জাতীয়
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ট্রাকচালক মো. হোসেন নিহতের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক রবিউল আলম আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে এই বিচার শুরুর আদেশ দেন। মামলার পরবর্তী ধাপে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আদালত আগামী ২৫ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলমের আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে চার্জগঠনের আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আনিসুর রহমান জানান, মামলার মোট ৩৪ জন আসামির মধ্যে ২২ জন শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন। এদিন কারাগার থেকে সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানসহ মোট নয়জনকে আদালতে হাজির করা হয়। এছাড়া জামিনে থাকা অপর দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে মুহাম্মদ বদিউল আলম ওরফে বদিউজ্জামান অন্য একটি মামলায় বর্তমানে কারাগারে থাকায় তাকে এদিন হাজির করা সম্ভব হয়নি। কারাগার থেকে সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানসহ ৯ জনকে উপস্থিত করা হয়েছে।
অভিযোগ গঠনের শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে এহসানুল হক সমাজী, ফারজানা ইয়াসমিন রাখী, আহসান হাবীব, খায়রুল ইসলাম এবং তরিকুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা আসামিদের অব্যাহতির আবেদন জানালে রাষ্ট্রপক্ষ তার জোরালো বিরোধিতা করে। শুনানি শেষে আদালত অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করেন। এসময় আদালতে উপস্থিত থাকা আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচারের প্রার্থনা জানান।
এই মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান। এছাড়া তালিকায় আরও আছেন আসিফ আহম্মেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বজলুর রহমান, নুর মোহাম্মদ সেন্টু, তোফায়েল সিদ্দিক, রহমান মিয়া, পলাশ, ওলিউর রহমান, খলিলুর রহমান, ইমন, এস এম রিয়াজুল হক তামিম, মাসুদুর রহমান বিপ্লব, আব্দুস সাত্তার ভূইয়া, পারভেজ, সুমন মিয়া, মিলন হোসেন, সোহেল, সলিম উল্লাহ সলু, ইরফান, ফুরকান হোসেন, শাহজাহান খান, সাজ্জাদ হোসেন, ফারুক হোসেন অভি ও নাইমুল হাসান রাসেল।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছাত্র আন্দোলন চলাকালে মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ট্রাকচালক মো. হোসেন নিহত হন। সেদিন গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাসায় ফেরার পথে তিনি হামলার শিকার হন। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ওই বছরের ৩১ আগস্ট নিহত হোসেনের মা রীনা বেগম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক আকরামুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন, যার প্রেক্ষিতে আজ বিচারকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।

মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ট্রাকচালক মো. হোসেন নিহতের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক রবিউল আলম আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে এই বিচার শুরুর আদেশ দেন। মামলার পরবর্তী ধাপে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আদালত আগামী ২৫ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেছেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার চার নম্বর বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলমের আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে চার্জগঠনের আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আনিসুর রহমান জানান, মামলার মোট ৩৪ জন আসামির মধ্যে ২২ জন শুরু থেকেই পলাতক রয়েছেন। এদিন কারাগার থেকে সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানসহ মোট নয়জনকে আদালতে হাজির করা হয়। এছাড়া জামিনে থাকা অপর দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে মুহাম্মদ বদিউল আলম ওরফে বদিউজ্জামান অন্য একটি মামলায় বর্তমানে কারাগারে থাকায় তাকে এদিন হাজির করা সম্ভব হয়নি। কারাগার থেকে সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানসহ ৯ জনকে উপস্থিত করা হয়েছে।
অভিযোগ গঠনের শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে এহসানুল হক সমাজী, ফারজানা ইয়াসমিন রাখী, আহসান হাবীব, খায়রুল ইসলাম এবং তরিকুল ইসলামসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা আসামিদের অব্যাহতির আবেদন জানালে রাষ্ট্রপক্ষ তার জোরালো বিরোধিতা করে। শুনানি শেষে আদালত অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করেন। এসময় আদালতে উপস্থিত থাকা আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচারের প্রার্থনা জানান।
এই মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান। এছাড়া তালিকায় আরও আছেন আসিফ আহম্মেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বজলুর রহমান, নুর মোহাম্মদ সেন্টু, তোফায়েল সিদ্দিক, রহমান মিয়া, পলাশ, ওলিউর রহমান, খলিলুর রহমান, ইমন, এস এম রিয়াজুল হক তামিম, মাসুদুর রহমান বিপ্লব, আব্দুস সাত্তার ভূইয়া, পারভেজ, সুমন মিয়া, মিলন হোসেন, সোহেল, সলিম উল্লাহ সলু, ইরফান, ফুরকান হোসেন, শাহজাহান খান, সাজ্জাদ হোসেন, ফারুক হোসেন অভি ও নাইমুল হাসান রাসেল।
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছাত্র আন্দোলন চলাকালে মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ট্রাকচালক মো. হোসেন নিহত হন। সেদিন গাবতলীতে ট্রাক রেখে বাসায় ফেরার পথে তিনি হামলার শিকার হন। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে ওই বছরের ৩১ আগস্ট নিহত হোসেনের মা রীনা বেগম বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক আকরামুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন, যার প্রেক্ষিতে আজ বিচারকাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।
