বিচিত্র
‘ভোট দিলে কী অইবো? আমার পেডো (পেট) ভাত আইবো? এইতা কইননা যে আমার ভোট নাই, থাকলেও দিতাম না। কেউকি আয়া খোঁইজ নিছে, না একটা ভোট চাইছে। হেরা যানে আমরার খোঁইজ খবর না নিলে কিছুই অইতো না- কালের কণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদের চুম্বকাংশটুকুর আলোকে নিচের লিখাটি লিখিত-
উক্ত কথাগুলো আসলে কোনো ব্যক্তির হতাশা নয়—এটা একটি শ্রেণির দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভের নগ্ন ভাষ্য। “ভোট দিলে কী অইবো?”—এই প্রশ্নটি গণতন্ত্রের গায়ে সবচেয়ে বড় চপেটাঘাত, কারণ এই প্রশ্নের জন্ম হয়েছে গণতন্ত্রকারীদের ব্যর্থতা থেকেই।
যারা সারাবছর এসি রুমে বসে গণতন্ত্রের তত্ত্ব আওড়ান, ভোটের দিনে হঠাৎ করে “ভোটাধিকার”, “নাগরিক দায়িত্ব” আর “রাষ্ট্র বাঁচাও” স্লোগান নিয়ে মাঠে নামেন—তাদের জন্য এই কথাগুলো আয়না। ভোটকে তারা পবিত্র বলছেন, কিন্তু ভোটারকে মানুষ হিসেবে দেখছেন না। পেটের ভাতের প্রশ্ন আসলে নৈতিকতার প্রশ্ন নয়, বেঁচে থাকার প্রশ্ন। যে মানুষের দিন শুরু হয় অনিশ্চয়তায়, রাত শেষ হয় ক্ষুধায়—তার কাছে ব্যালট বাক্স কোনো রোমান্টিক প্রতীক নয়।
“আমার ভোট নাই, থাকলেও দিতাম না”—এটা রাজনৈতিক অজ্ঞতা নয়, এটা রাজনৈতিক বর্জন। বছরের পর বছর যারা ক্ষমতায় যায়, যারা ভোট চায়, তারা কেউই “খোঁজ” নেয় না—তখন ভোট না দেওয়াটা হয়ে ওঠে প্রতিবাদের ভাষা। গণতন্ত্রকারীরা যেটাকে অবহেলা করে “ভোটারদের উদাসীনতা” বলেন, বাস্তবে সেটাই তাদের ব্যর্থতার সার্টিফিকেট।
সবচেয়ে নির্মম সত্য হলো—ভোটের আগে মানুষ দরকার, ভোটের পরে মানুষ অদৃশ্য। গণতন্ত্রকারীরা চান জনগণ শুধু লাইনে দাঁড়াক, প্রশ্ন না করুক; ব্যালট দিক, হিসাব না চাইুক। কিন্তু মানুষ এখন প্রশ্ন করছে—ভোট দিয়ে যদি পেটের ভাত না আসে, মর্যাদা না আসে, ন্যায্যতা না আসে—তবে সেই ভোট কিসের?
এই বক্তব্য গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে নয়, বরং ভণ্ড গণতন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র। গণতন্ত্র যদি মানুষের জীবনে ন্যূনতম পরিবর্তন আনতে না পারে, তাহলে মানুষ গণতন্ত্রের গল্প শুনবে কেন? আগে মানুষকে নাগরিক বানান, পরে ভোটার বানাতে আসুন। তা না হলে এই প্রশ্ন—“ভোট দিলে কী অইবো?”—আরও জোরে, আরও রুক্ষ ভাষায় ফিরে।
আর সেই প্রশ্নের উত্তর না দিতে পারলে গণতন্ত্রকারীদের সব বক্তৃতা, সব সেমিনার, সব ফেসবুক স্ট্যাটাস শেষ পর্যন্ত ফাঁপা বুলি হয়েই থাকবে। কারণ গণতন্ত্র ব্যালট বাক্সে নয়, গণতন্ত্র মানুষের জীবনে—পেটে ভাতে, মাথার ছাদে, ন্যায্য বিচারে, সম্মানে।
যে গণতন্ত্র ভোট চায় কিন্তু দায়িত্ব নেয় না, যে ব্যবস্থা মানুষকে শুধু সংখ্যা ভাবে—সে ব্যবস্থার ওপর মানুষের অনাস্থা অন্যায় নয়, স্বাভাবিক। আজ যারা ভোট না দেওয়াকে অপরাধ বানাতে চান, তাদের আগে জবাব দিতে হবে—ভোটের বিনিময়ে মানুষ কী পেয়েছে?
মানুষ আর উপদেশ চায় না, চায় হিসাব। চায় এমন রাষ্ট্র যেখানে ভোট শেষ হলে নাগরিকত্ব শেষ হয় না। যতদিন সেই হিসাব দেওয়া না হবে, ততদিন এই অবহেলিত মানুষের কণ্ঠই গণতন্ত্রকারীদের সবচেয়ে বড় চপেটাঘাত হয়ে বাজতে থাকবে—নীরবে নয়, স্পষ্ট ভাষায়।
লেখক- অনলাইন্যাক্টিভিস্ট, ফ্রীথিঙ্কার ও গণমাধ্যমকর্মী

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
‘ভোট দিলে কী অইবো? আমার পেডো (পেট) ভাত আইবো? এইতা কইননা যে আমার ভোট নাই, থাকলেও দিতাম না। কেউকি আয়া খোঁইজ নিছে, না একটা ভোট চাইছে। হেরা যানে আমরার খোঁইজ খবর না নিলে কিছুই অইতো না- কালের কণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদের চুম্বকাংশটুকুর আলোকে নিচের লিখাটি লিখিত-
উক্ত কথাগুলো আসলে কোনো ব্যক্তির হতাশা নয়—এটা একটি শ্রেণির দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভের নগ্ন ভাষ্য। “ভোট দিলে কী অইবো?”—এই প্রশ্নটি গণতন্ত্রের গায়ে সবচেয়ে বড় চপেটাঘাত, কারণ এই প্রশ্নের জন্ম হয়েছে গণতন্ত্রকারীদের ব্যর্থতা থেকেই।
যারা সারাবছর এসি রুমে বসে গণতন্ত্রের তত্ত্ব আওড়ান, ভোটের দিনে হঠাৎ করে “ভোটাধিকার”, “নাগরিক দায়িত্ব” আর “রাষ্ট্র বাঁচাও” স্লোগান নিয়ে মাঠে নামেন—তাদের জন্য এই কথাগুলো আয়না। ভোটকে তারা পবিত্র বলছেন, কিন্তু ভোটারকে মানুষ হিসেবে দেখছেন না। পেটের ভাতের প্রশ্ন আসলে নৈতিকতার প্রশ্ন নয়, বেঁচে থাকার প্রশ্ন। যে মানুষের দিন শুরু হয় অনিশ্চয়তায়, রাত শেষ হয় ক্ষুধায়—তার কাছে ব্যালট বাক্স কোনো রোমান্টিক প্রতীক নয়।
“আমার ভোট নাই, থাকলেও দিতাম না”—এটা রাজনৈতিক অজ্ঞতা নয়, এটা রাজনৈতিক বর্জন। বছরের পর বছর যারা ক্ষমতায় যায়, যারা ভোট চায়, তারা কেউই “খোঁজ” নেয় না—তখন ভোট না দেওয়াটা হয়ে ওঠে প্রতিবাদের ভাষা। গণতন্ত্রকারীরা যেটাকে অবহেলা করে “ভোটারদের উদাসীনতা” বলেন, বাস্তবে সেটাই তাদের ব্যর্থতার সার্টিফিকেট।
সবচেয়ে নির্মম সত্য হলো—ভোটের আগে মানুষ দরকার, ভোটের পরে মানুষ অদৃশ্য। গণতন্ত্রকারীরা চান জনগণ শুধু লাইনে দাঁড়াক, প্রশ্ন না করুক; ব্যালট দিক, হিসাব না চাইুক। কিন্তু মানুষ এখন প্রশ্ন করছে—ভোট দিয়ে যদি পেটের ভাত না আসে, মর্যাদা না আসে, ন্যায্যতা না আসে—তবে সেই ভোট কিসের?
এই বক্তব্য গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে নয়, বরং ভণ্ড গণতন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র। গণতন্ত্র যদি মানুষের জীবনে ন্যূনতম পরিবর্তন আনতে না পারে, তাহলে মানুষ গণতন্ত্রের গল্প শুনবে কেন? আগে মানুষকে নাগরিক বানান, পরে ভোটার বানাতে আসুন। তা না হলে এই প্রশ্ন—“ভোট দিলে কী অইবো?”—আরও জোরে, আরও রুক্ষ ভাষায় ফিরে।
আর সেই প্রশ্নের উত্তর না দিতে পারলে গণতন্ত্রকারীদের সব বক্তৃতা, সব সেমিনার, সব ফেসবুক স্ট্যাটাস শেষ পর্যন্ত ফাঁপা বুলি হয়েই থাকবে। কারণ গণতন্ত্র ব্যালট বাক্সে নয়, গণতন্ত্র মানুষের জীবনে—পেটে ভাতে, মাথার ছাদে, ন্যায্য বিচারে, সম্মানে।
যে গণতন্ত্র ভোট চায় কিন্তু দায়িত্ব নেয় না, যে ব্যবস্থা মানুষকে শুধু সংখ্যা ভাবে—সে ব্যবস্থার ওপর মানুষের অনাস্থা অন্যায় নয়, স্বাভাবিক। আজ যারা ভোট না দেওয়াকে অপরাধ বানাতে চান, তাদের আগে জবাব দিতে হবে—ভোটের বিনিময়ে মানুষ কী পেয়েছে?
মানুষ আর উপদেশ চায় না, চায় হিসাব। চায় এমন রাষ্ট্র যেখানে ভোট শেষ হলে নাগরিকত্ব শেষ হয় না। যতদিন সেই হিসাব দেওয়া না হবে, ততদিন এই অবহেলিত মানুষের কণ্ঠই গণতন্ত্রকারীদের সবচেয়ে বড় চপেটাঘাত হয়ে বাজতে থাকবে—নীরবে নয়, স্পষ্ট ভাষায়।
লেখক- অনলাইন্যাক্টিভিস্ট, ফ্রীথিঙ্কার ও গণমাধ্যমকর্মী
