চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী ধান চাষ ক্রমশ অলাভজনক হয়ে ওঠায় স্থানীয় কৃষকরা এখন বিকল্প আবাদের পথ বেছে নিচ্ছেন। সেচ প্রকল্পের অভাব, জোয়ারের পানিতে ফসলি জমি ভরাট, শ্রমিকের বাড়তি মজুরি ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার মতো প্রতিকূলতায় ধান চাষ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অনেক কৃষক তাদের জমি ইজারা দিচ্ছেন বা নিজেরাই ঘাস চাষে মনোনিবেশ করছেন। উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের পূর্ববিল, কালারপোল, বেল্লাপাড়া ব্রিজ এবং জুলধা এলাকার মাঠগুলোতে এখন ধানের বদলে নেপয়ারের মতো উন্নত জাতের ঘাসের সবুজের সমারোহ দেখা যাচ্ছে। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় দিনদিন অলাভজনক হয়ে উঠছে ঐতিহ্যবাহী ধানচাষ। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে উপজেলার আবাদি জমিতে উন্নত জাতের ঘাস চাষ ও সাইলেজ প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছেন স্থানীয় কৃষকরা। সরেজমিনে শিকলবাহা ইউনিয়নের পূর্ববিল, কালারপোল, বেল্লাপাড়া ব্রিজ এলাকা এবং জুলধা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ মাঠ পরিদর্শনে দেখা যায়, যে খোলা মাঠে একসময় ধানের সোনালি শিষ দেখার কথা, সেখানে এখন সবুজের সমারোহ।
কৃষকদের হিসাব অনুযায়ী, এক বিঘা জমিতে ব্রি-২৮ বা ব্রি-২৯ জাতের ধান চাষ করলে বছরে সর্বোচ্চ ২০ মণ ফলন পাওয়া যায়। কিন্তু চারা রোপণ, সার, সেচ ও শ্রমিকের পেছনে যে ব্যয় হয়, তাতে ধান থেকে লাভ করা দুরূহ হয়ে পড়ছে। বিপরীতে, এক বিঘা জমিতে মাত্র একবার ঘাসের চারা রোপণ করলে বছরে পাঁচ থেকে ছয়বার কাটার সুযোগ থাকে। ঘাস চাষে চারা, শ্রমিক ও সার বাবদ খরচ হয় মাত্র ৪ হাজার ৮০০ টাকা। প্রথমবার ফলন পাওয়ার পর বাড়তি কোনো খরচ ছাড়াই বারবার ঘাস উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। তবে একবার ঘাস চাষ করলে সেই জমিতে পরবর্তীতে ধান চাষ করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় চাষিরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুল হকের ভাষ্যমতে, কর্ণফুলী এখন দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ‘ডেইরি জোনে’ রূপান্তরিত হয়েছে। ডেইরি খামারিদের ব্যাপক চাহিদার কারণেই ঘাস চাষে আগ্রহ বাড়ছে। খামারিদের চাহিদার বিপরীতে উপজেলায় প্রায় ৫০ হাজার গবাদিপশুর জন্য কাঁচা ঘাসের প্রয়োজন হয়। এর বাইরেও চলতি মৌসুমে উপজেলার ১ হাজার ৩৮১ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে, যার লক্ষ্যমাত্রা ৪ হাজার ১১৩ টন নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। এখানে প্রায় ৫০ হাজার গবাদিপশুর কাঁচা ঘাসের চাহিদা থাকায় এটি এখন একটি লাভজনক ব্যবসা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলামের মতে, এই এলাকায় কয়েক শতাধিক ডেইরি খামারে প্রায় ২৫ হাজারেরও বেশি গবাদিপশু রয়েছে। জলাবদ্ধ ও লবণাক্ততার কারণে যেসব জমি পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছিল, এখন সেখানে ঘাস চাষ করে কৃষকরা অধিক মুনাফা অর্জন করছেন। বর্তমানে ঘাস চাষ কেবল খামারিদের পশুখাদ্যের সাশ্রয়ই করছে না, বরং অনেক কৃষকের কাছে এটি ধান চাষের চেয়ে তিনগুণ বেশি লাভজনক একটি ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।

শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ নভেম্বর ২০২৬
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী ধান চাষ ক্রমশ অলাভজনক হয়ে ওঠায় স্থানীয় কৃষকরা এখন বিকল্প আবাদের পথ বেছে নিচ্ছেন। সেচ প্রকল্পের অভাব, জোয়ারের পানিতে ফসলি জমি ভরাট, শ্রমিকের বাড়তি মজুরি ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার মতো প্রতিকূলতায় ধান চাষ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অনেক কৃষক তাদের জমি ইজারা দিচ্ছেন বা নিজেরাই ঘাস চাষে মনোনিবেশ করছেন। উপজেলার শিকলবাহা ইউনিয়নের পূর্ববিল, কালারপোল, বেল্লাপাড়া ব্রিজ এবং জুলধা এলাকার মাঠগুলোতে এখন ধানের বদলে নেপয়ারের মতো উন্নত জাতের ঘাসের সবুজের সমারোহ দেখা যাচ্ছে। চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় দিনদিন অলাভজনক হয়ে উঠছে ঐতিহ্যবাহী ধানচাষ। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে উপজেলার আবাদি জমিতে উন্নত জাতের ঘাস চাষ ও সাইলেজ প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছেন স্থানীয় কৃষকরা। সরেজমিনে শিকলবাহা ইউনিয়নের পূর্ববিল, কালারপোল, বেল্লাপাড়া ব্রিজ এলাকা এবং জুলধা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ মাঠ পরিদর্শনে দেখা যায়, যে খোলা মাঠে একসময় ধানের সোনালি শিষ দেখার কথা, সেখানে এখন সবুজের সমারোহ।
কৃষকদের হিসাব অনুযায়ী, এক বিঘা জমিতে ব্রি-২৮ বা ব্রি-২৯ জাতের ধান চাষ করলে বছরে সর্বোচ্চ ২০ মণ ফলন পাওয়া যায়। কিন্তু চারা রোপণ, সার, সেচ ও শ্রমিকের পেছনে যে ব্যয় হয়, তাতে ধান থেকে লাভ করা দুরূহ হয়ে পড়ছে। বিপরীতে, এক বিঘা জমিতে মাত্র একবার ঘাসের চারা রোপণ করলে বছরে পাঁচ থেকে ছয়বার কাটার সুযোগ থাকে। ঘাস চাষে চারা, শ্রমিক ও সার বাবদ খরচ হয় মাত্র ৪ হাজার ৮০০ টাকা। প্রথমবার ফলন পাওয়ার পর বাড়তি কোনো খরচ ছাড়াই বারবার ঘাস উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে। তবে একবার ঘাস চাষ করলে সেই জমিতে পরবর্তীতে ধান চাষ করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় চাষিরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুল হকের ভাষ্যমতে, কর্ণফুলী এখন দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ‘ডেইরি জোনে’ রূপান্তরিত হয়েছে। ডেইরি খামারিদের ব্যাপক চাহিদার কারণেই ঘাস চাষে আগ্রহ বাড়ছে। খামারিদের চাহিদার বিপরীতে উপজেলায় প্রায় ৫০ হাজার গবাদিপশুর জন্য কাঁচা ঘাসের প্রয়োজন হয়। এর বাইরেও চলতি মৌসুমে উপজেলার ১ হাজার ৩৮১ হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে, যার লক্ষ্যমাত্রা ৪ হাজার ১১৩ টন নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। এখানে প্রায় ৫০ হাজার গবাদিপশুর কাঁচা ঘাসের চাহিদা থাকায় এটি এখন একটি লাভজনক ব্যবসা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রাকিবুল ইসলামের মতে, এই এলাকায় কয়েক শতাধিক ডেইরি খামারে প্রায় ২৫ হাজারেরও বেশি গবাদিপশু রয়েছে। জলাবদ্ধ ও লবণাক্ততার কারণে যেসব জমি পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছিল, এখন সেখানে ঘাস চাষ করে কৃষকরা অধিক মুনাফা অর্জন করছেন। বর্তমানে ঘাস চাষ কেবল খামারিদের পশুখাদ্যের সাশ্রয়ই করছে না, বরং অনেক কৃষকের কাছে এটি ধান চাষের চেয়ে তিনগুণ বেশি লাভজনক একটি ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।
