আন্তর্জাতিকআন্তর্জাতিক

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর শঙ্কায় ট্রাম্প, নির্বাচনে বড় পরীক্ষার মুখে প্রেসিডেন্ট

আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনসমর্থন কমে যাওয়া এবং ইরান যুদ্ধসহ বিভিন্ন ইস্যুতে ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে।

Publicvoice24
Publicvoice24
|
শেয়ার করুন
অ+ অ-

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের পরবর্তী দুই বছরের রাজনৈতিক গতিপথ অনেকটা আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে কেবল প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণই নির্ধারিত হবে না, বরং মার্কিন রাজনীতিতে ট্রাম্পের প্রভাবের ভবিষ্যৎও এর মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়ে উঠবে। দেশজুড়ে হাজার হাজার পদে ভোট গ্রহণ হলেও কংগ্রেসের দুই কক্ষের আধিপত্য বজায় রাখাই এখন রিপাবলিকান পার্টির জন্য মূল লড়াইয়ের বিষয়। কিন্তু জনসমর্থনে পিছিয়ে পড়া ট্রাম্পের জন্য এবারের নির্বাচন কঠিন পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। সিনেট সদস্যরা ছয় বছরের জন্য নির্বাচিত হন। কিন্তু এর মাত্র চার দিন পর ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হলে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। এর প্রভাব পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও। ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন পথে।

নির্বাচনী লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ও অন্যান্য বিশ্লেষণে জনমত জরিপ, ভোটারদের অগ্রাধিকার এবং নির্বাচনী প্রচারণার অর্থের হিসাব বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হয়েছে ডেমোক্র্যাটদের সামনে। ট্রাম্পের জন্য উদ্বেগের বড় কারণ হলো সময়ের সঙ্গে তাঁর জনসমর্থন আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়া। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে তাঁর প্রতি ৫০ শতাংশের কিছু বেশি মানুষের সমর্থন থাকলেও বর্তমানে তা ৩৭ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। অধিকাংশ নির্বাচনী এলাকায় কোনো একটি দলের সমর্থন এতটাই শক্তিশালী যে সেখানে ফলাফল অনেকটাই অনুমান করা যায়। রজার্স ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং সাবেক এফবিআই কর্মকর্তা। ট্রাম্প প্রশাসন সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশের সংখ্যা কমিয়ে আনাকে নিজেদের বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে।

সিলভার বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানের সময় ট্রাম্পের জনসমর্থন ছিল প্রায় ৪২ শতাংশ, যা পরবর্তীতে আরও হ্রাস পেয়েছে। তুলনায় তাঁর প্রথম মেয়াদের একই সময়ে জনসমর্থন ছিল ৪৩ শতাংশ এবং প্রেসিডেন্ট থাকাকালে জো বাইডেনের জনপ্রিয়তা একই পর্যায়ে ছিল ৪০ শতাংশ। দুই পূর্বসূরি প্রেসিডেন্টের আমলেই মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল ক্ষমতাসীন দল, যা ডেমোক্র্যাটদের মনে নতুন করে জয়ের আশা জাগাচ্ছে।

প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতেই এবার ভোট হচ্ছে। বর্তমানে রিপাবলিকানদের হাতে ২১৮টি আসন রয়েছে, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রাখার জন্য ন্যূনতম প্রয়োজন। কুক পলিটিক্যাল রিপোর্টের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ১৮টি আসনে এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে ১৪টি বর্তমানে রিপাবলিকানদের দখলে। ডেমোক্র্যাটদের জন্য প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিতে ১৮টির সবকটিতে জেতার প্রয়োজন নেই; বরং বর্তমান অনুকূল আসনসহ ৩৬টি নিশ্চিত করতে পারলেই তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবে। ঐতিহাসিক তথ্য বলছে, ১৯৩৪ সালের পর থেকে প্রায় সব মধ্যবর্তী নির্বাচনেই প্রেসিডেন্টের দল গড়ে ২৭টি আসন হারিয়েছে। শুধু নিজেদের শক্তিশালী এলাকাগুলো নয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রিপাবলিকানদের প্রাধান্য থাকা কয়েকটি রাজ্যেও জয়ের সম্ভাবনা দেখছে তারা। বর্তমানে দলটির ২১৮ জন প্রতিনিধি রয়েছেন। ঐতিহাসিক পরিসংখ্যানও ডেমোক্র্যাটদের আশাবাদী করে তুলছে।

সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে রিপাবলিকানদের অবস্থান প্রতিনিধি পরিষদের চেয়ে কিছুটা শক্তিশালী।

১০০ আসনের এই কক্ষের ৫৩টি বর্তমানে তাদের নিয়ন্ত্রণে এবং দুজন স্বতন্ত্র সদস্যও তাদের সমর্থন করেন। এবারের নির্বাচনে ৩৫টি আসনের লড়াইয়ে সাতটি আসন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে, যার ছয়টিই বর্তমানে রিপাবলিকানদের দখলে। ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হলে ৫১টি আসনে জয় নিশ্চিত করতে হবে। তবে মিশিগানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ এবং রিপাবলিকান মাইক রজার্সের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ জটিল আকার ধারণ করেছে। এছাড়া আলাস্কা, আইওয়া ও ওহাইওর মতো রাজ্যেও ডেমোক্র্যাটদের বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। পাশাপাশি একজন স্বতন্ত্র সদস্যও সাধারণত রিপাবলিকানদের পক্ষে ভোট দেন। এ ছাড়া ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন—এমন আলাস্কা, আইওয়া ও ওহাইওর মতো রাজ্যেও সিনেটের আসন জিততে হবে ডেমোক্র্যাটদের। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের জন্য জীবনযাত্রা সাশ্রয়ী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা স্বাস্থ্যসেবার উচ্চ ব্যয় এবং ট্রাম্প প্রশাসনের আইনের কারণে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ কতটা সংকুচিত হচ্ছে, সে বিষয়গুলো সামনে আনছেন। অতীতেও জনমত জরিপের পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে যাওয়ার নজির রয়েছে ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের।

টেক্সাসের মতো রাজ্যে জয়ের ক্ষীণ সম্ভাবনাও ডেমোক্র্যাটদের মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছে। জেমস টালারিকো যদি কেন প্যাক্সটনের বিপক্ষে জয়ী হতে পারেন, তবে ১৯৮৮ সালের পর প্রথমবারের মতো ওই অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটরা সিনেটের আসন পাবে। ভোটারদের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে ট্রাম্প প্রতি গ্যালন জ্বালানির দাম ২.৩০ ডলারের নিচে থাকার যে দাবি করেছিলেন, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে তা পরে প্রায় ৪ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। আগস্টের এক জরিপে দেখা যায়, ইরান সংকট সামলানোয় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি ৬৩ শতাংশ মানুষ অসন্তোষ জানিয়েছেন। গত আগস্টে পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, ৬৩ শতাংশ উত্তরদাতা ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

নির্বাচনী অর্থায়নের দিক থেকে ট্রাম্প ও রিপাবলিকানরা ডেমোক্র্যাটদের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে আছেন।

অক্টোবরের মাঝামাঝি রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনের হাতে ছিল ৩২০ মিলিয়ন ডলার, যেখানে ডেমোক্র্যাটদের তহবিল ছিল ২৩০ মিলিয়ন ডলারের কিছু কম।

এছাড়া ‘মাগা ইনকরপোরেটেড’ নামে ট্রাম্পের নিজস্ব আন্দোলনের সংগঠনের কাছে আরও ১৬০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল রয়েছে। এর বাইরে ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা ‘মাগা’ আন্দোলনের তহবিল সংগ্রহ ও ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত সংগঠন মাগা ইনকরপোরেটেডের কাছেও রিপাবলিকানদের ১৬০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ রয়েছে।

শেষ মুহূর্তে ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে ভোটার উপস্থিতি বাড়িয়ে নিজেদের ক্ষতি সীমিত রাখার পরিকল্পনা করছে রিপাবলিকানরা।

নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী সময়ে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়েও মার্কিন রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ ও বিতর্ক শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Public Voice

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর শঙ্কায় ট্রাম্প, নির্বাচনে বড় পরীক্ষার মুখে প্রেসিডেন্ট

প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের পরবর্তী দুই বছরের রাজনৈতিক গতিপথ অনেকটা আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে কেবল প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণই নির্ধারিত হবে না, বরং মার্কিন রাজনীতিতে ট্রাম্পের প্রভাবের ভবিষ্যৎও এর মাধ্যমেই স্পষ্ট হয়ে উঠবে। দেশজুড়ে হাজার হাজার পদে ভোট গ্রহণ হলেও কংগ্রেসের দুই কক্ষের আধিপত্য বজায় রাখাই এখন রিপাবলিকান পার্টির জন্য মূল লড়াইয়ের বিষয়। কিন্তু জনসমর্থনে পিছিয়ে পড়া ট্রাম্পের জন্য এবারের নির্বাচন কঠিন পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে। সিনেট সদস্যরা ছয় বছরের জন্য নির্বাচিত হন। কিন্তু এর মাত্র চার দিন পর ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হলে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। এর প্রভাব পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও। ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন পথে।

নির্বাচনী লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ও অন্যান্য বিশ্লেষণে জনমত জরিপ, ভোটারদের অগ্রাধিকার এবং নির্বাচনী প্রচারণার অর্থের হিসাব বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের সুযোগ তৈরি হয়েছে ডেমোক্র্যাটদের সামনে। ট্রাম্পের জন্য উদ্বেগের বড় কারণ হলো সময়ের সঙ্গে তাঁর জনসমর্থন আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়া। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে তাঁর প্রতি ৫০ শতাংশের কিছু বেশি মানুষের সমর্থন থাকলেও বর্তমানে তা ৩৭ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। অধিকাংশ নির্বাচনী এলাকায় কোনো একটি দলের সমর্থন এতটাই শক্তিশালী যে সেখানে ফলাফল অনেকটাই অনুমান করা যায়। রজার্স ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং সাবেক এফবিআই কর্মকর্তা। ট্রাম্প প্রশাসন সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশের সংখ্যা কমিয়ে আনাকে নিজেদের বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে।

সিলভার বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ সামরিক অভিযানের সময় ট্রাম্পের জনসমর্থন ছিল প্রায় ৪২ শতাংশ, যা পরবর্তীতে আরও হ্রাস পেয়েছে। তুলনায় তাঁর প্রথম মেয়াদের একই সময়ে জনসমর্থন ছিল ৪৩ শতাংশ এবং প্রেসিডেন্ট থাকাকালে জো বাইডেনের জনপ্রিয়তা একই পর্যায়ে ছিল ৪০ শতাংশ। দুই পূর্বসূরি প্রেসিডেন্টের আমলেই মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল ক্ষমতাসীন দল, যা ডেমোক্র্যাটদের মনে নতুন করে জয়ের আশা জাগাচ্ছে।

প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতেই এবার ভোট হচ্ছে। বর্তমানে রিপাবলিকানদের হাতে ২১৮টি আসন রয়েছে, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় রাখার জন্য ন্যূনতম প্রয়োজন। কুক পলিটিক্যাল রিপোর্টের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, ১৮টি আসনে এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে ১৪টি বর্তমানে রিপাবলিকানদের দখলে। ডেমোক্র্যাটদের জন্য প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিতে ১৮টির সবকটিতে জেতার প্রয়োজন নেই; বরং বর্তমান অনুকূল আসনসহ ৩৬টি নিশ্চিত করতে পারলেই তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবে। ঐতিহাসিক তথ্য বলছে, ১৯৩৪ সালের পর থেকে প্রায় সব মধ্যবর্তী নির্বাচনেই প্রেসিডেন্টের দল গড়ে ২৭টি আসন হারিয়েছে। শুধু নিজেদের শক্তিশালী এলাকাগুলো নয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রিপাবলিকানদের প্রাধান্য থাকা কয়েকটি রাজ্যেও জয়ের সম্ভাবনা দেখছে তারা। বর্তমানে দলটির ২১৮ জন প্রতিনিধি রয়েছেন। ঐতিহাসিক পরিসংখ্যানও ডেমোক্র্যাটদের আশাবাদী করে তুলছে।

সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে রিপাবলিকানদের অবস্থান প্রতিনিধি পরিষদের চেয়ে কিছুটা শক্তিশালী।

১০০ আসনের এই কক্ষের ৫৩টি বর্তমানে তাদের নিয়ন্ত্রণে এবং দুজন স্বতন্ত্র সদস্যও তাদের সমর্থন করেন। এবারের নির্বাচনে ৩৫টি আসনের লড়াইয়ে সাতটি আসন নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে, যার ছয়টিই বর্তমানে রিপাবলিকানদের দখলে। ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে হলে ৫১টি আসনে জয় নিশ্চিত করতে হবে। তবে মিশিগানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ এবং রিপাবলিকান মাইক রজার্সের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ জটিল আকার ধারণ করেছে। এছাড়া আলাস্কা, আইওয়া ও ওহাইওর মতো রাজ্যেও ডেমোক্র্যাটদের বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। পাশাপাশি একজন স্বতন্ত্র সদস্যও সাধারণত রিপাবলিকানদের পক্ষে ভোট দেন। এ ছাড়া ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন—এমন আলাস্কা, আইওয়া ও ওহাইওর মতো রাজ্যেও সিনেটের আসন জিততে হবে ডেমোক্র্যাটদের। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের জন্য জীবনযাত্রা সাশ্রয়ী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা স্বাস্থ্যসেবার উচ্চ ব্যয় এবং ট্রাম্প প্রশাসনের আইনের কারণে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ কতটা সংকুচিত হচ্ছে, সে বিষয়গুলো সামনে আনছেন। অতীতেও জনমত জরিপের পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে যাওয়ার নজির রয়েছে ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের।

টেক্সাসের মতো রাজ্যে জয়ের ক্ষীণ সম্ভাবনাও ডেমোক্র্যাটদের মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছে। জেমস টালারিকো যদি কেন প্যাক্সটনের বিপক্ষে জয়ী হতে পারেন, তবে ১৯৮৮ সালের পর প্রথমবারের মতো ওই অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটরা সিনেটের আসন পাবে। ভোটারদের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে ট্রাম্প প্রতি গ্যালন জ্বালানির দাম ২.৩০ ডলারের নিচে থাকার যে দাবি করেছিলেন, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে তা পরে প্রায় ৪ ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। আগস্টের এক জরিপে দেখা যায়, ইরান সংকট সামলানোয় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি ৬৩ শতাংশ মানুষ অসন্তোষ জানিয়েছেন। গত আগস্টে পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, ৬৩ শতাংশ উত্তরদাতা ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

নির্বাচনী অর্থায়নের দিক থেকে ট্রাম্প ও রিপাবলিকানরা ডেমোক্র্যাটদের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে আছেন।

অক্টোবরের মাঝামাঝি রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনের হাতে ছিল ৩২০ মিলিয়ন ডলার, যেখানে ডেমোক্র্যাটদের তহবিল ছিল ২৩০ মিলিয়ন ডলারের কিছু কম।

এছাড়া ‘মাগা ইনকরপোরেটেড’ নামে ট্রাম্পের নিজস্ব আন্দোলনের সংগঠনের কাছে আরও ১৬০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল রয়েছে। এর বাইরে ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা ‘মাগা’ আন্দোলনের তহবিল সংগ্রহ ও ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত সংগঠন মাগা ইনকরপোরেটেডের কাছেও রিপাবলিকানদের ১৬০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ রয়েছে।

শেষ মুহূর্তে ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে ভোটার উপস্থিতি বাড়িয়ে নিজেদের ক্ষতি সীমিত রাখার পরিকল্পনা করছে রিপাবলিকানরা।

নির্বাচনের ফলাফল পরবর্তী সময়ে ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়েও মার্কিন রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ ও বিতর্ক শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত