রাজনীতি
ইসরাইলের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে কোনো পক্ষই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। যদি প্রতিদ্বন্দ্বী জোটগুলো সরকার গঠনে সক্ষম না হয়, তবে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশটির তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই দায়িত্ব পালন চালিয়ে যেতে পারেন। নির্বাচনে ইহুদি ভোটারদের কাছ থেকে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সমর্থন পাওয়ায় তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পথ এখন বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে, যদিও তার নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
বুধবার পর্যন্ত প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে। ইসরাইলের প্রধান তিনটি সম্প্রচারমাধ্যমের পূর্বাভাস বলছে, ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি ও কট্টরপন্থি জোট ৫৩টি আসন পাওয়ার পথে রয়েছে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন। এছাড়া আরব ইসরাইলিদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো নজিরবিহীনভাবে ১৯টি আসন লাভের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন অপরিহার্য হয়ে পড়লেও অনেক ইহুদি নেতা এমন জোট গঠনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, যা অচলাবস্থাকে আরও ঘনীভূত করেছে। ফলে তাদের ব্যাপক সমর্থন ছাড়া আইজেনকোটের ক্ষমতায় যাওয়ার খুব একটা বাস্তবসম্মত পথ নেই। তবে অনেক ইহুদি নেতাই আরবদের এই সমর্থন মেনে নিতে নারাজ। বিশেষ করে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরাইলিদের মধ্যে ভোট দেয়ার হার বেশি ছিল।
কোনো পক্ষই যদি সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, তবে নতুন সরকার গঠন বা আগামী বছরের পরবর্তী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ইসরাইল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের গবেষক গাই লুরি জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সীমাবদ্ধতা থাকলেও ইরান যুদ্ধসহ জাতীয় নিরাপত্তার বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার পূর্ণ ক্ষমতা ও দায়বদ্ধতা বহাল থাকে।
নির্বাচন পরবর্তী এক ভাষণে নেতানিয়াহু শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী ডানপন্থি সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সামরিক সাফল্যের পাশাপাশি ডনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এক বার্তায় নেতানিয়াহুর পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে নিজের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর হামাসের হামলার পর এটিই ইসরাইলের প্রথম নির্বাচন। হামাসের হামলায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জন জিম্মি হওয়ার ঘটনার পর এবারের ভোটে ৭৭.৭ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। গাজা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, যুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ৭৪ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই যুদ্ধের কারণে ইসরাইল বিশ্বমঞ্চে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে নেতানিয়াহু আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও দেশে অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির অভিযোগের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন। এই যুদ্ধ ইসরাইলকে বিশ্বমঞ্চে কোণঠাসা করে ফেলেছে।
নির্বাচনী ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ইসরাইলি ইহুদিদের মধ্যে ডানপন্থি মতাদর্শের প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অধিকাংশ দলই স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আগে নেতানিয়াহুকে হটাতে একটি ছোট আরব দলের ওপর বিরোধীদের নির্ভর করতে হতো, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বিরোধী জোটকে 'জয়েন্ট লিস্ট'-এর মতো আরব দলগুলোর সমর্থনের ওপর ভরসা করতে হবে, যা ইসরাইলের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বুথফেরত জরিপের ফলাফল প্রকাশের পর বেশ কয়েকটি আরব দলের জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’-এর সদর দপ্তরে উল্লাস দেখা যায়।

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬
ইসরাইলের সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে কোনো পক্ষই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। যদি প্রতিদ্বন্দ্বী জোটগুলো সরকার গঠনে সক্ষম না হয়, তবে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশটির তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবেই দায়িত্ব পালন চালিয়ে যেতে পারেন। নির্বাচনে ইহুদি ভোটারদের কাছ থেকে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সমর্থন পাওয়ায় তাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পথ এখন বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে, যদিও তার নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
বুধবার পর্যন্ত প্রায় ৯০ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে। ইসরাইলের প্রধান তিনটি সম্প্রচারমাধ্যমের পূর্বাভাস বলছে, ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি ও কট্টরপন্থি জোট ৫৩টি আসন পাওয়ার পথে রয়েছে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন। এছাড়া আরব ইসরাইলিদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলো নজিরবিহীনভাবে ১৯টি আসন লাভের সম্ভাবনা তৈরি করেছে। সরকার গঠনে আরব দলগুলোর সমর্থন অপরিহার্য হয়ে পড়লেও অনেক ইহুদি নেতা এমন জোট গঠনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, যা অচলাবস্থাকে আরও ঘনীভূত করেছে। ফলে তাদের ব্যাপক সমর্থন ছাড়া আইজেনকোটের ক্ষমতায় যাওয়ার খুব একটা বাস্তবসম্মত পথ নেই। তবে অনেক ইহুদি নেতাই আরবদের এই সমর্থন মেনে নিতে নারাজ। বিশেষ করে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইসরাইলিদের মধ্যে ভোট দেয়ার হার বেশি ছিল।
কোনো পক্ষই যদি সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, তবে নতুন সরকার গঠন বা আগামী বছরের পরবর্তী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ইসরাইল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের গবেষক গাই লুরি জানান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সীমাবদ্ধতা থাকলেও ইরান যুদ্ধসহ জাতীয় নিরাপত্তার বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার পূর্ণ ক্ষমতা ও দায়বদ্ধতা বহাল থাকে।
নির্বাচন পরবর্তী এক ভাষণে নেতানিয়াহু শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী ডানপন্থি সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সামরিক সাফল্যের পাশাপাশি ডনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এক বার্তায় নেতানিয়াহুর পারফরম্যান্সের প্রশংসা করে নিজের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
২০২৩ সালের ৭ই অক্টোবর হামাসের হামলার পর এটিই ইসরাইলের প্রথম নির্বাচন। হামাসের হামলায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত এবং ২৫১ জন জিম্মি হওয়ার ঘটনার পর এবারের ভোটে ৭৭.৭ শতাংশ ভোট পড়েছে, যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। গাজা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, যুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ৭৪ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই যুদ্ধের কারণে ইসরাইল বিশ্বমঞ্চে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে নেতানিয়াহু আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও দেশে অভ্যন্তরীণ দুর্নীতির অভিযোগের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন। এই যুদ্ধ ইসরাইলকে বিশ্বমঞ্চে কোণঠাসা করে ফেলেছে।
নির্বাচনী ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ইসরাইলি ইহুদিদের মধ্যে ডানপন্থি মতাদর্শের প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অধিকাংশ দলই স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আগে নেতানিয়াহুকে হটাতে একটি ছোট আরব দলের ওপর বিরোধীদের নির্ভর করতে হতো, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে বিরোধী জোটকে 'জয়েন্ট লিস্ট'-এর মতো আরব দলগুলোর সমর্থনের ওপর ভরসা করতে হবে, যা ইসরাইলের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বুথফেরত জরিপের ফলাফল প্রকাশের পর বেশ কয়েকটি আরব দলের জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’-এর সদর দপ্তরে উল্লাস দেখা যায়।
