ইউরোপইউরোপ

জার্মানিতেও ছড়াচ্ছে জেন-জি বিক্ষোভের ঢেউ, সতর্ক রয়েছে প্রশাসন

ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মতো জার্মানিতেও ছড়িয়ে পড়েছে জেন-জি বিক্ষোভ। শনিবার দেশজুড়ে ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষের সমাবেশের আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন।

Publicvoice24
Publicvoice24
|
শেয়ার করুন
অ+ অ-

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া জেন-জি প্রজন্মের আন্দোলনের তরঙ্গ এবার পৌঁছেছে জার্মানিতেও। উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের বিরোধিতাসহ একাধিক দাবিতে দেশটিতে রাজপথে নামছেন তরুণরা। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দেশজুড়ে পরিকল্পিত নানা বিক্ষোভ ও সমাবেশে ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নিতে পারেন। কর্তৃপক্ষের ধারণা, বিক্ষোভ মূলত শান্তিপূর্ণ থাকবে।

চলতি বছর ইউরোপজুড়ে জেন-জি পরিচালিত আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় জার্মানিতে এ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। এর আগে সার্বিয়ায় শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মুখে দীর্ঘদিনের শাসকগোষ্ঠীর পতন ঘটে। অন্যদিকে ফ্রান্সে আন্দোলনের এক পর্যায়ে ব্যাপক সহিংসতা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছিল।

জার্মানির এই আন্দোলনের নেপথ্যে রয়েছে ‘জেন-জেড রেগেল্ট’ (জেন-জি নিজেরাই দায়িত্ব নিচ্ছে) নামের একটি সংগঠন। বার্লিন, ফ্রাংকফুর্ট ও মিউনিখসহ দেশের মোট ৩৪টি শহরে তারা এই বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছে। আয়োজকদের মতে, মূল্যস্ফীতি এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের ফলে ইউরোপের সর্ববৃহৎ অর্থনীতির দেশ জার্মানির তরুণরা এখন চরম অর্থনৈতিক চাপের মুখোমুখি। শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক স্বস্তি আনাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি কিছু প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করেছে।

হ্যালোইন উৎসবের দিনে আয়োজিত এ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কর্তৃপক্ষ আশা করছে বিক্ষোভটি শান্তিপূণ থাকবে, তবে উগ্রপন্থি বিভিন্ন দল আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছে। জার্মানির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, দেশের উগ্র বামপন্থি মহলের একাংশ এবং বহিরাগত কিছু গোষ্ঠী এই আন্দোলনের পক্ষে জনসমর্থন জোড়াতালি দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।

সহিংসতার ঝুঁকি প্রসঙ্গে হেসে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পোজেক স্মরণ করিয়ে দেন ফ্রান্সের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কথা। তিনি উল্লেখ করেন, ফ্রান্সে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের ওপর হামলার যে ভয়াবহ দৃশ্য দেখা গেছে, তা কোনোভাবেই অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে না। এই আশঙ্কায় বার্লিনের বিখ্যাত কেনাকাটার স্থান কুরফুরস্টেনডাম বুলেভার্ডের বেশ কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আগেভাগেই দরজাকাঁচ সুরক্ষিত করেছে এবং অনেকে দ্রুত দোকান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে ফ্রান্সকে কোনোভাবেই অনুসরণীয় উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।’।

অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক ক্ষোভ এ কর্মসূচির অন্যতম প্রধান কারণ। মিউনিখের বিক্ষোভ সমাবেশে ১৮ বছর বয়সি তরুণ স্টিভ চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেজের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তব্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি জানান, তরুণদের উদ্বেগ নিরসনে সরকার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ব্যয় সংকোচন নীতি অব্যাহত রেখেছে এবং নতুন বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। স্টিভ স্পষ্টভাবে হুশিয়ারি দেন যে, তাদের দাবি উপেক্ষা করা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা সংবিধানপ্রদত্ত সমাবেশের অধিকার প্রয়োগ করে যাবেন।

জার্মানি যখন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ফেরাতে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে, ঠিক তখনই অবসর নিচ্ছেন বিপুলসংখ্যক বেবি বুমার প্রজন্মের নাগরিক। এর ফলে দেশটির পেনশনপ্রথা ও জনসেবা খাতে চরম সংকট তৈরি হয়েছে এবং কর্মক্ষম জনসংখ্যা কমে যাওয়ায় নতুন অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

এই বিক্ষোভের প্রকৃত নেতৃত্ব এবং তরুণদের শতভাগ অংশগ্রহণ নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশাও তৈরি হয়েছে, কারণ এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠনের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। জার্মানির জাতীয় স্কুল শিক্ষার্থী সংস্থা ‘বিএসকে’ ইতোমধ্যে এ বিক্ষোভের সঙ্গে নিজেদের দূরত্ব বজায় রাখার কথা জানিয়েছে। তারা আগামী ২০ নভেম্বর স্বতন্ত্র বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের কথা ঘোষণা করেছে। তবে এ আন্দোলনের নেতৃত্ব কারা দিচ্ছে এবং এটি প্রকৃত অর্থেই তরুণদের আন্দোলন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

Public Voice

শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬


জার্মানিতেও ছড়াচ্ছে জেন-জি বিক্ষোভের ঢেউ, সতর্ক রয়েছে প্রশাসন

প্রকাশের তারিখ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া জেন-জি প্রজন্মের আন্দোলনের তরঙ্গ এবার পৌঁছেছে জার্মানিতেও। উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের বিরোধিতাসহ একাধিক দাবিতে দেশটিতে রাজপথে নামছেন তরুণরা। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দেশজুড়ে পরিকল্পিত নানা বিক্ষোভ ও সমাবেশে ১ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নিতে পারেন। কর্তৃপক্ষের ধারণা, বিক্ষোভ মূলত শান্তিপূর্ণ থাকবে।

চলতি বছর ইউরোপজুড়ে জেন-জি পরিচালিত আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় জার্মানিতে এ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। এর আগে সার্বিয়ায় শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মুখে দীর্ঘদিনের শাসকগোষ্ঠীর পতন ঘটে। অন্যদিকে ফ্রান্সে আন্দোলনের এক পর্যায়ে ব্যাপক সহিংসতা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছিল।

জার্মানির এই আন্দোলনের নেপথ্যে রয়েছে ‘জেন-জেড রেগেল্ট’ (জেন-জি নিজেরাই দায়িত্ব নিচ্ছে) নামের একটি সংগঠন। বার্লিন, ফ্রাংকফুর্ট ও মিউনিখসহ দেশের মোট ৩৪টি শহরে তারা এই বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছে। আয়োজকদের মতে, মূল্যস্ফীতি এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের ফলে ইউরোপের সর্ববৃহৎ অর্থনীতির দেশ জার্মানির তরুণরা এখন চরম অর্থনৈতিক চাপের মুখোমুখি। শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক স্বস্তি আনাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি কিছু প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ রাখার পরিকল্পনা করেছে।

হ্যালোইন উৎসবের দিনে আয়োজিত এ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কর্তৃপক্ষ আশা করছে বিক্ষোভটি শান্তিপূণ থাকবে, তবে উগ্রপন্থি বিভিন্ন দল আন্দোলনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছে। জার্মানির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, দেশের উগ্র বামপন্থি মহলের একাংশ এবং বহিরাগত কিছু গোষ্ঠী এই আন্দোলনের পক্ষে জনসমর্থন জোড়াতালি দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।

সহিংসতার ঝুঁকি প্রসঙ্গে হেসে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রোমান পোজেক স্মরণ করিয়ে দেন ফ্রান্সের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কথা। তিনি উল্লেখ করেন, ফ্রান্সে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও পুলিশের ওপর হামলার যে ভয়াবহ দৃশ্য দেখা গেছে, তা কোনোভাবেই অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে না। এই আশঙ্কায় বার্লিনের বিখ্যাত কেনাকাটার স্থান কুরফুরস্টেনডাম বুলেভার্ডের বেশ কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আগেভাগেই দরজাকাঁচ সুরক্ষিত করেছে এবং অনেকে দ্রুত দোকান বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে ফ্রান্সকে কোনোভাবেই অনুসরণীয় উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।’।

অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক ক্ষোভ এ কর্মসূচির অন্যতম প্রধান কারণ। মিউনিখের বিক্ষোভ সমাবেশে ১৮ বছর বয়সি তরুণ স্টিভ চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেজের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তব্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি জানান, তরুণদের উদ্বেগ নিরসনে সরকার কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো ব্যয় সংকোচন নীতি অব্যাহত রেখেছে এবং নতুন বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে। স্টিভ স্পষ্টভাবে হুশিয়ারি দেন যে, তাদের দাবি উপেক্ষা করা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা সংবিধানপ্রদত্ত সমাবেশের অধিকার প্রয়োগ করে যাবেন।

জার্মানি যখন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ফেরাতে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে, ঠিক তখনই অবসর নিচ্ছেন বিপুলসংখ্যক বেবি বুমার প্রজন্মের নাগরিক। এর ফলে দেশটির পেনশনপ্রথা ও জনসেবা খাতে চরম সংকট তৈরি হয়েছে এবং কর্মক্ষম জনসংখ্যা কমে যাওয়ায় নতুন অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

এই বিক্ষোভের প্রকৃত নেতৃত্ব এবং তরুণদের শতভাগ অংশগ্রহণ নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশাও তৈরি হয়েছে, কারণ এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও নাগরিক সংগঠনের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। জার্মানির জাতীয় স্কুল শিক্ষার্থী সংস্থা ‘বিএসকে’ ইতোমধ্যে এ বিক্ষোভের সঙ্গে নিজেদের দূরত্ব বজায় রাখার কথা জানিয়েছে। তারা আগামী ২০ নভেম্বর স্বতন্ত্র বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের কথা ঘোষণা করেছে। তবে এ আন্দোলনের নেতৃত্ব কারা দিচ্ছে এবং এটি প্রকৃত অর্থেই তরুণদের আন্দোলন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত