ক্যাম্পাস
ঘড়ির কাঁটায় সময় তখন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা। টিউশন সেরে চট্টগ্রাম নগর থেকে ফিরছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী। ক্যাম্পাসের ১ নম্বর গেইটে নেমে সেখানে অবস্থানরত সিএনজি চালকদের সাথে ভাড়া নিয়ে কথা-কাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটছিল। আবার একইসময়ে অনেককে দেখা গেছে সিএনজিতে না উঠে হেঁটে হেঁটে ক্যাম্পাসে ঢুকছেন।
আজ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতির দেখা মেলে। এসময় শহর ফেরত একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেইট এলাকা থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত নিয়মিত ভাড়া ৭ টাকা। কিন্তু তারা কারো পারমিশন ছাড়াই সেটিকে নিজেদের ইচ্ছে মতো ১০ টাকা করে নিয়েছেন।
একই অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের আরেক শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলামের। তিনি বলেন, ‘দুইদিন পরপর এসব সিএনজি চালকদের সাথে ঝামেলার প্রয়োজন আছে বলে মনে করিনা, ঘুর্নায়মান ক্যাম্পাসের বাস বা ই-কার (ইলেকট্রিক গাড়ি) চালু করলে এসকল ভোগান্তির অবসান হয়’।
জানতে চাইলে নাম অপ্রকাশ রেখে যাত্রীবোঝাই এক সিএনজি চালক বলেন, ‘মামা তেলে চালাই, দাম উঠেনা। কয়দিন ধরে পাম্প বন্ধ, তাই ভাড়া বেশি নিই। আমাদের তো চলতে হইব না-কি’। তবে হঠাৎ করেই এমন ইচ্ছে মতো ভাড়া সিন্ডিকেট করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় এরিয়ায় ভাড়া বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি কোনো কথা বলতে পারেননি। এরপর সিএনজি চালিয়ে সোজা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে যান।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী উম্মে আয়মান বলেন, টিউশনের জন্য আমি প্রতিদিন নগরে যাতায়াত করি। ক্যাম্পাসের ১ নম্বর গেইটের এসব সিএনজি চালকেরা খুচরা নাই অজুহাতে প্রায়শই বেশি ভাড়া রাখে। তাছাড়া ওনাদের আচরণ প্রচন্ড বাজে। ওনাদের কথা হলো গ্যাস নাই তেল দিয়ে নাকি গাড়ি চালাচ্ছে অথচ আমি আসার সময় ঠিকই ৭ টাকা দিয়ে আসি। আজকেও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলো। ৭ টাকার কথা বললে লিটারেলি ওনি আমার উপর মেজাজ দেখাচ্ছিলেন। আরো অনেক ভাইয়া ছিলেন, ওনারাও কিছু বলেননি। আর মেয়ে দেখলেই অটোওয়ালাদের ভয়েস টোন অটোমেটিক বৃদ্ধি পেয়ে।
তাৎক্ষনিক এ বিষয়ে গতকাল রাত পৌনে ৮টার দিকে মুঠোফোনে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) আবাসন ও যোগাযোগ সম্পাদক ইসহাক ভুঁইয়ার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি এখনই খোঁজ নিয়ে দেখছি। শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ হয় এমন যেকোনো সমস্যার সমাধান করা হবে।
এ বিষয়ে আজ (২৫ জানুয়ারি) বেলা আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. হোসেন শহিদ সরওয়ার্দীর কার্যালয়ে কথা হলে তিনি জানান, ‘গতকাল রাতে আরো কয়েকজন আমাকে অভিযোগ জানিয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় সিএনজি সমিতির সভাপতি ও সেক্রেটারির সঙ্গে কথা হয়েছে, তাদের স্পষ্ট করে বলেছি— আপনারা ক্যাম্পাসের ভিতরে শিক্ষার্থীদের সাথে এমন আচরণ করলে আমরাও বিকল্প ব্যবস্থা করব। প্রক্টর আরো যোগ করেন, বিকল্প হিসেবে ৫টা ই-কার নামাব।’

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
ঘড়ির কাঁটায় সময় তখন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা। টিউশন সেরে চট্টগ্রাম নগর থেকে ফিরছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী। ক্যাম্পাসের ১ নম্বর গেইটে নেমে সেখানে অবস্থানরত সিএনজি চালকদের সাথে ভাড়া নিয়ে কথা-কাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটছিল। আবার একইসময়ে অনেককে দেখা গেছে সিএনজিতে না উঠে হেঁটে হেঁটে ক্যাম্পাসে ঢুকছেন।
আজ শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এমন অস্বস্তিকর পরিস্থিতির দেখা মেলে। এসময় শহর ফেরত একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেইট এলাকা থেকে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত নিয়মিত ভাড়া ৭ টাকা। কিন্তু তারা কারো পারমিশন ছাড়াই সেটিকে নিজেদের ইচ্ছে মতো ১০ টাকা করে নিয়েছেন।
একই অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের আরেক শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলামের। তিনি বলেন, ‘দুইদিন পরপর এসব সিএনজি চালকদের সাথে ঝামেলার প্রয়োজন আছে বলে মনে করিনা, ঘুর্নায়মান ক্যাম্পাসের বাস বা ই-কার (ইলেকট্রিক গাড়ি) চালু করলে এসকল ভোগান্তির অবসান হয়’।
জানতে চাইলে নাম অপ্রকাশ রেখে যাত্রীবোঝাই এক সিএনজি চালক বলেন, ‘মামা তেলে চালাই, দাম উঠেনা। কয়দিন ধরে পাম্প বন্ধ, তাই ভাড়া বেশি নিই। আমাদের তো চলতে হইব না-কি’। তবে হঠাৎ করেই এমন ইচ্ছে মতো ভাড়া সিন্ডিকেট করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় এরিয়ায় ভাড়া বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি কোনো কথা বলতে পারেননি। এরপর সিএনজি চালিয়ে সোজা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে যান।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী উম্মে আয়মান বলেন, টিউশনের জন্য আমি প্রতিদিন নগরে যাতায়াত করি। ক্যাম্পাসের ১ নম্বর গেইটের এসব সিএনজি চালকেরা খুচরা নাই অজুহাতে প্রায়শই বেশি ভাড়া রাখে। তাছাড়া ওনাদের আচরণ প্রচন্ড বাজে। ওনাদের কথা হলো গ্যাস নাই তেল দিয়ে নাকি গাড়ি চালাচ্ছে অথচ আমি আসার সময় ঠিকই ৭ টাকা দিয়ে আসি। আজকেও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলো। ৭ টাকার কথা বললে লিটারেলি ওনি আমার উপর মেজাজ দেখাচ্ছিলেন। আরো অনেক ভাইয়া ছিলেন, ওনারাও কিছু বলেননি। আর মেয়ে দেখলেই অটোওয়ালাদের ভয়েস টোন অটোমেটিক বৃদ্ধি পেয়ে।
তাৎক্ষনিক এ বিষয়ে গতকাল রাত পৌনে ৮টার দিকে মুঠোফোনে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) আবাসন ও যোগাযোগ সম্পাদক ইসহাক ভুঁইয়ার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি এখনই খোঁজ নিয়ে দেখছি। শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ হয় এমন যেকোনো সমস্যার সমাধান করা হবে।
এ বিষয়ে আজ (২৫ জানুয়ারি) বেলা আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. হোসেন শহিদ সরওয়ার্দীর কার্যালয়ে কথা হলে তিনি জানান, ‘গতকাল রাতে আরো কয়েকজন আমাকে অভিযোগ জানিয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় সিএনজি সমিতির সভাপতি ও সেক্রেটারির সঙ্গে কথা হয়েছে, তাদের স্পষ্ট করে বলেছি— আপনারা ক্যাম্পাসের ভিতরে শিক্ষার্থীদের সাথে এমন আচরণ করলে আমরাও বিকল্প ব্যবস্থা করব। প্রক্টর আরো যোগ করেন, বিকল্প হিসেবে ৫টা ই-কার নামাব।’
