আন্তর্জাতিকআন্তর্জাতিক

ইরানের কেশম দ্বীপে ফের মার্কিন হামলা, উত্তেজনা অব্যাহত

দক্ষিণ ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপ ও বন্দর লেঙ্গেহতে দফায় দফায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। মার্কিন বাহিনীর ছোট পরিসরে চালানো এই হামলাকে প্রতিরক্ষামূলক বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।

Publicvoice24
Publicvoice24
|
শেয়ার করুন
অ+ অ-

ইরানের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপ ও বন্দর লেঙ্গেহতে দফায় দফায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে এসব বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ছোট পরিসরে সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘এটাকে আদৌ যুদ্ধ বলা যায় কিনা, তা আমি জানি না।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে অন্তত পাঁচটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। এছাড়া আধা-সরকারি সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের বন্দর লেঙ্গেহতে সমুদ্রের দিক থেকে বিকট শব্দ ভেসে আসে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এসব হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর নিশ্চিত করা যায়নি।

মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এসব অভিযান মূলত প্রতিরক্ষামূলক। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা এবং তেহরানের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলার লক্ষ্যেই তারা এমন পদক্ষেপ নিচ্ছেন। কয়েক মাস আগে থেকেই দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনার পারদ চড়েছে। তাদের ভাষ্য, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি বা জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন থেকে ইরানকে বিরত রাখতেই এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার (২ নভেম্বর) সাংবাদিকদের কাছে ইরান পরিস্থিতির বিষয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে আগে সংঘাত হলেও বর্তমানে তেমন কোনো লড়াই চলছে না। এর আগে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করেছিল। পরবর্তী সময়ে এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায়। মূলত এমন এক সময়ে এই হামলার খবর এলো, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনাকে অনেকটা খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করছেন।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দুই পক্ষ একটি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছালেও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ইস্যুতে দ্বন্দ্ব মেটেনি। গত ১৮ জুন নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে একটি সমঝোতা স্মারক সই হলেও তা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। তবে প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধের কারণে এর বাস্তবায়ন থমকে যায়।

এদিকে উত্তেজনার মধ্যেই কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনার অংশ হিসেবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি দোহায় সফর করেছেন। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশ নিয়মিত বার্তা আদান-প্রদান করছে বলে জানা গেছে।

Public Voice

মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬


ইরানের কেশম দ্বীপে ফের মার্কিন হামলা, উত্তেজনা অব্যাহত

প্রকাশের তারিখ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

ইরানের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপ ও বন্দর লেঙ্গেহতে দফায় দফায় বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে এসব বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ছোট পরিসরে সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘এটাকে আদৌ যুদ্ধ বলা যায় কিনা, তা আমি জানি না।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে অন্তত পাঁচটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। এছাড়া আধা-সরকারি সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের বন্দর লেঙ্গেহতে সমুদ্রের দিক থেকে বিকট শব্দ ভেসে আসে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এসব হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর নিশ্চিত করা যায়নি।

মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, এসব অভিযান মূলত প্রতিরক্ষামূলক। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা এবং তেহরানের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলার লক্ষ্যেই তারা এমন পদক্ষেপ নিচ্ছেন। কয়েক মাস আগে থেকেই দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনার পারদ চড়েছে। তাদের ভাষ্য, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি বা জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন থেকে ইরানকে বিরত রাখতেই এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার (২ নভেম্বর) সাংবাদিকদের কাছে ইরান পরিস্থিতির বিষয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে আগে সংঘাত হলেও বর্তমানে তেমন কোনো লড়াই চলছে না। এর আগে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করেছিল। পরবর্তী সময়ে এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালায়। মূলত এমন এক সময়ে এই হামলার খবর এলো, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনাকে অনেকটা খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করছেন।

চলতি বছরের এপ্রিল মাসে দুই পক্ষ একটি যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছালেও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ইস্যুতে দ্বন্দ্ব মেটেনি। গত ১৮ জুন নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে একটি সমঝোতা স্মারক সই হলেও তা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। তবে প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধের কারণে এর বাস্তবায়ন থমকে যায়।

এদিকে উত্তেজনার মধ্যেই কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনার অংশ হিসেবে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি দোহায় সফর করেছেন। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশ নিয়মিত বার্তা আদান-প্রদান করছে বলে জানা গেছে।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত