আন্তর্জাতিক
আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মুখে ইসরাইলকে এখন থেকেই ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ভবিষ্যতে ব্যাংকিং খাতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ব্লকচেইন প্রযুক্তির মতো বিকেন্দ্রীভূত ডিজিটাল ব্যবস্থা ব্যবহারের পরিকল্পনা তৈরির জন্য উপদেষ্টাদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। চ্যানেল টেনের অর্থনীতি বিষয়ক সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত এই বক্তব্য ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচনের মাত্র চার দিন আগে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সির কথা বললে নেতানিয়াহু তাতে সম্মতি জানান। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা দাবি করছেন, সরকারের নীতির কারণেই ইসরাইল নজিরবিহীন আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়েছে। এমনকি নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে লেনদেন চালু রাখতে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাও করতে হবে। সেগুলো এড়িয়ে চলতে সক্ষম এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিতে হবে।
নেতানিয়াহুর এই প্রস্তাব নিয়ে দেশটির জ্যেষ্ঠ অর্থনৈতিক কর্মকর্তাদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। চ্যানেল টুয়েলভের উদ্ধৃতি অনুযায়ী, এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই ধারণার তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, ব্লকচেইন বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়, বরং এই ধরনের আলোচনার প্রচেষ্টা ইসরাইলি অর্থনীতির জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে। এছাড়া অনেক ব্লকচেইন নেটওয়ার্কে লেনদেনের গতিবিধি শনাক্তযোগ্য হওয়ায় তা পুরোপুরি ঝুঁকিহীন নয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্যের ওপর বৃটেনসহ ১২টি পশ্চিমা দেশের নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি এখন বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের হামলা এবং সরকার অনুমোদিত ব্যাপক বসতি নির্মাণের প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব শুধু বসতি এলাকা নয়, বরং ইসরাইলের মূল ভূখণ্ডের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিরোধী দলের নেতারা একে সরকারের ব্যর্থ কূটনৈতিক নীতির ফল হিসেবে অভিহিত করেছেন। বৃটেনের নেতৃত্বে নেয়া নিষেধাজ্ঞাগুলো মূলত পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতিগুলোকে লক্ষ্য করে আরোপ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার বিষয়টি নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের কাছ থেকে পাওয়া কয়েক হাজার কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা সহায়তা অনির্দিষ্টকাল ধরে পাওয়া যাবে না। আমেরিকান রাজনীতি ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়ায় ভবিষ্যতে এই বিশাল অংকের সহায়তা পাওয়া যে কঠিন হবে, তা মেনে নেয়ার জন্য তিনি ইসরাইলিদের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তার সমালোচকদের দাবি, নেতানিয়াহুর নিজস্ব বিতর্কিত নীতিই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি করেছে এবং জনসমর্থন কমিয়ে দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সাক্ষাৎকারের পর তীব্র প্রতিক্রিয়ায় বিরোধীদলীয় নেতা ও ‘বেয়াখাদ’ দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ইয়াইর লাপিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, নেতানিয়াহু নিজের মুখেই স্বীকার করছেন যে, তার ক্ষমতায় থাকা মানেই যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং অর্থনীতির বিপর্যয় ডেকে আনা। ‘দ্য ডেমোক্রেটস’ নেতা ইয়াইর গোলানও সুর মিলিয়ে বলেছেন, নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য তার বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকারই প্রমাণ, যা ইসরাইলের জন্য অশনিসংকেত।

রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মুখে ইসরাইলকে এখন থেকেই ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। শুক্রবার এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ভবিষ্যতে ব্যাংকিং খাতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিকল্প হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ব্লকচেইন প্রযুক্তির মতো বিকেন্দ্রীভূত ডিজিটাল ব্যবস্থা ব্যবহারের পরিকল্পনা তৈরির জন্য উপদেষ্টাদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। চ্যানেল টেনের অর্থনীতি বিষয়ক সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত এই বক্তব্য ইসরাইলি পার্লামেন্ট নেসেট নির্বাচনের মাত্র চার দিন আগে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সাক্ষাৎকার গ্রহণকারী সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সির কথা বললে নেতানিয়াহু তাতে সম্মতি জানান। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা দাবি করছেন, সরকারের নীতির কারণেই ইসরাইল নজিরবিহীন আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার মুখে পড়েছে। এমনকি নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে লেনদেন চালু রাখতে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ব্লকচেইন প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাও করতে হবে। সেগুলো এড়িয়ে চলতে সক্ষম এমন একটি অর্থনীতি গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিতে হবে।
নেতানিয়াহুর এই প্রস্তাব নিয়ে দেশটির জ্যেষ্ঠ অর্থনৈতিক কর্মকর্তাদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। চ্যানেল টুয়েলভের উদ্ধৃতি অনুযায়ী, এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই ধারণার তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, ব্লকচেইন বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়, বরং এই ধরনের আলোচনার প্রচেষ্টা ইসরাইলি অর্থনীতির জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে। এছাড়া অনেক ব্লকচেইন নেটওয়ার্কে লেনদেনের গতিবিধি শনাক্তযোগ্য হওয়ায় তা পুরোপুরি ঝুঁকিহীন নয় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্যের ওপর বৃটেনসহ ১২টি পশ্চিমা দেশের নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি এখন বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফিলিস্তিনিদের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের হামলা এবং সরকার অনুমোদিত ব্যাপক বসতি নির্মাণের প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব শুধু বসতি এলাকা নয়, বরং ইসরাইলের মূল ভূখণ্ডের অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিরোধী দলের নেতারা একে সরকারের ব্যর্থ কূটনৈতিক নীতির ফল হিসেবে অভিহিত করেছেন। বৃটেনের নেতৃত্বে নেয়া নিষেধাজ্ঞাগুলো মূলত পশ্চিম তীরের ইসরাইলি বসতিগুলোকে লক্ষ্য করে আরোপ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তার বিষয়টি নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের কাছ থেকে পাওয়া কয়েক হাজার কোটি ডলারের প্রতিরক্ষা সহায়তা অনির্দিষ্টকাল ধরে পাওয়া যাবে না। আমেরিকান রাজনীতি ও সামাজিক প্রেক্ষাপট বদলে যাওয়ায় ভবিষ্যতে এই বিশাল অংকের সহায়তা পাওয়া যে কঠিন হবে, তা মেনে নেয়ার জন্য তিনি ইসরাইলিদের আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তার সমালোচকদের দাবি, নেতানিয়াহুর নিজস্ব বিতর্কিত নীতিই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি করেছে এবং জনসমর্থন কমিয়ে দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সাক্ষাৎকারের পর তীব্র প্রতিক্রিয়ায় বিরোধীদলীয় নেতা ও ‘বেয়াখাদ’ দলের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ইয়াইর লাপিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, নেতানিয়াহু নিজের মুখেই স্বীকার করছেন যে, তার ক্ষমতায় থাকা মানেই যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহায়তা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং অর্থনীতির বিপর্যয় ডেকে আনা। ‘দ্য ডেমোক্রেটস’ নেতা ইয়াইর গোলানও সুর মিলিয়ে বলেছেন, নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য তার বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকারই প্রমাণ, যা ইসরাইলের জন্য অশনিসংকেত।
