রাজনীতি
আর মাত্র কয়েক মাস পরেই খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় ১নং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে যাচ্ছে। তফসিল ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে রামগড়ের চা-দোকান থেকে শুরু করে হাট-বাজার সর্বত্রই এখন একটাই আলোচনা— কে হচ্ছেন আগামী চেয়ারম্যান?
তবে নির্বাচনী আমেজ শুরু হলেও প্রার্থিতা নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা ও সংশয়। বিশেষ করে বিএনপি'র ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রামগড়ে একাধিক প্রার্থীর নাম ভেসে বেড়ানোয় সাধারণ ভোটার ও তৃণমূল নেতাকর্মীরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছেন।
আলোচনায় চার প্রার্থী
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রামগড় ১নং ইউনিয়ন নির্বাচনে বিএনপি থেকে অন্তত চারজন মনোনয়ন প্রত্যাশী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
১. নুর হোসেন নুরু: রামগড় উপজেলার পরিচিত মুখ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা রাজনীতিতে সক্রিয় এবং তৃণমূলের সাথে তার ভালো যোগাযোগ রয়েছে।
২. নুরুল আমিন:রামগড় উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি। দলের দুঃসময়ে মাঠে থাকা নেতা হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে।
৩. আলাউদ্দিন: জেলা বিএনপির প্রতিনিধি সদস্য। জেলা পর্যায়ে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এবং তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সাথেও যোগাযোগ রাখছেন বলে শোনা যাচ্ছে।
৪. ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি: ১নং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির নুরু হুদা আলোচনায় রয়েছে। স্থানীয়ভাবে তার নিজস্ব প্রিয়তা ও রয়েছে বলে জানা যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপি নেতা জানান, প্রার্থী বেশি হওয়ায় এখনো দলের হাইকমান্ড থেকে কাউকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়নি। ফলে প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
সংশয়, আস্থা ওয়াদুদ ভূঁইয়ার ওপর
এদিকে একাধিক প্রার্থীর দৌড়ঝাঁপে সাধারণ জনগণের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, বিভক্তির কারণে শেষ মুহূর্তে দলের ভোটব্যাংকে কোনো প্রভাব পড়বে কি না।
তবে এ সংশয়ের মধ্যেও রামগড়ের সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা একটাই— জেলা বিএনপির সভাপতি, তিন পার্বত্য জেলার অভিভাবক ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য জননেতা ওয়াদুদ ভূঁইয়া।
স্থানীয় ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা মনে করেন ওয়াদুদ ভূঁইয়া এমন একজন প্রার্থীকে বেছে নেবেন যিনি সৎ, যোগ্য, জনবান্ধব এবং বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
রামগড় বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, "আমরা মার্কা দেখে ভোট দিই না, আমরা ব্যক্তি দেখে ভোট দিই। ওয়াদুদ ভাই যাকে যোগ্য মনে করে মনোনয়ন দেবেন, আমরা তার পক্ষেই রায় দেব।"
অপর একজন প্রবীণ ভোটার বলেন, "রামগড়ে উন্নয়ন করতে হলে এমন একজন চেয়ারম্যান দরকার যিনি ওয়াদুদ ভাইয়ের হাতকে শক্তিশালী করবেন। আমরা আশাবাদী, তিনি জনগণের পক্ষে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।"
বিরুদ্ধি জামাত,এনসিপি, দলের প্রার্থিতার বিষয়ে জানা যায়নি।
সব মিলিয়ে রামগড় ১নং ইউনিয়ন নির্বাচনকে ঘিরে উত্তাপ বাড়ছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের কাণ্ডারি হয়ে কে আসছেন এবং জনগণের এই আস্থার প্রতিদান তিনি কিভাবে দেন।

শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ অক্টোবর ২০২৬
আর মাত্র কয়েক মাস পরেই খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় ১নং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে যাচ্ছে। তফসিল ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে রামগড়ের চা-দোকান থেকে শুরু করে হাট-বাজার সর্বত্রই এখন একটাই আলোচনা— কে হচ্ছেন আগামী চেয়ারম্যান?
তবে নির্বাচনী আমেজ শুরু হলেও প্রার্থিতা নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা ও সংশয়। বিশেষ করে বিএনপি'র ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রামগড়ে একাধিক প্রার্থীর নাম ভেসে বেড়ানোয় সাধারণ ভোটার ও তৃণমূল নেতাকর্মীরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছেন।
আলোচনায় চার প্রার্থী
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রামগড় ১নং ইউনিয়ন নির্বাচনে বিএনপি থেকে অন্তত চারজন মনোনয়ন প্রত্যাশী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
১. নুর হোসেন নুরু: রামগড় উপজেলার পরিচিত মুখ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা রাজনীতিতে সক্রিয় এবং তৃণমূলের সাথে তার ভালো যোগাযোগ রয়েছে।
২. নুরুল আমিন:রামগড় উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি। দলের দুঃসময়ে মাঠে থাকা নেতা হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে।
৩. আলাউদ্দিন: জেলা বিএনপির প্রতিনিধি সদস্য। জেলা পর্যায়ে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে এবং তিনি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সাথেও যোগাযোগ রাখছেন বলে শোনা যাচ্ছে।
৪. ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি: ১নং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির নুরু হুদা আলোচনায় রয়েছে। স্থানীয়ভাবে তার নিজস্ব প্রিয়তা ও রয়েছে বলে জানা যায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপি নেতা জানান, প্রার্থী বেশি হওয়ায় এখনো দলের হাইকমান্ড থেকে কাউকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়নি। ফলে প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
সংশয়, আস্থা ওয়াদুদ ভূঁইয়ার ওপর
এদিকে একাধিক প্রার্থীর দৌড়ঝাঁপে সাধারণ জনগণের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, বিভক্তির কারণে শেষ মুহূর্তে দলের ভোটব্যাংকে কোনো প্রভাব পড়বে কি না।
তবে এ সংশয়ের মধ্যেও রামগড়ের সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা একটাই— জেলা বিএনপির সভাপতি, তিন পার্বত্য জেলার অভিভাবক ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি, সাবেক সংসদ সদস্য জননেতা ওয়াদুদ ভূঁইয়া।
স্থানীয় ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা মনে করেন ওয়াদুদ ভূঁইয়া এমন একজন প্রার্থীকে বেছে নেবেন যিনি সৎ, যোগ্য, জনবান্ধব এবং বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
রামগড় বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, "আমরা মার্কা দেখে ভোট দিই না, আমরা ব্যক্তি দেখে ভোট দিই। ওয়াদুদ ভাই যাকে যোগ্য মনে করে মনোনয়ন দেবেন, আমরা তার পক্ষেই রায় দেব।"
অপর একজন প্রবীণ ভোটার বলেন, "রামগড়ে উন্নয়ন করতে হলে এমন একজন চেয়ারম্যান দরকার যিনি ওয়াদুদ ভাইয়ের হাতকে শক্তিশালী করবেন। আমরা আশাবাদী, তিনি জনগণের পক্ষে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন।"
বিরুদ্ধি জামাত,এনসিপি, দলের প্রার্থিতার বিষয়ে জানা যায়নি।
সব মিলিয়ে রামগড় ১নং ইউনিয়ন নির্বাচনকে ঘিরে উত্তাপ বাড়ছে। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের কাণ্ডারি হয়ে কে আসছেন এবং জনগণের এই আস্থার প্রতিদান তিনি কিভাবে দেন।
