সারাদেশ
বগুড়ার ধুনট উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের হেউটনগর গ্রামে বাঙালি নদীর তীব্র ভাঙনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি, গাছপালাসহ মানুষের দীর্ঘদিনের সম্পদ। ভাঙন আরও তীব্র হলে বেশ কয়েকটি পরিবার বসতভিটা হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে সরেজমিনে হেউটনগর গ্রামের দক্ষিণপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাঙালি নদীর তীরে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও নদীর পাড় ধসে পড়ছে। নদীর তীরবর্তী বসতবাড়ি ও কৃষিজমি রয়েছে চরম ঝুঁকিতে। ভাঙনের কারণে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মোজাফফর আলী প্রাং বলেন, বাঙালি নদীর ভাঙনে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি। আমাদের বাপ-দাদার সম্পত্তির অনেকটাই ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদীতীরে বসবাস করায় সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। গ্রামের অনেক মানুষের বসতভিটা নদীতে চলে গেছে। ভাঙনের কারণে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় শিক্ষক ও একই গ্রামের বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আগেও নদীর ভাঙনে আমাদের পুরোনো বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে গেছে। পরে নতুন করে বাড়ি তৈরি করে বসবাস করছি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই বাড়িটিও রক্ষা পাবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় আছি। দ্রুত নদীর পাড় সংস্কার ও ভাঙন প্রতিরোধ করা না হলে আমাদেরও ঘরবাড়ি হারাতে হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বাঙালি নদীর তীরে ভাঙন চললেও স্থায়ীভাবে তা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিবছরই নদীর পাড় ভেঙে নতুন নতুন এলাকা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে হেউটনগরসহ আশপাশের এলাকায় বসতভিটা ও কৃষিজমি হারিয়ে বহু পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়তে পারেন।
কালেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ হোসেন শিপন বলেন, বাঙালি নদীর তীরের ভাঙন প্রতিরোধের বিষয়টি সংসদ সদস্যকে অবগত করা হয়েছে। তিনি দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, হেউটনগর গ্রামের বাঙালি নদীর তীরের ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প গ্রহণ করা প্রয়োজন। তা না হলে ভাঙনের বিস্তৃতি আরও বাড়তে পারে এবং বসতভিটা হারিয়ে বহু পরিবার পথে বসার আশঙ্কা রয়েছে।

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ আগস্ট ২০২৬
বগুড়ার ধুনট উপজেলার কালেরপাড়া ইউনিয়নের হেউটনগর গ্রামে বাঙালি নদীর তীব্র ভাঙনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি, গাছপালাসহ মানুষের দীর্ঘদিনের সম্পদ। ভাঙন আরও তীব্র হলে বেশ কয়েকটি পরিবার বসতভিটা হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে সরেজমিনে হেউটনগর গ্রামের দক্ষিণপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাঙালি নদীর তীরে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও নদীর পাড় ধসে পড়ছে। নদীর তীরবর্তী বসতবাড়ি ও কৃষিজমি রয়েছে চরম ঝুঁকিতে। ভাঙনের কারণে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মোজাফফর আলী প্রাং বলেন, বাঙালি নদীর ভাঙনে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি। আমাদের বাপ-দাদার সম্পত্তির অনেকটাই ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদীতীরে বসবাস করায় সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। গ্রামের অনেক মানুষের বসতভিটা নদীতে চলে গেছে। ভাঙনের কারণে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় শিক্ষক ও একই গ্রামের বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আগেও নদীর ভাঙনে আমাদের পুরোনো বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে গেছে। পরে নতুন করে বাড়ি তৈরি করে বসবাস করছি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই বাড়িটিও রক্ষা পাবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কায় আছি। দ্রুত নদীর পাড় সংস্কার ও ভাঙন প্রতিরোধ করা না হলে আমাদেরও ঘরবাড়ি হারাতে হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বাঙালি নদীর তীরে ভাঙন চললেও স্থায়ীভাবে তা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিবছরই নদীর পাড় ভেঙে নতুন নতুন এলাকা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে হেউটনগরসহ আশপাশের এলাকায় বসতভিটা ও কৃষিজমি হারিয়ে বহু পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়তে পারেন।
কালেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ হোসেন শিপন বলেন, বাঙালি নদীর তীরের ভাঙন প্রতিরোধের বিষয়টি সংসদ সদস্যকে অবগত করা হয়েছে। তিনি দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, হেউটনগর গ্রামের বাঙালি নদীর তীরের ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প গ্রহণ করা প্রয়োজন। তা না হলে ভাঙনের বিস্তৃতি আরও বাড়তে পারে এবং বসতভিটা হারিয়ে বহু পরিবার পথে বসার আশঙ্কা রয়েছে।
