ক্যাম্পাস
শীত প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে আসে। কিন্তু সাভারে অবস্থিত গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে এই শীত যেন ভিন্ন এক বাস্তবতার নাম। এখানে শীত মানেই শুধু ঠান্ডা নয় এর সঙ্গে যুক্ত হয় পরীক্ষা, মানসিক চাপ আর দীর্ঘ প্রতীক্ষার ভার।
ভোরের কুয়াশায় ক্যাম্পাস যখন প্রায় নিস্তব্ধ, তখনও থেমে থাকে না শিক্ষার্থীদের ব্যস্ততা। করিডোর আর ক্লাসরুম পেরিয়ে নোট-খাতা হাতে দ্রুত পায়ে হেঁটে চলার দৃশ্য এখন পরিচিত। সামনে সেমিস্টার ফাইনাল সময় কম, প্রস্তুতি বেশি। ঠান্ডার সঙ্গে লড়াই করে পড়াশোনা চালিয়ে যেতেই হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
হোস্টেলনির্ভর শিক্ষার্থীদের জন্য শীতকাল বাড়তি ভোগান্তি বয়ে আনে। কক্ষের ফাঁক দিয়ে ঢুকে পড়া ঠান্ডা বাতাস আর শেষ না হওয়া সিলেবাস এই দুইয়ের মাঝেই রাত জেগে পড়াশোনা চলছে। রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী শ্রেয়সী বলেন,
‘একসঙ্গে শীত আর পরীক্ষার চাপ সামলানো সহজ না। ক্যাম্পাসে শীত ঢাকার তুলনায় বেশি। সকালে ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে পরীক্ষা দিতে যাওয়া সত্যিই কঠিন।’
দূর অঞ্চল থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন। ডিসেম্বর এলেও পরীক্ষার কারণে অনেকেই বাড়ি ফিরতে পারছেন না। পরিবার থেকে দূরে থাকা প্রতিটি দিন মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে এবারের শীতকালীন ছুটি শিক্ষার্থীদের কাছে আনন্দের চেয়ে অনিশ্চয়তার অনুভূতিই বেশি জাগাচ্ছে।
পরীক্ষার রুটিন প্রকাশের পর থেকেই ক্যাম্পাসের পরিবেশ বদলে গেছে। লাইব্রেরি ও পাঠকক্ষে ভিড় বেড়েছে, কমেছে আড্ডা। ক্যান্টিনের এক কাপ গরম চা হয়ে উঠছে অল্প সময়ের স্বস্তি। ঠান্ডায় জমে যাওয়া হাতে কলম ধরে উত্তর লেখাই এখন শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের বাস্তবতা।
এই সময় মানসিক চাপও চোখে পড়ার মতো। ভালো ফলের প্রত্যাশা, পরিবারের স্বপ্ন আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দুশ্চিন্তা সব মিলিয়ে চাপ বাড়ছে। অনেকেই তা প্রকাশ করতে পারছেন না; হাসির আড়ালেই লুকিয়ে থাকছে নীরব সংগ্রাম।
তবুও এই পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে গড়ে উঠছে সহনশীলতা ও দৃঢ় মনোবল। সীমিত সুযোগের মধ্যেও এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা, ঠান্ডা রাত পেরিয়ে প্রস্তুতির সংগ্রাম এবং প্রতিকূলতা সত্ত্বেও পরীক্ষার হলে উপস্থিত হওয়াই গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের গল্প।
পরীক্ষা শেষ হলে শীতের নরম রোদ যখন ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়বে, তখন অনেকেই বুঝবেন এই শীত, এই চাপ আর এই লড়াইয়ের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল শিক্ষাজীবনের এক গভীর শিক্ষা।

শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫
শীত প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে আসে। কিন্তু সাভারে অবস্থিত গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে এই শীত যেন ভিন্ন এক বাস্তবতার নাম। এখানে শীত মানেই শুধু ঠান্ডা নয় এর সঙ্গে যুক্ত হয় পরীক্ষা, মানসিক চাপ আর দীর্ঘ প্রতীক্ষার ভার।
ভোরের কুয়াশায় ক্যাম্পাস যখন প্রায় নিস্তব্ধ, তখনও থেমে থাকে না শিক্ষার্থীদের ব্যস্ততা। করিডোর আর ক্লাসরুম পেরিয়ে নোট-খাতা হাতে দ্রুত পায়ে হেঁটে চলার দৃশ্য এখন পরিচিত। সামনে সেমিস্টার ফাইনাল সময় কম, প্রস্তুতি বেশি। ঠান্ডার সঙ্গে লড়াই করে পড়াশোনা চালিয়ে যেতেই হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
হোস্টেলনির্ভর শিক্ষার্থীদের জন্য শীতকাল বাড়তি ভোগান্তি বয়ে আনে। কক্ষের ফাঁক দিয়ে ঢুকে পড়া ঠান্ডা বাতাস আর শেষ না হওয়া সিলেবাস এই দুইয়ের মাঝেই রাত জেগে পড়াশোনা চলছে। রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী শ্রেয়সী বলেন,
‘একসঙ্গে শীত আর পরীক্ষার চাপ সামলানো সহজ না। ক্যাম্পাসে শীত ঢাকার তুলনায় বেশি। সকালে ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে পরীক্ষা দিতে যাওয়া সত্যিই কঠিন।’
দূর অঞ্চল থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন। ডিসেম্বর এলেও পরীক্ষার কারণে অনেকেই বাড়ি ফিরতে পারছেন না। পরিবার থেকে দূরে থাকা প্রতিটি দিন মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে এবারের শীতকালীন ছুটি শিক্ষার্থীদের কাছে আনন্দের চেয়ে অনিশ্চয়তার অনুভূতিই বেশি জাগাচ্ছে।
পরীক্ষার রুটিন প্রকাশের পর থেকেই ক্যাম্পাসের পরিবেশ বদলে গেছে। লাইব্রেরি ও পাঠকক্ষে ভিড় বেড়েছে, কমেছে আড্ডা। ক্যান্টিনের এক কাপ গরম চা হয়ে উঠছে অল্প সময়ের স্বস্তি। ঠান্ডায় জমে যাওয়া হাতে কলম ধরে উত্তর লেখাই এখন শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের বাস্তবতা।
এই সময় মানসিক চাপও চোখে পড়ার মতো। ভালো ফলের প্রত্যাশা, পরিবারের স্বপ্ন আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার দুশ্চিন্তা সব মিলিয়ে চাপ বাড়ছে। অনেকেই তা প্রকাশ করতে পারছেন না; হাসির আড়ালেই লুকিয়ে থাকছে নীরব সংগ্রাম।
তবুও এই পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে গড়ে উঠছে সহনশীলতা ও দৃঢ় মনোবল। সীমিত সুযোগের মধ্যেও এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা, ঠান্ডা রাত পেরিয়ে প্রস্তুতির সংগ্রাম এবং প্রতিকূলতা সত্ত্বেও পরীক্ষার হলে উপস্থিত হওয়াই গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিনের গল্প।
পরীক্ষা শেষ হলে শীতের নরম রোদ যখন ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়বে, তখন অনেকেই বুঝবেন এই শীত, এই চাপ আর এই লড়াইয়ের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল শিক্ষাজীবনের এক গভীর শিক্ষা।
