোবর মিরপুরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্ট দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের নতুন মিশন। এরপর ৫ নভেম্বর থেকে সিলেটে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় টেস্ট। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলার সমীকরণ বিবেচনায় এই সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সফরে আফগানদের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচেও কাছে গিয়ে জয় হাতছাড়া হয়েছে। হতাশা হজমের খুব একটা সময় অবশ্য পাচ্ছে না বাংলাদেশ। এখন আমাদের সামনে একটি বড় সুযোগ আছে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলার, তাই আমরা সেই ধারাবাহিকতাটা চাইব।

ইতিমধ্যেই ১৮ অক্টোবর বাংলাদেশে পৌঁছেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল। বৃহস্পতি ও শুক্রবার দুদিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছে সফরকারীরা। অনুশীলনের শুরুতে পূর্ণাঙ্গ দল পাওয়া না গেলেও আমিরাত সফর থেকে ফিরেই নাজমুল শান্ত, তাওহিদ হৃদয়রা নিজেদের প্রস্তুত করতে মাঠে নেমে পড়েছেন। বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান সিরাজউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর জানান, গত দেড় বছর ধরে বাংলাদেশ লঙ্গার ভার্সনে দারুণ ক্রিকেট খেলছে এবং সেই ধারাবাহিকতা ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজেও ধরে রাখতে চায় দল। খেলোয়াড়রা জয়ের বিকল্প ভাবছেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পরিসংখ্যান বলছে, সবশেষ ১০ টেস্টের মধ্যে বাংলাদেশ পাঁচটি জিতেছে, দুটি হেরেছে এবং তিনটি ড্র হয়েছে। এর মধ্যে ঘরের মাঠে হওয়া চারটি টেস্টের সবকটিতেই জয় তুলে নিয়েছে স্বাগতিকরা। বর্তমান পয়েন্ট টেবিলে বাংলাদেশ চার নম্বর অবস্থানে থাকলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ রয়েছে অষ্টম স্থানে। শক্তির এই পার্থক্যের কারণে অতিথিদের হোয়াইটওয়াশ করার পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নামছে বাংলাদেশ। বিসিবি পরিচালক সিরাজউদ্দীন আলমগীর আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্টে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ নয়, তাই ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে সিরিজ জেতাই লক্ষ্য। টেস্ট ফরম্যাটে সবশেষ ১০ ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতে জিতেছে বাংলাদেশ; বাকি পাঁচ ম্যাচের দুটিতে হার এবং তিনটিতে ড্র। ঘরের মাঠে সিরিজ হওয়ায় প্রেরণায় অবশ্য ঘাটতি থাকার কথা নয়।

দলীয় পেস আক্রমণের মূল ভরসা নাহিদ রানা ইনজুরির কারণে সিরিজে নেই, যা দলের জন্য বড় ধাক্কা। তবে বিসিবি কর্তৃপক্ষ এটিকে গেমের অংশ হিসেবে দেখছে। সিরাজউদ্দীন বলেন, নাহিদ রানা না থাকলেও হাসান ও ইবাদতদের নিয়ে গঠিত পুরো পেস ইউনিট বেশ শক্তিশালী। দলের অন্য পেসারদের ওপর বোর্ডের পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সিরিজের উইকেট নিয়ে বিসিবির পরিকল্পনা প্রসঙ্গে আলমগীর জানান, গত দেড় বছর ধরে যে স্পোর্টিং উইকেটে খেলা হচ্ছে, সেখান থেকেই বোর্ড সরবে না। উইকেটের সুবিধা নেওয়ার বদলে আদর্শ উইকেটে ভালো ক্রিকেট খেলাকেই গুরুত্ব দিচ্ছে বোর্ড। তার মতে, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়সহ সাম্প্রতিক ভালো পারফরম্যান্সের পেছনে স্পোর্টিং উইকেটের ভূমিকা রয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড় না থাকা বা অন্য কোনো কারণে উইকেটের চিরাচরিত প্রকৃতি পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই বলে তিনি মনে করেন।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত