ময়মনসিংহ
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে কাঁচা মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে শুরুতে আনন্দের রেশ থাকলেও এখন তা পরিণত হয়েছে গভীর দুশ্চিন্তায়। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে কাঁচা মরিচের দাম অত্যন্ত কম হওয়ায় লাভের মুখ দেখছেন না চাষিরা। অথচ পাইকারি বাজারের সাথে খুচরা বাজারের দামের আকাশপাতাল ব্যবধান সাধারণ ভোক্তাদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। তিনি বলেন, বাজারে মরিচের যে দাম, তাতে সার-বিষের টাকাই উঠবে না। এত কষ্ট করে ফসল ফলিয়েও এখন লোকসানের চিন্তায় আছি।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এবার ৭৫০ হেক্টর জমির বিপরীতে ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে মরিচ আবাদ হয়েছে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩০০ হেক্টর বেশি জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে ময়নামতি, গ্রিন সুপার, নাগা ফায়ার, বিজলি, গ্রিন স্টার, সুপার ও প্রিমিয়ামসহ নানা উন্নত জাতের মরিচ চাষ করেছেন কৃষকরা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, এ বছর উৎপাদন ৪২ হাজার মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এখান থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মরিচ সরবরাহ করা হচ্ছে। বর্তমানে দাম কিছুটা কম থাকলেও ভবিষ্যতে তা বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বাজারে মরিচের দামের ভয়াবহ তারতম্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কৃষকরা। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি মরিচ ১৭ থেকে ১৮ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে, কিন্তু কয়েক হাত ঘুরে সেই মরিচই খুচরা বাজারে ক্রেতারা কিনছেন ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে। ফুলজোড় এলাকার কৃষক তাহেরুল ইসলাম জানান, এক বিঘা জমিতে মরিচ চাষে তার প্রায় ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে, যা বর্তমান বাজারদরে ওঠানো অসম্ভব। একইভাবে সুখনগরী এলাকার কৃষক বেলাল ফকিরও ফলন ভালো হওয়া সত্ত্বেও বাজারের নাজুক পরিস্থিতিতে হতাশ।
আরেক কৃষক জহুরুল খান জানান, এক বিঘা জমি চাষ করতে তার ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি মাত্র সাড়ে ৩ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করতে পেরেছেন। কৃষক আমজাদ হোসেনের কণ্ঠেও একই সুর। উৎপাদন ও খুচরা বাজারের এই বিশাল দামের ফারাকের কারণে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের প্রকৃত মূল্য পাচ্ছেন না। সঠিক সময়ে দাম না পাওয়ার কারণে অনেক চাষিই আশঙ্কা করছেন যে, আগামী মৌসুমে মরিচ চাষে তাদের আগ্রহ কমে যেতে পারে। একদিকে উৎপাদন খরচের বোঝা, অন্যদিকে কম দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় মাদারগঞ্জের কৃষকরা আজ অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছেন।

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় চলতি মৌসুমে কাঁচা মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে শুরুতে আনন্দের রেশ থাকলেও এখন তা পরিণত হয়েছে গভীর দুশ্চিন্তায়। উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারে কাঁচা মরিচের দাম অত্যন্ত কম হওয়ায় লাভের মুখ দেখছেন না চাষিরা। অথচ পাইকারি বাজারের সাথে খুচরা বাজারের দামের আকাশপাতাল ব্যবধান সাধারণ ভোক্তাদের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে। তিনি বলেন, বাজারে মরিচের যে দাম, তাতে সার-বিষের টাকাই উঠবে না। এত কষ্ট করে ফসল ফলিয়েও এখন লোকসানের চিন্তায় আছি।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এবার ৭৫০ হেক্টর জমির বিপরীতে ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে মরিচ আবাদ হয়েছে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩০০ হেক্টর বেশি জমিতে মরিচ চাষ হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে ময়নামতি, গ্রিন সুপার, নাগা ফায়ার, বিজলি, গ্রিন স্টার, সুপার ও প্রিমিয়ামসহ নানা উন্নত জাতের মরিচ চাষ করেছেন কৃষকরা। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, এ বছর উৎপাদন ৪২ হাজার মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং এখান থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মরিচ সরবরাহ করা হচ্ছে। বর্তমানে দাম কিছুটা কম থাকলেও ভবিষ্যতে তা বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বাজারে মরিচের দামের ভয়াবহ তারতম্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কৃষকরা। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি মরিচ ১৭ থেকে ১৮ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে, কিন্তু কয়েক হাত ঘুরে সেই মরিচই খুচরা বাজারে ক্রেতারা কিনছেন ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে। ফুলজোড় এলাকার কৃষক তাহেরুল ইসলাম জানান, এক বিঘা জমিতে মরিচ চাষে তার প্রায় ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে, যা বর্তমান বাজারদরে ওঠানো অসম্ভব। একইভাবে সুখনগরী এলাকার কৃষক বেলাল ফকিরও ফলন ভালো হওয়া সত্ত্বেও বাজারের নাজুক পরিস্থিতিতে হতাশ।
আরেক কৃষক জহুরুল খান জানান, এক বিঘা জমি চাষ করতে তার ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি মাত্র সাড়ে ৩ হাজার টাকার মরিচ বিক্রি করতে পেরেছেন। কৃষক আমজাদ হোসেনের কণ্ঠেও একই সুর। উৎপাদন ও খুচরা বাজারের এই বিশাল দামের ফারাকের কারণে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের প্রকৃত মূল্য পাচ্ছেন না। সঠিক সময়ে দাম না পাওয়ার কারণে অনেক চাষিই আশঙ্কা করছেন যে, আগামী মৌসুমে মরিচ চাষে তাদের আগ্রহ কমে যেতে পারে। একদিকে উৎপাদন খরচের বোঝা, অন্যদিকে কম দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় মাদারগঞ্জের কৃষকরা আজ অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়েছেন।
