বাছাইকৃত
আগেরবার আদালতে ডাক পড়লেও হাজির হননি পরীমনি। সেদিন আদালতের কাঠগড়ায় থাকার বদলে তাঁকে দেখা গিয়েছিল সুইমিংপুলের জলে জলকেলিতে মেতে থাকতে। পরে জানা গেল, অ্যালার্জিজনিত সমস্যার কারণে সেদিন আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি তিনি।
তবে আজকের দৃশ্যটা ছিল একেবারেই আলাদা!
আদালতপাড়ায় পা রাখতেই যেন তৈরি হলো এক অনন্য অস্থিরতা। মানুষের ভিড়, ধাক্কাধাক্কি, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, সাংবাদিকদের ব্যস্ততা—সব মিলিয়ে আদালত প্রাঙ্গণ পরিণত হলো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। আদালতে হাজিরার জন্য হয়তো গুনতে হয়েছে মাত্র ৫০০ টাকা, কিন্তু তাঁর এই উপস্থিতি গণমাধ্যমকে উপহার দিয়েছে অন্তত পাঁচ লাখ টাকার খবর, ছবি আর ভিডিও!
প্রশ্ন জাগতেই পারে, এমন একটি উপস্থিতির পেছনে কি যথেষ্ট প্রস্তুতি ছিল না?
পরীমনি আসলে কেবল একজন অভিনেত্রী নন, তিনি যেন একটি জীবন্ত আর্টওয়ার্ক। কবি নির্মলেন্দু গুণ একবার তাঁর সৌন্দর্যের সুষম বণ্টনের কথা বলেছিলেন। সেই সৌন্দর্যকে আরও দৃশ্যমান, আরও আকর্ষণীয় করে তোলার এক নিজস্ব কৌশল আছে পরীমনির। নাম দেওয়া যেতে পারে—ফ্যাশন কিউরেশন!
অনেকে হয়তো তাঁর জীবনের নানা ঘটনা দেখেন, নানা বিতর্ক নিয়ে আলোচনা করেন। কিন্তু আমার চোখ আটকে থাকে তাঁর স্টাইল, পোশাক নির্বাচন আর রঙের অসাধারণ বোধে।
আজ আদালতে হাজিরার পোশাকটিই ধরা যাক।
কয়েদিদের পোশাকে যে ধরনের চেক দেখা যায়, সেটি এড়িয়ে গেছেন তিনি। কারণ, তিনি কয়েদি নন। কিন্তু আদালত তো আর ফ্যাশন র্যাম্প নয়! সেখানে কাঠগড়ার মতো একটি চৌকো পরিসরও রয়েছে। সেই পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বেছে নিয়েছেন ছোট ছোট চেকের নকশা। যেন পোশাকের মধ্যেও রয়েছে একধরনের নান্দনিক পরিকল্পনা!
শাড়ির রঙগুলোও লক্ষ করার মতো। নির্মল, কোমল, নিষ্পাপ কিছু রঙের সমন্বয়। সব মিলিয়ে তাঁকে দিয়েছে এক অন্যরকম স্নিগ্ধতা। ব্লাউজের সরলরৈখিক নকশা, পিঠজুড়ে বিছিয়ে রাখা খয়েরি ওড়না কিংবা চাদর—প্রতিটি অনুষঙ্গ যেন আলাদা করে নজর কাড়ে।
এমনকি চশমার ফ্রেমটিও খয়েরি ওড়নার সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া। চুলের খোপায় যেন পুরোনো দিনের বাংলা সিনেমার নায়িকাদের ছোঁয়া, অনেকটা শাবানার স্টাইল। আর কপালের কালো টিপটি? সেটি একান্তই পরীমনির নিজস্ব স্বাক্ষর।
গাড়িতে ওঠার আগে ওড়না বা চাদরটি খুলে ফেলার মুহূর্তটিও যেন দৃশ্যের মধ্যে বাড়তি নাটকীয়তা যোগ করে। পোশাকের প্রতিটি অনুষঙ্গ, এমনকি ছোট্ট একটি ভঙ্গিও যে কীভাবে একটি উপস্থিতিকে স্মরণীয় করে তুলতে পারে, পরীমনি তা ভালোই জানেন বলে মনে হয়।
আমি তাঁর এই কিউরেশন অনেক দিন ধরেই লক্ষ করছি।
জেল থেকে মুক্তির সময়ের পোশাক, কোরবানির মাংস বিতরণের সময়ের সাজ, সংবাদ সম্মেলনের উপস্থিতি, জন্মদিনের আয়োজন, সুইমিংপুলে জলকেলি কিংবা বৃষ্টিতে ভেজার জন্য বেছে নেওয়া শাড়ি—প্রতিটি ক্ষেত্রেই পোশাক নির্বাচনে যেন থাকে আলাদা ভাবনা।
প্রশ্ন হলো, এই অসাধারণ ফ্যাশন সেন্স তিনি কোথায় পেলেন?
জানি না। তবে একটা কথা মনে হয়, নির্মলেন্দু গুণ যে সৌন্দর্যের স্কেলের কথা বলেছেন, সেই স্কেলই হয়তো তাঁর পোশাকের সাধারণ উপকরণকেও অসাধারণ করে তোলে।
কারণ, শেষ পর্যন্ত পোশাকই সব নয়; অনেক সময় হ্যাঙ্গারটাই আসল!
তবে এতক্ষণ পরীমনির পোশাক, সৌন্দর্য আর উপস্থিতির গল্প বলার পেছনে আমার অন্য একটি উদ্দেশ্যও আছে।
আজ যখন সমগ্র দেশ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং গণমাধ্যমের বড় একটি অংশের মনোযোগ পরীমনিকে ঘিরে, তখন মনে হচ্ছে—দেশের অন্য কোথাও হয়তো আরও গুরুত্বপূর্ণ কোনো ঘটনা ঘটছে, যা এই বিপুল মনোযোগের ভিড়ে আমাদের চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে।
কোনো কোনো ঘটনা আলোচনার কেন্দ্রে থাকে, আবার কোনো কোনো ঘটনা সেই আলোচনার আড়ালেই হারিয়ে যায়। পরীমনির উপস্থিতি নিয়ে এত মাতামাতির মধ্যেও তাই প্রশ্ন থেকে যায়—আমাদের দৃষ্টি কি অন্য কোথাও থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে?
যা-ই হোক, পরীমনির জন্য সত্যিই শুভকামনা। তাঁর ব্যক্তিত্ব, সাহস, স্টাইল এবং নিজেকে উপস্থাপনের এই স্বতন্ত্র দক্ষতা নিয়ে আলোচনা চলতেই পারে।
কারণ, পরীমনি জানেন কীভাবে শুধু হাজিরা দিতে হয় না, একটি হাজিরাকেও আলোচনার ঘটনায় পরিণত করতে হয়!

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬
আগেরবার আদালতে ডাক পড়লেও হাজির হননি পরীমনি। সেদিন আদালতের কাঠগড়ায় থাকার বদলে তাঁকে দেখা গিয়েছিল সুইমিংপুলের জলে জলকেলিতে মেতে থাকতে। পরে জানা গেল, অ্যালার্জিজনিত সমস্যার কারণে সেদিন আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি তিনি।
তবে আজকের দৃশ্যটা ছিল একেবারেই আলাদা!
আদালতপাড়ায় পা রাখতেই যেন তৈরি হলো এক অনন্য অস্থিরতা। মানুষের ভিড়, ধাক্কাধাক্কি, ক্যামেরার ফ্ল্যাশ, সাংবাদিকদের ব্যস্ততা—সব মিলিয়ে আদালত প্রাঙ্গণ পরিণত হলো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। আদালতে হাজিরার জন্য হয়তো গুনতে হয়েছে মাত্র ৫০০ টাকা, কিন্তু তাঁর এই উপস্থিতি গণমাধ্যমকে উপহার দিয়েছে অন্তত পাঁচ লাখ টাকার খবর, ছবি আর ভিডিও!
প্রশ্ন জাগতেই পারে, এমন একটি উপস্থিতির পেছনে কি যথেষ্ট প্রস্তুতি ছিল না?
পরীমনি আসলে কেবল একজন অভিনেত্রী নন, তিনি যেন একটি জীবন্ত আর্টওয়ার্ক। কবি নির্মলেন্দু গুণ একবার তাঁর সৌন্দর্যের সুষম বণ্টনের কথা বলেছিলেন। সেই সৌন্দর্যকে আরও দৃশ্যমান, আরও আকর্ষণীয় করে তোলার এক নিজস্ব কৌশল আছে পরীমনির। নাম দেওয়া যেতে পারে—ফ্যাশন কিউরেশন!
অনেকে হয়তো তাঁর জীবনের নানা ঘটনা দেখেন, নানা বিতর্ক নিয়ে আলোচনা করেন। কিন্তু আমার চোখ আটকে থাকে তাঁর স্টাইল, পোশাক নির্বাচন আর রঙের অসাধারণ বোধে।
আজ আদালতে হাজিরার পোশাকটিই ধরা যাক।
কয়েদিদের পোশাকে যে ধরনের চেক দেখা যায়, সেটি এড়িয়ে গেছেন তিনি। কারণ, তিনি কয়েদি নন। কিন্তু আদালত তো আর ফ্যাশন র্যাম্প নয়! সেখানে কাঠগড়ার মতো একটি চৌকো পরিসরও রয়েছে। সেই পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বেছে নিয়েছেন ছোট ছোট চেকের নকশা। যেন পোশাকের মধ্যেও রয়েছে একধরনের নান্দনিক পরিকল্পনা!
শাড়ির রঙগুলোও লক্ষ করার মতো। নির্মল, কোমল, নিষ্পাপ কিছু রঙের সমন্বয়। সব মিলিয়ে তাঁকে দিয়েছে এক অন্যরকম স্নিগ্ধতা। ব্লাউজের সরলরৈখিক নকশা, পিঠজুড়ে বিছিয়ে রাখা খয়েরি ওড়না কিংবা চাদর—প্রতিটি অনুষঙ্গ যেন আলাদা করে নজর কাড়ে।
এমনকি চশমার ফ্রেমটিও খয়েরি ওড়নার সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া। চুলের খোপায় যেন পুরোনো দিনের বাংলা সিনেমার নায়িকাদের ছোঁয়া, অনেকটা শাবানার স্টাইল। আর কপালের কালো টিপটি? সেটি একান্তই পরীমনির নিজস্ব স্বাক্ষর।
গাড়িতে ওঠার আগে ওড়না বা চাদরটি খুলে ফেলার মুহূর্তটিও যেন দৃশ্যের মধ্যে বাড়তি নাটকীয়তা যোগ করে। পোশাকের প্রতিটি অনুষঙ্গ, এমনকি ছোট্ট একটি ভঙ্গিও যে কীভাবে একটি উপস্থিতিকে স্মরণীয় করে তুলতে পারে, পরীমনি তা ভালোই জানেন বলে মনে হয়।
আমি তাঁর এই কিউরেশন অনেক দিন ধরেই লক্ষ করছি।
জেল থেকে মুক্তির সময়ের পোশাক, কোরবানির মাংস বিতরণের সময়ের সাজ, সংবাদ সম্মেলনের উপস্থিতি, জন্মদিনের আয়োজন, সুইমিংপুলে জলকেলি কিংবা বৃষ্টিতে ভেজার জন্য বেছে নেওয়া শাড়ি—প্রতিটি ক্ষেত্রেই পোশাক নির্বাচনে যেন থাকে আলাদা ভাবনা।
প্রশ্ন হলো, এই অসাধারণ ফ্যাশন সেন্স তিনি কোথায় পেলেন?
জানি না। তবে একটা কথা মনে হয়, নির্মলেন্দু গুণ যে সৌন্দর্যের স্কেলের কথা বলেছেন, সেই স্কেলই হয়তো তাঁর পোশাকের সাধারণ উপকরণকেও অসাধারণ করে তোলে।
কারণ, শেষ পর্যন্ত পোশাকই সব নয়; অনেক সময় হ্যাঙ্গারটাই আসল!
তবে এতক্ষণ পরীমনির পোশাক, সৌন্দর্য আর উপস্থিতির গল্প বলার পেছনে আমার অন্য একটি উদ্দেশ্যও আছে।
আজ যখন সমগ্র দেশ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং গণমাধ্যমের বড় একটি অংশের মনোযোগ পরীমনিকে ঘিরে, তখন মনে হচ্ছে—দেশের অন্য কোথাও হয়তো আরও গুরুত্বপূর্ণ কোনো ঘটনা ঘটছে, যা এই বিপুল মনোযোগের ভিড়ে আমাদের চোখ এড়িয়ে যাচ্ছে।
কোনো কোনো ঘটনা আলোচনার কেন্দ্রে থাকে, আবার কোনো কোনো ঘটনা সেই আলোচনার আড়ালেই হারিয়ে যায়। পরীমনির উপস্থিতি নিয়ে এত মাতামাতির মধ্যেও তাই প্রশ্ন থেকে যায়—আমাদের দৃষ্টি কি অন্য কোথাও থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে?
যা-ই হোক, পরীমনির জন্য সত্যিই শুভকামনা। তাঁর ব্যক্তিত্ব, সাহস, স্টাইল এবং নিজেকে উপস্থাপনের এই স্বতন্ত্র দক্ষতা নিয়ে আলোচনা চলতেই পারে।
কারণ, পরীমনি জানেন কীভাবে শুধু হাজিরা দিতে হয় না, একটি হাজিরাকেও আলোচনার ঘটনায় পরিণত করতে হয়!
