শিক্ষাশিক্ষা

হাসিনাকে ফেরাতে ৭ বেরোবি শিক্ষকের তৎপরতা, ২ মাসেও নেই তদন্তের অগ্রগতি

ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে গোপন তৎপরতায় যুক্ত থাকার অভিযোগে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাতজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ‘ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং’ কমিটি গঠিত হওয়ার প্রায় দুই মাসেও তদন্ত কার্যক্রমের কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। বরং, অনুসন্ধান কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্যদের বিতর্কিত অতীত এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গেচ তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী, দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সাথে গোপনে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। উক্ত শিক্ষকরা গোপনে একটি সিক্রেট টেলিগ্রাম গ্রুপ খুলে অপতৎপরতা চালাচ্ছেন। এই তালিকায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত ও বরখাস্ত হওয়া কয়েকজন শিক্ষকের নামও সামনে আসে গত জুলাইয়ের শেষ দিকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে, গত ৬ আগস্ট বিষয়টি অনুসন্ধানের লক্ষ্যে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত এক আদেশে পাঁচ সদস্যের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়। 

অভিযুক্ত শিক্ষকদের তালিকায় রয়েছেন জুলাই আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামি ও বরখাস্ত হওয়া পলাতক লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদ মণ্ডল, গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান ও তাঁর স্ত্রী পলাতক সহকারী অধ্যাপক আয়েশা আকতার আঁখি। আরও আছেন প্রফেসর ড. মো. জাকির হোসেন, জেড উদ্দিন (ছদ্মনাম), দেবু পিকে (ছদ্মনাম) এবং এসকে বি (ছদ্মনাম)।

তবে, তথ্য উদঘাটনের উদ্দেশ্যে গঠিত এই কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে শুরু থেকেই নানা বিতর্ক দেখা দেয়। পাঁচ সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তানজিউল ইসলাম জীবনকে। অথচ কমিটি গঠনের সময়েই তাঁর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি, নম্বর টেম্পারিং, মানসিক নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। এক শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগ দায়েরের পরিপ্রেক্ষিতে জীবনের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছিল তখন। পরে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সশরীরে উপস্থিত না হওয়ায় ফরেনসিক তদন্ত ছাড়াই জীবনকে সেই অভিযোগ থেকে বিতর্কিতভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বিতর্ক সৃষ্টি হয় কমিটির অন্য এক সদস্যকে নিয়েও। রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. হারুন-আল-রশীদকে সদস্য হিসেবে রাখা হলেও তিনি নিজেই আওয়ামী লীগ সমর্থিত ‘নীল দল’-এর বেরোবি শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সভাপতি হাসিনাকে ফেরানোর অপতৎপরতায় লিপ্তদের চিহ্নিত করার কমিটিতে খোদ নীল দলের সাবেক নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করায় দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ। তবে আগস্টে তৎকালীন প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান দাবি করেন, ওই শিক্ষক বর্তমানে ‘জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামে’ যোগ দিয়েছেন এবং বিজ্ঞান অনুষদ থেকে প্রতিনিধি হিসেবে তাঁকে কমিটিতে রাখা হয়েছে।

কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন সদস্য সচিব বেরোবির লিগ্যাল সেলের সহকারী রেজিস্ট্রার রেহেনা আক্তার মনি, ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান এবং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আতাউর রহমান।

বিষয়টিকে বেরোবি শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল ইমরান খান সৌরভ “প্রশাসনিক ব্যর্থতা” হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, “আওয়ামী আমলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এখানে অধিকাংশ শিক্ষকই ওই ঘরানার। তাঁরা ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর নতুন খোলস পরেছেন। তাদের অনেককেই এখন বর্তমান প্রশাসন এই ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির মতো নানা জায়গায় বসিয়ে রেখেছে। এটি প্রশাসনের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। এ কারণেই তদন্তের কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না বলে আমরা মনে করি।”

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় হতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শামসুর রহমান সুমন বলেন, “হাসিনাকে ফেরাতে নামে-বেনামে যারা কাজ করছে তারা এখনো ঘাপটি মেরে বসে আছে নানা জায়গায়। তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও তারা হাত গুটিয়ে বসে আছে।”

তথ্য সংগ্রহের স্বার্থে তিনি তদন্তকারীদের পরিচয় গোপন রাখার শর্তে তথ্য সংগ্রহের প্রজ্ঞাপন দিয়ে নেপথ্যের তথ্য বের করে আনারও পরামর্শ দেন। এই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল সংগঠন প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন সুমন।

বেরোবি শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন বলেন, “হাসিনাকে ফেরাতে বেরোবির সাত শিক্ষকই নয়, আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারেন। আমরা জানি, ইতোমধ্যে এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কর্তৃপক্ষ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই আমরা। পাশাপাশি জুলাইবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।"

ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির আহ্বায়ক ড. মো. তানজিউল ইসলাম জীবন জানান, তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তবে জড়িতদের কয়েকজন সাংকেতিক নাম ব্যবহার করায় সঠিক তথ্য উদঘাটনে কিছুটা বেগ পাচ্ছেন তাঁরা। প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “আমরা তদন্তের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এ বিষয়ে কমিটির একাধিক সভা হয়েছে। যেসব শিক্ষকের নাম প্রকাশ্যে এসেছে, তাদের বিষয়ে অনেকটাই জানা যাচ্ছে। তবে দুজন শিক্ষক সাংকেতিক নাম ব্যবহার করায় তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে কিছুটা সময় লাগছে। এ বিষয়ে যে পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি আমরা। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে পর্যালোচনার পর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে শীঘ্রই।”

Public Voice

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


হাসিনাকে ফেরাতে ৭ বেরোবি শিক্ষকের তৎপরতা, ২ মাসেও নেই তদন্তের অগ্রগতি

প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

ছাত্রজনতার গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে গোপন তৎপরতায় যুক্ত থাকার অভিযোগে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাতজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ‘ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং’ কমিটি গঠিত হওয়ার প্রায় দুই মাসেও তদন্ত কার্যক্রমের কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। বরং, অনুসন্ধান কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্যদের বিতর্কিত অতীত এবং রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গেচ তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী, দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের সাথে গোপনে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। উক্ত শিক্ষকরা গোপনে একটি সিক্রেট টেলিগ্রাম গ্রুপ খুলে অপতৎপরতা চালাচ্ছেন। এই তালিকায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মরত ও বরখাস্ত হওয়া কয়েকজন শিক্ষকের নামও সামনে আসে গত জুলাইয়ের শেষ দিকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে, গত ৬ আগস্ট বিষয়টি অনুসন্ধানের লক্ষ্যে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান স্বাক্ষরিত এক আদেশে পাঁচ সদস্যের ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়। 

অভিযুক্ত শিক্ষকদের তালিকায় রয়েছেন জুলাই আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামি ও বরখাস্ত হওয়া পলাতক লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদ মণ্ডল, গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান ও তাঁর স্ত্রী পলাতক সহকারী অধ্যাপক আয়েশা আকতার আঁখি। আরও আছেন প্রফেসর ড. মো. জাকির হোসেন, জেড উদ্দিন (ছদ্মনাম), দেবু পিকে (ছদ্মনাম) এবং এসকে বি (ছদ্মনাম)।

তবে, তথ্য উদঘাটনের উদ্দেশ্যে গঠিত এই কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে শুরু থেকেই নানা বিতর্ক দেখা দেয়। পাঁচ সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তানজিউল ইসলাম জীবনকে। অথচ কমিটি গঠনের সময়েই তাঁর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি, নম্বর টেম্পারিং, মানসিক নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। এক শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগ দায়েরের পরিপ্রেক্ষিতে জীবনের বিরুদ্ধে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছিল তখন। পরে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সশরীরে উপস্থিত না হওয়ায় ফরেনসিক তদন্ত ছাড়াই জীবনকে সেই অভিযোগ থেকে বিতর্কিতভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বিতর্ক সৃষ্টি হয় কমিটির অন্য এক সদস্যকে নিয়েও। রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. হারুন-আল-রশীদকে সদস্য হিসেবে রাখা হলেও তিনি নিজেই আওয়ামী লীগ সমর্থিত ‘নীল দল’-এর বেরোবি শাখার সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সভাপতি হাসিনাকে ফেরানোর অপতৎপরতায় লিপ্তদের চিহ্নিত করার কমিটিতে খোদ নীল দলের সাবেক নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করায় দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একাংশ। তবে আগস্টে তৎকালীন প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান দাবি করেন, ওই শিক্ষক বর্তমানে ‘জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামে’ যোগ দিয়েছেন এবং বিজ্ঞান অনুষদ থেকে প্রতিনিধি হিসেবে তাঁকে কমিটিতে রাখা হয়েছে।

কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন সদস্য সচিব বেরোবির লিগ্যাল সেলের সহকারী রেজিস্ট্রার রেহেনা আক্তার মনি, ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মনিরুজ্জামান এবং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আতাউর রহমান।

বিষয়টিকে বেরোবি শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল ইমরান খান সৌরভ “প্রশাসনিক ব্যর্থতা” হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, “আওয়ামী আমলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এখানে অধিকাংশ শিক্ষকই ওই ঘরানার। তাঁরা ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর নতুন খোলস পরেছেন। তাদের অনেককেই এখন বর্তমান প্রশাসন এই ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির মতো নানা জায়গায় বসিয়ে রেখেছে। এটি প্রশাসনের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। এ কারণেই তদন্তের কোনো অগ্রগতি হচ্ছে না বলে আমরা মনে করি।”

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় হতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শামসুর রহমান সুমন বলেন, “হাসিনাকে ফেরাতে নামে-বেনামে যারা কাজ করছে তারা এখনো ঘাপটি মেরে বসে আছে নানা জায়গায়। তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও তারা হাত গুটিয়ে বসে আছে।”

তথ্য সংগ্রহের স্বার্থে তিনি তদন্তকারীদের পরিচয় গোপন রাখার শর্তে তথ্য সংগ্রহের প্রজ্ঞাপন দিয়ে নেপথ্যের তথ্য বের করে আনারও পরামর্শ দেন। এই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল সংগঠন প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন সুমন।

বেরোবি শাখা জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাফায়েল ইমতিয়াজ ইয়ামিন বলেন, “হাসিনাকে ফেরাতে বেরোবির সাত শিক্ষকই নয়, আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারেন। আমরা জানি, ইতোমধ্যে এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কর্তৃপক্ষ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই আমরা। পাশাপাশি জুলাইবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।"

ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির আহ্বায়ক ড. মো. তানজিউল ইসলাম জীবন জানান, তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তবে জড়িতদের কয়েকজন সাংকেতিক নাম ব্যবহার করায় সঠিক তথ্য উদঘাটনে কিছুটা বেগ পাচ্ছেন তাঁরা। প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, “আমরা তদন্তের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এ বিষয়ে কমিটির একাধিক সভা হয়েছে। যেসব শিক্ষকের নাম প্রকাশ্যে এসেছে, তাদের বিষয়ে অনেকটাই জানা যাচ্ছে। তবে দুজন শিক্ষক সাংকেতিক নাম ব্যবহার করায় তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে কিছুটা সময় লাগছে। এ বিষয়ে যে পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি আমরা। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে পর্যালোচনার পর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে শীঘ্রই।”


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত