জাতীয়
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চার দিনের জাপান সফর শেষে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে এই সফরে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাত স্বাধীন সফরটির সাফল্যের কথা নিশ্চিত করেছেন।
সফরকালে বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদার করতে একটি টহল জাহাজ সরবরাহের জন্য প্রায় ২.১২ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা ১৩.৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান দেওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে ব্যবসা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক বা এমওসি স্বাক্ষর করা হয়।
কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নেও দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দুটি পৃথক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি এগিয়ে নিতেও উভয় পক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি আগ্রহপত্র বা লেটার অব ইনটেন্ট স্বাক্ষরিত হয়েছে। দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির কর্মসূচি (এমপ্লয়মেন্ট ফর স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-ইএসডিপি) বিষয়েও একটি সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
চুক্তি ও সমঝোতার পাশাপাশি জাপান বাংলাদেশের দুটি বড় প্রকল্পে প্রায় ২৯৫.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এর মধ্যে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে ১৫.৮৮ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা ১০০.৮ মিলিয়ন ডলার এবং উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নে ৩০.৬৮ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা ১৯৪.৭ মিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা দেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে প্রকল্প দুটিতে ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৬.৫৬ বিলিয়ন জাপানি ইয়েনে।
গত ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এই সরকারি সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন। বৈঠকে প্রযুক্তি হস্তান্তর, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের মতো বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল তার সফরসঙ্গী ছিলেন। গত সোমবার ২৬ অক্টোবর জাপান পৌঁছানোর পর থেকে চার দিনব্যাপী এই সফরটি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চার দিনের জাপান সফর শেষে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে এই সফরে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাত স্বাধীন সফরটির সাফল্যের কথা নিশ্চিত করেছেন।
সফরকালে বাংলাদেশের উপকূলীয় নিরাপত্তা জোরদার করতে একটি টহল জাহাজ সরবরাহের জন্য প্রায় ২.১২ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা ১৩.৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান দেওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে ব্যবসা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক বা এমওসি স্বাক্ষর করা হয়।
কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নেও দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মধ্যে দুটি পৃথক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি এগিয়ে নিতেও উভয় পক্ষ একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি আগ্রহপত্র বা লেটার অব ইনটেন্ট স্বাক্ষরিত হয়েছে। দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির কর্মসূচি (এমপ্লয়মেন্ট ফর স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-ইএসডিপি) বিষয়েও একটি সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
চুক্তি ও সমঝোতার পাশাপাশি জাপান বাংলাদেশের দুটি বড় প্রকল্পে প্রায় ২৯৫.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এর মধ্যে বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নে ১৫.৮৮ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা ১০০.৮ মিলিয়ন ডলার এবং উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নে ৩০.৬৮ বিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা ১৯৪.৭ মিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা দেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে প্রকল্প দুটিতে ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪৬.৫৬ বিলিয়ন জাপানি ইয়েনে।
গত ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এই সরকারি সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন। বৈঠকে প্রযুক্তি হস্তান্তর, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের মতো বিষয়গুলো প্রাধান্য পায়।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানসহ উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল তার সফরসঙ্গী ছিলেন। গত সোমবার ২৬ অক্টোবর জাপান পৌঁছানোর পর থেকে চার দিনব্যাপী এই সফরটি দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
