ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় আগাম জাতের আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। হেমন্তের হালকা ঠান্ডা বাতাসে মাঠজুড়ে এখন পাকা ধানের সোনালী আলো। অগ্রহায়ণ আসার আগেই কার্তিক মাসে নতুন ধানের সুবাসে গ্রামগুলো মুখরিত হয়ে উঠেছে। বর্তমানে এলাকার প্রায় ১০ শতাংশ ধান পেকেছে এবং আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে সব স্থানে ধান কাটা শুরু হবে।
ধান উৎপাদনে ময়মনসিংহ জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে গফরগাঁও অন্যতম। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী, চলতি মৌসুমে এখানকার একটি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়নে মোট ২২ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের ধান ১ হাজার ৮৪০ হেক্টর, উচ্চফলনশীল জাত ২০ হাজার ৫৩০ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ধান ২৯০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়।
সরেজমিনে রসুলপুর, সালটিয়া, বারবাড়িয়া, বাগবেড়, লংগাইর, ছিপান, দাইরগাঁও ও উথুরী গ্রামে ঘুরে দেখা যায় পাকা ফসলে ভরে আছে মাঠ। কৃষকদের আশা, এবার আমনের ফলন বিগত কয়েক বছরের রেকর্ড অতিক্রম করবে। বাগবেড় গ্রামের কৃষক ফারুক, রাসেল ও এনামুল হক বাম্পার ফলনের কথা নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া উথুরীর বাদল মিয়া, ছিয়ানী রসুলপুরের এনামুল ইসলাম এবং লংগাইরের রতন মিয়া জানান, প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না ঘটলে তারা স্বস্তিতেই খেতের সব ধান ঘরে তুলতে পারবেন।
তবে চাষের শুরুতেই অভিজ্ঞতা মসৃণ ছিল না। ধানগাছে শীষ বের হওয়ার সময়ে পোকার আক্রমণ দেখা দিলে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ধানচাষিরা জানান, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত তদারকি ও সঠিক পরামর্শে সেই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে পুরো উপজেলায় পুরোদমে ধান কাটার প্রস্তুতি চলছে।
গফরগাঁও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাকুরা নান্মী জানান, আগাম জাতের আমন চাষের কারণে এখন আর ধান কাটার জন্য পহেলা অগ্রহায়ণ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় না, কার্তিক মাসেই মাড়াই শুরু হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, উৎপাদন বাড়াতে কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে নিবিড়ভাবে কাজ করেছে। অনুকূল আবহাওয়া ও নিয়মিত তদারকির কারণে ফসল খুব ভালো হয়েছে এবং এর ফলে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন বলে তারা আশাবাদী।

রোববার, ০১ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলায় আগাম জাতের আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। হেমন্তের হালকা ঠান্ডা বাতাসে মাঠজুড়ে এখন পাকা ধানের সোনালী আলো। অগ্রহায়ণ আসার আগেই কার্তিক মাসে নতুন ধানের সুবাসে গ্রামগুলো মুখরিত হয়ে উঠেছে। বর্তমানে এলাকার প্রায় ১০ শতাংশ ধান পেকেছে এবং আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পুরোদমে সব স্থানে ধান কাটা শুরু হবে।
ধান উৎপাদনে ময়মনসিংহ জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে গফরগাঁও অন্যতম। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী, চলতি মৌসুমে এখানকার একটি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়নে মোট ২২ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের ধান ১ হাজার ৮৪০ হেক্টর, উচ্চফলনশীল জাত ২০ হাজার ৫৩০ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ধান ২৯০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়।
সরেজমিনে রসুলপুর, সালটিয়া, বারবাড়িয়া, বাগবেড়, লংগাইর, ছিপান, দাইরগাঁও ও উথুরী গ্রামে ঘুরে দেখা যায় পাকা ফসলে ভরে আছে মাঠ। কৃষকদের আশা, এবার আমনের ফলন বিগত কয়েক বছরের রেকর্ড অতিক্রম করবে। বাগবেড় গ্রামের কৃষক ফারুক, রাসেল ও এনামুল হক বাম্পার ফলনের কথা নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া উথুরীর বাদল মিয়া, ছিয়ানী রসুলপুরের এনামুল ইসলাম এবং লংগাইরের রতন মিয়া জানান, প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না ঘটলে তারা স্বস্তিতেই খেতের সব ধান ঘরে তুলতে পারবেন।
তবে চাষের শুরুতেই অভিজ্ঞতা মসৃণ ছিল না। ধানগাছে শীষ বের হওয়ার সময়ে পোকার আক্রমণ দেখা দিলে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ধানচাষিরা জানান, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত তদারকি ও সঠিক পরামর্শে সেই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছে। আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে পুরো উপজেলায় পুরোদমে ধান কাটার প্রস্তুতি চলছে।
গফরগাঁও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাকুরা নান্মী জানান, আগাম জাতের আমন চাষের কারণে এখন আর ধান কাটার জন্য পহেলা অগ্রহায়ণ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় না, কার্তিক মাসেই মাড়াই শুরু হয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, উৎপাদন বাড়াতে কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে নিবিড়ভাবে কাজ করেছে। অনুকূল আবহাওয়া ও নিয়মিত তদারকির কারণে ফসল খুব ভালো হয়েছে এবং এর ফলে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন বলে তারা আশাবাদী।
