উপ-সম্পাদকীয়
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থায় একটি অদ্ভুত ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হলেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো প্রশাসনিক কাজ করতে পারবেন। এই ধারণাটি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের প্রধান দায়িত্ব কী? খুব সাধারণভাবে বললে, teaching, research এবং academic service। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাস্তবতা অনেকটাই ভিন্ন।
শিক্ষককে শিক্ষক থাকতে দিতে হবে। কারণ একজন শিক্ষককে প্রশাসক বানিয়ে আমরা হয়তো একজন মাঝারি মানের administrator পাচ্ছি, কিন্তু একই সঙ্গে একজন ভালো শিক্ষক ও গবেষককে হারাচ্ছি। —অধ্যাপক ইব্রাহিম হোসাইন
একজন শিক্ষককে একই সঙ্গে প্রভোস্ট, হাউজ টিউটর, প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা, বিভিন্ন কমিটির সভাপতি, ক্রয় কমিটির সদস্য কিংবা নানা ধরনের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। ফলে ধীরে ধীরে শিক্ষকতার মূল কাজই অনেক সময় গৌণ হয়ে পড়ে।
সম্প্রতি এক সহকর্মী আবাসিক হলের প্রভোস্ট ও হাউজ টিউটরদের দায়িত্ব নিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন। তাঁর বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন শিক্ষক আর আগের মতো শিক্ষক ও গবেষক থাকতে পারেন না। তাঁর ক্লাসরুম teaching ক্ষতিগ্রস্ত হয়, গবেষণার সময় কমে যায় এবং সবচেয়ে বড় কথা, ছাত্র-শিক্ষকের স্বাভাবিক সম্পর্কেও দূরত্ব তৈরি হয়।
আমার মনে হয়, বিষয়টি শুধু প্রভোস্ট বা হাউজ টিউটরের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে আমাদের নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।
একজন শিক্ষক যখন আবাসিক হলের প্রভোস্ট হন, তখন তাঁর কাজ শুধু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাডেমিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তাঁকে হলের আবাসন, খাবার, নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা, কর্মচারী, অবকাঠামো, বিভিন্ন অভিযোগ, নানা ধরনের দাবি-দাওয়া এবং কখনো কখনো রাজনৈতিক চাপও সামলাতে হয়। এসব কাজের অধিকাংশের সঙ্গে তাঁর শিক্ষকতা বা গবেষণার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।
আরেকটি জটিলতা তৈরি হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের ক্ষেত্রে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষক, পরামর্শদাতা ও কখনো mentor। কিন্তু হল প্রশাসনে সেই একই শিক্ষক হয়ে যান সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী। কোনো শিক্ষার্থী সিট পেল না, খাবার নিয়ে অভিযোগ করল, কোনো নিয়ম ভাঙল কিংবা কোনো সুবিধা চাইল, তখন শিক্ষককে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ফলে একাডেমিক সম্পর্কের জায়গায় প্রশাসনিক সম্পর্ক চলে আসে। স্বাভাবিকভাবেই সেখানে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে।
উত্তরটি সম্ভবত না। Teaching এবং administration দুটি ভিন্ন ধরনের competency। একজন অসাধারণ গবেষক বা শিক্ষক হয়তো অত্যন্ত দক্ষ administrator নাও হতে পারেন। আবার একজন পেশাদার administrator হয়তো গবেষণা করতে পারবেন না, কিন্তু একটি বড় আবাসিক হল দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে পারবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক রাজনীতির একটি বড় কারণ এই সকল প্রশাসনিক পদের সুযোগ সুবিধা ভোগ করা । এসকল পদে যদি শিক্ষকদের নিয়োগের কোনো সুযোগ না থাকে তাহলে শিক্ষকরা আর কোনো দল বা গ্রুপের লেজুড়বৃত্তি করবেনা । অনেকেই সাহস করে হক কথাটা বলতে পারবে। —অধ্যাপক ইব্রাহিম হোসাইন।
বিশ্বের অনেক আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ে academic leadership এবং professional administration-এর মধ্যে একটি সুস্পষ্ট পার্থক্য রাখা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক নেতৃত্বে শিক্ষক ও গবেষকরাই থাকেন। Vice-Chancellor, Pro-Vice-Chancellor, Dean, Department Chair কিংবা Head-এর মতো পদগুলো একাডেমিক নেতৃত্বের অংশ। কিন্তু human resources, transport, finance, procurement, accommodation, facilities management, student services, security ইত্যাদি দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজের জন্য থাকে পেশাদার প্রশাসক। আমাদেরও ধীরে ধীরে এ ধরনের কাঠামোর দিকে যাওয়া দরকার।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক নীতি নির্ধারণ, curriculum development, research management, academic quality assurance কিংবা শিক্ষার্থীদের academic mentoring-এর মতো কাজে শিক্ষকদের নেতৃত্ব অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু একজন শিক্ষককে কেন প্রতিদিনের হল প্রশাসন, খাবারের মান, কর্মচারী ব্যবস্থাপনা, সিট বরাদ্দ কিংবা নানা ধরনের প্রশাসনিক অভিযোগ সামলাতে হবে?
এ ধরনের কাজের জন্য professional university administrator থাকা অনেক বেশি যৌক্তিক।
এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থও সাশ্রয় হতে পারে। একই সঙ্গে একজন শিক্ষক তাঁর মূল কাজের জন্য সময় পাবেন। একজন শিক্ষক যদি প্রশাসনিক দায়িত্বের কারণে সপ্তাহের একটি বড় অংশ ব্যয় করেন, তাহলে সেই সময়টি আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের teaching এবং research থেকে কেটে নেওয়া হচ্ছে। ফলে একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত productivity কমার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক academic productivity-ও কমে।
শুধু শিক্ষককে সরিয়ে একজন ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে দায়িত্ব দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রশাসনিক কাঠামোকে পেশাদার করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী trained residential administrators, student affairs professionals, facility managers এবং অন্যান্য দক্ষ প্রশাসনিক জনবল নিয়োগ করতে হবে। তাদের দায়িত্ব, জবাবদিহি ও কর্তৃত্বও স্পষ্ট করতে হবে।
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সঙ্গে প্রশাসনিক দায়িত্বকে অনেক সময় মর্যাদার বিষয় হিসেবেও দেখা হয়। কে প্রভোস্ট হলেন, কে প্রক্টর হলেন, কে কোনো কমিটির সভাপতি হলেন, এগুলো যেন অনেক সময় এক ধরনের পদমর্যাদার প্রতীক হয়ে ওঠে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক রাজনীতির একটি বড় কারণ এই সকল প্রশাসনিক পদের সুযোগ সুবিধা ভোগ করা । এসকল পদে যদি শিক্ষকদের নিয়োগের কোনো সুযোগ না থাকে তাহলে শিক্ষকরা আর কোনো দল বা গ্রুপের লেজুড়বৃত্তি করবেনা । অনেকেই সাহস করে হক কথাটা বলতে পারবে।
শিক্ষককে শিক্ষক থাকতে দিতে হবে। কারণ একজন শিক্ষককে প্রশাসক বানিয়ে আমরা হয়তো একজন মাঝারি মানের administrator পাচ্ছি, কিন্তু একই সঙ্গে একজন ভালো শিক্ষক ও গবেষককে হারাচ্ছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সে প্রশ্নটি এখন আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে ভাবা দরকার।
লেখক: অধ্যাপক ইব্রাহিম হোসাইন, আধুনিক ভাষা শিক্ষা ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
বিষয় : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ আগস্ট ২০২৬
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থায় একটি অদ্ভুত ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হলেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো প্রশাসনিক কাজ করতে পারবেন। এই ধারণাটি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষকের প্রধান দায়িত্ব কী? খুব সাধারণভাবে বললে, teaching, research এবং academic service। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাস্তবতা অনেকটাই ভিন্ন।
শিক্ষককে শিক্ষক থাকতে দিতে হবে। কারণ একজন শিক্ষককে প্রশাসক বানিয়ে আমরা হয়তো একজন মাঝারি মানের administrator পাচ্ছি, কিন্তু একই সঙ্গে একজন ভালো শিক্ষক ও গবেষককে হারাচ্ছি। —অধ্যাপক ইব্রাহিম হোসাইন
একজন শিক্ষককে একই সঙ্গে প্রভোস্ট, হাউজ টিউটর, প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা, বিভিন্ন কমিটির সভাপতি, ক্রয় কমিটির সদস্য কিংবা নানা ধরনের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। ফলে ধীরে ধীরে শিক্ষকতার মূল কাজই অনেক সময় গৌণ হয়ে পড়ে।
সম্প্রতি এক সহকর্মী আবাসিক হলের প্রভোস্ট ও হাউজ টিউটরদের দায়িত্ব নিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন। তাঁর বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন শিক্ষক আর আগের মতো শিক্ষক ও গবেষক থাকতে পারেন না। তাঁর ক্লাসরুম teaching ক্ষতিগ্রস্ত হয়, গবেষণার সময় কমে যায় এবং সবচেয়ে বড় কথা, ছাত্র-শিক্ষকের স্বাভাবিক সম্পর্কেও দূরত্ব তৈরি হয়।
আমার মনে হয়, বিষয়টি শুধু প্রভোস্ট বা হাউজ টিউটরের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নয়। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে আমাদের নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।
একজন শিক্ষক যখন আবাসিক হলের প্রভোস্ট হন, তখন তাঁর কাজ শুধু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাডেমিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তাঁকে হলের আবাসন, খাবার, নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা, কর্মচারী, অবকাঠামো, বিভিন্ন অভিযোগ, নানা ধরনের দাবি-দাওয়া এবং কখনো কখনো রাজনৈতিক চাপও সামলাতে হয়। এসব কাজের অধিকাংশের সঙ্গে তাঁর শিক্ষকতা বা গবেষণার সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই।
আরেকটি জটিলতা তৈরি হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের ক্ষেত্রে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষক, পরামর্শদাতা ও কখনো mentor। কিন্তু হল প্রশাসনে সেই একই শিক্ষক হয়ে যান সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী। কোনো শিক্ষার্থী সিট পেল না, খাবার নিয়ে অভিযোগ করল, কোনো নিয়ম ভাঙল কিংবা কোনো সুবিধা চাইল, তখন শিক্ষককে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ফলে একাডেমিক সম্পর্কের জায়গায় প্রশাসনিক সম্পর্ক চলে আসে। স্বাভাবিকভাবেই সেখানে অসন্তোষ তৈরি হতে পারে।
উত্তরটি সম্ভবত না। Teaching এবং administration দুটি ভিন্ন ধরনের competency। একজন অসাধারণ গবেষক বা শিক্ষক হয়তো অত্যন্ত দক্ষ administrator নাও হতে পারেন। আবার একজন পেশাদার administrator হয়তো গবেষণা করতে পারবেন না, কিন্তু একটি বড় আবাসিক হল দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করতে পারবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক রাজনীতির একটি বড় কারণ এই সকল প্রশাসনিক পদের সুযোগ সুবিধা ভোগ করা । এসকল পদে যদি শিক্ষকদের নিয়োগের কোনো সুযোগ না থাকে তাহলে শিক্ষকরা আর কোনো দল বা গ্রুপের লেজুড়বৃত্তি করবেনা । অনেকেই সাহস করে হক কথাটা বলতে পারবে। —অধ্যাপক ইব্রাহিম হোসাইন।
বিশ্বের অনেক আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ে academic leadership এবং professional administration-এর মধ্যে একটি সুস্পষ্ট পার্থক্য রাখা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক নেতৃত্বে শিক্ষক ও গবেষকরাই থাকেন। Vice-Chancellor, Pro-Vice-Chancellor, Dean, Department Chair কিংবা Head-এর মতো পদগুলো একাডেমিক নেতৃত্বের অংশ। কিন্তু human resources, transport, finance, procurement, accommodation, facilities management, student services, security ইত্যাদি দৈনন্দিন প্রশাসনিক কাজের জন্য থাকে পেশাদার প্রশাসক। আমাদেরও ধীরে ধীরে এ ধরনের কাঠামোর দিকে যাওয়া দরকার।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক নীতি নির্ধারণ, curriculum development, research management, academic quality assurance কিংবা শিক্ষার্থীদের academic mentoring-এর মতো কাজে শিক্ষকদের নেতৃত্ব অবশ্যই প্রয়োজন। কিন্তু একজন শিক্ষককে কেন প্রতিদিনের হল প্রশাসন, খাবারের মান, কর্মচারী ব্যবস্থাপনা, সিট বরাদ্দ কিংবা নানা ধরনের প্রশাসনিক অভিযোগ সামলাতে হবে?
এ ধরনের কাজের জন্য professional university administrator থাকা অনেক বেশি যৌক্তিক।
এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থও সাশ্রয় হতে পারে। একই সঙ্গে একজন শিক্ষক তাঁর মূল কাজের জন্য সময় পাবেন। একজন শিক্ষক যদি প্রশাসনিক দায়িত্বের কারণে সপ্তাহের একটি বড় অংশ ব্যয় করেন, তাহলে সেই সময়টি আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ের teaching এবং research থেকে কেটে নেওয়া হচ্ছে। ফলে একজন শিক্ষকের ব্যক্তিগত productivity কমার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক academic productivity-ও কমে।
শুধু শিক্ষককে সরিয়ে একজন ডেপুটি রেজিস্ট্রারকে দায়িত্ব দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রশাসনিক কাঠামোকে পেশাদার করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী trained residential administrators, student affairs professionals, facility managers এবং অন্যান্য দক্ষ প্রশাসনিক জনবল নিয়োগ করতে হবে। তাদের দায়িত্ব, জবাবদিহি ও কর্তৃত্বও স্পষ্ট করতে হবে।
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সঙ্গে প্রশাসনিক দায়িত্বকে অনেক সময় মর্যাদার বিষয় হিসেবেও দেখা হয়। কে প্রভোস্ট হলেন, কে প্রক্টর হলেন, কে কোনো কমিটির সভাপতি হলেন, এগুলো যেন অনেক সময় এক ধরনের পদমর্যাদার প্রতীক হয়ে ওঠে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক রাজনীতির একটি বড় কারণ এই সকল প্রশাসনিক পদের সুযোগ সুবিধা ভোগ করা । এসকল পদে যদি শিক্ষকদের নিয়োগের কোনো সুযোগ না থাকে তাহলে শিক্ষকরা আর কোনো দল বা গ্রুপের লেজুড়বৃত্তি করবেনা । অনেকেই সাহস করে হক কথাটা বলতে পারবে।
শিক্ষককে শিক্ষক থাকতে দিতে হবে। কারণ একজন শিক্ষককে প্রশাসক বানিয়ে আমরা হয়তো একজন মাঝারি মানের administrator পাচ্ছি, কিন্তু একই সঙ্গে একজন ভালো শিক্ষক ও গবেষককে হারাচ্ছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সে প্রশ্নটি এখন আমাদের গুরুত্বের সঙ্গে ভাবা দরকার।
লেখক: অধ্যাপক ইব্রাহিম হোসাইন, আধুনিক ভাষা শিক্ষা ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
