বিচিত্রবিচিত্র

সময় পেরোলেই বদলে যায় তৃপ্তির স্বাদ

শেয়ার করুন
অ+ অ-
সময় পেরোলেই বদলে যায় তৃপ্তির স্বাদ
ইন্টারনেট

জীবনের শখ-আহ্লাদ নিয়ে সামাজিক বাস্তবতার এক মানবিক বিশ্লেষণ

জীবনে শখ বা আহ্লাদ পূরণের একটি নির্দিষ্ট সময় থাকে—এমনটাই মনে করছেন সমাজ বিশ্লেষক ও মনস্তাত্ত্বিকরা। সময়মতো ইচ্ছা পূরণ না হলে তা পরবর্তীতে বাস্তবায়িত হলেও অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত তৃপ্তি পাওয়া যায় না। বয়স, দায়িত্ব এবং বাস্তবতার ভার মানুষের অনুভূতিকে ধীরে ধীরে বদলে দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৈশোর ও তারুণ্যে পাওয়া আনন্দের সঙ্গে মধ্যবয়সের আনন্দের ধরনে মৌলিক পার্থক্য থাকে। ১৭ বছর বয়সে যে খাবার অমৃতসম মনে হয়, ৩০-এর কোঠায় এসে সেটিই নাও লাগতে পারে তেমন আকর্ষণীয়। ১৮ বছর বয়সে রিকশায় ঘোরা যে রোমান্স এনে দেয়, ৩৫ পেরিয়ে একই অভিজ্ঞতা সেই আবেশ ধরে রাখতে ব্যর্থ হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বন্ধুদের সঙ্গে সমুদ্র সৈকতে ঘুরে বেড়ানোর যে উচ্ছ্বাস, চল্লিশের পরে তা আর আগের মতো থাকে না—দায়িত্ব, ক্লান্তি ও সময়ের অভাবে।

অনেকেই ভবিষ্যতের অপেক্ষায় বর্তমানের আনন্দকে পিছিয়ে দেন। কিন্তু সময় গড়ালে সেই ‘একদিন’-এর সুযোগ আর আসে না।

অপেক্ষার ফাঁদে হারিয়ে যায় শখ- একদিন নিজের ছাদে বাগান করার স্বপ্নে আজকের বারান্দার টব ফাঁকা থাকে। একদিন বড় চাকরি করে বাবা-মাকে দামী উপহার দেওয়ার আশায় আজকের ছোট আনন্দগুলো উপেক্ষিত হয়। অথচ সময়ের নির্মম সত্য—সেই ‘একদিন’ আসার আগেই অনেক কিছু হারিয়ে যেতে পারে।

মনোবিজ্ঞান বলছে কী

মনোবিজ্ঞানীদের ভাষায়, ছোট ছোট শখ পূরণ মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এগুলো মানুষের হৃদয়কে সতেজ ও জীবন্ত রাখে। ইচ্ছা অপূর্ণ থাকার নীরব কষ্ট ধীরে ধীরে মানুষের ভেতর বিষণ্নতা তৈরি করে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ— অনেক টাকা জমলে নয়, আজ সামর্থ্য অনুযায়ী পছন্দের খাবার খেয়ে নিন। পছন্দের মানুষকে আজই রিকশা ডেটের প্রস্তাব দিন। পকেটে কিছু টাকা থাকলেই বন্ধুদের ডাকুন—চল আজই সাজেক। ভবিষ্যতের স্বপ্নে না থেকে আজই বারান্দার টবে লাগান গোলাপের চারা। টিউশানির টাকায় হলেও বাবা-মায়ের জন্য ছোট উপহার কিনুন—শখ পূরণটাই আসল।

“যে মানুষটি ‘একদিন সব হবে’ ভেবে আজ নিজেকে বঞ্চিত করে, তার জীবন কেটে যায় অপেক্ষা আর আফসোসে।” জীবনের ছোট ছোট আনন্দই জীবনের বড় শক্তি। সময় থাকতে থাকতেই সেগুলো উপভোগ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

Public Voice

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সময় পেরোলেই বদলে যায় তৃপ্তির স্বাদ

প্রকাশের তারিখ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

জীবনের শখ-আহ্লাদ নিয়ে সামাজিক বাস্তবতার এক মানবিক বিশ্লেষণ


জীবনে শখ বা আহ্লাদ পূরণের একটি নির্দিষ্ট সময় থাকে—এমনটাই মনে করছেন সমাজ বিশ্লেষক ও মনস্তাত্ত্বিকরা। সময়মতো ইচ্ছা পূরণ না হলে তা পরবর্তীতে বাস্তবায়িত হলেও অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত তৃপ্তি পাওয়া যায় না। বয়স, দায়িত্ব এবং বাস্তবতার ভার মানুষের অনুভূতিকে ধীরে ধীরে বদলে দেয়।


বিশেষজ্ঞদের মতে, কৈশোর ও তারুণ্যে পাওয়া আনন্দের সঙ্গে মধ্যবয়সের আনন্দের ধরনে মৌলিক পার্থক্য থাকে। ১৭ বছর বয়সে যে খাবার অমৃতসম মনে হয়, ৩০-এর কোঠায় এসে সেটিই নাও লাগতে পারে তেমন আকর্ষণীয়। ১৮ বছর বয়সে রিকশায় ঘোরা যে রোমান্স এনে দেয়, ৩৫ পেরিয়ে একই অভিজ্ঞতা সেই আবেশ ধরে রাখতে ব্যর্থ হতে পারে।


বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বন্ধুদের সঙ্গে সমুদ্র সৈকতে ঘুরে বেড়ানোর যে উচ্ছ্বাস, চল্লিশের পরে তা আর আগের মতো থাকে না—দায়িত্ব, ক্লান্তি ও সময়ের অভাবে।

অনেকেই ভবিষ্যতের অপেক্ষায় বর্তমানের আনন্দকে পিছিয়ে দেন। কিন্তু সময় গড়ালে সেই ‘একদিন’-এর সুযোগ আর আসে না।


অপেক্ষার ফাঁদে হারিয়ে যায় শখ- একদিন নিজের ছাদে বাগান করার স্বপ্নে আজকের বারান্দার টব ফাঁকা থাকে। একদিন বড় চাকরি করে বাবা-মাকে দামী উপহার দেওয়ার আশায় আজকের ছোট আনন্দগুলো উপেক্ষিত হয়। অথচ সময়ের নির্মম সত্য—সেই ‘একদিন’ আসার আগেই অনেক কিছু হারিয়ে যেতে পারে।


মনোবিজ্ঞান বলছে কী

মনোবিজ্ঞানীদের ভাষায়, ছোট ছোট শখ পূরণ মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এগুলো মানুষের হৃদয়কে সতেজ ও জীবন্ত রাখে। ইচ্ছা অপূর্ণ থাকার নীরব কষ্ট ধীরে ধীরে মানুষের ভেতর বিষণ্নতা তৈরি করে।


বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ— অনেক টাকা জমলে নয়, আজ সামর্থ্য অনুযায়ী পছন্দের খাবার খেয়ে নিন। পছন্দের মানুষকে আজই রিকশা ডেটের প্রস্তাব দিন। পকেটে কিছু টাকা থাকলেই বন্ধুদের ডাকুন—চল আজই সাজেক। ভবিষ্যতের স্বপ্নে না থেকে আজই বারান্দার টবে লাগান গোলাপের চারা। টিউশানির টাকায় হলেও বাবা-মায়ের জন্য ছোট উপহার কিনুন—শখ পূরণটাই আসল।


“যে মানুষটি ‘একদিন সব হবে’ ভেবে আজ নিজেকে বঞ্চিত করে, তার জীবন কেটে যায় অপেক্ষা আর আফসোসে।” জীবনের ছোট ছোট আনন্দই জীবনের বড় শক্তি। সময় থাকতে থাকতেই সেগুলো উপভোগ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত