বিচিত্রবিচিত্র

বাঘারপাড়ার ধলগ্রাম বাজারে দেশি মাছের ঐতিহ্যবাহী জমজমাট হাট

বাঘারপাড়ার ধলগ্রাম বাজারে দেশি মাছের ঐতিহ্যবাহী জমজমাট হাট
বাঘারপাড়ার ধলগ্রাম বাজারে দেশি মাছের ঐতিহ্যবাহী জমজমাট হাট

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ধলগ্রাম বাজারে জমে উঠেছে দেশি মাছের জমজমাট হাট। ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই খাল-বিল আর ঘের থেকে ধরে আনা টাটকা মাছ নিয়ে হাটে হাজির হন স্থানীয় জেলেরা। সকাল থেকেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাক আর দর-কষাকষিতে সরগরম হয়ে ওঠে পুরো বাজার।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারের মাছের শেডে সারি সারি ডালা আর গামলায় সাজানো রয়েছে নানা জাতের দেশি মাছ। ক্রেতাদের ভিড় সবচেয়ে বেশি কৈ, শিং-মাগুরের মতো জিয়ল, পাবদা আর টেংরা মাছের দোকানে। সুস্বাদু এসব মাছের চাহিদা সবসময়ই বেশি থাকে স্থানীয়দের মধ্যে।

তবে চাহিদার তুলনায় বাজারে আজ কৈ, পাবদা ও টেংরার সরবরাহ ছিল তুলনামূলক কম। এর বিপরীতে অধিকাংশ জেলেই বেশি পরিমাণে নিয়ে এসেছেন দেশি পুঁটি মাছ। ডালায় ডালায় রুপালি পুঁটির ঝলকানি নজর কাড়ে সবার।

বিক্রেতারা জানান, গত কয়েকদিনের বৃষ্টি ও বিলের পানি বাড়ায় পুঁটি মাছ বেশি ধরা পড়ছে। তাই বাজারে পুঁটির সরবরাহ বেশি।

সরবরাহ বেশি থাকলেও দাম কমেনি। বরং চাহিদা ও স্বাদের কারণে দাম রয়েছে চড়া। আজকের বাজারে প্রতি কেজি দেশি পুঁটি বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি কৈ ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, পাবদা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং টেংরা ৬৫০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে।

স্থানীয় ক্রেতা রবিউল ইসলাম বলেন, "বাজারে এখন আর আগের মতো দেশি মাছ পাওয়া যায় না। আজ পুঁটি মাছ বেশি উঠলেও দাম অনেক বেশি। তারপরও টাটকা দেশি মাছ বলেই কিনছি।"

মাছ ব্যবসায়ী কালু মিয়া বলেন, "চাহিদা অনুযায়ী মাছ পাচ্ছি না। বিল শুকিয়ে যাওয়ায় কৈ, পাবদা কমে গেছে। যা পাচ্ছি, তাতেই ক্রেতাদের চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করছি।"

দেশি মাছের এমন বৈচিত্র্য আর কেনাবেচার ব্যস্ততায় সকাল থেকেই প্রাণচাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ধলগ্রাম বাজারের মাছের হাটে। ক্রেতা-বিক্রেতারা আশা করছেন, সামনের দিনগুলোতে বিলে পানি বাড়লে দেশি মাছের সরবরাহ আরও বাড়বে।

Public Voice

সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬


বাঘারপাড়ার ধলগ্রাম বাজারে দেশি মাছের ঐতিহ্যবাহী জমজমাট হাট

প্রকাশের তারিখ : ০১ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ধলগ্রাম বাজারে জমে উঠেছে দেশি মাছের জমজমাট হাট। ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই খাল-বিল আর ঘের থেকে ধরে আনা টাটকা মাছ নিয়ে হাটে হাজির হন স্থানীয় জেলেরা। সকাল থেকেই ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁকডাক আর দর-কষাকষিতে সরগরম হয়ে ওঠে পুরো বাজার।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারের মাছের শেডে সারি সারি ডালা আর গামলায় সাজানো রয়েছে নানা জাতের দেশি মাছ। ক্রেতাদের ভিড় সবচেয়ে বেশি কৈ, শিং-মাগুরের মতো জিয়ল, পাবদা আর টেংরা মাছের দোকানে। সুস্বাদু এসব মাছের চাহিদা সবসময়ই বেশি থাকে স্থানীয়দের মধ্যে।

তবে চাহিদার তুলনায় বাজারে আজ কৈ, পাবদা ও টেংরার সরবরাহ ছিল তুলনামূলক কম। এর বিপরীতে অধিকাংশ জেলেই বেশি পরিমাণে নিয়ে এসেছেন দেশি পুঁটি মাছ। ডালায় ডালায় রুপালি পুঁটির ঝলকানি নজর কাড়ে সবার।

বিক্রেতারা জানান, গত কয়েকদিনের বৃষ্টি ও বিলের পানি বাড়ায় পুঁটি মাছ বেশি ধরা পড়ছে। তাই বাজারে পুঁটির সরবরাহ বেশি।

সরবরাহ বেশি থাকলেও দাম কমেনি। বরং চাহিদা ও স্বাদের কারণে দাম রয়েছে চড়া। আজকের বাজারে প্রতি কেজি দেশি পুঁটি বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকায়, দেশি কৈ ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, পাবদা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা এবং টেংরা ৬৫০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে।

স্থানীয় ক্রেতা রবিউল ইসলাম বলেন, "বাজারে এখন আর আগের মতো দেশি মাছ পাওয়া যায় না। আজ পুঁটি মাছ বেশি উঠলেও দাম অনেক বেশি। তারপরও টাটকা দেশি মাছ বলেই কিনছি।"

মাছ ব্যবসায়ী কালু মিয়া বলেন, "চাহিদা অনুযায়ী মাছ পাচ্ছি না। বিল শুকিয়ে যাওয়ায় কৈ, পাবদা কমে গেছে। যা পাচ্ছি, তাতেই ক্রেতাদের চাহিদা মেটানোর চেষ্টা করছি।"

দেশি মাছের এমন বৈচিত্র্য আর কেনাবেচার ব্যস্ততায় সকাল থেকেই প্রাণচাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ধলগ্রাম বাজারের মাছের হাটে। ক্রেতা-বিক্রেতারা আশা করছেন, সামনের দিনগুলোতে বিলে পানি বাড়লে দেশি মাছের সরবরাহ আরও বাড়বে।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত