ক্যাম্পাস
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নারী নেত্রীদের নিয়ে সংঘবদ্ধ সাইবার বুলিং, চরিত্রহনন ও হুমকির ঘটনায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের নেতারা।
রোববার (১১ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে চাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাঈদ বিন হাবিব স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দার সঙ্গে জানাচ্ছে যে, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগসাজসের অভিযোগে অভিযুক্ত জনাব হাসান মোহাম্মদ রোমানকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে চাকসু'র সহ-ছাত্রীকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদাউস রিতা ও অন্যান্য নারী নেতৃবৃন্দকে লক্ষ্য করে একটি পরিকল্পিত, সংঘবদ্ধ ও ধারাবাহিক সাইবার বুলিং, চরিত্রহনন ও হুমকির অভিযান চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেইজ থেকে তাঁদের ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে প্রকাশ্যে 'মবস্টার', 'সন্ত্রাসী', 'শিবিরের মাগি' সহ চরম অশ্লীল, নারী-বিদ্বেষী, সহিংস ও ঘৃণামূলক ভাষায় আক্রমণ চালানো হচ্ছে। বিষয়টি শুধু মানহানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রকাশ্য হত্যার হুমকি, শারীরিক ক্ষতির ইঙ্গিত ও ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ সরাসরি ফৌজদারি অপরাধের আওতাভুক্ত।
চাকসু সুস্পষ্টভাবে জানাতে চায় যে, অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ কোনো অপরাধ নয় বরং নৈতিক দায়িত্ব। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রশ্ন তোলা নাগরিক, সাংবিধানিক ও নৈতিক অধিকার। নারী নেতৃত্বকে ভয় দেখানো, চরিত্রহননের মাধ্যমে রাজনৈতিক বা আদর্শিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের সাইবার আক্রমণ কেবল নারী প্রতিনিধির বিরুদ্ধে নয়; এটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে গণতান্ত্রিক পরিবেশ, নারীর নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং শিক্ষাঙ্গনের সুস্থ সংস্কৃতির ওপর সরাসরি আঘাত। ঘৃণা, গুজব ও হুমকির মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্র প্রতিনিধিদের কলুষিত করার যে অপচেষ্টা চলছে, চাকসু তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
চাকসু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জোরালো দাবি জানাচ্ছে অবিলম্বে এই সাইবার বুলিং, হুমকি ও উসকানির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট পেইজগুলোকে শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব। কোনো ধরনের হুমকি, সন্ত্রাস কিংবা ভয়ভীতির কাছে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে চাকসু নেতৃবৃন্দ নতি স্বীকার করবে না।
উল্লেখ্য, গণ-অভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরোধিতা, গণহত্যাকে সমর্থন, শিক্ষার্থীদের নামে অন্যায়ভাবে মামলা ওনিয়মিত হয়রানি করা এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতাদের নিয়ে মাদকের আসর বসানোসহ বেশকিছু অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন বিভাগের শিক্ষক হাসান মোহাম্মদ রোমানকে গতকাল শনিবার দুপুর ১২টার আটক করে প্রক্টরিয়াল বডির হাতে তুলে দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নেতারা৷
বিকালে চাকসুর আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি তৌহিদের নেতৃত্বে একটি দল বিকেলে হাটহাজারী থানায় হাসান মুহাম্মদ রোমানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করতে যান। কিন্তু ওসি জাহেদুর রহমান মামলা নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
এরপর দিনভর নাটকীয়তার শেষে রাত ৯টার দিকে চাকসুর সহ-ছাত্রী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদাউস রিতার আপত্তির মুখেও প্রক্টরের গাড়িতে করে ওই শিক্ষককে ক্যাম্পাস থেকে বের করে নিতে দেখা যায়। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চাকসু নেত্রী রিতা এবং সমাজসেবা সম্পাদক তাহসিনা রহমানের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ সাইবার বুলিং, চরিত্রহনন ও হুমকির ঘটনা ঘটতে থাকে।

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জানুয়ারি ২০২৬
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নারী নেত্রীদের নিয়ে সংঘবদ্ধ সাইবার বুলিং, চরিত্রহনন ও হুমকির ঘটনায় তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের নেতারা।
রোববার (১১ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে চাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সাঈদ বিন হাবিব স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দার সঙ্গে জানাচ্ছে যে, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগসাজসের অভিযোগে অভিযুক্ত জনাব হাসান মোহাম্মদ রোমানকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে চাকসু'র সহ-ছাত্রীকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদাউস রিতা ও অন্যান্য নারী নেতৃবৃন্দকে লক্ষ্য করে একটি পরিকল্পিত, সংঘবদ্ধ ও ধারাবাহিক সাইবার বুলিং, চরিত্রহনন ও হুমকির অভিযান চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেইজ থেকে তাঁদের ব্যক্তিগত ছবি ব্যবহার করে প্রকাশ্যে 'মবস্টার', 'সন্ত্রাসী', 'শিবিরের মাগি' সহ চরম অশ্লীল, নারী-বিদ্বেষী, সহিংস ও ঘৃণামূলক ভাষায় আক্রমণ চালানো হচ্ছে। বিষয়টি শুধু মানহানির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রকাশ্য হত্যার হুমকি, শারীরিক ক্ষতির ইঙ্গিত ও ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ সরাসরি ফৌজদারি অপরাধের আওতাভুক্ত।
চাকসু সুস্পষ্টভাবে জানাতে চায় যে, অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ কোনো অপরাধ নয় বরং নৈতিক দায়িত্ব। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রশ্ন তোলা নাগরিক, সাংবিধানিক ও নৈতিক অধিকার। নারী নেতৃত্বকে ভয় দেখানো, চরিত্রহননের মাধ্যমে রাজনৈতিক বা আদর্শিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের সাইবার আক্রমণ কেবল নারী প্রতিনিধির বিরুদ্ধে নয়; এটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে গণতান্ত্রিক পরিবেশ, নারীর নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং শিক্ষাঙ্গনের সুস্থ সংস্কৃতির ওপর সরাসরি আঘাত। ঘৃণা, গুজব ও হুমকির মাধ্যমে ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্র প্রতিনিধিদের কলুষিত করার যে অপচেষ্টা চলছে, চাকসু তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
চাকসু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে জোরালো দাবি জানাচ্ছে অবিলম্বে এই সাইবার বুলিং, হুমকি ও উসকানির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট পেইজগুলোকে শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব। কোনো ধরনের হুমকি, সন্ত্রাস কিংবা ভয়ভীতির কাছে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে চাকসু নেতৃবৃন্দ নতি স্বীকার করবে না।
উল্লেখ্য, গণ-অভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিরোধিতা, গণহত্যাকে সমর্থন, শিক্ষার্থীদের নামে অন্যায়ভাবে মামলা ওনিয়মিত হয়রানি করা এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ নেতাদের নিয়ে মাদকের আসর বসানোসহ বেশকিছু অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন বিভাগের শিক্ষক হাসান মোহাম্মদ রোমানকে গতকাল শনিবার দুপুর ১২টার আটক করে প্রক্টরিয়াল বডির হাতে তুলে দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) নেতারা৷
বিকালে চাকসুর আইন ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি তৌহিদের নেতৃত্বে একটি দল বিকেলে হাটহাজারী থানায় হাসান মুহাম্মদ রোমানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করতে যান। কিন্তু ওসি জাহেদুর রহমান মামলা নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
এরপর দিনভর নাটকীয়তার শেষে রাত ৯টার দিকে চাকসুর সহ-ছাত্রী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদাউস রিতার আপত্তির মুখেও প্রক্টরের গাড়িতে করে ওই শিক্ষককে ক্যাম্পাস থেকে বের করে নিতে দেখা যায়। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে চাকসু নেত্রী রিতা এবং সমাজসেবা সম্পাদক তাহসিনা রহমানের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ সাইবার বুলিং, চরিত্রহনন ও হুমকির ঘটনা ঘটতে থাকে।
