রাজনীতি
জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরের জন্য আজ সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর একটি প্রতিনিধি দল। দলটির নেতৃত্ব দেবেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পাঠানো এক ক্ষুদে বার্তায় দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সন্ধ্যা ৬টায় এনসিপির প্রতিনিধি দল জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করতে যমুনা–এ উপস্থিত হবে। প্রতিনিধি দলে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের পাশাপাশি সদস্য সচিব আখতার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, জাভেদ রাসিন ও মনিরা শারমিন এবং যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মুসা অংশ নেবেন।
এর আগে গত বছরের ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস–এর উপস্থিতিতে ২৫টি রাজনৈতিক দলের নেতারা জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেন। সেই সময় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রণীত এই সনদকে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে তুলে ধরা হয়।
জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ মূলত ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে জনগণের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে গৃহীত একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল। এতে হাজারো মানুষের আত্মত্যাগ, জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির মধ্য দিয়ে অর্জিত সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনা এবং রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারের অঙ্গীকার করা হয়েছে।
সনদ অনুযায়ী, জনগণই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক—এই নীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মাধ্যমে জনগণের অভিপ্রায় প্রতিফলনের কথা বলা হয়েছে। সে লক্ষ্যে জুলাই জাতীয় সনদকে সংবিধানের তফসিল হিসেবে বা উপযুক্তভাবে সংযুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যাতে এর আইনি ও সাংবিধানিক ভিত্তি সুদৃঢ় হয়। একই সঙ্গে এই সনদের বৈধতা নিয়ে কোনো আদালতে প্রশ্ন না তোলার এবং বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার অঙ্গীকারও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সনদে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানসহ গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ঐতিহাসিক তাৎপর্যকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে। এ সময় গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের এবং গণঅভ্যুত্থানকালে নিহতদের বিচার, শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান, শহীদ পরিবারকে সহায়তা এবং আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের নিশ্চয়তার কথাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, পুলিশ ব্যবস্থা ও দুর্নীতি দমন ব্যবস্থাসহ রাষ্ট্রের সামগ্রিক কাঠামো সংস্কারের বিষয়ে সনদে যেসব সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন, নতুন আইন প্রণয়ন এবং বিধি-বিধান হালনাগাদের অঙ্গীকার করা হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করা সম্ভব, সেগুলো কোনো ধরনের বিলম্ব ছাড়াই অন্তর্বর্তী সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বাস্তবায়ন করবে বলেও সনদে উল্লেখ রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে এনসিপির পক্ষ থেকে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরের উদ্যোগকে চলমান রাজনৈতিক ঐকমত্য ও সংস্কার প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরের জন্য আজ সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর একটি প্রতিনিধি দল। দলটির নেতৃত্ব দেবেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পাঠানো এক ক্ষুদে বার্তায় দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সন্ধ্যা ৬টায় এনসিপির প্রতিনিধি দল জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করতে যমুনা–এ উপস্থিত হবে। প্রতিনিধি দলে আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের পাশাপাশি সদস্য সচিব আখতার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, জাভেদ রাসিন ও মনিরা শারমিন এবং যুগ্ম সদস্য সচিব জহিরুল ইসলাম মুসা অংশ নেবেন।
এর আগে গত বছরের ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস–এর উপস্থিতিতে ২৫টি রাজনৈতিক দলের নেতারা জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেন। সেই সময় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রণীত এই সনদকে ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে তুলে ধরা হয়।
জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ মূলত ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের পটভূমিতে জনগণের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে গৃহীত একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল। এতে হাজারো মানুষের আত্মত্যাগ, জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির মধ্য দিয়ে অর্জিত সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনা এবং রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কারের অঙ্গীকার করা হয়েছে।
সনদ অনুযায়ী, জনগণই রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিক—এই নীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মাধ্যমে জনগণের অভিপ্রায় প্রতিফলনের কথা বলা হয়েছে। সে লক্ষ্যে জুলাই জাতীয় সনদকে সংবিধানের তফসিল হিসেবে বা উপযুক্তভাবে সংযুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যাতে এর আইনি ও সাংবিধানিক ভিত্তি সুদৃঢ় হয়। একই সঙ্গে এই সনদের বৈধতা নিয়ে কোনো আদালতে প্রশ্ন না তোলার এবং বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার অঙ্গীকারও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সনদে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানসহ গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ঐতিহাসিক তাৎপর্যকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হবে। এ সময় গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের এবং গণঅভ্যুত্থানকালে নিহতদের বিচার, শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান, শহীদ পরিবারকে সহায়তা এবং আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের নিশ্চয়তার কথাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, জনপ্রশাসন, পুলিশ ব্যবস্থা ও দুর্নীতি দমন ব্যবস্থাসহ রাষ্ট্রের সামগ্রিক কাঠামো সংস্কারের বিষয়ে সনদে যেসব সিদ্ধান্ত লিপিবদ্ধ রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইন সংশোধন, নতুন আইন প্রণয়ন এবং বিধি-বিধান হালনাগাদের অঙ্গীকার করা হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করা সম্ভব, সেগুলো কোনো ধরনের বিলম্ব ছাড়াই অন্তর্বর্তী সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বাস্তবায়ন করবে বলেও সনদে উল্লেখ রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে এনসিপির পক্ষ থেকে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষরের উদ্যোগকে চলমান রাজনৈতিক ঐকমত্য ও সংস্কার প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
