মতামত
৩৫০০ টাকার ব্যবধানে ৯৭% শিক্ষার কাণ্ডারীরা অসহায়
নবম জাতীয় পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের চিকিৎসা ভাতা ৩–৪ হাজার টাকা; এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ভাগ্যে এখনো সেই ৫০০ টাকা!
একই রাষ্ট্র, একই শিক্ষা-ব্যবস্থা, একই শ্রেণিকক্ষ, একই শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ—অথচ শিক্ষকের চিকিৎসা-সুবিধায় এত বড় ব্যবধান কেন?
নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের চিকিৎসা ভাতা বয়সভেদে মাসিক ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি স্কুল ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এই সুবিধার আওতায় থাকবেন। অথচ দেশের বিপুলসংখ্যক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা এখনো মাসিক ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা-তেই আটকে আছেন।
অর্থাৎ একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং একজন সরকারি শিক্ষকের চিকিৎসা ভাতার ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে বয়সভেদে ২,৫০০ থেকে ৩,৫০০ টাকা!
এটি কি কেবল একটি ভাতার পার্থক্য? নাকি এর ভেতরে লুকিয়ে আছে রাষ্ট্রীয় শিক্ষা-ব্যবস্থায় কর্মরত শিক্ষকদের প্রতি সুবিধাগত বৈষম্যের একটি দীর্ঘস্থায়ী চিত্র?
আজকের বাস্তবতায় চিকিৎসা ব্যয়, ওষুধের মূল্য, পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ফি—সবকিছুর ব্যয় বেড়েছে। একজন শিক্ষক অসুস্থ হলে কেবল চিকিৎসকের ফি নয়; ওষুধ, পরীক্ষা, যাতায়াত—সব মিলিয়ে কয়েক দিনের চিকিৎসাতেই ৫০০ টাকা অতিক্রম করা অস্বাভাবিক নয়।
তারপরও একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষককে মাসে ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়ার বাস্তবতা প্রশ্ন তোলে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—চিকিৎসা তো চাকরির ধরন বুঝে হয় না।
সরকারি শিক্ষক অসুস্থ হলে চিকিৎসা ব্যয় হয়, এমপিওভুক্ত শিক্ষক অসুস্থ হলেও একই চিকিৎসা ব্যয় হয়। সরকারি চাকরিজীবীর জন্য চিকিৎসা ব্যয় বাড়লে ভাতা সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দেয়; এমপিওভুক্ত শিক্ষকের ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা প্রযোজ্য।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থায় লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা এবং নির্ধারিত যোগ্যতার বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে শিক্ষকতা পেশায় আসেন। জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (NTRCA) মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থাও চালু রয়েছে।
অন্যদিকে সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষকদের নিয়োগের নিজস্ব সরকারি প্রক্রিয়া রয়েছে। নিয়োগপ্রক্রিয়া আলাদা হতে পারে। প্রশাসনিক কাঠামো আলাদা হতে পারে। কিন্তু শিক্ষার্থীর সামনে দাঁড়িয়ে পাঠদান, মূল্যায়ন, নৈতিক শিক্ষা, পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার দায়িত্ব—শিক্ষকের মূল দায়িত্বে মৌলিক পার্থক্য কোথায়?
তাহলে চিকিৎসা সুবিধার ক্ষেত্রে এত বড় ব্যবধানের যৌক্তিক ভিত্তি কী? এই প্রশ্নের উত্তর শিক্ষক সমাজের জানা প্রয়োজন। ৯৭ শতাংশ শিক্ষার কাণ্ডারী—কিন্তু সুবিধায় কেন পিছিয়ে?
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার একটি বিশাল অংশ বহন করছেন। লাখ লাখ শিক্ষার্থী এসব প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে। গ্রাম থেকে প্রত্যন্ত জনপদ—দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে শিক্ষার বিস্তার ও ধারাবাহিকতায় এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
তাই শিক্ষকদের শুধু “শিক্ষার কাণ্ডারী” বলে সম্মান জানালেই দায়িত্ব শেষ হয় না। প্রশ্ন হলো— কাণ্ডারীর হাতে যদি ন্যায্য সুযোগ-সুবিধার বৈঠা না থাকে, তাহলে নৌকাটি কত দূর এগোবে?
শিক্ষকের কাছ থেকে মানসম্মত শিক্ষা, দায়িত্বশীলতা, নিষ্ঠা ও আধুনিক শিক্ষাদান প্রত্যাশা করা হবে; অথচ তার মৌলিক আর্থিক ও চিকিৎসা সুবিধা দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত থাকবে—এই দ্বৈত বাস্তবতা অবশ্যই আলোচনার দাবি রাখে।
সরকারি শিক্ষক যখন বয়সভেদে ৩,০০০ বা ৪,০০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন, তখন এমপিওভুক্ত শিক্ষক যদি ৫০০ টাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকেন, তাহলে সর্বোচ্চ ব্যবধান দাঁড়ায় ৩,৫০০ টাকা মাসে। বছরে এই ব্যবধান দাঁড়ায় ৪২,০০০ টাকা। একজন শিক্ষক ১০ বছর এই ব্যবধানের মধ্যে থাকলে শুধু চিকিৎসা ভাতার হিসাবেই পার্থক্য দাঁড়ায় ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা।
অর্থাৎ এটি সামান্য কোনো পার্থক্য নয়। দীর্ঘ কর্মজীবনে এই ব্যবধান একজন শিক্ষক ও তার পরিবারের আর্থিক বাস্তবতায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
একই দেশের শিক্ষার্থীদের পড়ান যে শিক্ষকরা, তাদের চিকিৎসা-সুবিধার মূল্যায়নে এত বড় ব্যবধান কেন?
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকায় আটকে থাকার নীতিগত যুক্তি কী?
যদি সময়ের সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের চিকিৎসা ভাতা পুনর্নির্ধারণ করা যায়, তাহলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও বাস্তবসম্মত সমন্বয় করা হবে না কেন?
শিক্ষকদের বেতন-ভাতা নিয়ে যখন বিভিন্ন পর্যায়ে সংস্কার ও পুনর্বিবেচনার আলোচনা চলছে, তখন চিকিৎসা ভাতাকে বাদ রেখে শিক্ষকের কল্যাণের পূর্ণাঙ্গ চিত্র আঁকা সম্ভব নয়।
শিক্ষক দিবসে ফুল, সভা-সেমিনারে সম্মাননা কিংবা বক্তৃতায় “জাতি গঠনের কারিগর”—এসব শব্দ নিঃসন্দেহে সম্মানজনক। কিন্তু একজন শিক্ষকের অসুস্থতার সময় যদি তার চিকিৎসা ব্যয়ের বিপরীতে মাসিক বরাদ্দ থাকে মাত্র ৫০০ টাকা, তখন সেই সম্মানের বাস্তব মূল্য নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
শিক্ষকের মর্যাদা কথায় নয়—নীতিতে, বাজেটে এবং বাস্তব সুবিধায় প্রতিফলিত হওয়া উচিত।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের চিকিৎসা ভাতা যুগোপযোগী করা তাই কোনো বিলাসী দাবি নয়; এটি শিক্ষক কল্যাণ ও বৈষম্য হ্রাসের আলোচনার একটি যৌক্তিক অংশ।
৩,৫০০ টাকার ব্যবধান তাই শুধু টাকার ব্যবধান নয়—এটি একই শিক্ষা পরিবারের দুই ধরনের সুবিধার একটি দৃশ্যমান হিসাব।
যারা দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের চিকিৎসা নিরাপত্তা নিয়ে আর কতদিন ৫০০ টাকার বাস্তবতায় থাকতে হবে?
শিক্ষকের হাতে জাতির ভবিষ্যৎ—তাহলে শিক্ষকের নিজের ভবিষ্যৎ ও চিকিৎসা নিরাপত্তা রাষ্ট্রের নীতিতে কতটা সুরক্ষিত?
— মিয়া সুলেমান, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও শিক্ষানুরাগী

রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩৫০০ টাকার ব্যবধানে ৯৭% শিক্ষার কাণ্ডারীরা অসহায়
নবম জাতীয় পে-স্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের চিকিৎসা ভাতা ৩–৪ হাজার টাকা; এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ভাগ্যে এখনো সেই ৫০০ টাকা!
একই রাষ্ট্র, একই শিক্ষা-ব্যবস্থা, একই শ্রেণিকক্ষ, একই শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ—অথচ শিক্ষকের চিকিৎসা-সুবিধায় এত বড় ব্যবধান কেন?
নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের চিকিৎসা ভাতা বয়সভেদে মাসিক ৩,০০০ থেকে ৪,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি স্কুল ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এই সুবিধার আওতায় থাকবেন। অথচ দেশের বিপুলসংখ্যক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা এখনো মাসিক ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা-তেই আটকে আছেন।
অর্থাৎ একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং একজন সরকারি শিক্ষকের চিকিৎসা ভাতার ব্যবধান দাঁড়াচ্ছে বয়সভেদে ২,৫০০ থেকে ৩,৫০০ টাকা!
এটি কি কেবল একটি ভাতার পার্থক্য? নাকি এর ভেতরে লুকিয়ে আছে রাষ্ট্রীয় শিক্ষা-ব্যবস্থায় কর্মরত শিক্ষকদের প্রতি সুবিধাগত বৈষম্যের একটি দীর্ঘস্থায়ী চিত্র?
আজকের বাস্তবতায় চিকিৎসা ব্যয়, ওষুধের মূল্য, পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ফি—সবকিছুর ব্যয় বেড়েছে। একজন শিক্ষক অসুস্থ হলে কেবল চিকিৎসকের ফি নয়; ওষুধ, পরীক্ষা, যাতায়াত—সব মিলিয়ে কয়েক দিনের চিকিৎসাতেই ৫০০ টাকা অতিক্রম করা অস্বাভাবিক নয়।
তারপরও একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষককে মাসে ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়ার বাস্তবতা প্রশ্ন তোলে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—চিকিৎসা তো চাকরির ধরন বুঝে হয় না।
সরকারি শিক্ষক অসুস্থ হলে চিকিৎসা ব্যয় হয়, এমপিওভুক্ত শিক্ষক অসুস্থ হলেও একই চিকিৎসা ব্যয় হয়। সরকারি চাকরিজীবীর জন্য চিকিৎসা ব্যয় বাড়লে ভাতা সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দেয়; এমপিওভুক্ত শিক্ষকের ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা প্রযোজ্য।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থায় লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা এবং নির্ধারিত যোগ্যতার বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে শিক্ষকতা পেশায় আসেন। জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (NTRCA) মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থাও চালু রয়েছে।
অন্যদিকে সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষকদের নিয়োগের নিজস্ব সরকারি প্রক্রিয়া রয়েছে। নিয়োগপ্রক্রিয়া আলাদা হতে পারে। প্রশাসনিক কাঠামো আলাদা হতে পারে। কিন্তু শিক্ষার্থীর সামনে দাঁড়িয়ে পাঠদান, মূল্যায়ন, নৈতিক শিক্ষা, পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার দায়িত্ব—শিক্ষকের মূল দায়িত্বে মৌলিক পার্থক্য কোথায়?
তাহলে চিকিৎসা সুবিধার ক্ষেত্রে এত বড় ব্যবধানের যৌক্তিক ভিত্তি কী? এই প্রশ্নের উত্তর শিক্ষক সমাজের জানা প্রয়োজন। ৯৭ শতাংশ শিক্ষার কাণ্ডারী—কিন্তু সুবিধায় কেন পিছিয়ে?
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার একটি বিশাল অংশ বহন করছেন। লাখ লাখ শিক্ষার্থী এসব প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে। গ্রাম থেকে প্রত্যন্ত জনপদ—দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে শিক্ষার বিস্তার ও ধারাবাহিকতায় এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
তাই শিক্ষকদের শুধু “শিক্ষার কাণ্ডারী” বলে সম্মান জানালেই দায়িত্ব শেষ হয় না। প্রশ্ন হলো— কাণ্ডারীর হাতে যদি ন্যায্য সুযোগ-সুবিধার বৈঠা না থাকে, তাহলে নৌকাটি কত দূর এগোবে?
শিক্ষকের কাছ থেকে মানসম্মত শিক্ষা, দায়িত্বশীলতা, নিষ্ঠা ও আধুনিক শিক্ষাদান প্রত্যাশা করা হবে; অথচ তার মৌলিক আর্থিক ও চিকিৎসা সুবিধা দীর্ঘদিন অপরিবর্তিত থাকবে—এই দ্বৈত বাস্তবতা অবশ্যই আলোচনার দাবি রাখে।
সরকারি শিক্ষক যখন বয়সভেদে ৩,০০০ বা ৪,০০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন, তখন এমপিওভুক্ত শিক্ষক যদি ৫০০ টাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকেন, তাহলে সর্বোচ্চ ব্যবধান দাঁড়ায় ৩,৫০০ টাকা মাসে। বছরে এই ব্যবধান দাঁড়ায় ৪২,০০০ টাকা। একজন শিক্ষক ১০ বছর এই ব্যবধানের মধ্যে থাকলে শুধু চিকিৎসা ভাতার হিসাবেই পার্থক্য দাঁড়ায় ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা।
অর্থাৎ এটি সামান্য কোনো পার্থক্য নয়। দীর্ঘ কর্মজীবনে এই ব্যবধান একজন শিক্ষক ও তার পরিবারের আর্থিক বাস্তবতায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
একই দেশের শিক্ষার্থীদের পড়ান যে শিক্ষকরা, তাদের চিকিৎসা-সুবিধার মূল্যায়নে এত বড় ব্যবধান কেন?
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকায় আটকে থাকার নীতিগত যুক্তি কী?
যদি সময়ের সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের চিকিৎসা ভাতা পুনর্নির্ধারণ করা যায়, তাহলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও বাস্তবসম্মত সমন্বয় করা হবে না কেন?
শিক্ষকদের বেতন-ভাতা নিয়ে যখন বিভিন্ন পর্যায়ে সংস্কার ও পুনর্বিবেচনার আলোচনা চলছে, তখন চিকিৎসা ভাতাকে বাদ রেখে শিক্ষকের কল্যাণের পূর্ণাঙ্গ চিত্র আঁকা সম্ভব নয়।
শিক্ষক দিবসে ফুল, সভা-সেমিনারে সম্মাননা কিংবা বক্তৃতায় “জাতি গঠনের কারিগর”—এসব শব্দ নিঃসন্দেহে সম্মানজনক। কিন্তু একজন শিক্ষকের অসুস্থতার সময় যদি তার চিকিৎসা ব্যয়ের বিপরীতে মাসিক বরাদ্দ থাকে মাত্র ৫০০ টাকা, তখন সেই সম্মানের বাস্তব মূল্য নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
শিক্ষকের মর্যাদা কথায় নয়—নীতিতে, বাজেটে এবং বাস্তব সুবিধায় প্রতিফলিত হওয়া উচিত।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের চিকিৎসা ভাতা যুগোপযোগী করা তাই কোনো বিলাসী দাবি নয়; এটি শিক্ষক কল্যাণ ও বৈষম্য হ্রাসের আলোচনার একটি যৌক্তিক অংশ।
৩,৫০০ টাকার ব্যবধান তাই শুধু টাকার ব্যবধান নয়—এটি একই শিক্ষা পরিবারের দুই ধরনের সুবিধার একটি দৃশ্যমান হিসাব।
যারা দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের চিকিৎসা নিরাপত্তা নিয়ে আর কতদিন ৫০০ টাকার বাস্তবতায় থাকতে হবে?
শিক্ষকের হাতে জাতির ভবিষ্যৎ—তাহলে শিক্ষকের নিজের ভবিষ্যৎ ও চিকিৎসা নিরাপত্তা রাষ্ট্রের নীতিতে কতটা সুরক্ষিত?
— মিয়া সুলেমান, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও শিক্ষানুরাগী
