অর্থনীতিঅর্থনীতি

বিশ্ববাজারে দরপতন: এক ধাক্কায় কমল স্বর্ণের দাম

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতুর দরে বড় ধরনের পতন ঘটেছে।

Publicvoice24
Publicvoice24
|
শেয়ার করুন
অ+ অ-

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। গত কার্যদিবসে প্রায় দুই শতাংশ বৃদ্ধির পর মঙ্গলবার মূল্যবান এই ধাতুটির দরে বড় পতন দেখা গেছে। বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টা ২ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণ ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৯০৪ দশমিক ৬৯ ডলারে বিক্রি হয়েছে। একই সময়ে ডিসেম্বরের সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার দর ১ দশমিক ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৩ হাজার ৯১৪ দশমিক ৭০ ডলারে নেমে এসেছে। আগের কার্যদিবসে প্রায় ২ শতাংশ বাড়ার পর এদিন মূল্যবান ধাতুটির দরপতন হয়েছে।

বাজারে এই অস্থিরতার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। ইরানের এক কর্মকর্তা যুদ্ধের অবসানে কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মন্তব্য করার পর তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে এক ডলারের বেশি বেড়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের কেশম দ্বীপে হামলা চালানোর ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি বাড়ায় মূল্যস্ফীতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা স্বর্ণের দরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সরবরাহঝুঁকির কারণে জ্বালানির দাম উঁচু থাকায় কঠোর মুদ্রানীতির পক্ষে যুক্তি আরও জোরালো হচ্ছে। স্বর্ণের বার ও কয়েনের চাহিদা দুর্বল হওয়াকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

উইজডমট্রির পণ্যবাজার কৌশলবিদ নিশতেশ শাহ জানান, তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়া মানেই বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ছে, যা সরাসরি স্বর্ণের জন্য প্রতিকূল। অন্যদিকে, সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্যানুযায়ী, ডিসেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াবে এমন সম্ভাবনা এখন ৭৫ শতাংশে পৌঁছেছে। সুদবিহীন সম্পদ হওয়ায় সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের স্বর্ণ থেকে দূরে রাখছে। সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা বর্তমানে ডিসেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৭৫ শতাংশ দেখছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল নিয়েও বাজার বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার মনে করেন, ডেমোক্র্যাটদের বড় জয় প্রযুক্তি খাত ও ডেটা সেন্টারের বিনিয়োগে জটিলতা তৈরি করতে পারে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার চাপ বাড়লে বিনিয়োগকারীরা লোকসান পুষিয়ে নিতে স্বর্ণের অবস্থান কমিয়ে ফেলতে পারেন। এদিকে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল চলতি বছর স্বর্ণে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪০০ মেট্রিক টন থেকে কমিয়ে ২০০ মেট্রিক টনে নামিয়ে এনেছে। চাহিদা কমলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ক্রয়ের পূর্বাভাস কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ধাতুর মধ্যে রুপা ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৪৮ দশমিক ৯৩ ডলার, প্লাটিনাম ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪১৯ দশমিক ০৭ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ২ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৯৪০ দশমিক ৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

Public Voice

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


বিশ্ববাজারে দরপতন: এক ধাক্কায় কমল স্বর্ণের দাম

প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের ধস নেমেছে। গত কার্যদিবসে প্রায় দুই শতাংশ বৃদ্ধির পর মঙ্গলবার মূল্যবান এই ধাতুটির দরে বড় পতন দেখা গেছে। বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টা ২ মিনিটে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণ ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৯০৪ দশমিক ৬৯ ডলারে বিক্রি হয়েছে। একই সময়ে ডিসেম্বরের সরবরাহের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণের ফিউচার দর ১ দশমিক ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৩ হাজার ৯১৪ দশমিক ৭০ ডলারে নেমে এসেছে। আগের কার্যদিবসে প্রায় ২ শতাংশ বাড়ার পর এদিন মূল্যবান ধাতুটির দরপতন হয়েছে।

বাজারে এই অস্থিরতার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন। ইরানের এক কর্মকর্তা যুদ্ধের অবসানে কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মন্তব্য করার পর তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে এক ডলারের বেশি বেড়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের কেশম দ্বীপে হামলা চালানোর ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি বাড়ায় মূল্যস্ফীতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা স্বর্ণের দরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সরবরাহঝুঁকির কারণে জ্বালানির দাম উঁচু থাকায় কঠোর মুদ্রানীতির পক্ষে যুক্তি আরও জোরালো হচ্ছে। স্বর্ণের বার ও কয়েনের চাহিদা দুর্বল হওয়াকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

উইজডমট্রির পণ্যবাজার কৌশলবিদ নিশতেশ শাহ জানান, তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়া মানেই বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ছে, যা সরাসরি স্বর্ণের জন্য প্রতিকূল। অন্যদিকে, সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্যানুযায়ী, ডিসেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াবে এমন সম্ভাবনা এখন ৭৫ শতাংশে পৌঁছেছে। সুদবিহীন সম্পদ হওয়ায় সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের স্বর্ণ থেকে দূরে রাখছে। সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা বর্তমানে ডিসেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা ৭৫ শতাংশ দেখছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল নিয়েও বাজার বিশ্লেষকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার মনে করেন, ডেমোক্র্যাটদের বড় জয় প্রযুক্তি খাত ও ডেটা সেন্টারের বিনিয়োগে জটিলতা তৈরি করতে পারে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার চাপ বাড়লে বিনিয়োগকারীরা লোকসান পুষিয়ে নিতে স্বর্ণের অবস্থান কমিয়ে ফেলতে পারেন। এদিকে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল চলতি বছর স্বর্ণে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪০০ মেট্রিক টন থেকে কমিয়ে ২০০ মেট্রিক টনে নামিয়ে এনেছে। চাহিদা কমলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ক্রয়ের পূর্বাভাস কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য ধাতুর মধ্যে রুপা ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ৪৮ দশমিক ৯৩ ডলার, প্লাটিনাম ২ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪১৯ দশমিক ০৭ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ২ দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৯৪০ দশমিক ৭৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত