মতামত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাকি রয়েছে মাত্র কিছু দিন। নির্বাচনি মাঠে বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃত্বাধীন দুই জোটের মুখোমুখি অবস্থান ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। এর সঙ্গে ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উপস্থিতি যোগ হয়ে সমীকরণ আরও কঠিন হয়েছে।
বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, এখনো প্রায় ১৭ থেকে ২০ শতাংশ ভোটার সিদ্ধান্তহীন অবস্থায় রয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোটারদের সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনের হিসাব পাল্টে দিতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় ‘তুরুপের তাস’। সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের বড় অংশই এই ভোটব্যাংকের অন্তর্ভুক্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। অতীতে জাতীয় নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কখনো ৪০ শতাংশের নিচে নেমেছে, আবার কখনো ৮৭ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মাত্র ১০ শতাংশ ভোটই জয়-পরাজয়ের ফয়সালা করে দিতে পারে।
এ কারণে সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনা এবং নিজেদের পক্ষে টানাই এখন ক্ষমতাপ্রত্যাশী দলগুলোর প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের কাছে পৌঁছাতে বিভিন্ন দল ও জোট সক্রিয় চেষ্টা চালাচ্ছে। কোথাও কোথাও মামলা ও গ্রেপ্তার থেকে রক্ষার আশ্বাস দেওয়ার অভিযোগও উঠছে।
খবর চাউর আছে, মামলা-হামলায় বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মী-সমর্থকের ক্ষমতা প্রত্যাশী দলগুলো কাছে নিচ্ছে এবং যোগদানের খবর পাওয়া যাচ্ছে। গত ২৩ ডিসেম্বর ‘স্টার নির্বাচনি সংলাপ’-এ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের ভোট নিজেদের বাক্সে নিতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী প্রকাশ্য প্রতিযোগিতায় নেমেছে এবং মামলা প্রত্যাহারের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে।
সাম্প্রতিক জরিপগুলোও এই টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইনোভিশন কনসালটিংয়ের জরিপে আওয়ামী লীগের প্রতি ১৮ দশমিক ৮০ শতাংশ সমর্থন দেখা গেলেও নির্বাচনে দলটির অনুপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর ভোটারদের গতিপথ বদলাতে শুরু করে চক্রবৃদ্ধি হারে।
ঐ দিকে ৫ জানুয়ারি প্রকাশিত এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (ইএএসডি) পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার বিএনপিকে, ১৯ শতাংশ জামায়াতকে এবং ২ দশমিক ৬ শতাংশ এনসিপিকে ভোট দিতে আগ্রহী। ওই জরিপে আওয়ামী লীগের ভোটারদের মধ্যে ৬০ শতাংশ ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে।
এর এক সপ্তাহ পর ১২ জানুয়ারি ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি (আইআইএলডি) প্রকাশিত জরিপে দেখা যায়, ৩৪ দশমিক ৭ শতাংশ উত্তরদাতা বিএনপিকে, ৩৩ দশমিক ৬ শতাংশ জামায়াতকে, ৭ দশমিক ১ শতাংশ এনসিপিকে এবং ৩ দশমিক ১ শতাংশ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ভোট দিতে চায়। ওই জরিপে ১৭ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীন।
‘পাঁচ-দশটি ভোটেও যেহেতু জয়পরাজয় নির্ধারিত হয়। সেখানে ১৭ শতাংশ সিদ্ধান্তহীন ভোটার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা ভোট না-ও দিতে পারেন। এ ছাড়া ব্যালট নষ্ট বা বিকল্প প্রার্থী বেছে নিতে পারেন। বিশেষ করে কট্টর আওয়ামী সমর্থকদের ভোটদানে বিরত থাকার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। কিছু ভোটার বিভক্ত হয়ে যাবে। পছন্দমতো বিকল্প প্রার্থীকে ভোট দেবে। এ ক্ষেত্রে জুলাই অভ্যুত্থানের পর কোন দল বেশি রাজনৈতিক সংস্কার করতে পেরেছে, পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছে, তাদের আচরণ কেমন ছিল—এ বিষয়গুলো বিবেচনায় থাকবে- মাঠ পর্যায়ে কথা বলে জানা যায়।
অধ্যাপক ড. কে এম মহিউদ্দিন গণমাধ্যকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলবে। কোন দল বা প্রার্থী এ ভোট পাবে, তা নির্ভর করবে স্থানীয় রাজনীতি ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ওপর। যারা তাদের আশ্রয়প্রশ্রয় দিয়েছে, নিরাপদ পরিবেশে থাকতে সাহায্য করেছে তারা সেই দল বা প্রার্থীকেই বেছে নেবে। এলাকাভেদে এ চিত্র ভিন্ন হতে পারে।’

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ জানুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাকি রয়েছে মাত্র কিছু দিন। নির্বাচনি মাঠে বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃত্বাধীন দুই জোটের মুখোমুখি অবস্থান ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। এর সঙ্গে ছোট দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উপস্থিতি যোগ হয়ে সমীকরণ আরও কঠিন হয়েছে।
বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, এখনো প্রায় ১৭ থেকে ২০ শতাংশ ভোটার সিদ্ধান্তহীন অবস্থায় রয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোটারদের সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনের হিসাব পাল্টে দিতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় ‘তুরুপের তাস’। সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের বড় অংশই এই ভোটব্যাংকের অন্তর্ভুক্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। অতীতে জাতীয় নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কখনো ৪০ শতাংশের নিচে নেমেছে, আবার কখনো ৮৭ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মাত্র ১০ শতাংশ ভোটই জয়-পরাজয়ের ফয়সালা করে দিতে পারে।
এ কারণে সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনা এবং নিজেদের পক্ষে টানাই এখন ক্ষমতাপ্রত্যাশী দলগুলোর প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। মাঠপর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের কাছে পৌঁছাতে বিভিন্ন দল ও জোট সক্রিয় চেষ্টা চালাচ্ছে। কোথাও কোথাও মামলা ও গ্রেপ্তার থেকে রক্ষার আশ্বাস দেওয়ার অভিযোগও উঠছে।
খবর চাউর আছে, মামলা-হামলায় বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কর্মী-সমর্থকের ক্ষমতা প্রত্যাশী দলগুলো কাছে নিচ্ছে এবং যোগদানের খবর পাওয়া যাচ্ছে। গত ২৩ ডিসেম্বর ‘স্টার নির্বাচনি সংলাপ’-এ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের ভোট নিজেদের বাক্সে নিতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী প্রকাশ্য প্রতিযোগিতায় নেমেছে এবং মামলা প্রত্যাহারের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে।
সাম্প্রতিক জরিপগুলোও এই টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইনোভিশন কনসালটিংয়ের জরিপে আওয়ামী লীগের প্রতি ১৮ দশমিক ৮০ শতাংশ সমর্থন দেখা গেলেও নির্বাচনে দলটির অনুপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পর ভোটারদের গতিপথ বদলাতে শুরু করে চক্রবৃদ্ধি হারে।
ঐ দিকে ৫ জানুয়ারি প্রকাশিত এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (ইএএসডি) পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, প্রায় ৭০ শতাংশ ভোটার বিএনপিকে, ১৯ শতাংশ জামায়াতকে এবং ২ দশমিক ৬ শতাংশ এনসিপিকে ভোট দিতে আগ্রহী। ওই জরিপে আওয়ামী লীগের ভোটারদের মধ্যে ৬০ শতাংশ ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে।
এর এক সপ্তাহ পর ১২ জানুয়ারি ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি (আইআইএলডি) প্রকাশিত জরিপে দেখা যায়, ৩৪ দশমিক ৭ শতাংশ উত্তরদাতা বিএনপিকে, ৩৩ দশমিক ৬ শতাংশ জামায়াতকে, ৭ দশমিক ১ শতাংশ এনসিপিকে এবং ৩ দশমিক ১ শতাংশ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ভোট দিতে চায়। ওই জরিপে ১৭ শতাংশ ভোটার এখনো সিদ্ধান্তহীন।
‘পাঁচ-দশটি ভোটেও যেহেতু জয়পরাজয় নির্ধারিত হয়। সেখানে ১৭ শতাংশ সিদ্ধান্তহীন ভোটার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা ভোট না-ও দিতে পারেন। এ ছাড়া ব্যালট নষ্ট বা বিকল্প প্রার্থী বেছে নিতে পারেন। বিশেষ করে কট্টর আওয়ামী সমর্থকদের ভোটদানে বিরত থাকার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। কিছু ভোটার বিভক্ত হয়ে যাবে। পছন্দমতো বিকল্প প্রার্থীকে ভোট দেবে। এ ক্ষেত্রে জুলাই অভ্যুত্থানের পর কোন দল বেশি রাজনৈতিক সংস্কার করতে পেরেছে, পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছে, তাদের আচরণ কেমন ছিল—এ বিষয়গুলো বিবেচনায় থাকবে- মাঠ পর্যায়ে কথা বলে জানা যায়।
অধ্যাপক ড. কে এম মহিউদ্দিন গণমাধ্যকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক নির্বাচনের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলবে। কোন দল বা প্রার্থী এ ভোট পাবে, তা নির্ভর করবে স্থানীয় রাজনীতি ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ওপর। যারা তাদের আশ্রয়প্রশ্রয় দিয়েছে, নিরাপদ পরিবেশে থাকতে সাহায্য করেছে তারা সেই দল বা প্রার্থীকেই বেছে নেবে। এলাকাভেদে এ চিত্র ভিন্ন হতে পারে।’
