শিক্ষাশিক্ষা

সিসিটিভিতে ছাত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর দৃশ্য: নেত্রকোণায় শিক্ষককে অব্যাহতি, আইনি ব্যবস্থা চান এডিসি

শেয়ার করুন
অ+ অ-
সিসিটিভিতে ছাত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর দৃশ্য: নেত্রকোণায় শিক্ষককে অব্যাহতি, আইনি ব্যবস্থা চান এডিসি
ভাইরাল হওয়া ভিডিয়ো থেকে নেয়া

নেত্রকোণার ঐতিহ্যবাহী এন. আকন্দ কামিল (স্নাতকোত্তর) মাদ্রাসার একটি কক্ষে এক শিক্ষকের সঙ্গে এক ছাত্রীর আপত্তিকর অবস্থানের দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে ওই ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

অভিযোগের পর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অনার্স শাখার নন-এমপিও প্রভাষক মো. এহসানুল হককে প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দিয়েছে। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শুধু চাকরি থেকে বিদায় দেওয়াই যথেষ্ট নয়; ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২০ আগস্ট শিক্ষকদের একটি সভা চলাকালে কয়েকজন শিক্ষক সিসিটিভি মনিটরে একটি কক্ষে একজন শিক্ষক ও বোরকা পরিহিত এক নারীকে অবস্থান করতে দেখেন। দৃশ্যটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন।

পরে কয়েকজন শিক্ষক প্রভাষক এহসানুল হককে ডেকে ওই ঘটনা সম্পর্কে জানতে চান। কর্তৃপক্ষের দাবি, শুরুতে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর পর একপর্যায়ে নিজের ভুল স্বীকার করে সহকর্মীদের কাছে ক্ষমা চান।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল বাতেন জানান, ২৬ আগস্ট তিনি ঘটনাটির সিসিটিভি ফুটেজ দেখেন। বিষয়টি জানার পর তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযুক্ত শিক্ষককে মাদ্রাসায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। তার ব্যবহৃত কক্ষের তালা পরিবর্তন করা হয় এবং ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়- গণমাধ্যমের খবর। 

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের মধ্যে গত ১ সেপ্টেম্বর এহসানুল হক পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরপর শিক্ষকমণ্ডলীর সভায় তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয় এবং তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি পরিচালনা পর্ষদ এবং জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে- সূত্রের খবর। 

এন. আকন্দ কামিল মাদ্রাসাটি ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত। প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘ শিক্ষাগত ঐতিহ্যের কারণে ঘটনাটি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে বিশেষ উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ঘটনাটি সম্পর্কে নেত্রকোণার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজার (সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত) বক্তব্য, অভিযুক্ত শিক্ষককে শুধু চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়া উচিত নয়।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর মেয়েটিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তিনি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষককে আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন।

জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে মুন মুন জাহান লিজাকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি), নেত্রকোণা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ ওঠা নারীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত নয়। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের ধারণা, তিনি অনার্স বা মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থী হতে পারেন। তবে এ বিষয়ে ওই শিক্ষার্থী বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগের তথ্য পাওয়া যায়নি।

অভিযুক্ত শিক্ষক এহসানুল হকের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন শুধু একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নয়—বরং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর নিরাপদ পরিবেশ, প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি এবং অভিযোগ উঠলে যথাযথ তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণের প্রশ্নও সামনে এসেছে।

একজন শিক্ষক শুধু পাঠদান করেন না; তিনি শিক্ষার্থীর কাছে আচরণ, দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতারও একটি দৃশ্যমান উদাহরণ। ফলে কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ উঠলে সেটি গোপনে মিটিয়ে ফেলা, কিংবা কেবল চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই, সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

এই ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তাই একটাই—একটি সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হওয়ার পর একজন শিক্ষককে প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেওয়াই কি যথেষ্ট, নাকি অভিযোগটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে সত্য উদ্‌ঘাটন ও আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে?

অভিভাবক ও সচেতন মহলের প্রত্যাশা, ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং কোনো পক্ষকে আড়াল না করে প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি পুনরায় প্রচার না করে সংশ্লিষ্ট ছাত্রীর পরিচয় ও মর্যাদা রক্ষার আহ্বানও জানিয়েছেন সচেতনরা।

Public Voice

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সিসিটিভিতে ছাত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর দৃশ্য: নেত্রকোণায় শিক্ষককে অব্যাহতি, আইনি ব্যবস্থা চান এডিসি

প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

নেত্রকোণার ঐতিহ্যবাহী এন. আকন্দ কামিল (স্নাতকোত্তর) মাদ্রাসার একটি কক্ষে এক শিক্ষকের সঙ্গে এক ছাত্রীর আপত্তিকর অবস্থানের দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে ওই ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

অভিযোগের পর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অনার্স শাখার নন-এমপিও প্রভাষক মো. এহসানুল হককে প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দিয়েছে। তবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শুধু চাকরি থেকে বিদায় দেওয়াই যথেষ্ট নয়; ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২০ আগস্ট শিক্ষকদের একটি সভা চলাকালে কয়েকজন শিক্ষক সিসিটিভি মনিটরে একটি কক্ষে একজন শিক্ষক ও বোরকা পরিহিত এক নারীকে অবস্থান করতে দেখেন। দৃশ্যটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন।

পরে কয়েকজন শিক্ষক প্রভাষক এহসানুল হককে ডেকে ওই ঘটনা সম্পর্কে জানতে চান। কর্তৃপক্ষের দাবি, শুরুতে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোর পর একপর্যায়ে নিজের ভুল স্বীকার করে সহকর্মীদের কাছে ক্ষমা চান।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল বাতেন জানান, ২৬ আগস্ট তিনি ঘটনাটির সিসিটিভি ফুটেজ দেখেন। বিষয়টি জানার পর তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে অভিযুক্ত শিক্ষককে মাদ্রাসায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। তার ব্যবহৃত কক্ষের তালা পরিবর্তন করা হয় এবং ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়- গণমাধ্যমের খবর। 

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের মধ্যে গত ১ সেপ্টেম্বর এহসানুল হক পদত্যাগপত্র জমা দেন। এরপর শিক্ষকমণ্ডলীর সভায় তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয় এবং তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি পরিচালনা পর্ষদ এবং জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে- সূত্রের খবর। 

এন. আকন্দ কামিল মাদ্রাসাটি ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত। প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘ শিক্ষাগত ঐতিহ্যের কারণে ঘটনাটি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে বিশেষ উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ঘটনাটি সম্পর্কে নেত্রকোণার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মুন মুন জাহান লিজার (সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত) বক্তব্য, অভিযুক্ত শিক্ষককে শুধু চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে বিষয়টির নিষ্পত্তি হওয়া উচিত নয়।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর মেয়েটিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তিনি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষককে আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন।

জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে মুন মুন জাহান লিজাকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি), নেত্রকোণা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ ওঠা নারীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত নয়। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের ধারণা, তিনি অনার্স বা মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থী হতে পারেন। তবে এ বিষয়ে ওই শিক্ষার্থী বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগের তথ্য পাওয়া যায়নি।

অভিযুক্ত শিক্ষক এহসানুল হকের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন শুধু একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নয়—বরং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর নিরাপদ পরিবেশ, প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি এবং অভিযোগ উঠলে যথাযথ তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণের প্রশ্নও সামনে এসেছে।

একজন শিক্ষক শুধু পাঠদান করেন না; তিনি শিক্ষার্থীর কাছে আচরণ, দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতারও একটি দৃশ্যমান উদাহরণ। ফলে কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ উঠলে সেটি গোপনে মিটিয়ে ফেলা, কিংবা কেবল চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই, সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করা এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

এই ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তাই একটাই—একটি সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল হওয়ার পর একজন শিক্ষককে প্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে দেওয়াই কি যথেষ্ট, নাকি অভিযোগটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে সত্য উদ্‌ঘাটন ও আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে?

অভিভাবক ও সচেতন মহলের প্রত্যাশা, ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত এবং কোনো পক্ষকে আড়াল না করে প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি পুনরায় প্রচার না করে সংশ্লিষ্ট ছাত্রীর পরিচয় ও মর্যাদা রক্ষার আহ্বানও জানিয়েছেন সচেতনরা।



Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত