ফুটবল
ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদার ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অরের ২০২৬ আসরে নতুন রাজা ও রানির অভিষেক হলো লন্ডনে। প্রথমবারের মতো প্যারিসের বাইরে আয়োজিত এই জমকালো অনুষ্ঠানে পুরুষ বিভাগে সেরা হয়েছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন এবং নারী বিভাগে মুকুট ধরে রেখেছেন স্পেনের তারকা আলেক্সিয়া পুতেয়াস।
২৬ অক্টোবর, সোমবার রাতে প্যালাডিয়াম থিয়েটারে বৃষ্টিভেজা ও যানজটপূর্ণ লন্ডনেও তারার মেলা বসেছিল। সেখানেই ঘোষণা করা হয় ৭০তম ব্যালন ডি’অরের বিজয়ীদের নাম।
দীর্ঘ ২৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ইংল্যান্ডের জন্য। ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর কোনো ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে এই ট্রফি স্পর্শ করলেন কেইন। বায়ার্ন মিউনিখের এই ফরোয়ার্ডের গত মৌসুমটা ছিল স্বপ্নের মতো। ক্লাব ও দেশ মিলিয়ে ৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোল করেছেন তিনি, যার মধ্যে শুধু লিগেই ৬১ গোল। এই সংখ্যাটা ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড, যা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ২০১৪-১৫ মৌসুমে করেছিলেন। বায়ার্নকে লিগ ও কাপ জেতানোর পাশাপাশি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে তৃতীয় করতে বড় ভূমিকা ছিল তার। গোল মেশিন হিসেবে গার্ড মুলার ট্রফিটিও গেছে তারই ঘরে। মঞ্চে উঠে আবেগাপ্লুত কেইন টটেনহ্যাম, বায়ার্ন ও ইংল্যান্ডের সতীর্থদের ধন্যবাদ জানান।
এবারের ভোটাভুটি ছিল বেশ হাড্ডাহাড্ডি। কেইনের পর দ্বিতীয় স্থানে শেষ করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। তৃতীয় হয়েছেন বার্সেলোনার বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামাল। তালিকায় এরপর ছিলেন রদ্রি চতুর্থ এবং লিওনেল মেসি পঞ্চম।
তবে খালি হাতে ফেরেননি ইয়ামাল। টানা তৃতীয়বারের মতো কোপা ট্রফি অর্থাৎ সেরা তরুণ ফুটবলারের পুরস্কার জিতেছেন তিনি। গত মৌসুমে ২৪ গোল ও ১৭ অ্যাসিস্ট করে বার্সেলোনাকে লা লিগা ও সুপার কাপ জিতিয়েছেন ১৯ বছর বয়সী এই উইঙ্গার। মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, এই পুরস্কার তার সতীর্থ পাউ কুবারসিরও প্রাপ্য ছিল।
স্পেনের জন্য রাতটি ছিল স্মরণীয়। মোট ১৩টি পুরস্কারের মধ্যে ৮টিই গেছে স্প্যানিশদের দখলে।
বিশ্বকাপ জয়ী কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে হয়েছেন পুরুষ বিভাগে বর্ষসেরা কোচ। স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের পেছনে দেয়াল হয়ে দাঁড়ানো গোলরক্ষক উনাই সিমন জিতেছেন ইয়াশিন ট্রফি। পুরো বিশ্বকাপে মাত্র ১ গোল হজম করেছিলেন তিনি।
নারী বিভাগে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব আবারও প্রমাণ করলেন আলেক্সিয়া পুতেয়াস। ২০২১ ও ২০২২ সালের পর ২০২৬ সালে এসে তৃতীয়বারের মতো ব্যালন ডি’অর জিতলেন তিনি। বর্তমানে লন্ডন সিটি লায়নেসে খেলা এই মিডফিল্ডার আইতানা বোনমাতির তিনবার জেতার রেকর্ডে ভাগ বসালেন।
নারী ফুটবলে বার্সেলোনার আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। বর্ষসেরা নারী কোচ হয়েছেন তাদের কোচ পেরে রোমেউ, যার দল লিগে ৩০ ম্যাচে ১২১ গোল করেছে। বর্ষসেরা নারী গোলরক্ষক হয়েছেন কাতা কোল এবং বর্ষসেরা নারী ক্লাবও বার্সেলোনা। পুরুষ বিভাগে সেরা ক্লাব হয়েছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী পিএসজি।
একটি বিশেষ ইতিহাস গড়েছেন মেক্সিকোর চার্লিন কোরাল। নারীদের গার্ড মুলার ট্রফি জেতা প্রথম মেক্সিকান হিসেবে নাম লেখালেন তিনি। অন্যদিকে মাঠের বাইরে মানবিক কাজের জন্য সক্রেটিস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ইংল্যান্ডের বুকায়ো সাকা।

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ অক্টোবর ২০২৬
ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদার ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অরের ২০২৬ আসরে নতুন রাজা ও রানির অভিষেক হলো লন্ডনে। প্রথমবারের মতো প্যারিসের বাইরে আয়োজিত এই জমকালো অনুষ্ঠানে পুরুষ বিভাগে সেরা হয়েছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন এবং নারী বিভাগে মুকুট ধরে রেখেছেন স্পেনের তারকা আলেক্সিয়া পুতেয়াস।
২৬ অক্টোবর, সোমবার রাতে প্যালাডিয়াম থিয়েটারে বৃষ্টিভেজা ও যানজটপূর্ণ লন্ডনেও তারার মেলা বসেছিল। সেখানেই ঘোষণা করা হয় ৭০তম ব্যালন ডি’অরের বিজয়ীদের নাম।
দীর্ঘ ২৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ইংল্যান্ডের জন্য। ২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর কোনো ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে এই ট্রফি স্পর্শ করলেন কেইন। বায়ার্ন মিউনিখের এই ফরোয়ার্ডের গত মৌসুমটা ছিল স্বপ্নের মতো। ক্লাব ও দেশ মিলিয়ে ৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোল করেছেন তিনি, যার মধ্যে শুধু লিগেই ৬১ গোল। এই সংখ্যাটা ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড, যা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ২০১৪-১৫ মৌসুমে করেছিলেন। বায়ার্নকে লিগ ও কাপ জেতানোর পাশাপাশি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে তৃতীয় করতে বড় ভূমিকা ছিল তার। গোল মেশিন হিসেবে গার্ড মুলার ট্রফিটিও গেছে তারই ঘরে। মঞ্চে উঠে আবেগাপ্লুত কেইন টটেনহ্যাম, বায়ার্ন ও ইংল্যান্ডের সতীর্থদের ধন্যবাদ জানান।
এবারের ভোটাভুটি ছিল বেশ হাড্ডাহাড্ডি। কেইনের পর দ্বিতীয় স্থানে শেষ করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। তৃতীয় হয়েছেন বার্সেলোনার বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামাল। তালিকায় এরপর ছিলেন রদ্রি চতুর্থ এবং লিওনেল মেসি পঞ্চম।
তবে খালি হাতে ফেরেননি ইয়ামাল। টানা তৃতীয়বারের মতো কোপা ট্রফি অর্থাৎ সেরা তরুণ ফুটবলারের পুরস্কার জিতেছেন তিনি। গত মৌসুমে ২৪ গোল ও ১৭ অ্যাসিস্ট করে বার্সেলোনাকে লা লিগা ও সুপার কাপ জিতিয়েছেন ১৯ বছর বয়সী এই উইঙ্গার। মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, এই পুরস্কার তার সতীর্থ পাউ কুবারসিরও প্রাপ্য ছিল।
স্পেনের জন্য রাতটি ছিল স্মরণীয়। মোট ১৩টি পুরস্কারের মধ্যে ৮টিই গেছে স্প্যানিশদের দখলে।
বিশ্বকাপ জয়ী কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে হয়েছেন পুরুষ বিভাগে বর্ষসেরা কোচ। স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের পেছনে দেয়াল হয়ে দাঁড়ানো গোলরক্ষক উনাই সিমন জিতেছেন ইয়াশিন ট্রফি। পুরো বিশ্বকাপে মাত্র ১ গোল হজম করেছিলেন তিনি।
নারী বিভাগে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব আবারও প্রমাণ করলেন আলেক্সিয়া পুতেয়াস। ২০২১ ও ২০২২ সালের পর ২০২৬ সালে এসে তৃতীয়বারের মতো ব্যালন ডি’অর জিতলেন তিনি। বর্তমানে লন্ডন সিটি লায়নেসে খেলা এই মিডফিল্ডার আইতানা বোনমাতির তিনবার জেতার রেকর্ডে ভাগ বসালেন।
নারী ফুটবলে বার্সেলোনার আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। বর্ষসেরা নারী কোচ হয়েছেন তাদের কোচ পেরে রোমেউ, যার দল লিগে ৩০ ম্যাচে ১২১ গোল করেছে। বর্ষসেরা নারী গোলরক্ষক হয়েছেন কাতা কোল এবং বর্ষসেরা নারী ক্লাবও বার্সেলোনা। পুরুষ বিভাগে সেরা ক্লাব হয়েছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী পিএসজি।
একটি বিশেষ ইতিহাস গড়েছেন মেক্সিকোর চার্লিন কোরাল। নারীদের গার্ড মুলার ট্রফি জেতা প্রথম মেক্সিকান হিসেবে নাম লেখালেন তিনি। অন্যদিকে মাঠের বাইরে মানবিক কাজের জন্য সক্রেটিস অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ইংল্যান্ডের বুকায়ো সাকা।
