ময়মনসিংহময়মনসিংহ

অনুসন্ধানী সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে নেত্রকোনায় কাফনের কাপড় পরে সাংবাদিকদের শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন

অনুসন্ধানী সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে নেত্রকোনায় কাফনের কাপড় পরে সাংবাদিকদের শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন
সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে নেত্রকোনায় সাংবাদিকদের মানববন্ধন

দৈনিক রূপসী বাংলার নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের নির্মম হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং সব আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে নেত্রকোনা। আজ সোমবার ২ নভেম্বর ২০২৬ বেলা সাড়ে ১২টায় নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাবের সামনে ‘সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ’-এর ময়মনসিংহ বিভাগীয় ও জেলা ইউনিট এবং ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে এক আবেগঘন ও বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাফনের কাপড় পরে রাজপথে নেমে আসা শতাধিক সংবাদকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং নিহত আলিফের শোকার্ত পরিবারের উপস্থিতিতে পুরো এলাকার পরিবেশ ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে।


গত ১৫ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুরের উত্রাইল বাজারসংলগ্ন তেলনজিয়া এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণ হারান বেসরকারি টেলিভিশন ‘রূপসী বাংলা’র নেত্রকোনা প্রতিনিধি এবং ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ ফেসবুক পেজের অনুসন্ধানী রিপোর্টার লুৎফুজ্জামান আলিফ। সীমান্ত এলাকার চোরাচালান ও নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে তাঁর নির্ভীক লেখনীর আক্রোশ থেকেই তাঁকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে বলে জোরালো অভিযোগ করেন বক্তারা। মানববন্ধনে অংশ নিয়ে সাংবাদিক সমাজ ৪ দফা দাবি তুলে ধরেন—সব আসামিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র দাখিল, মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর এবং ৯০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা।


কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদক ও সংগঠনের চেয়ারম্যান মো. খায়রুল আলম রফিক হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করতেই এই পরিকল্পিত খুন করা হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে কঠোর থেকে কঠোরতর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।” বিশেষ অতিথি ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি নিহত আলিফের বড় ভাই শহিদুল ইসলাম ফকির তাঁর ভাইয়ের খুনিদের দ্রুত ফাঁসির দাবি জানান। মানববন্ধন শেষে পুলিশ সুপার তরীকুল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি পেশ করা হলে তিনি জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থার আশ্বাস দেন। পুলিশ জানায়, এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে তাজুল ইসলামকে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। মুক্ত গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার এই অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আপসহীন আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।

Public Voice

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


অনুসন্ধানী সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে নেত্রকোনায় কাফনের কাপড় পরে সাংবাদিকদের শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন

প্রকাশের তারিখ : ০২ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

দৈনিক রূপসী বাংলার নেত্রকোনা জেলা প্রতিনিধি ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের নির্মম হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং সব আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে নেত্রকোনা। আজ সোমবার ২ নভেম্বর ২০২৬ বেলা সাড়ে ১২টায় নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাবের সামনে ‘সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল বাংলাদেশ’-এর ময়মনসিংহ বিভাগীয় ও জেলা ইউনিট এবং ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের যৌথ উদ্যোগে এক আবেগঘন ও বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাফনের কাপড় পরে রাজপথে নেমে আসা শতাধিক সংবাদকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং নিহত আলিফের শোকার্ত পরিবারের উপস্থিতিতে পুরো এলাকার পরিবেশ ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে।


গত ১৫ অক্টোবর রাতে দুর্গাপুরের উত্রাইল বাজারসংলগ্ন তেলনজিয়া এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণ হারান বেসরকারি টেলিভিশন ‘রূপসী বাংলা’র নেত্রকোনা প্রতিনিধি এবং ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ ফেসবুক পেজের অনুসন্ধানী রিপোর্টার লুৎফুজ্জামান আলিফ। সীমান্ত এলাকার চোরাচালান ও নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে তাঁর নির্ভীক লেখনীর আক্রোশ থেকেই তাঁকে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হয়েছে বলে জোরালো অভিযোগ করেন বক্তারা। মানববন্ধনে অংশ নিয়ে সাংবাদিক সমাজ ৪ দফা দাবি তুলে ধরেন—সব আসামিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র দাখিল, মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর এবং ৯০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা।


কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজের সম্পাদক ও সংগঠনের চেয়ারম্যান মো. খায়রুল আলম রফিক হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “স্বাধীন সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধ করতেই এই পরিকল্পিত খুন করা হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে কঠোর থেকে কঠোরতর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।” বিশেষ অতিথি ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি নিহত আলিফের বড় ভাই শহিদুল ইসলাম ফকির তাঁর ভাইয়ের খুনিদের দ্রুত ফাঁসির দাবি জানান। মানববন্ধন শেষে পুলিশ সুপার তরীকুল ইসলামের কাছে স্মারকলিপি পেশ করা হলে তিনি জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থার আশ্বাস দেন। পুলিশ জানায়, এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে তাজুল ইসলামকে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। মুক্ত গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার এই অপচেষ্টার বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আপসহীন আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত