অর্থনীতিঅর্থনীতি

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা বৃদ্ধি, ফেডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

তেলের দাম হ্রাস ও ফেডারেল রিজার্ভের বৈঠকের প্রভাবে স্বর্ণের দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। গত সপ্তাহে বড় দরপতনের পর সোমবার ধাতুটির দাম কিছুটা বেড়েছে।

AutoHix
AutoHix
|
শেয়ার করুন
অ+ অ-

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। তেলের দরপতন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী মুদ্রানীতি সিদ্ধান্তের প্রত্যাশায় সোমবার বিশ্ববাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দাম ০.৪ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণ ৪ হাজার ১০ দশমিক ৫১ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। গত সপ্তাহে স্বর্ণের দাম ৪ শতাংশ কমেছিল, যা জুনের পর থেকে সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক দরপতন ছিল। সেই তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার আভাস দিচ্ছে। তেলের দাম কমে আসায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রশমিত হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্বর্ণের দামে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায় বলে জানিয়েছে। গণমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এদিন বাংলাদেশ সময় ১২টার দিকে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৪ শতাংশ বেড়েছে। এর আগের লেনদেনে গত জুলাইয়ের মাঝামাঝির পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল মূল্যবান এই ধাতুর দাম।

একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বর মাসের জন্য স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ০.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৪ ডলারে পৌঁছেছে। বাজার বিশ্লেষক কাইল রোডা জানান, জ্বালানি তেলের দাম কমে আসায় স্বর্ণের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ফেডের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত আসায় এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা সীমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সুদের হারের পূর্বাভাস এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিরতাই মূলত স্বর্ণের দামের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আগামী ২৭ ও ২৮ অক্টোবর ফেডের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এরপরই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচক বা পিসিই প্রকাশিত হবে, যা দেশটির মূল্যস্ফীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাজারে সুদের হার আপাতত অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা থাকলেও ডিসেম্বরে তা বৃদ্ধির বিষয়ে জোর আলোচনা চলছে। সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদে বিনিয়োগের আকর্ষণ হ্রাস পায়। উল্লেখ্য যে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনায় তেলের দাম প্রায় ছয় মাসের সর্বোচ্চ স্তর থেকে কিছুটা কমেছে, যদিও ইয়েমেনের হুথিদের সৌদি আরবে হামলার ঘটনায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ রয়েই গেছে।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ০.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৪ দশমিক ১৯ ডলার হয়েছে। এছাড়া প্যালাডিয়ামের দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৪৬ দশমিক ২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে প্লাটিনামের ক্ষেত্রে, যার দাম ০.২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৪৮ দশমিক ৩০ ডলারে নেমেছে। সব মিলিয়ে বাজারের অংশগ্রহণকারীরা এখন ফেডের নীতিনির্ধারণী বৈঠকের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছেন।

Public Voice

সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬


বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা বৃদ্ধি, ফেডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

প্রকাশের তারিখ : ২৬ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। তেলের দরপতন এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী মুদ্রানীতি সিদ্ধান্তের প্রত্যাশায় সোমবার বিশ্ববাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দাম ০.৪ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণ ৪ হাজার ১০ দশমিক ৫১ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। গত সপ্তাহে স্বর্ণের দাম ৪ শতাংশ কমেছিল, যা জুনের পর থেকে সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক দরপতন ছিল। সেই তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার আভাস দিচ্ছে। তেলের দাম কমে আসায় মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রশমিত হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় সোমবার (২৬ অক্টোবর) স্বর্ণের দামে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায় বলে জানিয়েছে। গণমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এদিন বাংলাদেশ সময় ১২টার দিকে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৪ শতাংশ বেড়েছে। এর আগের লেনদেনে গত জুলাইয়ের মাঝামাঝির পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছিল মূল্যবান এই ধাতুর দাম।

একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বর মাসের জন্য স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ০.৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৪ ডলারে পৌঁছেছে। বাজার বিশ্লেষক কাইল রোডা জানান, জ্বালানি তেলের দাম কমে আসায় স্বর্ণের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ফেডের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত আসায় এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা সীমিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সুদের হারের পূর্বাভাস এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিরতাই মূলত স্বর্ণের দামের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আগামী ২৭ ও ২৮ অক্টোবর ফেডের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এরপরই যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচক বা পিসিই প্রকাশিত হবে, যা দেশটির মূল্যস্ফীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাজারে সুদের হার আপাতত অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা থাকলেও ডিসেম্বরে তা বৃদ্ধির বিষয়ে জোর আলোচনা চলছে। সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদে বিনিয়োগের আকর্ষণ হ্রাস পায়। উল্লেখ্য যে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার সম্ভাবনায় তেলের দাম প্রায় ছয় মাসের সর্বোচ্চ স্তর থেকে কিছুটা কমেছে, যদিও ইয়েমেনের হুথিদের সৌদি আরবে হামলার ঘটনায় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ রয়েই গেছে।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ০.৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৪ দশমিক ১৯ ডলার হয়েছে। এছাড়া প্যালাডিয়ামের দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৪৬ দশমিক ২৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে প্লাটিনামের ক্ষেত্রে, যার দাম ০.২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৫৪৮ দশমিক ৩০ ডলারে নেমেছে। সব মিলিয়ে বাজারের অংশগ্রহণকারীরা এখন ফেডের নীতিনির্ধারণী বৈঠকের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছেন।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত