দুর্নীতি
পরিবারকে ঘরে আটকে রেখে চোরচক্র পাঁচটি গরু নিয়ে গেল। পরদিন থানায় জিডি করলেন কৃষক জামাল মিয়া। এক দিন পর স্থানীয় হাটে নিজের তিনটি গরু শনাক্তও করলেন। কিন্তু চুরি যাওয়া গরু উদ্ধারের বদলে শেষ পর্যন্ত নিজের গরু নিজেকেই ৯৪ হাজার টাকা দিয়ে কিনে নিতে হলো!
অভিযোগ অনুযায়ী, বাজার কমিটি ও স্থানীয় মাতবরদের সিদ্ধান্তে পাইকার যেহেতু গরুগুলো টাকা দিয়ে কিনেছেন, তাই জামাল মিয়াকেই অর্ধেক মূল্য দিয়ে গরু ফেরত নিতে হয়। বাকি দুটি গরুরও এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি।
প্রশ্ন হলো—চুরি হওয়া সম্পদের মালিককে কেন নিজের সম্পদ ফিরে পেতে আবার টাকা দিতে হবে?
আরও বড় প্রশ্ন, একজন কৃষক যখন থানায় জিডি করেন, তখন তাঁর অভিযোগের আইনি তদন্ত ও প্রতিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার?
ভোটের সময় এই কৃষকই হয়ে ওঠেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। তাঁর ভোট পাওয়ার জন্য প্রার্থী ও রাজনৈতিক কর্মীদের কত আয়োজন, কত প্রতিশ্রুতি! অথচ তাঁর ঘরে চুরি হলে, তাঁর সম্পদ লুট হলে কিংবা তিনি ন্যায়বিচার চাইলে—তখন সেই কৃষকই কেন পিছনের সারিতে চলে যাবেন?
ভোটের সময় কৃষককে গুনে আগে, বিচারের সময় কৃষককে ঠেলে পেছনে—এই দ্বৈত আচরণ আর কতদিন?
কৃষক শুধু ভোটার নন; তিনি নাগরিক। তাঁর ভোট যেমন মূল্যবান, তাঁর নিরাপত্তা, সম্পত্তি ও ন্যায়বিচারের অধিকারও তেমনি মূল্যবান।
জামাল মিয়ার ঘটনাটি তাই সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। চুরি যাওয়া গরু কীভাবে হাটে গেল, কারা জড়িত, কীভাবে গরুগুলো কেনাবেচা হলো এবং একজন ভুক্তভোগী কৃষককে কেন নিজের গরু ফেরত নিতে টাকা দিতে হলো—এসব প্রশ্নের আইনসম্মত ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।
কৃষকের ভোটের মূল্য যদি থাকে, তবে কৃষকের ন্যায়বিচারেরও মূল্য থাকতে হবে।

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পরিবারকে ঘরে আটকে রেখে চোরচক্র পাঁচটি গরু নিয়ে গেল। পরদিন থানায় জিডি করলেন কৃষক জামাল মিয়া। এক দিন পর স্থানীয় হাটে নিজের তিনটি গরু শনাক্তও করলেন। কিন্তু চুরি যাওয়া গরু উদ্ধারের বদলে শেষ পর্যন্ত নিজের গরু নিজেকেই ৯৪ হাজার টাকা দিয়ে কিনে নিতে হলো!
অভিযোগ অনুযায়ী, বাজার কমিটি ও স্থানীয় মাতবরদের সিদ্ধান্তে পাইকার যেহেতু গরুগুলো টাকা দিয়ে কিনেছেন, তাই জামাল মিয়াকেই অর্ধেক মূল্য দিয়ে গরু ফেরত নিতে হয়। বাকি দুটি গরুরও এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি।
প্রশ্ন হলো—চুরি হওয়া সম্পদের মালিককে কেন নিজের সম্পদ ফিরে পেতে আবার টাকা দিতে হবে?
আরও বড় প্রশ্ন, একজন কৃষক যখন থানায় জিডি করেন, তখন তাঁর অভিযোগের আইনি তদন্ত ও প্রতিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব কার?
ভোটের সময় এই কৃষকই হয়ে ওঠেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। তাঁর ভোট পাওয়ার জন্য প্রার্থী ও রাজনৈতিক কর্মীদের কত আয়োজন, কত প্রতিশ্রুতি! অথচ তাঁর ঘরে চুরি হলে, তাঁর সম্পদ লুট হলে কিংবা তিনি ন্যায়বিচার চাইলে—তখন সেই কৃষকই কেন পিছনের সারিতে চলে যাবেন?
ভোটের সময় কৃষককে গুনে আগে, বিচারের সময় কৃষককে ঠেলে পেছনে—এই দ্বৈত আচরণ আর কতদিন?
কৃষক শুধু ভোটার নন; তিনি নাগরিক। তাঁর ভোট যেমন মূল্যবান, তাঁর নিরাপত্তা, সম্পত্তি ও ন্যায়বিচারের অধিকারও তেমনি মূল্যবান।
জামাল মিয়ার ঘটনাটি তাই সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। চুরি যাওয়া গরু কীভাবে হাটে গেল, কারা জড়িত, কীভাবে গরুগুলো কেনাবেচা হলো এবং একজন ভুক্তভোগী কৃষককে কেন নিজের গরু ফেরত নিতে টাকা দিতে হলো—এসব প্রশ্নের আইনসম্মত ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।
কৃষকের ভোটের মূল্য যদি থাকে, তবে কৃষকের ন্যায়বিচারেরও মূল্য থাকতে হবে।
