কর্পোরেট
সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ) লক্ষ্মীপুর জেলা কার্যালয়ের আয়োজনে রেজিলিয়েন্স, এন্টারপ্রেনিউরশিপ অ্যান্ড লাইভলিহুড ইমপ্রুভমেন্ট (আরইএলআই) প্রকল্পের ‘ফেইজ আউট বিষয়ক আরডিসিএস পরিষদ সভা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় লক্ষ্মীপুর আরইএলআই জেলা কমিউনিটি সোসাইটি (আরডিসিএস)-এর সম্মেলন কক্ষে দিনব্যাপী এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এসডিএফ লক্ষ্মীপুর জেলার জেলা ব্যবস্থাপক মোঃ আহসানুল আলম খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসডিএফ কুমিল্লা অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক এস. এম. তওফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (সাংগঠনিক দক্ষতা উন্নয়ন, যুব ও কর্মসংস্থান এবং সুশাসন ও জবাবদিহিতা) মোঃ বজলুর রহমান ভূঞা।
জেলা কর্মকর্তা (মনিটরিং, ইভ্যালুয়েশন অ্যান্ড লার্নিং এবং সুশাসন ও জবাবদিহিতা) মোঃ জহিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা কর্মকর্তা (আইটি ও এমআইএস) মোঃ আরিফুর রহমান, জেলা কর্মকর্তা (স্বাস্থ্য ও পুষ্টি) ডাঃ বায়েজিদ বোস্তামী আকাশ, জেলা কর্মকর্তা (জীবিকায়ন) এস. এম. শফিকুল ইসলাম এবং জেলা কর্মকর্তা (হিসাব ও প্রশাসন) মোক্তার আহমেদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এস. এম. তওফিকুর রহমান বলেন, “আরইএলআই প্রকল্পের সহায়তায় কমিউনিটির যে সক্ষমতা তৈরি হয়েছে, ফেইজ আউটের পর সেই সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে পরনির্ভরশীলতা কমিয়ে নিজেদের ভাগ্য নিজেদের পরিবর্তন করতে হবে। প্রকল্পের মাধ্যমে অর্জিত উন্নয়ন ও সম্পদকে টেকসই করার দায়িত্ব এখন কমিউনিটির নিজেদেরই নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, প্রকল্প সমাপ্তির পর গড়ে ওঠা সমিতি, বিভিন্ন সংগঠন ও সম্পদ যথাযথভাবে পরিচালনা করতে হলে নিয়মিত সভা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, নেতৃত্ব ও পারস্পরিক ঐক্য বজায় রাখতে হবে। পাশাপাশি প্রকল্পের ডিজাইন অনুযায়ী ফেইজ আউটের পর গ্রামগুলোর কার্যক্রমের সমন্বয় ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ক্লাস্টার পর্যায়ের কমিউনিটি সোসাইটিকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভায় বক্তারা বলেন, ফেইজ আউটের পর কমিউনিটির নেতাদের দ্বিতীয় প্রজন্মের সংগঠন ক্লাস্টার কমিউনিটি সোসাইটির (আরসিসিএস) সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রেখে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে গ্রাম সমিতি, ভিলেজ ক্রেডিট অর্গানাইজেশন এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কমিটিকে স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
তারা আরও বলেন, গ্রাম সমিতির নিজস্ব তহবিল ও সঞ্চয় থেকে সদস্যদের ঋণ প্রদান এবং ঋণ আদায়ের ধারাবাহিকতা শতভাগ বজায় রাখতে হবে। প্রকল্পের মাধ্যমে আয়বর্ধনমূলক কার্যক্রমের জন্য দেওয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ, হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু পালন এবং কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন উৎপাদনকারী দলের কার্যক্রমও অব্যাহত রাখতে হবে।
উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণ ও ব্যবসার পরিধি সম্প্রসারণে গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের আরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, স্থানীয় সরকার, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রয়োজনীয় লিংকেজ বজায় রাখার মাধ্যমে গ্রামীণ যুবসমাজ, নারী ও অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে।
এ ছাড়া প্রকল্পের অর্থায়নে নির্মিত রাস্তা, কালভার্ট, নলকূপ, অফিসঘরসহ বিভিন্ন ছোট অবকাঠামোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের দায়িত্বও স্থানীয় জনগণকে নিতে হবে বলে সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, ফেইজ আউটের পর মূল লক্ষ্য হচ্ছে প্রকল্পের মাধ্যমে অর্জিত উন্নয়নকে টেকসই করা এবং কমিউনিটির নিজস্ব নেতৃত্ব ও পরিচালনার মাধ্যমে তা দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এ পরিষদ সভায় আরইএলআই জেলা কমিউনিটি সোসাইটির (আরডিসিএস) সভাপতি রাশেদা বেগম, সেক্রেটারি মমতাজ বেগম, ক্যাশিয়ার জয়া রাণী, সোশ্যাল অডিট কমিটির আহ্বায়ক মারজাহান, সোসাইটি ব্যবস্থাপক তারিন সুলতানাসহ জেলার রায়পুর, কমলনগর ও রামগতি উপজেলার ৮টি ক্লাস্টার সোসাইটির ৩২ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে প্রকল্পের সকল নথি উপস্থিত অতিথিবৃন্দ সংশ্লিষ্ট জেলা সোসাইটি নেতৃবৃন্দের কাছে হস্তান্তর করেন।

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (এসডিএফ) লক্ষ্মীপুর জেলা কার্যালয়ের আয়োজনে রেজিলিয়েন্স, এন্টারপ্রেনিউরশিপ অ্যান্ড লাইভলিহুড ইমপ্রুভমেন্ট (আরইএলআই) প্রকল্পের ‘ফেইজ আউট বিষয়ক আরডিসিএস পরিষদ সভা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় লক্ষ্মীপুর আরইএলআই জেলা কমিউনিটি সোসাইটি (আরডিসিএস)-এর সম্মেলন কক্ষে দিনব্যাপী এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এসডিএফ লক্ষ্মীপুর জেলার জেলা ব্যবস্থাপক মোঃ আহসানুল আলম খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসডিএফ কুমিল্লা অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক এস. এম. তওফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক (সাংগঠনিক দক্ষতা উন্নয়ন, যুব ও কর্মসংস্থান এবং সুশাসন ও জবাবদিহিতা) মোঃ বজলুর রহমান ভূঞা।
জেলা কর্মকর্তা (মনিটরিং, ইভ্যালুয়েশন অ্যান্ড লার্নিং এবং সুশাসন ও জবাবদিহিতা) মোঃ জহিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা কর্মকর্তা (আইটি ও এমআইএস) মোঃ আরিফুর রহমান, জেলা কর্মকর্তা (স্বাস্থ্য ও পুষ্টি) ডাঃ বায়েজিদ বোস্তামী আকাশ, জেলা কর্মকর্তা (জীবিকায়ন) এস. এম. শফিকুল ইসলাম এবং জেলা কর্মকর্তা (হিসাব ও প্রশাসন) মোক্তার আহমেদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এস. এম. তওফিকুর রহমান বলেন, “আরইএলআই প্রকল্পের সহায়তায় কমিউনিটির যে সক্ষমতা তৈরি হয়েছে, ফেইজ আউটের পর সেই সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে পরনির্ভরশীলতা কমিয়ে নিজেদের ভাগ্য নিজেদের পরিবর্তন করতে হবে। প্রকল্পের মাধ্যমে অর্জিত উন্নয়ন ও সম্পদকে টেকসই করার দায়িত্ব এখন কমিউনিটির নিজেদেরই নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, প্রকল্প সমাপ্তির পর গড়ে ওঠা সমিতি, বিভিন্ন সংগঠন ও সম্পদ যথাযথভাবে পরিচালনা করতে হলে নিয়মিত সভা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, নেতৃত্ব ও পারস্পরিক ঐক্য বজায় রাখতে হবে। পাশাপাশি প্রকল্পের ডিজাইন অনুযায়ী ফেইজ আউটের পর গ্রামগুলোর কার্যক্রমের সমন্বয় ও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ক্লাস্টার পর্যায়ের কমিউনিটি সোসাইটিকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
সভায় বক্তারা বলেন, ফেইজ আউটের পর কমিউনিটির নেতাদের দ্বিতীয় প্রজন্মের সংগঠন ক্লাস্টার কমিউনিটি সোসাইটির (আরসিসিএস) সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রেখে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে গ্রাম সমিতি, ভিলেজ ক্রেডিট অর্গানাইজেশন এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কমিটিকে স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
তারা আরও বলেন, গ্রাম সমিতির নিজস্ব তহবিল ও সঞ্চয় থেকে সদস্যদের ঋণ প্রদান এবং ঋণ আদায়ের ধারাবাহিকতা শতভাগ বজায় রাখতে হবে। প্রকল্পের মাধ্যমে আয়বর্ধনমূলক কার্যক্রমের জন্য দেওয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ, হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু পালন এবং কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন উৎপাদনকারী দলের কার্যক্রমও অব্যাহত রাখতে হবে।
উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণ ও ব্যবসার পরিধি সম্প্রসারণে গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের আরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, স্থানীয় সরকার, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রয়োজনীয় লিংকেজ বজায় রাখার মাধ্যমে গ্রামীণ যুবসমাজ, নারী ও অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে।
এ ছাড়া প্রকল্পের অর্থায়নে নির্মিত রাস্তা, কালভার্ট, নলকূপ, অফিসঘরসহ বিভিন্ন ছোট অবকাঠামোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের দায়িত্বও স্থানীয় জনগণকে নিতে হবে বলে সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, ফেইজ আউটের পর মূল লক্ষ্য হচ্ছে প্রকল্পের মাধ্যমে অর্জিত উন্নয়নকে টেকসই করা এবং কমিউনিটির নিজস্ব নেতৃত্ব ও পরিচালনার মাধ্যমে তা দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা।
দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এ পরিষদ সভায় আরইএলআই জেলা কমিউনিটি সোসাইটির (আরডিসিএস) সভাপতি রাশেদা বেগম, সেক্রেটারি মমতাজ বেগম, ক্যাশিয়ার জয়া রাণী, সোশ্যাল অডিট কমিটির আহ্বায়ক মারজাহান, সোসাইটি ব্যবস্থাপক তারিন সুলতানাসহ জেলার রায়পুর, কমলনগর ও রামগতি উপজেলার ৮টি ক্লাস্টার সোসাইটির ৩২ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে প্রকল্পের সকল নথি উপস্থিত অতিথিবৃন্দ সংশ্লিষ্ট জেলা সোসাইটি নেতৃবৃন্দের কাছে হস্তান্তর করেন।
