দূর্ঘটনা
কুড়িগ্রামের উলিপুরে শতবর্ষী অশথ গাছের ডাল ভেঙে চারটি দোকান বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে দোকানের মালামাল ও অবকাঠামোসহ প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ সময় আব্দুস ছালাম নামে এক মুদি ব্যবসায়ী অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের ফাঁসিদাহ বাজারে এ ঘটনা ঘটে। গাছের ডাল পড়ে বাজারের রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে খবর পেয়ে উলিপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় ডাল কেটে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।
পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মেহেদী হাসানের নির্দেশনায় পৌর ভূমি তহশিলদার হুমায়ুন কবির ঘটনাস্থলে যান। ভেঙে পড়া গাছের ডালগুলো সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য সংরক্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে নিলামে বিক্রি করা হবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ফাঁসিদাহ বাজারের ঐতিহ্যবাহী অশথ গাছটি প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো। এলাকাবাসী ভবানি চন্দ্র সরকার (৮০) জানান, তাঁর বাবা চটকুরাম (১০০)-এর কাছ থেকে তিনি গাছটির ইতিহাস শুনেছেন। গাছটির পাশে একটি বটগাছও ছিল। আগের দিনে নিঃসন্তান দম্পতিরা এই দুই গাছের প্রতীকী বিয়ে দিতেন বলে জানান তিনি।
বাজারের নামকরণ নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রচলিত একটি ইতিহাস রয়েছে। কথিত আছে, গাছের ডালের নিচে রাখালেরা চোর, ডাকাত ও পুলিশ নামের খেলা খেলতেন। একপর্যায়ে একটি গরু চুরি হলে বিচার শেষে চোরকে ওই গাছের ডালে ফাঁসি দেওয়ার রায় হয়। এরপর থেকেই বাজারটির নাম ফাঁসিদাহ বাজার হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী আব্দুস ছালাম জানান, রাত ৮টার দিকে দোকানে বেচাকেনা করার সময় মাথার ওপর বিকট শব্দ শুনে তিনি দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যান। কিছুক্ষণের মধ্যেই গাছের ডাল তাঁর দোকানের ওপর পড়ে। এতে তাঁর দোকানটি চুরমার হয়ে যায় এবং প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ঔষধের দোকানি আমিনুল ইসলাম জানান, তাঁর দোকানের ওপর গাছের ডাল পড়ে ওষুধ ও অবকাঠামোসহ প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। চা ব্যবসায়ী খতিব উদ্দিনও তাঁর দোকানের মালামাল ও অবকাঠামো মিলিয়ে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতির কথা জানিয়েছেন। দর্জির দোকানমালিক রবীন্দ্র জানান, তাঁর দোকানের অবকাঠামো ভেঙে প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
উলিপুর ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা খলিলুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছের ভেঙে পড়া ডাল অপসারণ করা হয় এবং বাজারের রাস্তা দিয়ে মানুষের চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মেহেদী হাসান জানান, গাছের ডালগুলো সরকারি কোষাগারে নেওয়ার জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আবেদন করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ অক্টোবর ২০২৬
কুড়িগ্রামের উলিপুরে শতবর্ষী অশথ গাছের ডাল ভেঙে চারটি দোকান বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে দোকানের মালামাল ও অবকাঠামোসহ প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ সময় আব্দুস ছালাম নামে এক মুদি ব্যবসায়ী অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের ফাঁসিদাহ বাজারে এ ঘটনা ঘটে। গাছের ডাল পড়ে বাজারের রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে খবর পেয়ে উলিপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় ডাল কেটে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করেন।
পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মেহেদী হাসানের নির্দেশনায় পৌর ভূমি তহশিলদার হুমায়ুন কবির ঘটনাস্থলে যান। ভেঙে পড়া গাছের ডালগুলো সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার জন্য সংরক্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে নিলামে বিক্রি করা হবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ফাঁসিদাহ বাজারের ঐতিহ্যবাহী অশথ গাছটি প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো। এলাকাবাসী ভবানি চন্দ্র সরকার (৮০) জানান, তাঁর বাবা চটকুরাম (১০০)-এর কাছ থেকে তিনি গাছটির ইতিহাস শুনেছেন। গাছটির পাশে একটি বটগাছও ছিল। আগের দিনে নিঃসন্তান দম্পতিরা এই দুই গাছের প্রতীকী বিয়ে দিতেন বলে জানান তিনি।
বাজারের নামকরণ নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রচলিত একটি ইতিহাস রয়েছে। কথিত আছে, গাছের ডালের নিচে রাখালেরা চোর, ডাকাত ও পুলিশ নামের খেলা খেলতেন। একপর্যায়ে একটি গরু চুরি হলে বিচার শেষে চোরকে ওই গাছের ডালে ফাঁসি দেওয়ার রায় হয়। এরপর থেকেই বাজারটির নাম ফাঁসিদাহ বাজার হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী আব্দুস ছালাম জানান, রাত ৮টার দিকে দোকানে বেচাকেনা করার সময় মাথার ওপর বিকট শব্দ শুনে তিনি দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যান। কিছুক্ষণের মধ্যেই গাছের ডাল তাঁর দোকানের ওপর পড়ে। এতে তাঁর দোকানটি চুরমার হয়ে যায় এবং প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ঔষধের দোকানি আমিনুল ইসলাম জানান, তাঁর দোকানের ওপর গাছের ডাল পড়ে ওষুধ ও অবকাঠামোসহ প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। চা ব্যবসায়ী খতিব উদ্দিনও তাঁর দোকানের মালামাল ও অবকাঠামো মিলিয়ে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতির কথা জানিয়েছেন। দর্জির দোকানমালিক রবীন্দ্র জানান, তাঁর দোকানের অবকাঠামো ভেঙে প্রায় ২০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
উলিপুর ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা খলিলুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছের ভেঙে পড়া ডাল অপসারণ করা হয় এবং বাজারের রাস্তা দিয়ে মানুষের চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম মেহেদী হাসান জানান, গাছের ডালগুলো সরকারি কোষাগারে নেওয়ার জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আবেদন করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
