আর্কাইভ
বৃহত্তর নোয়াখালীর অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক শহর চৌমুহনী বর্তমানে অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে পড়ছে। এখানে চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং ডাকাতির মতো অপরাধের পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ও গোলাগুলির ঘটনা সাধারণ মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। বিশেষ করে শহরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেল অপরাধীদের নিরাপদ আস্তানা বা স্বর্গরাজ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে অনেক হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ, মাদক কেনাবেচা ও জুয়ার আসর নিয়মিত বসছে। হোটেলগুলোতে বোর্ডারদের সঠিক তথ্য রেজিস্টারে সংরক্ষণের নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের এসব হোটেলে যাতায়াত করতে দেখা যাচ্ছে, যা সামাজিক অবক্ষয়ের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পর্যটন এলাকা না হওয়া সত্ত্বেও বিপুল সংখ্যক আবাসিক হোটেলের অনুমোদন ও তাদের কার্যক্রম নিয়ে সচেতন নাগরিকরা প্রশ্ন তুলেছেন। ফলে সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা। এমনকি স্কুল-কলেজপড়ুয়া তরুণ-তরুণীদেরও এসব হোটেলে যাতায়াত করতে দেখা যাচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব অপরাধ দমনে বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়েছে। চলতি বছরের ১২ সেপ্টেম্বর ‘ডিলাক্স’ ও ‘রাজ’ হোটেল থেকে ১৮ জনকে এবং ৩০ আগস্ট ‘মিয়ামী’ ও ‘স্কাইভিউ’ হোটেল থেকে আট নারী-পুরুষকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এর আগে ২৫ জুন ‘হোটেল রাজ’ থেকে আরও ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুধু অসামাজিক কর্মকাণ্ডই নয়, ২ জানুয়ারি ‘হোটেল রিয়াদ’ থেকে বিদেশি পিস্তল ও কার্তুজসহ বাসু ও রাসেল নামে দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এবং প্রশাসনের একাংশের যোগসাজশে বছরের পর বছর এসব অবৈধ কার্যক্রম চলছে। নোয়াখালী-৩ আসনের আওতাধীন এই জনবহুল বাণিজ্যিক শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই হোটেলগুলোর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং মাদক ও কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। চৌমুহনী নোয়াখালী-৩ আসনের নির্বাচনি এলাকার স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা জানান, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ বাণিজ্যিক শহরে প্রতিদিন হাজারো মানুষ আসেন।
অভিযানের বিষয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুজ্জামান জানিয়েছেন, নোয়াখালী ডিবি ও বেগমগঞ্জ থানা পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং শহরের নিরাপত্তা জোরদারে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অচিরেই আরও বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬
বৃহত্তর নোয়াখালীর অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক শহর চৌমুহনী বর্তমানে অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে পড়ছে। এখানে চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং ডাকাতির মতো অপরাধের পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য ও গোলাগুলির ঘটনা সাধারণ মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে। বিশেষ করে শহরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেল অপরাধীদের নিরাপদ আস্তানা বা স্বর্গরাজ্য হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে অনেক হোটেলে অসামাজিক কার্যকলাপ, মাদক কেনাবেচা ও জুয়ার আসর নিয়মিত বসছে। হোটেলগুলোতে বোর্ডারদের সঠিক তথ্য রেজিস্টারে সংরক্ষণের নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের এসব হোটেলে যাতায়াত করতে দেখা যাচ্ছে, যা সামাজিক অবক্ষয়ের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পর্যটন এলাকা না হওয়া সত্ত্বেও বিপুল সংখ্যক আবাসিক হোটেলের অনুমোদন ও তাদের কার্যক্রম নিয়ে সচেতন নাগরিকরা প্রশ্ন তুলেছেন। ফলে সহজেই পার পেয়ে যাচ্ছে অপরাধীরা। এমনকি স্কুল-কলেজপড়ুয়া তরুণ-তরুণীদেরও এসব হোটেলে যাতায়াত করতে দেখা যাচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব অপরাধ দমনে বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়েছে। চলতি বছরের ১২ সেপ্টেম্বর ‘ডিলাক্স’ ও ‘রাজ’ হোটেল থেকে ১৮ জনকে এবং ৩০ আগস্ট ‘মিয়ামী’ ও ‘স্কাইভিউ’ হোটেল থেকে আট নারী-পুরুষকে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। এর আগে ২৫ জুন ‘হোটেল রাজ’ থেকে আরও ১৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুধু অসামাজিক কর্মকাণ্ডই নয়, ২ জানুয়ারি ‘হোটেল রিয়াদ’ থেকে বিদেশি পিস্তল ও কার্তুজসহ বাসু ও রাসেল নামে দুই শীর্ষ সন্ত্রাসীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এবং প্রশাসনের একাংশের যোগসাজশে বছরের পর বছর এসব অবৈধ কার্যক্রম চলছে। নোয়াখালী-৩ আসনের আওতাধীন এই জনবহুল বাণিজ্যিক শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই হোটেলগুলোর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং মাদক ও কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। চৌমুহনী নোয়াখালী-৩ আসনের নির্বাচনি এলাকার স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা জানান, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ বাণিজ্যিক শহরে প্রতিদিন হাজারো মানুষ আসেন।
অভিযানের বিষয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুজ্জামান জানিয়েছেন, নোয়াখালী ডিবি ও বেগমগঞ্জ থানা পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং শহরের নিরাপত্তা জোরদারে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অচিরেই আরও বড় ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
