অপরাধঅপরাধ

গাড়ি আটকে ‘মিষ্টির টাকা’ নামে চাঁদা দাবি, সংঘর্ষে বরসহ আহত অর্ধশত

শেয়ার করুন
অ+ অ-
গাড়ি আটকে ‘মিষ্টির টাকা’ নামে চাঁদা দাবি, সংঘর্ষে বরসহ আহত অর্ধশত
সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে বরযাত্রীর গাড়ি আটকে ‘মিষ্টির টাকা’ দাবি করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বর ও তার বাবাসহ উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশত লোক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার বারঘড়িয়া ইউনিয়নের গাবতলী বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে করিমগঞ্জের নোয়াবাদ ইউনিয়নের ঝাউতলা এলাকায় কনের বাড়ির উদ্দেশ্যে বরযাত্রীবাহী একটি গাড়ি যাচ্ছিল। গাড়িটি গাবতলী বাজারে পৌঁছালে ধীতপুর বড়বাড়ি এলাকার কয়েকজন যুবক সেটি আটকে মিষ্টি খাওয়ার জন্য টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ। এ নিয়ে ধীতপুর বড়বাড়ি এলাকার কাজলের লোকজনের সঙ্গে বারঘড়িয়া এলাকার আশকর আলীর বংশের বরপক্ষের লোকজনের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় বর মো. হানিফ ও তার বাবা হবি মিয়াসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

তবে সংঘর্ষের কারণ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।

ধীতপুর বড়বাড়ি এলাকার মোহাম্মদ কাজল বলেন, তারা জামাই নিয়ে যাওয়ার সময় গাবতলী বাজারে যানজটে পড়েন। পরে এক অটোরিকশাচালকের সঙ্গে বরপক্ষের লোকজনের কথা-কাটাকাটি হয়। তার লোকজন ঝগড়া থামাতে গেলে বরপক্ষের সঙ্গে মারামারি শুরু হয়। এতে তাদের পক্ষের অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে বরপক্ষের প্রতিনিধি হেলাল অভিযোগ করেন, ‘গাবতলী বাজারে পৌঁছালে কাজলের ভাই-ভাতিজারা গাড়ি আটকে মিষ্টির টাকা চান। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ হয়।’ এতে তাদের পক্ষের ৩০-৩৫ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

খবর পেয়ে করিমগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষ পিছু হটলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Public Voice

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


গাড়ি আটকে ‘মিষ্টির টাকা’ নামে চাঁদা দাবি, সংঘর্ষে বরসহ আহত অর্ধশত

প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে বরযাত্রীর গাড়ি আটকে ‘মিষ্টির টাকা’ দাবি করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বর ও তার বাবাসহ উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশত লোক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার বারঘড়িয়া ইউনিয়নের গাবতলী বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে করিমগঞ্জের নোয়াবাদ ইউনিয়নের ঝাউতলা এলাকায় কনের বাড়ির উদ্দেশ্যে বরযাত্রীবাহী একটি গাড়ি যাচ্ছিল। গাড়িটি গাবতলী বাজারে পৌঁছালে ধীতপুর বড়বাড়ি এলাকার কয়েকজন যুবক সেটি আটকে মিষ্টি খাওয়ার জন্য টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ। এ নিয়ে ধীতপুর বড়বাড়ি এলাকার কাজলের লোকজনের সঙ্গে বারঘড়িয়া এলাকার আশকর আলীর বংশের বরপক্ষের লোকজনের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনায় বর মো. হানিফ ও তার বাবা হবি মিয়াসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

তবে সংঘর্ষের কারণ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে।

ধীতপুর বড়বাড়ি এলাকার মোহাম্মদ কাজল বলেন, তারা জামাই নিয়ে যাওয়ার সময় গাবতলী বাজারে যানজটে পড়েন। পরে এক অটোরিকশাচালকের সঙ্গে বরপক্ষের লোকজনের কথা-কাটাকাটি হয়। তার লোকজন ঝগড়া থামাতে গেলে বরপক্ষের সঙ্গে মারামারি শুরু হয়। এতে তাদের পক্ষের অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে বরপক্ষের প্রতিনিধি হেলাল অভিযোগ করেন, ‘গাবতলী বাজারে পৌঁছালে কাজলের ভাই-ভাতিজারা গাড়ি আটকে মিষ্টির টাকা চান। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ হয়।’ এতে তাদের পক্ষের ৩০-৩৫ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

খবর পেয়ে করিমগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষ পিছু হটলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Public Voice

সম্পাদক: মোঃ বাদশাহ আলমগীর
প্রকাশক: অনন্যা অনসূয়া দিবা

কপিরাইট © ২০২৬ Public Voice । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত