ফুটবল
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে শিরোপা হাতছাড়া হলেও আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ এখনো মনে করেন, ম্যাচটি পেনাল্টি শুটআউটে গড়ালে ফলাফল ভিন্ন হতো। স্পেনের বিপক্ষে ওই ফাইনালে তিনি দুর্দান্ত ১১টি সেভ করেছিলেন এবং শুটআউটের জন্য নিজের প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে তিনি বেশ আশাবাদী ছিলেন। 'লস এদুল' অনুষ্ঠানে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে মার্তিনেজ দাবি করেন, সেদিন গোলপোস্টের নিচে তার দিন ছিল এবং কোনোভাবেই স্পেন তাকে পরাস্ত করতে পারত না। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল যদি পেনাল্টি শুটআউটে গড়াত, তাহলে আর্জেন্টিনাই জিতত। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই তা-ই ভেবেছিলাম।
মার্তিনেজ জানান, গোলপোস্টের নিচে থাকাকালীন তিনি প্রতিপক্ষের স্নায়বিক চাপ অনুভব করতে পারছিলেন। এমনকি স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের মধ্যেও পেনাল্টিতে যাওয়ার ভীতি ছিল বলে তার ধারণা। তিনি বলেন, 'আমি পুরোপুরি নিশ্চিত ছিলাম যে দিনটা আমার হবে। যখন বলের দিকে তাকিয়ে থাকতাম, মনে হতো সেটি জালে জড়াবেই না। আমি শুনেছিলাম ওরাও নিজেদের মধ্যে বলছিল, যেকোনো মূল্যে পেনাল্টির আগেই ম্যাচ শেষ করতে হবে।' আমি যখন গোলে গেলাম, তখন এমনকি ওদের বলতে শুনলাম, আমাদের এখানেই জিততে হবে। আপনি জানেন তো সেই অনুভূতি, যখন মনে হয় বলটা গোলে ঢুকবেই না।
টুর্নামেন্টের ধকল এবং অমানবিক সূচি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মার্তিনেজ জানান, আর্জেন্টিনা দল ৫১ দিন টানা ভ্রমণের মধ্যে ছিল। বিশেষ করে সেমিফাইনাল ও ফাইনালের মাঝে মাত্র তিন দিনের বিরতি থাকায় খেলোয়াড়রা মারাত্মক ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। তার মতে, যাতায়াত ও অনুশীলনের সীমাবদ্ধতার এই পুরো বিষয়টি ছিল মূলত মার্কেটিংয়ের অংশ। কাতারের তুলনায় এই বিশ্বকাপের সূচি ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি তার অসন্তুষ্টি গোপন করেননি। বিশ্বকাপে শারীরিক ধকল নিয়েও কথা বলেছেন মার্তিনেজ। তার মতে, ঠাসা সূচি ও সেমিফাইনাল-ফাইনালের মাঝের অল্প বিশ্রামের প্রভাব পড়েছে আর্জেন্টিনার ওপর। টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনা ৫১ দিন ভ্রমণে কাটিয়েছে। কাতারের তুলনায় এই বিশ্বকাপে এটাই আমার একমাত্র অপছন্দের বিষয়।
ফাইনাল নিয়ে প্রচলিত নানা ষড়যন্ত্রী আলোচনার জবাবে তিনি বলেন, বিশ্বকাপ জেতার সুযোগ কোনো দলই ইচ্ছাকৃতভাবে হাতছাড়া করতে চায় না, সেটি যত অর্থের বিনিময়েই হোক না কেন। যদিও তিনি স্পেনের জয়কে যোগ্য হিসেবে মেনে নিয়েছেন, তবে ২০২২ সালের ফ্রান্স দলের সাথে বর্তমান স্প্যানিশ দলের তুলনা টেনে জানান, ফরাসিদের পারফরম্যান্স তাকে বেশি মুগ্ধ করেছিল। তবে বর্তমানে আবারও মুখোমুখি লড়াই হলে আর্জেন্টিনা স্পেনকে হারিয়ে দেবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস এই গোলরক্ষকের। ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী এই গোলরক্ষক শুটআউট নিয়ে আত্মবিশ্বাসী থাকলেও মেনে নিয়েছেন, স্পেনের জয় প্রাপ্য ছিল।

শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে শিরোপা হাতছাড়া হলেও আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ এখনো মনে করেন, ম্যাচটি পেনাল্টি শুটআউটে গড়ালে ফলাফল ভিন্ন হতো। স্পেনের বিপক্ষে ওই ফাইনালে তিনি দুর্দান্ত ১১টি সেভ করেছিলেন এবং শুটআউটের জন্য নিজের প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে তিনি বেশ আশাবাদী ছিলেন। 'লস এদুল' অনুষ্ঠানে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে মার্তিনেজ দাবি করেন, সেদিন গোলপোস্টের নিচে তার দিন ছিল এবং কোনোভাবেই স্পেন তাকে পরাস্ত করতে পারত না। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল যদি পেনাল্টি শুটআউটে গড়াত, তাহলে আর্জেন্টিনাই জিতত। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই তা-ই ভেবেছিলাম।
মার্তিনেজ জানান, গোলপোস্টের নিচে থাকাকালীন তিনি প্রতিপক্ষের স্নায়বিক চাপ অনুভব করতে পারছিলেন। এমনকি স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের মধ্যেও পেনাল্টিতে যাওয়ার ভীতি ছিল বলে তার ধারণা। তিনি বলেন, 'আমি পুরোপুরি নিশ্চিত ছিলাম যে দিনটা আমার হবে। যখন বলের দিকে তাকিয়ে থাকতাম, মনে হতো সেটি জালে জড়াবেই না। আমি শুনেছিলাম ওরাও নিজেদের মধ্যে বলছিল, যেকোনো মূল্যে পেনাল্টির আগেই ম্যাচ শেষ করতে হবে।' আমি যখন গোলে গেলাম, তখন এমনকি ওদের বলতে শুনলাম, আমাদের এখানেই জিততে হবে। আপনি জানেন তো সেই অনুভূতি, যখন মনে হয় বলটা গোলে ঢুকবেই না।
টুর্নামেন্টের ধকল এবং অমানবিক সূচি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে মার্তিনেজ জানান, আর্জেন্টিনা দল ৫১ দিন টানা ভ্রমণের মধ্যে ছিল। বিশেষ করে সেমিফাইনাল ও ফাইনালের মাঝে মাত্র তিন দিনের বিরতি থাকায় খেলোয়াড়রা মারাত্মক ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। তার মতে, যাতায়াত ও অনুশীলনের সীমাবদ্ধতার এই পুরো বিষয়টি ছিল মূলত মার্কেটিংয়ের অংশ। কাতারের তুলনায় এই বিশ্বকাপের সূচি ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি তার অসন্তুষ্টি গোপন করেননি। বিশ্বকাপে শারীরিক ধকল নিয়েও কথা বলেছেন মার্তিনেজ। তার মতে, ঠাসা সূচি ও সেমিফাইনাল-ফাইনালের মাঝের অল্প বিশ্রামের প্রভাব পড়েছে আর্জেন্টিনার ওপর। টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনা ৫১ দিন ভ্রমণে কাটিয়েছে। কাতারের তুলনায় এই বিশ্বকাপে এটাই আমার একমাত্র অপছন্দের বিষয়।
ফাইনাল নিয়ে প্রচলিত নানা ষড়যন্ত্রী আলোচনার জবাবে তিনি বলেন, বিশ্বকাপ জেতার সুযোগ কোনো দলই ইচ্ছাকৃতভাবে হাতছাড়া করতে চায় না, সেটি যত অর্থের বিনিময়েই হোক না কেন। যদিও তিনি স্পেনের জয়কে যোগ্য হিসেবে মেনে নিয়েছেন, তবে ২০২২ সালের ফ্রান্স দলের সাথে বর্তমান স্প্যানিশ দলের তুলনা টেনে জানান, ফরাসিদের পারফরম্যান্স তাকে বেশি মুগ্ধ করেছিল। তবে বর্তমানে আবারও মুখোমুখি লড়াই হলে আর্জেন্টিনা স্পেনকে হারিয়ে দেবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস এই গোলরক্ষকের। ২০২২ বিশ্বকাপজয়ী এই গোলরক্ষক শুটআউট নিয়ে আত্মবিশ্বাসী থাকলেও মেনে নিয়েছেন, স্পেনের জয় প্রাপ্য ছিল।
