আর্কাইভআর্কাইভ

ইনানীতে হোটেল ভাঙচুর: বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ছড়িয়েছে গভীর উদ্বেগ

কক্সবাজারের ইনানীতে ‘বে হিলটন বিচ রিসোর্ট’ ভাঙচুর নিয়ে পর্যটন খাতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনুমোদন ও নিরাপত্তার ইস্যু নিয়ে কউক ও মালিকপক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে।

AutoHix
AutoHix
|
শেয়ার করুন
অ+ অ-

কক্সবাজারের পর্যটন খাতে বিনিয়োগ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে গড়ে ওঠা বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্টের নির্মাণ অনুমোদন, কাঠামোগত নিরাপত্তা ও আইনগত বৈধতা যাচাইয়ে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) সাম্প্রতিক কঠোর পদক্ষেপে বিনিয়োগকারীদের একাংশ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তাদের বড় প্রশ্ন, পর্যটন অবকাঠামোর মানোন্নয়নের এই উদ্যোগ কি পরিকল্পিতভাবে নেওয়া হচ্ছে, নাকি এতে বৈধ বিনিয়োগও ঝুঁকির মুখে পড়ছে? পুরোনো অনুমোদন বনাম নতুন কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বজায় রাখাও কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মেরিন ড্রাইভের ইনানী এলাকার ‘বে হিলটন বিচ রিসোর্ট’-এর মালিক শহীদুল হকের দাবি, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত নকশা ও বৈধ অনুমতি নিয়েই তারা হোটেলটি নির্মাণ করেছেন। এসব স্থাপনার অনেকগুলোই স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমের মধ্যেই নির্মিত হয়েছে।

এই প্রকল্পে তিনি প্রায় ছয় কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন।

তবে দীর্ঘদিন পর কউকের পক্ষ থেকে ভবনটিকে 'সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ' হিসেবে চিহ্নিত করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর পরপরই গত সোমবার কোনো কাগজপত্রের তোয়াক্কা না করে কর্তৃপক্ষ চারতলা বিশিষ্ট নির্মাণাধীন হোটেলটি ভাঙচুর করেছে বলে মালিকপক্ষের অভিযোগ। তিনি আরও দাবি করেন, কোনো কাগজপত্রের তোয়াক্কা না করে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সোমবার সকালে ৬ কোটি টাকা বিনিয়োগে গড়ে তোলা চারতলা নির্মাণাধীন হোটেলটি ভাঙচুর করেছে। পরে তাঁর নামে পৃথক নামজারি খতিয়ানও সৃজন করা হয়।

কউক কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, ভবনটির নির্মাণ অনুমোদনে অসংগতি রয়েছে এবং সরেজমিন পরিদর্শনে কাঠামোগত ত্রুটি পাওয়া গেছে। সংস্থাটি ভবনটির নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য কারিগরি ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা বলছেন, পর্যটন শিল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হলেও, তা যেন আইনগত প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করা হয়। এসব কারণে ভবনটির স্থায়িত্ব, নিরাপত্তা ও ব্যবহারযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ।

মালিক শহীদুল হকের নথি অনুযায়ী, জমির মূল মালিক ছিলেন জাকির হোসেন। ২০০১ সালের ৪ এপ্রিল নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে কহিনুর শওকত জমিটির মালিকানা পান। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ২৩ জানুয়ারি জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটির নকশা অনুমোদন দেয় এবং একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট নিবন্ধিত ১৫৩২ নম্বর দলিলের মাধ্যমে কহিনুর শওকতের কাছ থেকে শহীদুল হক জমি ও ভবনটি কিনে নেন এবং নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করে আসছেন। এতে ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর নকশা প্রদর্শনের নোটিশ, ১৯ নভেম্বর কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং ৭ ডিসেম্বর চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

শহীদুল হক জানান, কউকের নির্দেশে নকশা দাখিল করলে জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদ ২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তা যাচাই করে সত্যতা নিশ্চিত করে। এছাড়া ২০২৬ সালের ১ জুলাই পরিবেশ অধিদপ্তর থেকেও অনাপত্তি সনদ নেওয়া হয়েছে। তবে কউক বলছে, ইউনিয়ন পরিষদের নকশা অনুমোদন থাকলেই বিএনবিসি বা জাতীয় ভবন নির্মাণবিধি অনুযায়ী সব শর্ত পূরণ হয়েছে তা নিশ্চিত নয়; এটি কারিগরি যাচাইয়ের বিষয়।

গত ২০২৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর কউক থেকে দেওয়া নোটিশে বলা হয়, ভবনটির নির্মাণকাজ ২০১৮ সালের আগে শুরু হয়নি, তাই বিএনবিসি ২০২০ অনুযায়ী কউকের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। এছাড়া ২০২৬ সালের ১২ আগস্ট কউক সদস্য (প্রকৌশল)-এর নেতৃত্বে একটি দল ভবনটি পরিদর্শন করে কাঠামোগত ত্রুটি ও অসংগতি পেয়েছে। ভবনটিকে কেন ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হবে না, তার ব্যাখ্যাসহ ১৪ দিনের মধ্যে মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

শহীদুল হকের যুক্তি, ভবনটি যখন নির্মাণের অনুমোদন নেওয়া হয়, তখন ওই এলাকা কউকের আওতাভুক্ত ছিল না। তাই সে সময় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রাপ্ত অনুমোদনকে এখন প্রশ্নবিদ্ধ করা আইনগতভাবে কতটা যৌক্তিক তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বিপরীতে কউকের নোটিশে স্থানীয় সরকার বিভাগের ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবরের একটি চিঠির উল্লেখ রয়েছে, যেখানে ইউনিয়ন পরিষদের দেওয়া অনুমতি ও ব্যবহার সনদকে বিধিবহির্ভূত বলে দাবি করা হয়েছে।

মেরিন ড্রাইভের বিনিয়োগকারীরা বলছেন, অনিয়ম থাকলে তা সংশোধন করার আইনি পথ খোলা রাখা উচিত। বর্তমানে ওই এলাকায় পাঁচ শতাধিক হোটেল-রিসোর্ট রয়েছে। তাঁদের দাবি, সবগুলো স্থাপনার অনুমোদন ও নির্মাণকাল বিবেচনা করে পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। একযোগে কঠোর ব্যবস্থা নিলে বিনিয়োগ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাঁদের বক্তব্য, কোনো ভবনে অনুমোদনসংক্রান্ত ঘাটতি, নকশার বিচ্যুতি কিংবা নিরাপত্তার সমস্যা থাকলে তা অবশ্যই আইন অনুযায়ী সমাধান করতে হবে।

সম্প্রতি টুংটুং রিসোর্টের অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের প্রাণহানির পর পর্যটন স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে মালিকপক্ষের অভিযোগ, ২৬ অক্টোবর শুনানির তারিখ নির্ধারিত থাকা সত্ত্বেও তার আগেই ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় কউকের অথরাইজড কর্মকর্তা ফজলে রাব্বির বিরুদ্ধে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

শহীদুল হক স্পষ্ট জানিয়েছেন, যদি ভবনটি মাস্টারপ্ল্যানের পরিপন্থি প্রমাণিত হয়, তবে তিনি প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে প্রস্তুত। তিনি একটি নিরপেক্ষ প্রকৌশলী দল দিয়ে ভবনের কাঠামোগত অবস্থা পুনরায় যাচাইয়ের সুযোগ চেয়েছেন। পর্যটন শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য নিরাপদ অবকাঠামো ও বিনিয়োগবান্ধব প্রশাসনিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পর্যটন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পের টেকসই উন্নয়নে নিরাপদ অবকাঠামো, পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিকল্পিত নগরায়ণ ও বিনিয়োগবান্ধব প্রশাসনিক পরিবেশ—সবকিছুর সমন্বয় প্রয়োজন।

Public Voice

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬


ইনানীতে হোটেল ভাঙচুর: বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ছড়িয়েছে গভীর উদ্বেগ

প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

কক্সবাজারের পর্যটন খাতে বিনিয়োগ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের দুই পাশে গড়ে ওঠা বিভিন্ন হোটেল ও রিসোর্টের নির্মাণ অনুমোদন, কাঠামোগত নিরাপত্তা ও আইনগত বৈধতা যাচাইয়ে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) সাম্প্রতিক কঠোর পদক্ষেপে বিনিয়োগকারীদের একাংশ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তাদের বড় প্রশ্ন, পর্যটন অবকাঠামোর মানোন্নয়নের এই উদ্যোগ কি পরিকল্পিতভাবে নেওয়া হচ্ছে, নাকি এতে বৈধ বিনিয়োগও ঝুঁকির মুখে পড়ছে? পুরোনো অনুমোদন বনাম নতুন কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বজায় রাখাও কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মেরিন ড্রাইভের ইনানী এলাকার ‘বে হিলটন বিচ রিসোর্ট’-এর মালিক শহীদুল হকের দাবি, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত নকশা ও বৈধ অনুমতি নিয়েই তারা হোটেলটি নির্মাণ করেছেন। এসব স্থাপনার অনেকগুলোই স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমের মধ্যেই নির্মিত হয়েছে।

এই প্রকল্পে তিনি প্রায় ছয় কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন।

তবে দীর্ঘদিন পর কউকের পক্ষ থেকে ভবনটিকে 'সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ' হিসেবে চিহ্নিত করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর পরপরই গত সোমবার কোনো কাগজপত্রের তোয়াক্কা না করে কর্তৃপক্ষ চারতলা বিশিষ্ট নির্মাণাধীন হোটেলটি ভাঙচুর করেছে বলে মালিকপক্ষের অভিযোগ। তিনি আরও দাবি করেন, কোনো কাগজপত্রের তোয়াক্কা না করে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সোমবার সকালে ৬ কোটি টাকা বিনিয়োগে গড়ে তোলা চারতলা নির্মাণাধীন হোটেলটি ভাঙচুর করেছে। পরে তাঁর নামে পৃথক নামজারি খতিয়ানও সৃজন করা হয়।

কউক কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, ভবনটির নির্মাণ অনুমোদনে অসংগতি রয়েছে এবং সরেজমিন পরিদর্শনে কাঠামোগত ত্রুটি পাওয়া গেছে। সংস্থাটি ভবনটির নিরাপত্তা যাচাইয়ের জন্য কারিগরি ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা বলছেন, পর্যটন শিল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হলেও, তা যেন আইনগত প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করা হয়। এসব কারণে ভবনটির স্থায়িত্ব, নিরাপত্তা ও ব্যবহারযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ।

মালিক শহীদুল হকের নথি অনুযায়ী, জমির মূল মালিক ছিলেন জাকির হোসেন। ২০০১ সালের ৪ এপ্রিল নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে কহিনুর শওকত জমিটির মালিকানা পান। পরবর্তীতে ২০১৪ সালের ২৩ জানুয়ারি জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটির নকশা অনুমোদন দেয় এবং একই বছরের ৩১ ডিসেম্বর নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়। ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট নিবন্ধিত ১৫৩২ নম্বর দলিলের মাধ্যমে কহিনুর শওকতের কাছ থেকে শহীদুল হক জমি ও ভবনটি কিনে নেন এবং নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করে আসছেন। এতে ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর নকশা প্রদর্শনের নোটিশ, ১৯ নভেম্বর কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং ৭ ডিসেম্বর চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

শহীদুল হক জানান, কউকের নির্দেশে নকশা দাখিল করলে জালিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদ ২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তা যাচাই করে সত্যতা নিশ্চিত করে। এছাড়া ২০২৬ সালের ১ জুলাই পরিবেশ অধিদপ্তর থেকেও অনাপত্তি সনদ নেওয়া হয়েছে। তবে কউক বলছে, ইউনিয়ন পরিষদের নকশা অনুমোদন থাকলেই বিএনবিসি বা জাতীয় ভবন নির্মাণবিধি অনুযায়ী সব শর্ত পূরণ হয়েছে তা নিশ্চিত নয়; এটি কারিগরি যাচাইয়ের বিষয়।

গত ২০২৬ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর কউক থেকে দেওয়া নোটিশে বলা হয়, ভবনটির নির্মাণকাজ ২০১৮ সালের আগে শুরু হয়নি, তাই বিএনবিসি ২০২০ অনুযায়ী কউকের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। এছাড়া ২০২৬ সালের ১২ আগস্ট কউক সদস্য (প্রকৌশল)-এর নেতৃত্বে একটি দল ভবনটি পরিদর্শন করে কাঠামোগত ত্রুটি ও অসংগতি পেয়েছে। ভবনটিকে কেন ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হবে না, তার ব্যাখ্যাসহ ১৪ দিনের মধ্যে মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

শহীদুল হকের যুক্তি, ভবনটি যখন নির্মাণের অনুমোদন নেওয়া হয়, তখন ওই এলাকা কউকের আওতাভুক্ত ছিল না। তাই সে সময় ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রাপ্ত অনুমোদনকে এখন প্রশ্নবিদ্ধ করা আইনগতভাবে কতটা যৌক্তিক তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। বিপরীতে কউকের নোটিশে স্থানীয় সরকার বিভাগের ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবরের একটি চিঠির উল্লেখ রয়েছে, যেখানে ইউনিয়ন পরিষদের দেওয়া অনুমতি ও ব্যবহার সনদকে বিধিবহির্ভূত বলে দাবি করা হয়েছে।

মেরিন ড্রাইভের বিনিয়োগকারীরা বলছেন, অনিয়ম থাকলে তা সংশোধন করার আইনি পথ খোলা রাখা উচিত। বর্তমানে ওই এলাকায় পাঁচ শতাধিক হোটেল-রিসোর্ট রয়েছে। তাঁদের দাবি, সবগুলো স্থাপনার অনুমোদন ও নির্মাণকাল বিবেচনা করে পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। একযোগে কঠোর ব্যবস্থা নিলে বিনিয়োগ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাঁদের বক্তব্য, কোনো ভবনে অনুমোদনসংক্রান্ত ঘাটতি, নকশার বিচ্যুতি কিংবা নিরাপত্তার সমস্যা থাকলে তা অবশ্যই আইন অনুযায়ী সমাধান করতে হবে।

সম্প্রতি টুংটুং রিসোর্টের অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের প্রাণহানির পর পর্যটন স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে মালিকপক্ষের অভিযোগ, ২৬ অক্টোবর শুনানির তারিখ নির্ধারিত থাকা সত্ত্বেও তার আগেই ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এছাড়া এ ঘটনায় কউকের অথরাইজড কর্মকর্তা ফজলে রাব্বির বিরুদ্ধে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

শহীদুল হক স্পষ্ট জানিয়েছেন, যদি ভবনটি মাস্টারপ্ল্যানের পরিপন্থি প্রমাণিত হয়, তবে তিনি প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে প্রস্তুত। তিনি একটি নিরপেক্ষ প্রকৌশলী দল দিয়ে ভবনের কাঠামোগত অবস্থা পুনরায় যাচাইয়ের সুযোগ চেয়েছেন। পর্যটন শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য নিরাপদ অবকাঠামো ও বিনিয়োগবান্ধব প্রশাসনিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পর্যটন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, কক্সবাজারের পর্যটনশিল্পের টেকসই উন্নয়নে নিরাপদ অবকাঠামো, পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিকল্পিত নগরায়ণ ও বিনিয়োগবান্ধব প্রশাসনিক পরিবেশ—সবকিছুর সমন্বয় প্রয়োজন।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত