আইন-কানুনআইন-কানুন

মহেশখালী থানার হাজতে বসে টিকটক, পুলিশের দায়িত্ব প্রশ্নবিদ্ধ।

মহেশখালী থানার হাজতে বসে টিকটক, পুলিশের দায়িত্ব প্রশ্নবিদ্ধ।
ছবি- মহেশখালী থানা

মহেশখালী থানার হাজতের ভেতরে দুই ব্যক্তি টিকটক ভিডিও ধারণ করে তা নিজেদের আইডিতে প্রকাশ করার ঘটনায় থানার নিরাপত্তা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। হাজতের মতো উচ্চনিরাপত্তার স্থানে আটককৃতদের হাতে মোবাইল থাকা এবং তা ব্যবহার করে ভিডিও ধারণ ও প্রকাশের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের মুন্সিরডেইল গ্রাম থেকে পুলিশ মুমিনুল ইসলাম ও গিয়াস উদ্দিন নামের দুই ব্যক্তিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। তারা একটি বিরোধপূর্ণ জায়গায় বাড়ি নির্মাণের কাজ করছিলেন। অভিযোগটি ছিল বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে। তবে আটককৃত ওই দুই শ্রমিকের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল না।

আটকের কিছুক্ষণ পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে একটি ভিডিও প্রকাশ পায়। ভিডিওতে দেখা যায়, মহেশখালী থানার হাজতের ভেতরে শুয়ে থাকা অবস্থায় আটককৃত দুই ব্যক্তি হাসতে হাসতে ভিডিও ধারণ করছেন এবং তাতে বাংলা গান যুক্ত করে টিকটকে আপলোড করেছেন।

এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মহেশখালী থানার ওসি মুজিবুর রহমান জানান, হাজতের ভেতরে টিকটক ভিডিও বানানোর বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে তিনি রাজি হননি।

এদিকে আটককৃত শ্রমিকদের পরিবার জানায়, শুক্রবার পুলিশ ওই দুই শ্রমিককে আদালতে হাজির করলে আদালত তাদের মুক্তির নির্দেশ দেন।

স্থানীয়রা বলছেন, এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা দায়িত্বহীনতা ও পেশাগত গাফেলতির স্পষ্ট উদাহরণ। থানার হাজত একটি উচ্চনিরাপত্তার স্থান হওয়া সত্ত্বেও সেখানে আটককৃতদের হাতে মোবাইল থাকা হাজত ব্যবস্থাপনা ও তদারকিতে মারাত্মক শৈথিল্যের প্রমাণ। বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল না, তাদের আটক করে হাজতে রাখা এবং সেখানে নিরাপত্তা বিধি মানা না হওয়া আইন ও মানবাধিকারের প্রশ্ন তোলে বলেও মনে করছেন তারা।

এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট শহীদুল্লাহ বলেন, থানার হাজত একটি নিয়ন্ত্রিত স্থান। সেখানে আটককৃত ব্যক্তির হাতে মোবাইল থাকা এবং ভিডিও ধারণ করা পুলিশের দায়িত্ব পালনে স্পষ্ট অবহেলার প্রমাণ। এতে হাজতের নিরাপত্তা যেমন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, তেমনি পুলিশের দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও জনস্বার্থে তদন্তযোগ্য।

Public Voice

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬


মহেশখালী থানার হাজতে বসে টিকটক, পুলিশের দায়িত্ব প্রশ্নবিদ্ধ।

প্রকাশের তারিখ : ১৭ জানুয়ারি ২০২৬

featured Image

মহেশখালী থানার হাজতের ভেতরে দুই ব্যক্তি টিকটক ভিডিও ধারণ করে তা নিজেদের আইডিতে প্রকাশ করার ঘটনায় থানার নিরাপত্তা ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। হাজতের মতো উচ্চনিরাপত্তার স্থানে আটককৃতদের হাতে মোবাইল থাকা এবং তা ব্যবহার করে ভিডিও ধারণ ও প্রকাশের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার বড় মহেশখালী ইউনিয়নের মুন্সিরডেইল গ্রাম থেকে পুলিশ মুমিনুল ইসলাম ও গিয়াস উদ্দিন নামের দুই ব্যক্তিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। তারা একটি বিরোধপূর্ণ জায়গায় বাড়ি নির্মাণের কাজ করছিলেন। অভিযোগটি ছিল বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে। তবে আটককৃত ওই দুই শ্রমিকের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল না।

আটকের কিছুক্ষণ পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে একটি ভিডিও প্রকাশ পায়। ভিডিওতে দেখা যায়, মহেশখালী থানার হাজতের ভেতরে শুয়ে থাকা অবস্থায় আটককৃত দুই ব্যক্তি হাসতে হাসতে ভিডিও ধারণ করছেন এবং তাতে বাংলা গান যুক্ত করে টিকটকে আপলোড করেছেন।

এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে মহেশখালী থানার ওসি মুজিবুর রহমান জানান, হাজতের ভেতরে টিকটক ভিডিও বানানোর বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে তিনি রাজি হননি।

এদিকে আটককৃত শ্রমিকদের পরিবার জানায়, শুক্রবার পুলিশ ওই দুই শ্রমিককে আদালতে হাজির করলে আদালত তাদের মুক্তির নির্দেশ দেন।

স্থানীয়রা বলছেন, এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা দায়িত্বহীনতা ও পেশাগত গাফেলতির স্পষ্ট উদাহরণ। থানার হাজত একটি উচ্চনিরাপত্তার স্থান হওয়া সত্ত্বেও সেখানে আটককৃতদের হাতে মোবাইল থাকা হাজত ব্যবস্থাপনা ও তদারকিতে মারাত্মক শৈথিল্যের প্রমাণ। বিশেষ করে যাদের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল না, তাদের আটক করে হাজতে রাখা এবং সেখানে নিরাপত্তা বিধি মানা না হওয়া আইন ও মানবাধিকারের প্রশ্ন তোলে বলেও মনে করছেন তারা।

এ বিষয়ে অ্যাডভোকেট শহীদুল্লাহ বলেন, থানার হাজত একটি নিয়ন্ত্রিত স্থান। সেখানে আটককৃত ব্যক্তির হাতে মোবাইল থাকা এবং ভিডিও ধারণ করা পুলিশের দায়িত্ব পালনে স্পষ্ট অবহেলার প্রমাণ। এতে হাজতের নিরাপত্তা যেমন প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে, তেমনি পুলিশের দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও জনস্বার্থে তদন্তযোগ্য।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত