আন্তর্জাতিকআন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে একাধিক মুসলিম প্রার্থীর ঐতিহাসিক জয়

২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস তৈরি হয়েছে। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ দেশটির প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি আরও বেশ কয়েকজন মুসলিম ও বৈচিত্র্যময় পটভূমির প্রার্থী বড় জয় অর্জন করেছেন।

Publicvoice24
Publicvoice24
|
শেয়ার করুন
অ+ অ-

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে দেশটির রাজনীতিতে একাধিক ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে। এবারের নির্বাচনে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় ফিলিস্তিনি ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম প্রার্থীদের জয় মার্কিন রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে। আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট হবে।

মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ বিজয়ী হয়েছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম তাঁর এই জয় নিশ্চিত করার পর জানা যায়, তিনি মার্কিন ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। ৪২ বছর বয়সী এই রাজনীতিক পেশায় একজন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। তিনি পূর্বে মিশিগানের ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক এবং ডেট্রয়েটের স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা এবং গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবিও ছিল তাঁর অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। তবে প্রচারণা চলাকালে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ রিপাবলিকান শিবিরের শীর্ষ নেতাদের কাছ থেকে তিনি ইসলামবিদ্বেষী আক্রমণের শিকার হন। সব বাধা পেরিয়ে তিনি এই ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নেন। তবে প্রচারের সময় তাকে ঘিরে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য ও অভিযোগ সামনে আসে। নির্বাচনী প্রচারে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, করপোরেট প্রভাব নিয়ন্ত্রণ এবং ধনীদের ওপর কর বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন।

নিউ জার্সির ১২তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান প্রার্থী গ্রেগ মেলেকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট আদম হামাওয়ি। এর মাধ্যমে তিনি নিউ জার্সি থেকে প্রথম মুসলিম হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে পা রাখছেন। মিসরীয় বংশোদ্ভূত হামাওয়ি একজন প্লাস্টিক ও পুনর্গঠনমূলক সার্জন এবং সাবেক মার্কিন সেনা চিকিৎসক। তিনি ইরাক যুদ্ধে আহত সেনাসদস্যদের চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন। পাশাপাশি বসনিয়া, সুদান, লেবানন ও সিরিয়ায় মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি ২০২৪ ও ২০২৫ সালে গাজাতেও চিকিৎসাসেবা দিতে যান। তাঁর প্রচারণায় সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধ করা এবং শিক্ষা ও চিকিৎসা সংক্রান্ত ঋণ বাতিলের বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছিল।

ইলিনয় সিনেটের ২৬তম ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান ডারবি হিলসকে পরাজিত করে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী নাবিলা সৈয়দ জয়ী হয়েছেন। তিনি ৫৭ শতাংশ ভোট পান, অন্যদিকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হিলস পান ৪৩ শতাংশ ভোট। উল্লেখ্য, এই আসনটি আগে রিপাবলিকানদের দখলে ছিল। ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম নাবিলা সৈয়দ ২০২২ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে ইলিনয়ের প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হয়ে প্রথম নজর কাড়েন। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে থেকে পড়াশোনা করা এই প্রতিনিধি ভোক্তা অধিকার রক্ষা ও শিক্ষা সংস্কারে কাজ করছেন।

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিনেটে ১২তম ডিস্ট্রিক্ট থেকে বিজয়ী হয়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মুসলিম নারী আবের কাওয়াস। তাঁর এই জয়ের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি মুসলিম নারী হিসেবে ইতিহাস রচিত হলো। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ও ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার সমর্থন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা আবের কাওয়াস মূলত আবাসন ও ভাড়াটিয়াদের অধিকার, অভিবাসী সুরক্ষা এবং শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কুইন্সের বাসিন্দা কাওয়াস একজন কমিউনিটি সংগঠক।

জর্জিয়ার অঙ্গরাজ্য আইনসভায় মুসলিম ও ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত রাজনীতিক রুয়া রোমানের প্রতিনিধিত্ব নতুন মাত্রা পেয়েছে। ২০২২ সালে তিনি জর্জিয়ার প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম নারী এবং প্রথম ফিলিস্তিনি হিসেবে ইতিহাস তৈরি করেছিলেন। রুয়া রোমান—জর্জিয়ায় মুসলিম ও ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিত্বের অগ্রযাত্রা।

মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ৫ম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে আবারও কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট ইলহান ওমর। সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া এবং শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ইলহান ওমর ২০১৮ সালে মার্কিন ইতিহাসে প্রথম দুই মুসলিম নারীর একজন হিসেবে কংগ্রেসে স্থান করে নিয়েছিলেন।

মিশিগানের ১২তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট রাশিদা তালিব। ফিলিস্তিনি অভিবাসী পরিবারের সন্তান রাশিদা তালিব ২০১৮ সালে কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম নারী সদস্যদের অন্যতম ছিলেন।

ইন্ডিয়ানার ৭ম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে আবারও বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন ডেমোক্র্যাট আন্দ্রে কারসন। ২০০৮ সালে বিশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি প্রথম কংগ্রেসে আসেন এবং কংগ্রেসের দ্বিতীয় মুসলিম সদস্যের স্বীকৃতি পান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাবিষয়ক স্থায়ী কমিটিতে কাজ করার পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ ও পাল্টা গোয়েন্দা কার্যক্রমে বিশেষ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।

মুসলিম প্রার্থীদের পাশাপাশি অন্যান্য সংখ্যালঘু ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর প্রার্থীরাও এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রেকর্ড গড়েছেন। নিউ মেক্সিকোর গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকান গ্রেগ হালকে হারিয়ে ডেমোক্র্যাট ডেব হাল্যান্ড জয়ী হয়েছেন, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যের প্রথম আদিবাসী নারী গভর্নর হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন। তিনি লেগুনা পুয়েবলো উপজাতির সদস্য।

জর্জিয়ার গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকান রিক জ্যাকসনকে হারিয়ে ডেমোক্র্যাট কেইশা ল্যান্স বটমস যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে ফ্লোরিডার গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকান বায়রন ডোনাল্ডস জয় লাভ করে দেশটির ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ রিপাবলিকান গভর্নর হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন।

ইলিনয়ের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট জুলিয়ানা স্ট্র্যাটন বিজয়ী হয়ে উক্ত অঙ্গরাজ্য থেকে দ্বিতীয় কৃষ্ণাঙ্গ নারী সিনেটর হওয়ার কীর্তি অর্জন করেন। তিনি ডিক ডারবিনের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। এছাড়া নিউ হ্যাম্পশায়ারের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট ক্রিস পাপাস সাবেক রিপাবলিকান সিনেটর জন ই. সুনুনুকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী পুরুষ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। পাপাস ২০১৮ সালে নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে প্রথম এলজিবিটিকিউ কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন। সাবেক মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ট্যামি ডাকওয়ার্থের হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার পর তার জীবন বাঁচাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। এবার সিনেটে নির্বাচিত হয়ে অঙ্গরাজ্যের আইন প্রণয়নে আরও বড় পরিসরে ভূমিকা রাখার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।

মার্কিন অধিভুক্ত অঞ্চল ভার্জিন আইল্যান্ডসের গভর্নর নির্বাচনে জয় পেয়ে স্টেসি প্লাসকেট কোনো অধিভুক্ত অঞ্চলের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। অন্যদিকে মিনেসোটার গভর্নর নির্বাচনে জয়ী হয়ে অ্যামি ক্লোবুচার রাজ্যটির প্রথম নারী গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। এছাড়া আলাস্কায় রিপাবলিকান ড্যান সুলিভানের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেলটোলা প্রাথমিক গণনায় এগিয়ে আছেন, তবে চূড়ান্ত ফল র‍্যাঙ্কড-চয়েস গণনার পর নির্ধারণ করা হবে। প্রাথমিক ফলে রিপাবলিকান প্রার্থী আইজাজ শেখের বিরুদ্ধে তার বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকার খবর পাওয়া গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী এই ফলাফল দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা শ্রেণি-পেশা ও বর্ণের মানুষের কার্যকর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের দিক নির্দেশ করছে।

Public Voice

বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬


যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে একাধিক মুসলিম প্রার্থীর ঐতিহাসিক জয়

প্রকাশের তারিখ : ০৪ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে দেশটির রাজনীতিতে একাধিক ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে। এবারের নির্বাচনে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় ফিলিস্তিনি ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম প্রার্থীদের জয় মার্কিন রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে। আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট হবে।

মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ বিজয়ী হয়েছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম তাঁর এই জয় নিশ্চিত করার পর জানা যায়, তিনি মার্কিন ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। ৪২ বছর বয়সী এই রাজনীতিক পেশায় একজন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। তিনি পূর্বে মিশিগানের ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক এবং ডেট্রয়েটের স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা এবং গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবিও ছিল তাঁর অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। তবে প্রচারণা চলাকালে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ রিপাবলিকান শিবিরের শীর্ষ নেতাদের কাছ থেকে তিনি ইসলামবিদ্বেষী আক্রমণের শিকার হন। সব বাধা পেরিয়ে তিনি এই ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নেন। তবে প্রচারের সময় তাকে ঘিরে ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য ও অভিযোগ সামনে আসে। নির্বাচনী প্রচারে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, করপোরেট প্রভাব নিয়ন্ত্রণ এবং ধনীদের ওপর কর বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন।

নিউ জার্সির ১২তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান প্রার্থী গ্রেগ মেলেকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট আদম হামাওয়ি। এর মাধ্যমে তিনি নিউ জার্সি থেকে প্রথম মুসলিম হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে পা রাখছেন। মিসরীয় বংশোদ্ভূত হামাওয়ি একজন প্লাস্টিক ও পুনর্গঠনমূলক সার্জন এবং সাবেক মার্কিন সেনা চিকিৎসক। তিনি ইরাক যুদ্ধে আহত সেনাসদস্যদের চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন। পাশাপাশি বসনিয়া, সুদান, লেবানন ও সিরিয়ায় মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি ২০২৪ ও ২০২৫ সালে গাজাতেও চিকিৎসাসেবা দিতে যান। তাঁর প্রচারণায় সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা বন্ধ করা এবং শিক্ষা ও চিকিৎসা সংক্রান্ত ঋণ বাতিলের বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছিল।

ইলিনয় সিনেটের ২৬তম ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান ডারবি হিলসকে পরাজিত করে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী নাবিলা সৈয়দ জয়ী হয়েছেন। তিনি ৫৭ শতাংশ ভোট পান, অন্যদিকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হিলস পান ৪৩ শতাংশ ভোট। উল্লেখ্য, এই আসনটি আগে রিপাবলিকানদের দখলে ছিল। ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম নাবিলা সৈয়দ ২০২২ সালে মাত্র ২৩ বছর বয়সে ইলিনয়ের প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হয়ে প্রথম নজর কাড়েন। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলে থেকে পড়াশোনা করা এই প্রতিনিধি ভোক্তা অধিকার রক্ষা ও শিক্ষা সংস্কারে কাজ করছেন।

নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিনেটে ১২তম ডিস্ট্রিক্ট থেকে বিজয়ী হয়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মুসলিম নারী আবের কাওয়াস। তাঁর এই জয়ের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি মুসলিম নারী হিসেবে ইতিহাস রচিত হলো। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি ও ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার সমর্থন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা আবের কাওয়াস মূলত আবাসন ও ভাড়াটিয়াদের অধিকার, অভিবাসী সুরক্ষা এবং শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কুইন্সের বাসিন্দা কাওয়াস একজন কমিউনিটি সংগঠক।

জর্জিয়ার অঙ্গরাজ্য আইনসভায় মুসলিম ও ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত রাজনীতিক রুয়া রোমানের প্রতিনিধিত্ব নতুন মাত্রা পেয়েছে। ২০২২ সালে তিনি জর্জিয়ার প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম নারী এবং প্রথম ফিলিস্তিনি হিসেবে ইতিহাস তৈরি করেছিলেন। রুয়া রোমান—জর্জিয়ায় মুসলিম ও ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিত্বের অগ্রযাত্রা।

মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ৫ম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে আবারও কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট ইলহান ওমর। সোমালিয়ায় জন্ম নেওয়া এবং শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ইলহান ওমর ২০১৮ সালে মার্কিন ইতিহাসে প্রথম দুই মুসলিম নারীর একজন হিসেবে কংগ্রেসে স্থান করে নিয়েছিলেন।

মিশিগানের ১২তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট রাশিদা তালিব। ফিলিস্তিনি অভিবাসী পরিবারের সন্তান রাশিদা তালিব ২০১৮ সালে কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম নারী সদস্যদের অন্যতম ছিলেন।

ইন্ডিয়ানার ৭ম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে আবারও বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন ডেমোক্র্যাট আন্দ্রে কারসন। ২০০৮ সালে বিশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি প্রথম কংগ্রেসে আসেন এবং কংগ্রেসের দ্বিতীয় মুসলিম সদস্যের স্বীকৃতি পান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাবিষয়ক স্থায়ী কমিটিতে কাজ করার পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ ও পাল্টা গোয়েন্দা কার্যক্রমে বিশেষ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।

মুসলিম প্রার্থীদের পাশাপাশি অন্যান্য সংখ্যালঘু ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর প্রার্থীরাও এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রেকর্ড গড়েছেন। নিউ মেক্সিকোর গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকান গ্রেগ হালকে হারিয়ে ডেমোক্র্যাট ডেব হাল্যান্ড জয়ী হয়েছেন, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্যের প্রথম আদিবাসী নারী গভর্নর হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন। তিনি লেগুনা পুয়েবলো উপজাতির সদস্য।

জর্জিয়ার গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকান রিক জ্যাকসনকে হারিয়ে ডেমোক্র্যাট কেইশা ল্যান্স বটমস যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে ফ্লোরিডার গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকান বায়রন ডোনাল্ডস জয় লাভ করে দেশটির ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ রিপাবলিকান গভর্নর হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার রেকর্ড গড়েছেন।

ইলিনয়ের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট জুলিয়ানা স্ট্র্যাটন বিজয়ী হয়ে উক্ত অঙ্গরাজ্য থেকে দ্বিতীয় কৃষ্ণাঙ্গ নারী সিনেটর হওয়ার কীর্তি অর্জন করেন। তিনি ডিক ডারবিনের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। এছাড়া নিউ হ্যাম্পশায়ারের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট ক্রিস পাপাস সাবেক রিপাবলিকান সিনেটর জন ই. সুনুনুকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী পুরুষ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। পাপাস ২০১৮ সালে নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে প্রথম এলজিবিটিকিউ কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন। সাবেক মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ট্যামি ডাকওয়ার্থের হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার পর তার জীবন বাঁচাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। এবার সিনেটে নির্বাচিত হয়ে অঙ্গরাজ্যের আইন প্রণয়নে আরও বড় পরিসরে ভূমিকা রাখার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।

মার্কিন অধিভুক্ত অঞ্চল ভার্জিন আইল্যান্ডসের গভর্নর নির্বাচনে জয় পেয়ে স্টেসি প্লাসকেট কোনো অধিভুক্ত অঞ্চলের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। অন্যদিকে মিনেসোটার গভর্নর নির্বাচনে জয়ী হয়ে অ্যামি ক্লোবুচার রাজ্যটির প্রথম নারী গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। এছাড়া আলাস্কায় রিপাবলিকান ড্যান সুলিভানের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেলটোলা প্রাথমিক গণনায় এগিয়ে আছেন, তবে চূড়ান্ত ফল র‍্যাঙ্কড-চয়েস গণনার পর নির্ধারণ করা হবে। প্রাথমিক ফলে রিপাবলিকান প্রার্থী আইজাজ শেখের বিরুদ্ধে তার বড় ব্যবধানে এগিয়ে থাকার খবর পাওয়া গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী এই ফলাফল দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা শ্রেণি-পেশা ও বর্ণের মানুষের কার্যকর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের দিক নির্দেশ করছে।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত