আইটি বিশ্বআইটি বিশ্ব

মার্কিন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ে কোণঠাসা হতে পারে ইসরাইল

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা জয় পাওয়ায় ওয়াশিংটনে ইসরাইলের অবস্থান দুর্বল হতে পারে। রিপাবলিকানদের ভরাডুবির পেছনে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি প্রধান ভূমিকা রেখেছে।

Publicvoice24
Publicvoice24
|
শেয়ার করুন
অ+ অ-

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর ওয়াশিংটনে ইসরাইলের অবস্থান আরো দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফল আসার পর দেখা যায়, কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে ডেমোক্র্যাটরা। এই ফলের পর রিপাবলিকান শিবিরে পরাজয়ের কারণ নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ শুরু হয়েছে। নির্বাচনে রিপাবলিকানদের এই ভরাডুবির জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত পররাষ্ট্রনীতিকে দায়ী করছেন খোদ নিজ দলের নেতারা। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ ভোটারদের ক্ষোভ শেষ পর্যন্ত ব্যালট বাক্সে প্রতিফলিত হয়েছে। গাজায় ইসরাইলের গণহত্যা ও দক্ষিণ লেবাননে দখলদারত্বে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন নিয়ে আগে থেকেই ক্ষুব্ধ ছিলেন অনেক ভোটার। প্রেসিডেন্টের ভেটো বাতিল করতে হলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন।

রিপাবলিকান শিবিরে ক্ষোভ ও জেডি ভ্যান্সের মন্তব্য

রিপাবলিকানদের একাংশের প্রবল ধারণা, ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর পেছনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের সরাসরি প্রভাব ছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালানোর গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নেতানিয়াহু প্রশাসন ট্রাম্পকে প্রভাবিত করেছিল বলে তারা বিশ্বাস করেন। ওই সময় ইসরাইলি সরকার কোনো শক্ত প্রমাণ উপস্থাপন ছাড়াই দাবি করেছিল যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এই যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক মাত্রায় জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং মার্কিন রাজস্ব থেকে প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ডলারের বিশাল ব্যয় হয়েছে, যা দেশটিতে জীবনযাত্রার ব্যয়কে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে বাইডেন ও ট্রাম্প প্রশাসন এ বিষয়ে কী জানত এবং আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠার পরও কেন অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারেন তারা। তারা উগ্রপন্থি মন্ত্রীদের বক্তব্য, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং এমন একটি সরকারের বিরোধিতা করছেন, যেটি তারা বুঝতে পারছেন না।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পরাজয় নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের পরাজয়ের প্রকৃত কারণ প্রায় সবার কাছেই স্পষ্ট।’ ভ্যান্স জানান, এক পেশাদার জরিপকারী নির্বাচনে দল পরিবর্তন করে অন্য দলকে ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, কী পরিবর্তন আনলে তারা আবার রিপাবলিকানদের সমর্থন করবেন। জবাবে ভোটাররা স্পষ্ট জানান যে তারা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ শেষ করার আহ্বান জানান এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এমন নীতির অবসান দাবি করেন। অথচ সাধারণ ভোটারদের এসব দাবি ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের মূল নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির সম্পূর্ণ বিপরীত, যেখানে তিনি বিদেশের যুদ্ধে ওয়াশিংটনের সম্পৃক্ততা কমানোর কথা বলেছিলেন। অথচ সেই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করার কথা থাকলেও তা কার্যকর হচ্ছে না।

জনমত জরিপ ও বিশ্লেষকদের মতামত

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) চালানো এক জনমত জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি ১০ জন ভোটারের প্রায় ৬ জন স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্তটি মারাত্মক ভুল ছিল। জরিপের ফলে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক সংকট ঘনীভূত হয়েছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় অত্যধিক বাড়িয়ে দেওয়ার পেছনে এই অন্তহীন যুদ্ধের সরাসরি ভূমিকা রয়েছে। ফলে তার ঘোষণার বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় রয়েছে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে। তবে তাদের পদক্ষেপ নেওয়ারও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের গবেষক অ্যান্ড্রু পেইন এ বিষয়ে আলজাজিরাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তিনি বলেন, ভোটাররা হয়তো সামরিক যুদ্ধের প্রযুক্তিগত বা কৌশলগত খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে খুব গভীরে গিয়ে ভাবেননি, তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে এই যুদ্ধের প্রত্যক্ষ যোগসূত্র খুব সহজভাবেই অনুধাবন করেছেন। এতে করে ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধে সাধারণ ভোটারদের অসন্তোষ চরমে পৌঁছায়।

মিশিগানে আবদুল আল-সাইয়েদের ঐতিহাসিক জয়

ইসরাইলের প্রতি মার্কিন সরকারের অন্ধ সমর্থন নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের চরম প্রভাব দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে। সেখানে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম সদস্য হতে যাচ্ছেন। নির্বাচনের ময়দানে রিপাবলিকানদের জোরালো প্রচার এবং ইসরাইলপন্থি অত্যন্ত প্রভাবশালী লবিগোষ্ঠী ‘আমেরিকান ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির’ (এআইপ্যাক) কোটি কোটি ডলার ব্যয় সত্ত্বেও আল-সাইয়েদকে পরাজিত করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু দুই নির্বাচনেই জয়ী হয়েছেন আল-সাইয়েদ।

নির্বাচনী বিজয়ের পর উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে আবদুল আল-সাইয়েদ তাঁর নীতিগত অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না আমাদের অর্থ কোনো ধরনের বর্ণবাদী ব্যবস্থা, মানবতাবিরোধী গণহত্যা কিংবা অন্যায্য যুদ্ধে ব্যবহৃত হোক।’ তাঁর এই বক্তব্যে ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া অসংসংজ্ঞায়িত সামরিক সহায়তার বিরুদ্ধে গণদাবির বিষয়টি উঠে আসে।

লবিগোষ্ঠীর কৌশল পরিবর্তন ও ইসরাইলি রাজনীতি

বিশ্লেষক ড্যানিয়েল লেভি মনে করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ ভোটারদের বিশাল একটি অংশ বিশ্বাস করে যে কেবল ইসরাইলের নিজস্ব স্বার্থ ও ইচ্ছাতেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। লেভি আরও উল্লেখ করেন, বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের একটি বড় অংশের মধ্যে এই বিষয়ে মার্কিন নীতি নিয়ে গভীর অসন্তোষ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, যা নির্বাচনে ভোট প্রদান প্রক্রিয়ায় বড় প্রভাব ফেলেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন পরবর্তীতে ইসরাইলের প্রতি মার্কিন জনগণের কমতে থাকা সমর্থনের দায় দেশটির সার্বিক রাষ্ট্রীয় নীতির ওপর না দিয়ে নেতানিয়াহু কিংবা ইতামার বেন গভির ও বেজালেল স্মতরিচের মতো উগ্র ডানপন্থি নেতাদের ওপর চাপানোর কৌশল নিতে পারে লবিগোষ্ঠীগুলো। তারা প্রমাণ করার চেষ্টা করবে যে সমস্যাটি ইসরাইল রাষ্ট্রের নয়, বরং দেশটির চরমপন্থি সরকারের।

ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রায় একই ধরনের রাজনৈতিক যুক্তি তুলে ধরেছেন। লাপিদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলবিরোধী বলে যাদেরকে বর্তমান গণমাধ্যমে চিত্রিত করা হচ্ছে, তাদের অনেকেই প্রকৃতপক্ষে ইসরাইল রাষ্ট্রের বিরোধী নন। লাপিদ স্পষ্ট অভিযোগ করেন যে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে রিপাবলিকান পার্টিকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়ে ঐতিহাসিক ভুল করেছেন, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মারাত্মক ক্ষতি করেছে। একই ধরনের আরেকটি উদ্যোগে ১ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমা বিক্রির বিরোধিতা করেন ৩৬ জন। বর্তমান প্রশাসন এমনভাবে এই ক্ষমতা ব্যবহার করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্য ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করছে।

এআইপ্যাকের প্রচারণা ও বাস্তব ব্যয়ের চিত্র

নির্বাচনের পর এআইপ্যাক দাবি করেছে যে, তাদের আর্থিক ও নীতিগত সমর্থন পাওয়া ২৩৪ জনের বেশি প্রার্থী নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন। তারা এক সামাজিক বার্তা পোস্টে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার ও হাকিম জেফরিসকে বিজয়ের জন্য প্রকাশ্যে অভিনন্দন জানিয়েছে। এর মাধ্যমে ওয়াশিংটনের উভয় রাজনৈতিক দলের মধ্যেই নিজেদের অখণ্ড প্রভাব বজায় রয়েছে বলে দাবি তুলে ধরার চেষ্টা করে লবিগোষ্ঠীটি।

তবে স্বাধীন গবেষণাপত্র ‘রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের’ প্রকাশিত এক বিশদ প্রতিবেদনে এআইপ্যাকের নির্বাচনি ব্যয়ের সম্পূর্ণ ভিন্ন ও ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে যে, তাদের তহবিল ‘ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্ট’ (ইউডিপি) ডেমোক্র্যাট প্রাইমারিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করলেও অনেক ক্ষেত্রেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি। মিশিগানে আবদুল আল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে প্রচার চালানো ছিল এআইপ্যাকের জন্য সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ব্যয়বহুল রাজনৈতিক ব্যর্থতার একটি। ইসরাইলের প্রতি মার্কিন নীতির পরিবর্তন দেখতে চাওয়া নতুন ডেমোক্র্যাট নেতাদের কাছে আল-সাইয়েদের এই জয় এক অভূতপূর্ব নজির ও নতুন অনুপ্রেরণা হিসেবে গণ্য হচ্ছে। গবেষণাপত্র রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআইপ্যাকের সুপার পিএসি ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্ট (ইউডিপি) এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকটি রাজনৈতিক কমিটি বিভিন্ন নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৮ কোটি ৪১ লাখ ডলার ব্যয় করে। এর মধ্যে ৫ কোটি ৫৩ লাখ ডলার ব্যয় করা হয়েছে এমন প্রার্থীদের পক্ষে, যারা শেষ পর্যন্ত হেরে গেছেন। তুলনায়, ২০২২ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে ইউডিপির ব্যয়ের যথাক্রমে ৬৯ ও ৮৭ শতাংশ গেছে তাদের পছন্দের প্রার্থীদের জয় পাওয়া নির্বাচনি লড়াইয়ে। রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের হিসাব অনুযায়ী, প্রাথমিক ও সাধারণ নির্বাচন মিলিয়ে আল-সাইয়েদকে পরাজিত করতে ইউডিপি ৩ কোটি ১৪ লাখ ৭০ হাজার ডলার ব্যয় করেছে।

সামরিক সহায়তা হ্রাস ও কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ পদক্ষপ

নির্বাচন চলার সময়ই ইসরাইলকে ঢালাও সামরিক সহায়তা দেওয়ার মারাত্মক রাজনৈতিক ক্ষতি আঁচ করতে পেরেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভোটের দিন এক বক্তব্যে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, চলতি বছরের পর ইসরাইলকে আর অসীম সামরিক ও অর্থনৈতিক সাহায্য দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। বর্তমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিবছর ইসরাইলকে ৩৮০ কোটি ডলারের অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তবে নির্ধারিত এই সহায়তার অর্থ বা পরিমাণ কমানোর জোরালো সুযোগ এখনো মার্কিন কংগ্রেসের হাতে রয়ে গেছে।

কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর এখন থেকে ইসরাইলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর পূর্বশর্ত আরোপ করা হতে পারে। এমনকি মানবতাবিরোধী কাজে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট মারাত্মক অস্ত্র বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ করার জন্য কংগ্রেসে সরাসরি ভোটের আয়োজনও হতে পারে। অতীতে ২০২৪ সালের শুরুতে মানবধিকার লংঘনের বিষয়ে ডেমোক্র্যাট সেনেটররা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে রিপোর্ট পেশ করতে বাধ্য করেছিলেন এবং এপ্রিলে সাঁজোয়া বুলডোজার বিক্রির বিরুদ্ধে ৪০ জন সেনেটর শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ইসরাইলের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে প্রতিবেদন দিতে বাধ্য করার একটি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন ১১ জন সিনেটর। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের প্রস্তাবটি পরবর্তী পর্যায়ে নেওয়ার পক্ষে ভোট দেন ২৭ জন সিনেটর। প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সামরিক প্রযুক্তি এবং বৃহত্তর অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্কও দেশটিকে চাপ সামলে উঠতে সহায়তা করতে পারে।

যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে ফক্স নিউজকে বলেছেন যে, ডেমোক্র্যাটদের আনা যেকোনো ‘উন্মাদ’ বা কঠোর বিল ভেটো ক্ষমতা দিয়ে আটকে দেবেন। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, সেনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের যৌথ নিয়ন্ত্রণে মার্কিন নির্বাহী বিভাগের একক সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা অনেকটাই সীমিত ও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

Public Voice

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬


মার্কিন নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ে কোণঠাসা হতে পারে ইসরাইল

প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের পর ওয়াশিংটনে ইসরাইলের অবস্থান আরো দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফল আসার পর দেখা যায়, কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে ডেমোক্র্যাটরা। এই ফলের পর রিপাবলিকান শিবিরে পরাজয়ের কারণ নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ শুরু হয়েছে। নির্বাচনে রিপাবলিকানদের এই ভরাডুবির জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের বিতর্কিত পররাষ্ট্রনীতিকে দায়ী করছেন খোদ নিজ দলের নেতারা। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ ভোটারদের ক্ষোভ শেষ পর্যন্ত ব্যালট বাক্সে প্রতিফলিত হয়েছে। গাজায় ইসরাইলের গণহত্যা ও দক্ষিণ লেবাননে দখলদারত্বে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন নিয়ে আগে থেকেই ক্ষুব্ধ ছিলেন অনেক ভোটার। প্রেসিডেন্টের ভেটো বাতিল করতে হলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন।

রিপাবলিকান শিবিরে ক্ষোভ ও জেডি ভ্যান্সের মন্তব্য

রিপাবলিকানদের একাংশের প্রবল ধারণা, ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর পেছনে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের সরাসরি প্রভাব ছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালানোর গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নেতানিয়াহু প্রশাসন ট্রাম্পকে প্রভাবিত করেছিল বলে তারা বিশ্বাস করেন। ওই সময় ইসরাইলি সরকার কোনো শক্ত প্রমাণ উপস্থাপন ছাড়াই দাবি করেছিল যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির একেবারে কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। এই যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক মাত্রায় জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং মার্কিন রাজস্ব থেকে প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ডলারের বিশাল ব্যয় হয়েছে, যা দেশটিতে জীবনযাত্রার ব্যয়কে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে বাইডেন ও ট্রাম্প প্রশাসন এ বিষয়ে কী জানত এবং আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠার পরও কেন অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারেন তারা। তারা উগ্রপন্থি মন্ত্রীদের বক্তব্য, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং এমন একটি সরকারের বিরোধিতা করছেন, যেটি তারা বুঝতে পারছেন না।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পরাজয় নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের পরাজয়ের প্রকৃত কারণ প্রায় সবার কাছেই স্পষ্ট।’ ভ্যান্স জানান, এক পেশাদার জরিপকারী নির্বাচনে দল পরিবর্তন করে অন্য দলকে ভোট দেওয়া ব্যক্তিদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, কী পরিবর্তন আনলে তারা আবার রিপাবলিকানদের সমর্থন করবেন। জবাবে ভোটাররা স্পষ্ট জানান যে তারা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ শেষ করার আহ্বান জানান এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এমন নীতির অবসান দাবি করেন। অথচ সাধারণ ভোটারদের এসব দাবি ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের মূল নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির সম্পূর্ণ বিপরীত, যেখানে তিনি বিদেশের যুদ্ধে ওয়াশিংটনের সম্পৃক্ততা কমানোর কথা বলেছিলেন। অথচ সেই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করার কথা থাকলেও তা কার্যকর হচ্ছে না।

জনমত জরিপ ও বিশ্লেষকদের মতামত

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) চালানো এক জনমত জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি ১০ জন ভোটারের প্রায় ৬ জন স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধে জড়ানোর সিদ্ধান্তটি মারাত্মক ভুল ছিল। জরিপের ফলে দেখা যায়, মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক সংকট ঘনীভূত হয়েছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় অত্যধিক বাড়িয়ে দেওয়ার পেছনে এই অন্তহীন যুদ্ধের সরাসরি ভূমিকা রয়েছে। ফলে তার ঘোষণার বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় রয়েছে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে। তবে তাদের পদক্ষেপ নেওয়ারও সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের গবেষক অ্যান্ড্রু পেইন এ বিষয়ে আলজাজিরাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। তিনি বলেন, ভোটাররা হয়তো সামরিক যুদ্ধের প্রযুক্তিগত বা কৌশলগত খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে খুব গভীরে গিয়ে ভাবেননি, তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে এই যুদ্ধের প্রত্যক্ষ যোগসূত্র খুব সহজভাবেই অনুধাবন করেছেন। এতে করে ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধে সাধারণ ভোটারদের অসন্তোষ চরমে পৌঁছায়।

মিশিগানে আবদুল আল-সাইয়েদের ঐতিহাসিক জয়

ইসরাইলের প্রতি মার্কিন সরকারের অন্ধ সমর্থন নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের চরম প্রভাব দেখা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে। সেখানে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সেনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম সদস্য হতে যাচ্ছেন। নির্বাচনের ময়দানে রিপাবলিকানদের জোরালো প্রচার এবং ইসরাইলপন্থি অত্যন্ত প্রভাবশালী লবিগোষ্ঠী ‘আমেরিকান ইসরাইল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটির’ (এআইপ্যাক) কোটি কোটি ডলার ব্যয় সত্ত্বেও আল-সাইয়েদকে পরাজিত করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু দুই নির্বাচনেই জয়ী হয়েছেন আল-সাইয়েদ।

নির্বাচনী বিজয়ের পর উচ্ছ্বসিত সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে আবদুল আল-সাইয়েদ তাঁর নীতিগত অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই না আমাদের অর্থ কোনো ধরনের বর্ণবাদী ব্যবস্থা, মানবতাবিরোধী গণহত্যা কিংবা অন্যায্য যুদ্ধে ব্যবহৃত হোক।’ তাঁর এই বক্তব্যে ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া অসংসংজ্ঞায়িত সামরিক সহায়তার বিরুদ্ধে গণদাবির বিষয়টি উঠে আসে।

লবিগোষ্ঠীর কৌশল পরিবর্তন ও ইসরাইলি রাজনীতি

বিশ্লেষক ড্যানিয়েল লেভি মনে করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ ভোটারদের বিশাল একটি অংশ বিশ্বাস করে যে কেবল ইসরাইলের নিজস্ব স্বার্থ ও ইচ্ছাতেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে। লেভি আরও উল্লেখ করেন, বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের একটি বড় অংশের মধ্যে এই বিষয়ে মার্কিন নীতি নিয়ে গভীর অসন্তোষ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, যা নির্বাচনে ভোট প্রদান প্রক্রিয়ায় বড় প্রভাব ফেলেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচন পরবর্তীতে ইসরাইলের প্রতি মার্কিন জনগণের কমতে থাকা সমর্থনের দায় দেশটির সার্বিক রাষ্ট্রীয় নীতির ওপর না দিয়ে নেতানিয়াহু কিংবা ইতামার বেন গভির ও বেজালেল স্মতরিচের মতো উগ্র ডানপন্থি নেতাদের ওপর চাপানোর কৌশল নিতে পারে লবিগোষ্ঠীগুলো। তারা প্রমাণ করার চেষ্টা করবে যে সমস্যাটি ইসরাইল রাষ্ট্রের নয়, বরং দেশটির চরমপন্থি সরকারের।

ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রায় একই ধরনের রাজনৈতিক যুক্তি তুলে ধরেছেন। লাপিদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ইসরাইলবিরোধী বলে যাদেরকে বর্তমান গণমাধ্যমে চিত্রিত করা হচ্ছে, তাদের অনেকেই প্রকৃতপক্ষে ইসরাইল রাষ্ট্রের বিরোধী নন। লাপিদ স্পষ্ট অভিযোগ করেন যে, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে রিপাবলিকান পার্টিকে প্রকাশ্যে সমর্থন দিয়ে ঐতিহাসিক ভুল করেছেন, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মারাত্মক ক্ষতি করেছে। একই ধরনের আরেকটি উদ্যোগে ১ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমা বিক্রির বিরোধিতা করেন ৩৬ জন। বর্তমান প্রশাসন এমনভাবে এই ক্ষমতা ব্যবহার করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার ভারসাম্য ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করছে।

এআইপ্যাকের প্রচারণা ও বাস্তব ব্যয়ের চিত্র

নির্বাচনের পর এআইপ্যাক দাবি করেছে যে, তাদের আর্থিক ও নীতিগত সমর্থন পাওয়া ২৩৪ জনের বেশি প্রার্থী নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন। তারা এক সামাজিক বার্তা পোস্টে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার ও হাকিম জেফরিসকে বিজয়ের জন্য প্রকাশ্যে অভিনন্দন জানিয়েছে। এর মাধ্যমে ওয়াশিংটনের উভয় রাজনৈতিক দলের মধ্যেই নিজেদের অখণ্ড প্রভাব বজায় রয়েছে বলে দাবি তুলে ধরার চেষ্টা করে লবিগোষ্ঠীটি।

তবে স্বাধীন গবেষণাপত্র ‘রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের’ প্রকাশিত এক বিশদ প্রতিবেদনে এআইপ্যাকের নির্বাচনি ব্যয়ের সম্পূর্ণ ভিন্ন ও ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে যে, তাদের তহবিল ‘ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্ট’ (ইউডিপি) ডেমোক্র্যাট প্রাইমারিতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করলেও অনেক ক্ষেত্রেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়নি। মিশিগানে আবদুল আল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে প্রচার চালানো ছিল এআইপ্যাকের জন্য সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ব্যয়বহুল রাজনৈতিক ব্যর্থতার একটি। ইসরাইলের প্রতি মার্কিন নীতির পরিবর্তন দেখতে চাওয়া নতুন ডেমোক্র্যাট নেতাদের কাছে আল-সাইয়েদের এই জয় এক অভূতপূর্ব নজির ও নতুন অনুপ্রেরণা হিসেবে গণ্য হচ্ছে। গবেষণাপত্র রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআইপ্যাকের সুপার পিএসি ইউনাইটেড ডেমোক্রেসি প্রজেক্ট (ইউডিপি) এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকটি রাজনৈতিক কমিটি বিভিন্ন নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৮ কোটি ৪১ লাখ ডলার ব্যয় করে। এর মধ্যে ৫ কোটি ৫৩ লাখ ডলার ব্যয় করা হয়েছে এমন প্রার্থীদের পক্ষে, যারা শেষ পর্যন্ত হেরে গেছেন। তুলনায়, ২০২২ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে ইউডিপির ব্যয়ের যথাক্রমে ৬৯ ও ৮৭ শতাংশ গেছে তাদের পছন্দের প্রার্থীদের জয় পাওয়া নির্বাচনি লড়াইয়ে। রেসপনসিবল স্টেটক্রাফটের হিসাব অনুযায়ী, প্রাথমিক ও সাধারণ নির্বাচন মিলিয়ে আল-সাইয়েদকে পরাজিত করতে ইউডিপি ৩ কোটি ১৪ লাখ ৭০ হাজার ডলার ব্যয় করেছে।

সামরিক সহায়তা হ্রাস ও কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ পদক্ষপ

নির্বাচন চলার সময়ই ইসরাইলকে ঢালাও সামরিক সহায়তা দেওয়ার মারাত্মক রাজনৈতিক ক্ষতি আঁচ করতে পেরেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভোটের দিন এক বক্তব্যে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, চলতি বছরের পর ইসরাইলকে আর অসীম সামরিক ও অর্থনৈতিক সাহায্য দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। বর্তমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিবছর ইসরাইলকে ৩৮০ কোটি ডলারের অনুদান দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। তবে নির্ধারিত এই সহায়তার অর্থ বা পরিমাণ কমানোর জোরালো সুযোগ এখনো মার্কিন কংগ্রেসের হাতে রয়ে গেছে।

কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর এখন থেকে ইসরাইলকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর পূর্বশর্ত আরোপ করা হতে পারে। এমনকি মানবতাবিরোধী কাজে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট মারাত্মক অস্ত্র বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ করার জন্য কংগ্রেসে সরাসরি ভোটের আয়োজনও হতে পারে। অতীতে ২০২৪ সালের শুরুতে মানবধিকার লংঘনের বিষয়ে ডেমোক্র্যাট সেনেটররা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে রিপোর্ট পেশ করতে বাধ্য করেছিলেন এবং এপ্রিলে সাঁজোয়া বুলডোজার বিক্রির বিরুদ্ধে ৪০ জন সেনেটর শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ইসরাইলের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে প্রতিবেদন দিতে বাধ্য করার একটি প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন ১১ জন সিনেটর। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ইসরাইলের কাছে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের প্রস্তাবটি পরবর্তী পর্যায়ে নেওয়ার পক্ষে ভোট দেন ২৭ জন সিনেটর। প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সামরিক প্রযুক্তি এবং বৃহত্তর অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্কও দেশটিকে চাপ সামলে উঠতে সহায়তা করতে পারে।

যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে ফক্স নিউজকে বলেছেন যে, ডেমোক্র্যাটদের আনা যেকোনো ‘উন্মাদ’ বা কঠোর বিল ভেটো ক্ষমতা দিয়ে আটকে দেবেন। কিন্তু বিশ্লেষকদের মতে, সেনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের যৌথ নিয়ন্ত্রণে মার্কিন নির্বাহী বিভাগের একক সামরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা অনেকটাই সীমিত ও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত